ছোট গল্পের সন্ধানে || কলমে অয়ন


Best Bangla Books to Buy in 2024

#স্বাধীনতার সূর্যোদয়#

15 ই আগস্ট স্বাধীনতা দিবস। সকাল ৯টা।ব্যাঙ্গালোর এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করেছে ফ্লাইট টা। কালো কোট পরা লোকটা তাড়াতাড়ি লাগেজ বে ‌এ‌র দিকে এগিয়ে গেল। লাগেজটা তুলেই চলে গেল এক্সিট পয়েন্টের দিকে।
অর্ণব বললো দাঁড়া, ওয়াশ রুম থেকে ঘুরে আসি।অর্ণব আর ইকবাল এসেছে ব্যাঙ্গালোর ব্রাঞ্চ এ একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এ। অর্ণব ফিরতে ওরা ব্যাগ কালেক্ট করতে গেল। ইকবালের লাগেজটা এলেও অর্ণব এরটা আর আসেই না। শেষে ওরা দেখে অর্ণবের ব্যাগের মতই একটা চক্কর খাচ্ছে লাগেজ বে তে। "কিরে অর্ণব, এটা তো তোর নয়, হবে টা কি লাগেজ না পেলে, ওতেই তো সব কন্টেন্ট আর ফাইল টা আছে।" তাড়াতাড়ি ওরা ওই ব্যাগ টা নিয়ে ইন্ডিগোর কাউন্টারে আসে।
"এক্সকিউজ মি! আমার লাগেজটা মনে হয় অন্য ট্রাভেলারের সাথে এক্সচেঞ্জ হয়ে গেছে। সেম কালার, সেম টাইপ।" এয়ারলাইন অ্যাটেনডেন্ট বলে, "একটু ওয়েট করুন, আমরা চেক করছি।" ইকবাল বলে সে মনে হয় একজনকে দেখেছে ওইরকম একটা ব্যাগ নিয়ে বেরোতে। ব্যাগেজ নম্বর দেখে এয়ারলাইন কল করে প্যাসেঞ্জার কে। সে অনেক অজুহাত দেখিয়ে বলে যে ব্যাগ দিতে এলে অনেক লেট হবে। কিন্তু অর্ণবরাও জানায়, ওদের অলরেডি অনেক লেট হয়ে গেছে। আর আধঘন্টার মধ্যে না পেলে ওরা কমপ্লেন করতে বাধ্য হবে। প্যাসেঞ্জারটিকে এয়ার্লাইনস আবার কল করতে সে আস্তে রাজি হয়।
ইতিমধ্যেই কেটে গেছে প্রায় এক ঘণ্টা। ইকবাল অফিসে ফোন করে মিটিংটার টাইম চেঞ্জ করতে বলে।
অবশেষে লোকটা আসে আর ইন্ডিগো ম্যানেজার বলে অর্ণবকে আউট গেটের বাইরে গিয়ে ব্যাগ চেক করতে। ইকবালকে ভিতরেই অপেক্ষা করতে বলে বাইরে যায় অর্ণব। সাইড চেন গুলো চেক করে দেখে এটা ওর ব্যাগ, মুখ তুলে তাকিয়ে দেখে লোকটা এর মধ্যেই ওর ব্যাগটা নিয়েই হাওয়া। ইশারা করে ডাকে ইকবালকে। হঠাৎ করেই দুম!!!!
কয়েক সেকেন্ড পর ইকবালের হুশ ফেরে, চারদিকে ধোঁয়া, কাঁচ ছড়ানো, লোকের হুড়োহুড়ি। পুলিশের ছোটাছুটি। বিস্ফোরণ!!অ্যাক্ট অফ টেরোরিজম!! কিন্তু অর্ণব কই? মুহূর্তে দেখে পুলিশ ঘিরে রয়েছে অর্ণবের দাঁড়ানো জায়গাটায়। চারিদিকে মৃতদেহের সারি। অর্ণব আর নেই। কিরকম একটা হয়ে যায় ইকবাল। সম্বিত ফিরল কিছু সিকিউরিটি অফিসারদের ডাকে।
"মি: ইকবাল, সরি ফর ইউর ফ্রেন্ড, উই নিড টু টক।" ইকবাল বলে ও একটা ফোন করবে, বাড়িতে ঘটনা জানিয়ে অফিসে ইনফর্ম করে ও। ব্যাঙ্গালোর অফিস থেকে কলিগরা আসছে বলে জানায়। এয়ারপোর্ট অথরিটি ওই ট্রাভেলারের মোবাইল নাম্বারে কল করে সুইচ অফ পায়, লাস্ট নোন টাওয়ার লোকেশন দেখায় এয়ারপোর্ট। ইতিমধ্যে নিউজে দেখায় একই ভাবে কলকাতা, দিল্লী, মুম্বাই এয়ারপোর্টেও হয়েছে ব্লাস্ট। সারাদেশে জারি হয়েছে রেড অ্যলার্ট। সিকিউরিটি অফিসার ইকবালের বয়ান রেকর্ড করে। আরো কিছু প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান ও রেকর্ড করে ওরা। ইকবালকে জিজ্ঞাসা করে অর্ণবের সাথে বাইরে যাইনি কেন ও? সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার দিকে। ইকবাল বলে অর্ণবই ওকে অপেক্ষা করতে বলেছিল। ওদের ওখানেই থাকতে বলা হয়। ইকবালের হালকা মনে পড়ে একই কালারের ব্যাগ হাতের লোকটার কথা। ও কথা বলতে চায় অফিসারদের সাথে। ইতিমধ্যেই অ্যান্টি টেরোরিস্ট স্কোয়ার্ড এলাকার দখল নিয়ে নিয়েছে। তাদেরই একজনকে ডেসক্রিপশন দিয়ে স্কেচ আর্টিস্টের হাতে ফুটে ওঠে লোকটার অবয়ব। এরই মাঝে এ টি এস এর কাছে আপডেট আসে, কোনো এক নিউজ চ্যানেলে এই জঙ্গিহানার দায় স্বীকার করেছে এক টেরোরিস্ট সংগঠন। দাবী জানায় মুম্বাই বিস্ফোরণের গ্রেপ্তার হওয়া হাফিজকে ছেড়ে দিতে হবে ৫ ঘণ্টার মধ্যে। নাহলে একই কায়দায় যেকোনো ডেলিভারি বয় এর মাধ্যমে সারা দেশে অসংখ্য লোকেশনে হবে প্রচন্ড বিস্ফোরণ। Swiggy, ফ্লিপকার্ট, আমাজন, ব্লু ডার্ট সংখ্যাটা অসংখ্য।
মিনিস্ট্রিতে জরুরি বৈঠক করেন পি এম ও, প্রতিরক্ষা দফতর ও অন্যান্যরা। ব্লু প্রিন্ট তৈরি হয় পরের অ্যাকশনের।
এয়ারপোর্টের ওই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আশ্চর্য হয়ে যায় এটিএস। সার্ভার হ্যাক করে ওই টাইমের পুরো ফুটেজটাই গায়েব। ইতিমধ্যেই ইকবালের দেওয়া স্কেচ থেকে এটিএস ফেস রিকগনিশন সফটওয়ার দিয়ে আইডেন্টিফাই করতে পারে আংশিক ম্যাচিং আইডেন্টিটি। টিম যায় সেই অ্যাড্রেস এ, দেখে ভুয়ো অ্যাড্রেস। ইকবালের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করেও সন্দেহজনক কিছুই মেলেনা।
পুরো ঘটনার অনুসন্ধানে কলকাতা থেকে উড়িয়ে আনা হয়েছে মি: হিমাদ্রী রায়কে। প্রাক্তন এ টি এস চিফ, যে এই ধরণের অনেক কেসের মূল রক্ষাকর্তা,  বর্তমানে গভর্নমেন্ট অ্যাডভাইজর ইন ক্রিটিক্যাল ইনসিডেন্ট। তিনি স্কেচটা দেখে ডাকতে বলেন ইকবালকে।
"মি: ইকবাল, আমি এখনো সিওর নই আপনার কানেকশন এই ঘটনার সাথে কাকতালীয় না স্বতঃপ্রণোদিত। আপনি যদি লোকটার সম্বন্ধে আর কোনো স্পেসিফিক জিনিসের কথা মনে করতে পারেন, ভাবুন।" "হঠাৎ করেই মনে পড়ে যায় লোকটা বোধহয় কেলভিন ক্লেইন এর চশমা ব্যবহার করছিল, আর ওটা প্রায় নতুন। কারণ সাইডের লোগোটা স্পষ্ট ছিল।" ফ্রেমটার সম্ভাব্য রং ও বলে ওঠে ইকবাল। ধন্যবাদ জানান হিমাদ্রী।
টিম লেগে যায় লাস্ট উইকের সম্ভাব্য ক্রেতার খোঁজ নিতে। পেয়ে যায় লিস্ট প্রায় ১২ জনের, কিছু অনলাইন আর কিছু অফলাইন। হিমাদ্রী বলে অফলাইন স্টোরের সিসিটিভি দেখে আইডেন্টিফাই করতে লোকটাকে, যদিও ওর বিশ্বাস অনলাইনেই কিনেছে লোকটা। আরেকটা টিম লেগে যায় অনলাইনে যে যে অ্যাড্রেসে ডেলিভার হয়েছে তার লিস্ট বের করতে। দেখা যায় ২টি হয়েছে কলকাতার লোকেশনে। দুষ্কৃতী কলকাতা থেকেই ট্রাভেল করেছে ধরলে এরই মধ্যে একটা হবে। সেই দুটির মধ্যে একটিতে মেলে একই চেহারার খোঁজ। ওই অ্যাড্রেসে হানা দিয়ে এটিএস দেখে ভাড়ায় থাকতো লোকটা, বেরিয়ে গেছে আজই। তন্ন তন্ন করে খুঁজেও পাওয়া যায় না কোনো ফিঙ্গার প্রিন্ট। কিন্তু ডাস্টবিন থেকে পাওয়া যায় কিছু কাগজের টুকরো, সেগুলো জোড়া লাগিয়ে পাওয়া যায় ১টা কোড। PEETURIUQYR
সব অ্যানালিস্ট লেগে পড়ে কোডটা উদ্ধার করতে। অন্য লোকেশন থেকেও আলাদা কোনো ক্লু পাওয়া যাচ্ছেনা। অলরেডি ২ ঘণ্টা অতিক্রান্ত। হঠাৎ ডিকোড করে পাওয়া যায় 03357487164 (qwerty কিবোর্ডের অক্ষর অনুযায়ী নাম্বার P-0,E-3), ট্রেস করে দেখা যায় এন্টালির অ্যাড্রেস, পৌঁছে যায় ফোর্স নিঃশব্দে। ধরা পড়ে এখানে থাকা শাকিল। চাপ দিয়ে জানার চেষ্টা করে ওদের পরের কৌশল। কিন্তু কোনো কিছুই জানায় না সে। তল্লাশি করে পাওয়া যায় মুম্বাই এর মূল পান্ডার যোগাযোগ। সেই সময় হিমাদ্রী একটা মোক্ষম চাল চালে।
নিউজে লাইভ করতে বলে "গভর্নমেন্ট হাফিজকে ট্রান্সফার করছে মুম্বাই এয়ারপোর্টের কাছে।" খবর পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই শাকিলের নম্বরে এসএমএস আসে, অ্যাক্টিভেট নেক্সট স্টেপ। টাওয়ার লোকেশন ট্রেস করে পাওয়া যায় ২কিলোমিটার রেডিয়াসের জায়গা। এটিএস টিম জায়গাটা এনক্লোজ করতে থাকে। ধরা পড়ে মূল চক্রান্তকারী।
বিকেল সাড়ে ৫ টায় প্রেস কনফরেন্স করে পিএমও আর এটিএস। "সব ইন কন্ট্রোল। মৃত ৪০, আহত শতাধিক। সাহায্য করেন অনেকে, মূলত মি: ইকবালের সহযোগিতায় মূল সূত্র ধরা পড়ে, যিনি নিজের বন্ধুর মৃত্যুর শোককে ভুলে আমাদের সাহায্য করেন।"
রিটার্ন ফ্লাইট ধরতে এগোয় ইকবাল, করমর্দন করে যায় হিমাদ্রী। দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে অর্ণবকে স্মরণ করে ইকবাল। ©Ayan
Share:

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মোট পৃষ্ঠাদর্শন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.