ছোট গল্পের সন্ধানে || কলমে অয়ন

  • বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

    আনন্দ, উদ্বেগ আর প্রত্যাশার গণ্ডি পেরিয়ে চতুর্থ বারের জন্য অপেক্ষা দায়িত্বের। সেই দায়ভার থেকেই জন্ম এই চতুর্থ সন্তানের। আগের বারের "মৃত্যু রহস্য"র পর ইয়ং ইন্সপেক্টর সৌমিলির ডাক পড়েছে এক জটিল সমস্যার সমাধানে। গ্রাম বাংলার এক সুন্দর প্রকৃতির প্রেক্ষাপটে ঘটে চলেছে অদ্ভুত সব ঘটনা। যাকেই সে সন্দেহের তালিকায় আনছে, হঠাৎ করে সে-ই খুন হয়ে যাচ্ছে। সৌমিলি কি পারবে এই কেস সলভ করতে❓ তারই গল্প বলতে প্রকাশিত হচ্ছে আমার চতুর্থ বই "আই ক্যান্ডি" এবারের কলকাতা বইমেলা ২০২৫ এ ক্লিক করুন

  • বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

    প্রথম বারের আনন্দ আর দ্বিতীয় বারের উদ্বেগের গণ্ডি পেরিয়ে তৃতীয় বারের জন্য অপেক্ষা প্রত্যাশার। সেই থেকেই জন্ম এই তৃতীয় সন্তানের। আগের বারের "পায়ে পায়ে রহস্য" র সাফল্যের পর ইয়ং ইন্সপেক্টর সৌমিলি সমাধান করে ফেলেছে আরও কিছু জটিল কেস। তারই গল্প বলতে প্রকাশিত হচ্ছে আমার তৃতীয় নতুন গল্পের বই "মৃত্যু রহস্য" এবারের কলকাতা বইমেলা ২০২৪ এ। আশা করি এই বই আমার পাঠকদের আনন্দ দেবে বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    আজকের দুনিয়ায় টেকনোলজিও যত উন্নত হয়েছে, পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিত্য নতুন অপরাধের ধরণ। একজন ইয়ং ইন্সপেক্টর কিভাবে কেসের পর কেসের কিনারা করবে, তারই বেশ কিছু ঝলক থাকবে পাঠকদের সামনে। বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    মুঠোফোনের দুনিয়ায় আমার প্রথম বই শব্দের স্বরলিপি এনে দেবে একরাশ মুক্ত বাতাস। বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • প্রতি সপ্তাহে নতুন গল্প

    গল্প পড়ার থেকে শুনতে বেশি ভালবাসেন? বাচ্ছারা রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময় গল্প শুনতে চায়? তাহলে দেরী না করে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন ইউটিউব চ্যানেলটা, আর বেল আইকন টা প্রেস করতে ভুলবেন না। আসছে প্রতি শুক্রবার রাত ৯ টায়। সঙ্গে থাকুন।

  • #ভোকাট্টা#

    চারপাশের আকাশে শুধু রঙ বেরঙের ঘুড়ি। এখনকার মত নানারকমের ক্যামেরা না থাকলেও ছবি গুলো উজ্জ্বল হয়ে থাকত স্মৃতির মণিকোঠায়। মাঝে মাঝে তারস্বরে চিৎকার, “ভো কাট্টা!

  • #অরণ্যে দুই রাত্রি#

    কথায় বলে বাঙালির পায়ের তলায় সর্ষে। কিন্তু এই বিগত দেড় বছরের করোনা পরিস্তিতিতে সবার মত তারাও হয়ে পড়েছিল ঘরবন্দি। তাই এখন একটু পরিস্তিতি ঠিক হতেই সবাই আবার বেড়িয়ে পড়েছে কাছে পিঠে। সেই রকমই একটা উইকএন্ড ডেসটিনেশনের কথা

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    মুঠোফোনের দুনিয়ায় আমার প্রথম বই শব্দের স্বরলিপি এনে দেবে একরাশ মুক্ত বাতাস। বিশদে জানতে ক্লিক করুন


Best Bangla Books to Buy in 2024

#মধ্যবিত্তের পাঁচফোড়ন#

কিছু মানুষ আছেন যারা নিশাচর, রাত ২-৩ টে তেও জেগে থাকেন কিন্তু সকালে তাদের টিকি মেলা ভার। আবার উল্টো পন্থীরাও আছেন যারা আজকাল খুব একটা কম ভারী নন। এরা মূলত স্বাস্থ্য সচেতন, জিম করা, ডায়েট চার্ট মেনে চলা পাবলিক।
তো মৈনাক ওই প্রথম দলের লোক। একান্নবর্তী বাড়িতে কাজের লোকের অভাব যেমন নেই, ফুট কাটার ও নেই। ছোটখাটো প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করে মৈনাক। আর বাড়ির কাকা জ্যেঠার সংসারের ছোটখাটো ফাই ফরমাস খেটে কিছু এক্সট্রা আমদানি করে। যদিও এই লকডাউন এর বাজারে, সব টাই প্রায় বন্ধ। তাই কিপটামি টা একটু বেড়েছে। এই যেমন, চা বানালে দু চামচের জায়গায় এক দেড় চামচ চা, মুড়ি খেলে একটু পিয়াজ কুচি না দিলে মুখে রুচতো না যার, সে এখন শুকনো মুড়িও বিন্দাস খেয়ে নিচ্ছে। সবথেকে প্রবলেম হচ্ছে সুখটানে। প্রথমত, স্থানের অভাব, আগে ছাদে ওর সমবয়সি ভাইবোন ছাড়া কেউই যেত না খুব একটা, এখন তো সারা বাড়ির আড্ডাখানা ওটাই। দ্বিতীয়ত, উপকরণের। যা বেশি রেটে বিক্রি হচ্ছে, মাঝে মৈনাক ভেবেছিল বিড়ি খাবে। কিন্তু সেটা না করে এখন দিনে ১-২পিস করে খাওয়া, যাতে বেশিদিন টানতে পারে। তো এই বাজারে বাড়িতে কাজের লোকের আসা তো বন্ধ, তাই মৈনাক কে মাঝে মধ্যে সাহায্য করতে হয় মা কে।

সেদিন মা ওকে বলেছিল যে, সব কাজই তো চলে যাচ্ছে, শিখা মানে ওদের কাজের মাসি কে আর না রাখলেও চলে। কিন্তু মৈনাক কিছুদিন করেই বুঝতে পেরেছে ওদের কাজের মাসী মাইনেটা বাড়ানো উচিৎ। এত কাজ করে খুবই কম টাকায়, উপরন্তু মায়ের মুখ তো উপরি পাওনা। কিন্তু নিজের কাজ টা থাকলে তবে না অন্যের দিকে চাইতে পারবে।

শিখার ভাবনা: শিখা, মানে যার কথা আগে বললাম, খেটে খাওয়া মানুষ, বর ছেড়ে চলে গেছে অনেকদিন। পাঁচ বাড়ি কাজ করে সংসার চালায়, ছেলে মেয়েকে পড়ায় ও। অনেকে সাহায্য করে পুরোনো বই খাতা দিয়ে। তো প্রথম দিকে যখন সব বাড়ি থেকে ফোন করে বললো, শিখা এখন কাজে এসো না, মাসের শেষে মাইনে টা নিয়ে যেও। এতবছর কাজের অভিজ্ঞতায় এরকম কোনোদিন হয়নি। প্রথম প্রথম বেশ মজা লাগতো ওর। বেশ আরামে আছে, ওদের পাড়ায় লোকাল পার্টির নেতারা চাল ডাল ও দিয়ে গেছে। কিন্তু কিছুদিন পর বুঝতে পারে, এটা আগামীদিনের সর্বনাশ ডেকে আনছে। কাছের দুটো বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে এলেও দূরের গুলো থেকে আনতে যেতে পারেনি। আর এখন তো প্রায় ২ মাসের ওপর হতে চললো, এতদিন ধরে নিজেরা কাজ করে নিলে আর কি দরকার পড়বে শিখা দের? কাল একবার মানসী বৌদির বাড়ি যাবে ও।

মৈনাকের মা: এই দুর্দিন যে কবে যাবে। ছেলেটার উপার্জনই সব ভরসা। বুঝতে পারি ভিতরে ভিতরে অনেক ভাবনা চিন্তা করে। বাবার ওষুধ, সংসারের জিনিস, কাজের লোকের মাইনে। কাজের লোক টাকে বাদ দেওয়াই যায়, এখন প্রায় ২-৩ মাস তো চলছে সবই। একটু কষ্ট হলেও ঠিক ম্যানেজ করে নেবে মানসী। আর ছেলের ও বয়স হচ্ছে, একটু গুছিয়েই বিয়ে দিতে হবে ওর।

পরদিন সকাল, মৈনাকের বাণী: মা, শিখা মাসী এসেছে, আমি মাইনে দিয়ে দিচ্ছি, তুমি একবার এসে কথা বলে যাও। দুশো টাকা বেশি দিয়ে দিল ও।
মা চিৎকার করে বললো, ওকে একটু দাঁড়াতে বল, আমার কথা আছে।
মা এলে শিখা বললো, বৌদি, কাজের লোকের দিন তো শেষ হতে চললো গো। জমানো পুঁজি দিয়ে চাল, ডাল, তেল, নুন তুলেছি। যা লাগবে ফোন করে দিও, এসে দিয়ে যাবো। দাদাবাবু, এই এক্সট্রা ২০০ টাকা টা রাখো, ওটা ওই মাল দিয়ে যাওয়ার সময় এক্সট্রা ২০ টাকা করে নেবো। ডেলিভারি না কি একটা বলে না, সেই চার্জ, হাসতে লাগলো প্রাণ খুলে।

সবার মনের কথা কোথাও যেন এক হয়ে যায়। সবাই মিলে নতুন পথ খুঁজে একে অন্যের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে চলতে হবে এই সম্মুখসমরে। জীবনের এই যুদ্ধে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর রোজনামচা টিভি চ্যানেলের উপভোগ্য না হলেও হৃদয়বিদারক বটে।
©Ayan
Share:

#ফুচকার কপিরাইট#


দুপুর বেলায় খেতে খেতেই ইউটিউবের রান্না গুলো চেক করতে থাকে তিন্নি। বিকেলের দিকে নতুন নতুন জলখাবার বানিয়ে রাতুলকে পরিবেশন করে। আর একটা উদেশ্য এফবি তে ভালো করে ছবি ট্যাগ করা।   রাতুল আর তিন্নির বছর তিনেকের সংসারে এই প্রথম এতদিন রান্না করছে তিন্নি। কোনোকালেই না ছিল শখ, না করতে হয়েছে এতটুকুও। তাই ওই বিষয়ে পারদর্শিতার অভাব ওর। রাতুল ও উইকএন্ডে মাঝে মাঝে ভালই বানায় রিনাদি না এলে। তাছাড়া সুইগি জোমাটোর দৌলতে ভালো খাওয়া এখন হাতের মুঠোয়। ইনফ্যাক্ট এই লকডাউনের সময় রিনাদিকে পার্মানেন্টলি ছুটিতে পাঠানোর কথা রাতুলকে বলতে বলেছিল, "সিওর? তুমি চালাতে পারবে? আমার কিন্তু ফুল ফ্লেজড ওয়ার্ক ফ্রম হোম।" আসলে তিন্নির রান্নায় ভরসা করতে পারেনা এখনো। আসলে ওকে দোষ দিয়েও লাভ নেই, পূর্ব অভিজ্ঞতা যে বড়ই খারাপ।
এখন ইউটিউবের জামানায় সব কিছুই শেখা সম্ভব, তিন্নিও ওর স্কুল গ্রুপের লোকজনকে তাক লাগিয়ে রান্নার ফটো শেয়ার করছে। অবশ্য যেদিন খারাপ হয় দেখতে, সেদিনের টা দেয়না। সেদিন শুধু রাতুলকে কোনোমতে খাবারটা হজম করে নিতে হয়। কারণ এতদিন পরে হয়ে ওঠা শেফের তকমাটা নষ্ট করতে চায়না ও। রাতুলও মুখে মাঝে মধ্যে টিপ্পনী করলেও মনে মনে প্রশ্রয়ই দেয়। ও নাহয় সারাদিন অফিসের কাজে মেতে থাকে, তিন্নির তো কিছু নিয়ে কাটাতে হবে। ছোট্ট কেউ থাকলে নয় তাকে নিয়েই টাইমপাস করতে পারতো। আর তিন্নি তো একা নয়, এই সেদিন দেখলো রাতুল, ওর বসের বউ যিনি কিনা একটা বড়ো কোম্পানির সেলস্ এর হেড, তিনিও পোস্ট করেছেন এইসব ফটো।
এদিকে হুজুগে জনগণের ডালগোনা কফি তিন্নি দু তিনবারের চেষ্টাতেও করতে পারেনি ভালো। তাই ওই ছবি পোস্টাতেও পারেনি বন্ধুমহলে। শরীর খারাপের বাহানায় কাটিয়ে দিয়েছে বন্ধুদের কৌতুহলকে। এখন আবার শুরু হয়েছে সবার ফুচকা বানানো। যেন মনে হচ্ছে লকডাউন উঠলেই সবাই পাড়ার মোড়ে ফুচকা রোলের স্টল দেবে। সেটারই খোঁজ চলছে আজ নেট দুনিয়ায়। রাতুল জিজ্ঞাসা করলো আজ স্ন্যাক্সের মেনু কি? তিন্নি উত্তর দিল, যদি ভাল হয়, তাহলে ফুচকা, নাহলে ওই যা তৈরি হবে, তাই জুটবে।
খাওয়ার পর্ব মিটতেই রাতুল চলে গেলো ভিতরের ঘরে ওয়েব সিরিজ দেখতে, আর তিন্নি শুরু করে দিল উপকরণ সাজাতে। বিকেলের দিকে রাতুলকে ডেকে তুলে বললো টেবিলে আসতে। ফুচকার সাইজ ও আকার দেখে রাতুল আর হাসি থামাতে পারলনা। জিজ্ঞাসা করলো, আজ কি ছবি উঠবে? মুখ গোমড়া করে তিন্নি বললো "না"।
৮ টার দিকে রাতুল মোবাইলটা চেক করতে গিয়ে দেখলো তিন্নি ফুচকার ছবির আপডেট দিয়েছে ওকে ট্যাগ করে, কিন্তু ছবিটা ওর খাওয়া সেই কিম্ভুত জিনিসের ছবিটা নয়। কিন্তু খুব চেনা চেনা লাগছে ছবিটা। তিন্নিকে একটু জ্বালাবে বলে জিজ্ঞাসা করলো আবার বানিয়েছিলে নাকি, আমাকে টেস্ট করালে না? তিন্নি মুখ নামিয়ে বললো, না। আজ আর পারলাম না। নেট থেকে খুঁজে একটা ছবি ঝেপে দিলাম নিজের নাম দিয়ে।
রাতুল রাতের দিকে দেখলো বসের মেসেজ, কপি পেস্ট করতে করতে কোনটা করছো সেটাও ভুলে যাচ্ছ নাকি? কিছু বুঝতে না পেরে বসকে কল করতে যাবে, হঠাৎ নজরে পড়ল বসের হোয়াটসঅ্যাপের স্ট্যাটাসে, দেখলো একইরকম ছবি, আই মিন ফুচকার, প্লেটের ডেকরেশনটাও দেখার মত। আগে এটাই দেখেছিল বোধহয় ওর এফবি প্রোফাইলে, তাই চেনা লাগছিল। নিচে ক্যাপশন "প্রিপেয়ার্ড বাই ওয়াইফ"। বুঝলো তিন্নির টা ক্রপ করা ওটা থেকেই, শুধু এই ধরনের দামী প্লেট ওদের বাড়ির তিন পুরুষের কেউ দেখেনি। কালকে ওর জব টাও ফুচকার মত ফুটুস হতে পারে এই চক্করে। টুক করে তিন্নির প্রোফাইলে ঢুকে ডিলিট করলো পোস্টটা।বসকে পোস্ট করলো, কন্টেন্টস ডিলিটেড, কপিরাইটস্ রিমেন্স উইথ ইউ।
©Ayan
Share:

#সোশ্যাল ডিসটেন্সি়ং#

এখন যা দিনকাল, বাজার বেরোলে মোবাইল বা পার্স নিয়ে না যাওয়াই ভালো। এই সাবধানতার কতগুলো সুবিধা আছে, এক তো সবাই, মানে ৩ বছরের শিশুও জানে এখন, গো করোনা গো। কিন্তু আমি আরো বড়ো সুবিধার কথা বলছি, নো মোর বাজার মুদিখানা যাওয়া বার বার, ইচ্ছা হল হলুদ নেই, আলু নেই এর আবদার নেই। বাড়ির কাছে এসে গেছেন, হঠাৎ দেখলেন, মোবাইল বাজছে। কোনোমতে ২ পিস ব্যাগ সামলে, ফোন টা তুলেছেন "ভিনিগার টা নেই, না আনলে চিলি চিকেন টা করবো কিভাবে?" যদিও জানেন, সকালে ভিনিগারের শিশি দিয়ে গার্গল করে বেরোননি আপনি। এটা ওনার দোষ নয়, হঠাৎ শেষ হয়ে গেছে মনে করেই আবার যেতে হবে বাজারে। যাইহোক, যা বলছিলাম এই সব হাজারো সুবিধা কিন্তু আপনি পাচ্ছেন এবং উপভোগ করছেন, কিন্তু ভুলেও মুখ ফুটে বলবেন না।
তো, সৌমেন, মানে যাকে নিয়ে আজকের ঘটনা, সেও আজ ভোর ভোর উঠেছে, উঠেছে মানে অনেকবার অ্যালার্ম বাজার পরও না ওঠায়, বউ এসে ঠেলে উঠিয়ে দিয়েছে। যদিও এখন ওঠে শুধু ঐ বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে, যেদিন অস্ত্র সজ্জায় সজ্জিত হয়ে মানে ওই গ্লাভস, মাস্ক পরে বেরোতে হয় বাজার ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য কিনতে।
তো আজ ফ্রেশ হয়ে চা খেয়ে গিন্নির বানানো ফর্দ নিয়ে বেরোল সৌমেন, এখন আবার ৮ টায় সব বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মেইন বাজার ও বন্ধ, তো জিনিস কিনতে যাচ্ছে কাছেপিঠের দোকান থেকেই।
অনেকদিন মিষ্টি খাওয়া হয়নি, বাঙালির শেষ পাতে মিষ্টিমুখ বোধ হয় অবলুপ্তির পথে। যদিও এটা লিস্টিতে নেই, তাও হারুর ছোট স্টেশনারি দোকানে একবার ঢুকে, ওই সনপাপরির প্যাকেট দেখে গোটা দুই তুলে নেয় ও। দুধের সাধ ঘোলে মেটানো আর কি। আর একটু এগিয়েই দেখে রহমানের দোকানটা খুলেছে, আর বেশ বড় লাইন ও। পকেটে টাকাও আছে, হয়ে যাবে। চোখ টা চিক চিক করে ওঠে, আহা প্রায় দেড় মাস পরে পাঁঠার মাংস আর গরম ভাত, চোখ বুজে গন্ধও অনুভব করে মনে মনে।
প্রায় আধঘন্টা দাঁড়িয়ে, আগে যতটা ছোট মনে হচ্ছিল লাইন টা, তার থেকেও বেশি মনে হচ্ছে। সামনের একজন আবার ফোন করে কাউকে বলছে দুহাজারের নোটটা দিয়ে যা, লাইনে আছি, পেয়ে যাবো মনে হচ্ছে। একটু করে লাইন এগোচ্ছে আর ঝুলন্ত পাঁঠারা ব্যাগের মধ্যে অদৃশ্য হচ্ছে। ওর আগের জনের যখন টার্ন এলো, দেখলো খুব বেশি আর অবশিষ্ট নেই।
রহমান বললো লোকটাকে, দাদা কতটা। "কতটা আছে? যা আছে দিয়ে দাও।" ২ কিলো ২০০, দিয়ে দেবো? "হাঁ, আবার কবে পাবো কে জানে, একসপ্তাহ আরাম করে খাওয়া যাক।" চোখের সামনে অন্ধকার দেখলো সৌমেন। চক্ষুলজ্জার মাথা খেয়ে লোকটাকে বললো, পিছনের লাইনটা দেখুন, এতজন কে অভুক্ত রেখে একসপ্তাহ গান্ডেপিন্ডে গিলতে লজ্জা করবে না আপনার? "কে বলেছে অভুক্ত থাকতে, সবজি মাছ খেয়েই থাকুন না কদিন। আচ্ছা, রহমান ওই ১০০ গ্রাম মেটে টা বাদ দিয়ে দাও, এনাকে দিয়ে দিও।" একটা কাঁচা শব্দ উচ্চারণ করে রাগে গজরাতে গজরাতে বেরিয়ে এলো সৌমেন। হায় রে পোড়া কপাল, কি ভেবেছিল আর কি হলো। ওর পিছনের লোকেদের মতই মনকে সান্ত্বনা দিয়ে ফর্দ অনুযায়ী জিনিস কিনতে এগোয় আর একটু।
হঠাৎ দেখে, সামনের দিক থেকে দু চার জন দুদ্দার করে ছুটতে ছুটতে আসছে। "পুলিশ পেটাচ্ছে, আর এদিকেই আসছে, পালান।"
কোনোমতে বাজারের ব্যাগ নিয়ে প্রাণ বাঁচিয়ে বাড়ি ঢুকলো সৌমেন। হাঁপাচ্ছে, বউ বাজারের ব্যাগ টা হাতে নিয়ে কটমট করে চেয়ে আছে দিকে। ডায়েট সর্বস্ব গৃহিণীর হাতে সপ্তাহের বাজারের ব্যাগে যদি সনপাপরির প্যাকেট জোটে, বাইরের পুলিশের থেকেও কম কিছু জুটবে বলে মনে হয় না আজ সৌমেনের। "কাঁচুমাচু মুখ করে বললো, কাল আবার যাব আনতে, আজ যে কার মুখ দেখে উঠেছিলাম।" আরেকবার বউ এর কটমট চাউনি দেখে সকালে ওঠার কথাটা মনে পড়ে গেলো ওর। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলো, বাকি দিনগুলো লোভের সাথে সোশ্যাল ডিসটেন্স মেইনটেইন করবে ও।
©Ayan
Share:

জীবন ও জীবাণু

#জীবন ও জীবাণু#

ঘুম থেকে উঠেই সুমন দেখলো ঘড়িতে ৮.৩০ বাজে। আজ শনিবার, তাই একটু লেট করে উঠেছে। ওদিকে বউ অলরেডি উঠে রান্নাঘরে ঢুকেছে। এই ওয়ার্ক ফ্রম হোম এর চক্করে ওয়ার্ক ফর হোম টাই করা হচ্ছে না।

ভাবলো আজ সব ঘরের ঝুল ঝেড়ে একটু ভালো খাবার দাবারের আবদার করা যাবে। এমনিতেই লকডাউন এর বাজারে ডিমটাই বেশি পাওয়া ও খাওয়া হচ্ছে। কাল ই এক ক্রেট এনে রেখেছে পরের দিন দশেকের জন্য। সেগুলোর ভালো করে জীবাণু মানে করোনা মুক্ত করে রেখে দিয়েছে একটা ঘরের কোণে। তা ওপরের দিকে তাকিয়ে ঝুল ঝাড়তে ঝাড়তে এতই মশগুল, ফট করে পা দিয়ে দিল ওই ডিমের ক্রেটের ওপর। যা, আজ তো মনে হচ্ছে ডাল ভাত ও জুটবে না।
টুক করে দেখে এল হোম মিনিস্টারের অবস্থান টা। এখন বাথরুমে আছে। আস্তে আস্তে ভাঙ্গা ছ ছটা ডিম তুলে নিয়ে, সুমন গেল রান্নাঘরে।
বউ বাথরুম থেকে বেরোতেই, দেখো আজ তোমার জন্য ব্রেকফাস্ট বানিয়েছি।
"বাব্বা, আজ সূর্য ওঠেনি নাকি! সকালে দেখলাম ঝুল ঝাড়ছো, এখন আবার ব্রেকফাস্ট, মতলব টা কি বলোতো? একি, এত মোটা অমলেট, কতগুলো করে ডিম দিয়েছ?"
"না, আজকে ভাবলাম মোটা করেই ব্রেকফাস্ট করি।" মনে মনে বললো, দুপুরে খাবার পাবো কিনা কে জানে, রিস্ক নিয়ে লাভ কি!!
"কিন্তু এই বাজারে এতগুলো ডিম না ইউজ করতেই পারতে, সংসার টা তো আমাকেই টানতে হবে এই যা জিনিস আছে তাই দিয়েই। তারমধ্যে আবার একই খাবার দুবেলা তোমার মুখে রুচবে না।"
"শুধু অমলেট এর মোটা টাই দেখলে, আমার খাটুনিটা দেখলে না।" একটু অভিমানী সুরে বলল সুমন। এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছে যাতে দুপুরের খাবারটা মিস না হয়।
"সরি, বাদ দাও, দুপুরে একটু বাসমতি চালের ফ্রাইড রাইস করি, ডিম দিয়ে?"
"ডিম টা বাদ দাও, তোমাকে ওই কটা দিয়েই সপ্তাহ চালাতে হবে তো।"
©Ayan
Share:

#কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি#

bengali story blog ayan kakhono Megh Kakhono Bristi

দৃশ্য ১:
কোর্ট থেকে বেরিয়ে এলো দুজনে। অনি বললো, ভালো থেকো। মধু হালকা হেসে উল্টোদিকে হাঁটা দিল। দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে এগিয়ে গেলো বাস ধরতে। একমুহূর্তে শেষ হয়ে গেল ৬ বছরের বিবাহিত জীবন। এখন বেঁচে থাকা ওই দুধের শিশুটির সংস্পর্শে। ডিভোর্সের এই প্রাপ্তির জন্য মামলা লড়েছিল ও। অনির বাড়ি থেকে বাচ্চা চুরির অভিযোগে পুলিশের কাছে কমপ্লেইনও করেছিল ওর বিরুদ্ধে। কিন্তু সব শেষে জিত হয় সত্যের।
দৃশ্য ২:
মাঝে কেটে গেছে বছর দশেক। মধুমিতা নিজের বেসরকারি চাকরিতে ভর করে গুছিয়ে নিয়েছে সবকিছু। বাবা মারা যাওয়ার পর ছোট্ট ফ্ল্যাটে মা কে এনে রেখেছে । ছোট্ট দ্বীপ এখন ক্লাস ফাইভে পড়ে। মা অনেকবার করে বলেছে আবার বিয়ে করতে, ছেলেটা ছোট থাকতে থাকতেই। কিন্তু আবার ওই পথ মাড়াতে চায়নি ও। কিন্তু মাকে দমিয়ে রাখা ভারী মুস্কিল হচ্ছে ইদানিং। এখন মা বেশ ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপে সরগর। কয়েক মাস আগে হঠাৎ মধুর ছবিসহ খুলেছে মাট্রিমনি প্রোফাইল, দিয়েছিল মধুর ই মোবাইল নম্বর। যেদিন প্রথম একটা ফোন এসেছিল, কি অপ্রস্তুতে না পড়েছিল সে। বাড়িতে এসে প্রচুর ঝেরেছিলো মাকে। ও বোঝে মায়ের চিন্তাটা। প্রোফাইলে মায়ের নম্বরটা আপডেট করে দিয়েছিল, আর স্ট্যাটাস বদলে করে দিয়েছিল ডিভোর্সি ও বছর দশের সন্তানের মা।
দৃশ্য ৩:
আরো কিছু মাস কেটে গেছে এর মধ্যে। এতদিন কোনো কথা মাকে না বলে থাকেনি ও। মনের মধ্যে অনেক বাধা কাটিয়ে কিছুটা এগিয়েছে, কিন্তু এবার মাকে বলতে হবে সম্রাটের কথা টা। মাঝে মধ্যেই মা কিছু ফটো এনে দেখাতো আর নতুন ফোনের বাক্যালাপ শোনাতো। বিভিন্ন ভাবে কাটিয়ে দিত ও। কিন্তু কিভাবে যে এই সম্পর্কটা এগোলো নিজেই অবাক হয়ে যায়। সম্রাটের ফোনটা এসেছিল মাস তিনেক আগে। প্রথমেই নিজের প্রোফাইল স্ট্যাটাস বদলের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছিল। নম্বর বদলানোর আগে যে প্রথম ফোনটা এসেছিল মধুর কাছে, সেটা সম্রাটের ই ছিল। নিজে ডিভোর্সি বলে আর বিব্রত মধুর গলা শুনে রেখে দিয়েছিল ফোনটা। কিন্তু, প্রোফাইলটা র আপডেট হতে আবার যোগাযোগ শুরু করে। সেই থেকেই দুজনের ভালোলাগার শুরু। নিজেদের ছোটছোট ঘটনার মিল আরো কাছে আনছিল দুজনকে। কিন্তু সাক্ষাতের সম্ভাবনা নেই, কারণ সম্রাট ইউএসএ তে আছে চাকরিসূত্রে। দিন কয়েক আগে ভিডিও কল শুরু করেছে ওরা। দীপকেও ভালোবেসে ফেলেছে সম্রাট, আর এটাই আরো কাছে এনেছে দুজনকে। একদিন রাতে খাওয়া দাওয়ার পর দীপ ঘুমিয়ে পড়লে মাকে বলে সব ঘটনা। মা তো শুনে খুব খুশি, এখুনি কল করতে বলে। মধু মুচকি হেঁসে বলে, হবু শাশুড়ি একটু সাজুগুজু না করেই জামাইকে দেখবে?
মা বলে, তুমি সাজো, আমাকে এতদিন না বলে রেখেছ। সেদিনই ভিডিও কল করে কথা হয় সম্রাটের সাথে। দেখে খুব খুশি হয় মা। কল শেষ হওয়ার পর মা মেয়েতে খুব কান্নাকাটি করে। এতদিনের জমানো দুঃখ প্রকাশ পায় আনন্দাশ্রুর মধ্যে দিয়ে।
দৃশ্য ৪:
আজ রবিবার সন্ধ্যা, আগের কথামত সম্রাটের মা বাবার সাথে ভিডিও কল হওয়ার কথা। ঠিক সময়েই কথা হয় দুই পরিবারের। দুই পরিবারই চায় যত তাড়াতাড়ি চার হাত এক হোক। সম্রাট ব্যবস্থা করতে থাকে মধুর ভিসার যাতে একেবারে গিয়ে বিয়ে করে নিয়ে আসা যায়। বিয়ের প্রস্তুতি শুরু হতে থাকে, আর মধুর মন ঘুরে বেড়ায় প্রজাপতির ডানায় ভর করে।
একদিন, সম্রাট ফোন করে জানতে চায়, ভিসার কিছু একটা সমস্যা হচ্ছে, কারণ মধুর নামে পুলিশ কেস ছিল। মধু সেই আগের ঘটনার কথা জানায় সম্রাটকে সেই ডিভোর্সের সময়কার ওর শশুরবাড়ি র মিথ্যে কেসের কথা। এভাবে পুরনো দাগ যে আবার ফিরে আসবে, কেই বা জানত। খুব কান্নাকাটি করে মধু। সম্রাট সান্ত্বনা দেয়, কিছু একটা ব্যাবস্থা করবে সে। কিছুদিন পর জানায় ওদের অফিসের ইন্ডিয়া এজেন্ট সব রেডি করে দিচ্ছে, ওখানে গিয়ে ফি আর ফর্মালিটি করলেই চলবে। নিশ্চিন্ত হয় দুই পরিবার।
দৃশ্য ৫:
আজ আসবে সম্রাট, এই প্রথম কাছ থেকে দেখা। আর তর সইছে না মধুর। ঠিক সময়ে এসে পড়ে সে। ইতিমধ্যে দীপের সাথেও ভালই আলাপ হয়ে গেছে ওর। দীপ ও আপন করে নিয়েছে ওকে। প্রচুর খেতে ভালোবাসে সম্রাট, আর এতদিন যা যা ভালোলাগার কথা বলেছিল, সব হাজির করেছে শাশুড়ি। খাওয়ার পর আর ওঠার ক্ষমতা নেই সম্রাটের। ঘুমানোর আগে গুডনাইট বলে শুতে চলে যায় দীপ ও তার দিম্মা। সম্রাটকে নিজের ঘরটা দিয়ে, সোফায় নিজের শোয়ার ব্যবস্থা করে মধু। হঠাৎ পিছন থেকে সম্রাট এসে বলে আমার গুডনাইট কিস টা দাও। মধু ওকে দূরে ঠেলে দেয়, বলে এসব বিষয়ে আমি একটু ব্যাকডেটেড, সব পাবে বিয়ের পরই। তারপর ঘরে ঢুকিয়ে দেয় সম্রাটকে।
সকালে বেরিয়ে বেশ কিছু মার্কেটিং শেষ করে ওরা। আজ আর কালকের দিন টা ছুটি নিয়েছে মধু। রাতে খাবার টেবিলে খেতে খেতে সম্রাটের ফোন টা আসে।
"হাউ ক্যান ইউ সে দিস নাউ? এনি আদার অল্টারনেটিভস?"
"আই উইল কল ইউ ইন ওয়ান হাওয়ার"।
ফোনটা রাখার পর সম্রাট যেটা বললো, যেহেতু মধুর কেসটা শুধু কমপ্লেইন এই আটকে ছিল না, অ্যারেস্ট পর্যন্ত হয়েছিল, ভিসা অ্যাপ্লিকেশন এ ১৫ লাখের পার্সোনাল বন্ড জমা দিতে হবে।
সম্রাট বললো, "মধু, তোমার অ্যাকাউন্টে কত আছে এখন?"
চিন্তিত মুখে মধু বলে, লাখ পাঁচেকের মত।
"আমার কার্ড থেকে ৩ লাখ মত পাবো, কিন্তু বাকি আরো ৭ লাখ। বাদ দাও, বরং আমি কাল পরশুর মধ্যে ফিরে গিয়ে বাকি ব্যবস্থা করে ফিরবো। আমাদের শুধু রেজিস্ট্রির দিন টা চেঞ্জ করতে হবে, তুমি সেটা একটু দেখে নিও।"
মধুর মা বলে, "বাবা যা গয়না আছে মধুর, লাখ ৪ এর মত হবে। বাকি দুটো এফডি থেকে আরো দু লাখ মত পাবো।"
"তাহলেও একলাখ কম হচ্ছে, মধু কোনো চিন্তা করোনা, আমি এক উইকে ফিরে আসবো।"
মধু বলে, "তুমি আমায় যে এনগেজমেন্ট রিং দিয়েছিলে সেটাও লাখের মতই হবে না? কাল ই সব ব্যাবস্থা করে ফেলো।"
"দেখো, ওটা আমার প্রথম গিফট, ওটা নিতে বলো না, দেখছি কি করা যায়।" সম্রাট বললো।
"আমি তো তোমার কাছেই থাকছি, তুমি আবার ওখানে তৈরি করে দিও। বেশ দুবার পাওয়া যাবে এনগেজমেন্ট রিং।"
পরদিন সারাদিন সম্রাট গয়নার ব্যাবস্থা করতে যায়, আর মধু মাকে নিয়ে এফডি বন্ধ করে টাকার ব্যাবস্থা করে। তুলে আনে নিজের ৫ লাখ ও। সম্রাট ওর কার্ড থেকে তুলে আনে ৩ লাখ। শুধু কাল গয়নার ৪ লাখ পেলেই মধুকে নিয়ে গিয়ে আলাদা বন্ড তৈরি করিয়ে আনবে সম্রাট।
দৃশ্য ৬:
অনেকবার ফোন করেও পাওয়া যাচ্ছেনা ওকে। এবার টেনশন হচ্ছে মধুর। অনেক্ষন বেরিয়েছে, কিছু অ্যাকসিডেন্ট হলনা তো? বেশ কিছুক্ষণ পর একবার ছুটে ভিতরের ঘরে যায় মধু। ঘরে সম্রাটের কোনো লাগেজ পায়না সে। টাকার ব্যাগটাও নেই। ল্যাপটপ খুলে মাট্রিমনিয়াল সাইটে প্রোফাইল টা খুঁজে পায়না সে। এফবি প্রোফাইলেও নেই।
হতাশ হয়ে বসে পড়লো মধু। আবার যুদ্ধ শুরু করতে হবে সব বাঁচানোর আশায়।
©Ayan
Share:

মোট পৃষ্ঠাদর্শন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.