ছোট গল্পের সন্ধানে || কলমে অয়ন

  • বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

    আনন্দ, উদ্বেগ আর প্রত্যাশার গণ্ডি পেরিয়ে চতুর্থ বারের জন্য অপেক্ষা দায়িত্বের। সেই দায়ভার থেকেই জন্ম এই চতুর্থ সন্তানের। আগের বারের "মৃত্যু রহস্য"র পর ইয়ং ইন্সপেক্টর সৌমিলির ডাক পড়েছে এক জটিল সমস্যার সমাধানে। গ্রাম বাংলার এক সুন্দর প্রকৃতির প্রেক্ষাপটে ঘটে চলেছে অদ্ভুত সব ঘটনা। যাকেই সে সন্দেহের তালিকায় আনছে, হঠাৎ করে সে-ই খুন হয়ে যাচ্ছে। সৌমিলি কি পারবে এই কেস সলভ করতে❓ তারই গল্প বলতে প্রকাশিত হচ্ছে আমার চতুর্থ বই "আই ক্যান্ডি" এবারের কলকাতা বইমেলা ২০২৫ এ ক্লিক করুন

  • বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

    প্রথম বারের আনন্দ আর দ্বিতীয় বারের উদ্বেগের গণ্ডি পেরিয়ে তৃতীয় বারের জন্য অপেক্ষা প্রত্যাশার। সেই থেকেই জন্ম এই তৃতীয় সন্তানের। আগের বারের "পায়ে পায়ে রহস্য" র সাফল্যের পর ইয়ং ইন্সপেক্টর সৌমিলি সমাধান করে ফেলেছে আরও কিছু জটিল কেস। তারই গল্প বলতে প্রকাশিত হচ্ছে আমার তৃতীয় নতুন গল্পের বই "মৃত্যু রহস্য" এবারের কলকাতা বইমেলা ২০২৪ এ। আশা করি এই বই আমার পাঠকদের আনন্দ দেবে বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    আজকের দুনিয়ায় টেকনোলজিও যত উন্নত হয়েছে, পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিত্য নতুন অপরাধের ধরণ। একজন ইয়ং ইন্সপেক্টর কিভাবে কেসের পর কেসের কিনারা করবে, তারই বেশ কিছু ঝলক থাকবে পাঠকদের সামনে। বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    মুঠোফোনের দুনিয়ায় আমার প্রথম বই শব্দের স্বরলিপি এনে দেবে একরাশ মুক্ত বাতাস। বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • প্রতি সপ্তাহে নতুন গল্প

    গল্প পড়ার থেকে শুনতে বেশি ভালবাসেন? বাচ্ছারা রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময় গল্প শুনতে চায়? তাহলে দেরী না করে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন ইউটিউব চ্যানেলটা, আর বেল আইকন টা প্রেস করতে ভুলবেন না। আসছে প্রতি শুক্রবার রাত ৯ টায়। সঙ্গে থাকুন।

  • #ভোকাট্টা#

    চারপাশের আকাশে শুধু রঙ বেরঙের ঘুড়ি। এখনকার মত নানারকমের ক্যামেরা না থাকলেও ছবি গুলো উজ্জ্বল হয়ে থাকত স্মৃতির মণিকোঠায়। মাঝে মাঝে তারস্বরে চিৎকার, “ভো কাট্টা!

  • #অরণ্যে দুই রাত্রি#

    কথায় বলে বাঙালির পায়ের তলায় সর্ষে। কিন্তু এই বিগত দেড় বছরের করোনা পরিস্তিতিতে সবার মত তারাও হয়ে পড়েছিল ঘরবন্দি। তাই এখন একটু পরিস্তিতি ঠিক হতেই সবাই আবার বেড়িয়ে পড়েছে কাছে পিঠে। সেই রকমই একটা উইকএন্ড ডেসটিনেশনের কথা

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    মুঠোফোনের দুনিয়ায় আমার প্রথম বই শব্দের স্বরলিপি এনে দেবে একরাশ মুক্ত বাতাস। বিশদে জানতে ক্লিক করুন


Best Bangla Books to Buy in 2024

নারী ও নাড়ি

 

Nari-o-nari

একদিনই কি নারী দিবস? একদিন নারীদের শ্রদ্ধা জানিয়ে দিলেই কি তাদের প্রকৃত মর্যাদা প্রদর্শন করা হয়? আজকের নারীরা কি সেটাই চায়?
এই তো সেদিন এক শিক্ষিত মহিলা আওয়াজ তুললেন নিজের স্বামীর বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের। কত শত নারী ধর্ষিতা হয়ে নির্বাক থেকে যায় সামাজিক অবমাননার বেড়াজালে।
এখনো কান পাতলেই শোনা যায় কত নাবালিকার বিয়ে রুখে দেওয়ার ঘটনা। আরো কত বালিকা পারে না সেই সাহস জুগিয়ে পরিবারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার।
কত শত অভাবী পিতা মাতা থামিয়ে দিতে বাধ্য হয় কন্যার পড়াশোনা যাতে অন্তত নিজের অন্য পুত্র সন্তানকে দিতে পারে শিক্ষার আলো। অথচ সেই পুত্রই পরে বাবা মাকে ঘর ছাড়া করতে পিছপা হয় না।
আজও কত যোগ্য নারীর উন্নতির পিছনে খোঁজা হয় কোনো দুরূহ অভিসন্ধির গল্প। যেন নিজের যোগ্যতায় কখনোই সে বাড়তে না পারে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে। সব ক্ষেত্রে যেন থাকতেই হবে ঊর্ধ্বতনের ঘৃণ্য স্পর্শ।
এখনো ছেলেমেয়ের ভালো কিছু প্রাপ্তির কৃতিত্ব জোটে পিতাদেরই। অথচ কারোর খারাপ হয়ে যাওয়ার একশো শতাংশ দায়ভার বর্তায় মায়েদের ঘাড়ে।
ডাবল ইঞ্জিনের জমানায় সংসারের রেল গাড়ি ছুটেছে দ্রুত। কিন্তু আজও ওই মেয়েটাকে কাজের শেষে নিজেকেই করে দিতে হয় পরিবারের জন্য চা জলখাবার। যদিও বেটার হাফ একদিন সেইসব করলেই ধন্য ধন্য পরে যায় চারদিকে। এটা শুধু নিজের বাড়ি নয়, শ্বশুরবাড়িও জয়গান গেয়ে ওঠে জামাইয়ের এহেন কৃতিত্বে।
এইসব কিন্তু বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এখনও এগুলোরই প্রাধান্য বেশি উন্নত সমাজের বুকে। চলুন না "মানসের ছেলের থেকে বেরিয়ে তুলে ধরি মাধবীর ছেলের কৃতিত্ব।" ওপরের ঘটনাবলীর উল্টোপুরান হলেই পাওয়া যাবে আসল নারী দিবসের সার্থকতা।
টিল দ্যেন, মুভ টুওয়ার্ডস দ্যাট গোল। আসুন, সকলে মিলে গড়ে তুলি নারীর বাসযোগ্য পৃথিবী।

©️কলমে_অয়ন
* ছবি ঋণ: হোয়াটসঅ্যাপ
রচনার তারিখ: ৮ই মার্চ ২০২৩


Share:

বার্ধক্যের বসন্ত

 

Bardhokyer-basanta

- কি হে, কি খবর?
- একটু দাঁড়ান, একজনের কাটছি। তারপরই আপনার। ততক্ষণ আজকের পেপার টা পড়ুন।
- ঠিক আছে, তাড়াহুড়ো কোরো না। আজ একটু টাইম দিয়ে কেটে দিও।
দুটো পাড়ার পরের মোড়ের সেলুনে এসে দিব্বি আড্ডা মারেন শ্যামল বাবু। ছেলে মেয়ের ব্যস্ত সংসারে কথা বলার লোকের যে বড়ই অভাব। তাই, এই সব দোকান বাজারে কিছুটা সময় কাটিয়ে নিজেকে টাইমের বাঁধনে আটকে রাখেন আর কি। চাকরি জীবনে সময়ের অভাব পূরণ হয়ে গেছে এই অবসর পরবর্তী কালে।
- কেন কাকু, কোথাও যাবেন নাকি?
চোখ টিপে জানতে চায় ছোটু। শ্যামল বাবু শত ভিড় থাকলেও ছোটুর হাতে ছাড়া কাটবেন না। আর ছোটুও বেশ হাসি মশকরা করে এই সব বৃদ্ধ জনতার সঙ্গে। ওদের জীবনে একটু ভালোবাসার ছোঁয়াচ আনার চেষ্টায়। হয়তো অনেক ছোটবেলায় হারানো বাবাকে কোথাও মনে মনে স্মরণ করে সে।
- আরে শাশুড়ি, মানে ছেলের শাশুড়ি আসবে। তাই, আর কি! হেঁ হেঁ!
- ওহ, তাই বলুন। তা, কাকিমা আছেন তো?
- আরে, না রে ভায়া। করোনা কাটিয়ে দিয়েও গত বছর হঠাৎ করেই পগারপার।
- ঠিক আছে, ঠিক আছে। আপনাকে টেনশন করতে হবে না। এমন পালিশ করে দেবো যে কাকিমাও এলে চিনতে পারবে না।
- আরে সেই বয়স কি আছে? এককালে কতজনের যে হৃদয় ভেঙেছে আমার দাক্ষিণ্যে, সে গল্প শোনাব আরেকদিন। এখন নাও হাত চালাও, বেশি দেরি হলে বেয়ানকে রং মাখানোর চান্স টাও চলে যাবে।
নিউজপেপারটা মুড়ে রেখে চেয়ারের দিকে এগিয়ে যান শ্যামল বাবু।

©️কলমে_অয়ন
রচনার তারিখ: ৮ই মার্চ ২০২৩


Share:

মায়ার বাঁধন

mayar-bandhon

সকাল সকাল বাস স্ট্যান্ডে ও দাঁড়িয়ে আছে শার্টেল ধরার জন্যে। আজকাল অ্যাপ নির্ভর এই যানবাহনই অফিস পৌঁছানোর নির্ঝঞ্ঝাট উপায়। যদিও প্রযুক্তির মায়ার বন্ধনে অনেক সময়েই যে বিভ্রাট দেখা যায় তা কখনো কখনো শিরপীড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আজ তেমনই এক দিন। সাত সকালে মিটিংয়ের জন্য আজ একটু আগের শার্টেলই বুক করেছিল ময়ূখ। কিন্তু এবার দেরি হলে অপর্ণা দি কে গুল গল্প দিতে হবে। এমনিতেই টাইমে যাওয়ার সুনাম তো নেই। তাই ঠিক কারণ বললেও কেউ বিশ্বাস করে না।
তো এরকম পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ পিঠে একটা জোরালো চাপড়। পিছন ঘুরে একটা চার অক্ষর দিতে যাব, দেখি তন্ময়।
"আরে ভাই কি খবর? মুখ টা সকাল থেকেই এরকম বিগড়ে কেন?" সিগারেটে সুখ টান মারতে মারতে বলে ওঠে। তারপর সিগারেট টা বাড়িয়ে কাউন্টারের জন্য দেয়।
"না রে, এসব ছেড়ে দিয়েছি অনেকদিন হল।" ওর দিকে তাকিয়ে বলে ময়ূখ।
"কি বলিস রে? স্কুল কলেজে বাপের পকেট মেরে প্রায় চেন স্মোকার ময়ূখ বলছে এই কথা। দাঁড়া দাঁড়া একটু চিমটি কেটে দেখে নি। তা, এটা কত নম্বর বার ছাড়লি?" বেশ অবাক হয়েই বলল তন্ময়
"এটাই প্রথম আর পার্মানেন্ট। আসলে একটা ঘটনার পর.....আর সে তো তোর ক্ষেত্রেও খাটে। রামকৃষ্ণ স্কুলের ফার্স্ট বয় বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে দেখলে হারাধন বাবু থেকে সেই আর বি স্যর, সবাই অক্কা পাবে।" ময়ূখ বলে ওঠে
বলতে বলতেই একটা গাড়ি এসে দাঁড়ায় তন্ময়ের সামনে। তন্বী আধুনিকা এক মায়াবী পরী যেন নেমে আসে গাড়ি থেকে।
"হ্যালো হ্যালো, পুরো যে গিলে খাচ্ছিস যে। এটা আমার বউ বস।" প্রায় সামনে হাত নেড়ে বলে ওঠে তন্ময়। নিজের নির্বোধ ব্যবহারে নিজেই লজ্জায় পড়ে যায় ময়ূখ। মুহূর্তের স্থবিরতা কাটিয়ে বলে ওঠে, "আরে এরকম স্বর্গের দেবী মর্ত্যে নেমে তোর ওপর প্রকট হলে, ঘোর কাটাতে সময় লাগবে বৈকি।" বলেই হেসে ব্যাপারটা হালকা করে দেয়।
তন্ময় বলে, "ও সকালে মেয়েকে স্কুলে নামিয়ে ফিরে এলে আমি গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যাই। চল, তোকে কোথায় নামাবো? তারপর আমি বেরিয়ে যাব দোকানে। আর যেতে যেতে শুনব কি একটা ঘটনা বলছিলিস, সেটা।"
গাড়িতে উঠে ময়ূখ ভাবতে থাকে পুরোনো অনেক কথা। ওদের বাবা মায়েদের কাছে তন্ময় ছিল রত্ন। মধ্যম মেধার ময়ূখদের কাছে তন্ময় ছিল ঈর্ষার কারণও। সেই তন্ময় আজ বড় কোনো চাকরি করার বদলে ব্যবসা করছে। নিশ্চয়ই অভাবের কারণ নেই। তন্ময়ের ডাকে সম্বিত ফেরে ময়ূখের।
বলে ফেলে ওর সিগারেট ছাড়ার ঘটনা। "তোর মনে আছে ঋতু কে? সেই স্কুলের পর কমলা গার্লস থেকে সাইকেল করে ফিরতাম আমরা দুজনে। প্রেম ছিল ভরপুর। বসন্তের মতই গভীরে চলে গিয়েছিলাম অচিরেই। গ্র্যাজুয়েশনের পর পরই করে নিয়েছিলাম বিয়ে। আমি ঢুকেছিলাম একটা ছোট ফার্মে, আর ঋতু শুরু করেছিল টিউশনি। খুব তাড়াতাড়ি এসে গিয়েছিল ছোট্ট একটা ফুটফুটে মেয়ে। ভালই কাটছিল, তাল কাটল আমার আগের চাকরি গিয়ে। শুরু করলাম অতিরিক্ত নেশা করা। বেশ কিছুদিন সহ্য করার পর হাল ছাড়ল ঋতু। মেয়েকে নিয়ে সরে গেল আমার জীবন থেকে। আমার যখন বিবেক ফিরল, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। ঋতুর ডিভোর্সের চিঠি আমার সিগারেট কে বিদায় করল।" চোখ মুছে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করল ময়ূখ।
গাড়িটা কখন যে এসে দাঁড়িয়েছে এ জে সি বসু রোডের সেমেটারি। কিছু বলার আগেই তন্ময় ওকে নামিয়ে নিয়ে এগিয়ে চলল সামনের দিকে। একটা স্মৃতি সৌধের কাছে এসে বলে উঠল, "মেরির তখন পাঁচ বছর বয়স। রোজকার মত সেদিনও মায়ের সাথেই স্কুলে এসেছিল। গাড়ি থেকে নেমে স্কুলে ঢোকানোর মুখে উল্টো দিক থেকে আসা একটা বেপরোয়া বাস চাপা দিয়ে যায় ওকে। স্পট ডেড, কিন্তু মেরির মা এখনো ওকে রোজ দিতে আসে স্কুলে। এভাবেই দুজনেই না থেকেও জড়িয়ে আছে আমার হৃদয়ে। তাই এখনও সময় আছে, ফিরে যাওয়ার একটা চেষ্টা করিস ভাই। তাতে নিজেকে অন্তত সান্ত্বনা দিতে পারবি।"
ময়ূখ জড়িয়ে ধরে তন্ময়কে। দুজনের অশ্রুধারায় নেমে আসে বসন্তের অকাল বর্ষণ।

©️ কলমে_অয়ন

রচনার তারিখ: ১লা মার্চ ২০২৩
Share:

আশার আবেগ

Bengali Story|Choto Golpo Bangla|Bangla Short Story Blog|Bengali Story Reading App

asar abeg

আচ্ছা, আবেগ বলে কি আর কিছু থাকবে না। --- মাছের বাজারে ঢোকার মুখে চায়ের দোকানে তুমুল আলোচনা চলছে।
এবারে আর কারোরই তেমন উৎসাহ নেই। খেলার মধ্যে পলিটিক্স ঢুকে সব নষ্ট করে দিল। এত কোলাহল হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। একশো বছরেরও বেশি পুরোনো এই কলকাতার বড় ম্যাচ বা ডার্বি যা এই সেদিন পর্যন্ত জন্ম দিয়েছে অনেক নতুন তারকার। ঠিক আগের দিনেও স্টেডিয়ামে নেই কোনো টিকিট কেনার লাইন। নেই সেই ঐতিহাসিক উন্মাদনাও। একদিকে স্পনসরদের কম টিকিট বন্টনের চোখ রাঙানি উস্কে দিয়েছে ক্লাব সহ আই এফ এ কে। বয়কট করেছে ওই দুশো বা তিনশো টিকিটের দাক্ষিণ্য। সত্যিই তো, বিশাল এই আবেগতাড়িত সমর্থকদের ছাড়া ক্লাব গুলো কি অস্তিত্বহীন নয়? তাহলে তাদের মতামত কে অগ্রাহ্য করা কেন? তেমনই আরেক দলের নাম পরিবর্তন নিয়ে সমর্থকদের আবেগের বহিঃপ্রকাশ, যা বয়কটের চেহারা নিতে চলেছে এবার। নিউজ রিপোর্টে প্রকাশ, মাত্র কুড়ি শতাংশ সেল হয়েছে টিকিটের। যা বোধহয় ডার্বির ইতিহাসেও প্রথমবার।
কিন্তু এমন তো হওয়ার নয়। একদিকে মোহনবাগানের পর পর আট টা ম্যাচ জেতার হাতছানি, অন্যদিকে ডুবতে থাকা ইস্টবেঙ্গল দলের অন্যতম সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্লেটনের ডার্বি জেতার হুঙ্কার। দল বদলের সেই উন্মাদনা তো কবেই শেষ হয়ে গেছে। এবার কি শেষ হওয়ার পালা এই ঐতিহ্যের পরম্পরার? ইলিশ চিংড়ির লড়াইয়ের দিন কি ফিকে হয়ে এলো? আর কি বাঙাল শ্বশুরের সাথে তর্কে মাতবে না ঘটি জামাইয়ের দল? কোনো এক ঘটি বাড়ির বাঙাল বউ কি ডার্বি তে ইস্টবেঙ্গলের জয়ের আনন্দে লুকিয়ে নেচে উঠবে না সকলের আড়ালে?
ফুটবলপ্রেমীরা, এবার চোখ ফেরান প্রিমিয়ার লীগ থেকে নিজেদের ঘরের দিকে। দল মত নির্বিশেষে একজোট হোন কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার নেশায়। নাহলে দেশকে বিশ্বকাপে না দেখতে পাওয়ার হতাশার মত দেশের মাটিতে ফুটবলটাই হয়তো উঠে যাবে। ওই যে মেয়েটা নেচে উঠত সবার অলক্ষে, ওই যে ছেলেটা বস কে ঢপ মেরে প্রতিবার অফিস কাটত ডার্বি দেখার বাহানায়, সেই সব সোনালী দিনকে হত্যার আগেই রুখে দাঁড়াই সবাই। নাহলে পরবর্তী অনেক প্রজন্মের জিজ্ঞাসার কাছে রয়ে যাবে বধির এক সভ্যতা।

©️ কলমে_অয়ন
রচনা কালঃ ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
Share:

যাত্রাপথের ডায়েরি

যাত্রাপথের ডায়েরি

'ক্যান আই গেট দ্য অফার ফর কলকাতা লোকেশন?' প্রশ্নকর্তা বেশ গম্ভীর মুখে প্রশ্ন করল।
তারপর ফোনের ওপারের উত্তর শুনে বলল, 'ওহ, সার্টেনলি। প্লিজ সেন্ড দ্য মেল অ্যান্ড আই উইল কনফার্ম ইউ ব্যাক।'
গাড়ি চালাতে চালাতেই মৌসম উত্তর দিচ্ছিল। ফোনটা রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলে, 'উফ, হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। পাঁচটা থেকে ইন্টারভিউটা ছিল, কিন্তু দেরি করতে করতে ঠিক বেরোতে যাচ্ছি, তখনই কল টা করল। যাইহোক, পেয়ে গেছি মনে হচ্ছে। কি মনে হল আপনার?'
যাত্রাপথেই মৌসমের সাথে পরিচয়। ওর গাড়িতে আরো দু-তিনজনের সাথে শেয়ার করতে করতে বাড়ি ফেরা। মার্কেটিং বুলি, কার্বন এমিশন বাঁচাতে সহায়তা করছি। আদতে পয়সা সেভ করে বেশ কিছুটা আরামে ফেরা আর কি।
আমি কি আর বলি। একপেশে কথা শুনে ইন্টারভিউ কেমন হয়েছে জানতে চাওয়াটা কিছুটা ওই ব্রিজ তৈরির আগেই উদ্বোধনের দিনক্ষণ ঠিক করার মত ব্যাপার। তবুও চক্ষু লজ্জার খাতিরে আর শেষের ওই কনফার্ম শব্দের প্ররোচনায় বললাম, 'হম, সে তো বটেই। কিন্ত আপনাদের এখনকার অফিসের মত মেডিক্যাল, পার্কস যেমন তিন বেলা খাবার ইত্যাদি সেইসব পাবেন কি নতুন জায়গায়?' অদূর ভবিষ্যতে ওর ম্যানেজারের কষ্ট কিছুটা লাঘব করার উদ্দেশ্যেই মৌসমকে কিছুটা দ্বন্দ্বে ফেলার চেষ্টা করি। কিছুদিন আগে নিজের টিমের অনেকে ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট কি আর সহজে ভোলা যায়। প্রসঙ্গত বলে রাখি এখানে একমাত্র এই কোম্পানিরই এসবের সুনাম আছে, যদিও স্যালারি স্কেল টা মার্কেটের তুলনায় একটু কম।
শুনে ও বলে ওঠে, 'আরে কি যে বলেন। এখানে এরা বিশেষত এইচ আর রা আমাদের মানুষ মনে করে? জয়েন করার সময়ে এক মূর্তি আর তারপর পুরো অন্য রূপ। ঠিক যেন প্রেমিকা আর বউয়ের মত। অনেক হল, আর নেওয়া যায় না বুঝলেন।' তারপর আরো কিছুক্ষণ বলে চলল ওর কিছু দুঃখের কাহিনী আর আমিও হু হা করতে লাগলাম।
আড়চোখে দেখছিলাম, অনেকক্ষণ থেকে পিছনের সিটে বসা একজন বেশ উসখুস করছে। চোখ পড়াতে জিজ্ঞাসা করলাম, 'কিছু বলবেন?'
'আমি ওনার কোম্পানিরই এইচ আর, আর গালাগাল দেবেন না প্লিজ।'
মৌসমের অবস্থা প্রায় ছুঁচো গেলার মত। গাড়িটা সজোরে ব্রেক কষে দাঁড় করিয়ে পিছনের দিকে তাকিয়ে বলল, 'আপনি কিছু শোনেননি কিন্তু দাদা।'
**সব চরিত্র কাল্পনিক, সত্য ঘটনা অবলম্বনে

©️কলমে_অয়ন
রচনা কালঃ ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

Share:

ভ্যালেন্টাইনস ডে

 

valentines day

            সেদিন ট্রেন ধরতে গিয়ে দেখি দশ টা দশের লোকাল টা জাস্ট বেড়িয়ে গেল। এই হন্তদন্ত হয়ে এসে মুখের সামনে দিয়ে ট্রেন মিস হয়ে গেলে না ভীষণ বিরক্ত লাগে। একটু এগিয়ে শের্ডের ভিতরে গিয়ে বসতে যাব, পিছন থেকে শম্পাদি প্রায় গায়ের ওপর লাফিয়ে উঠে বলল, "কিরে, আজও ট্রেন মিস করেছিস? তোর বস তো এবার তোকে চিবিয়ে খাবে। আসতে আসতে শুনলাম পরের দুটো মেচেদাও নাকি ক্যানসেল। আমার বাপু ভালই লাগে, এইটুকু সময় ছাড়া তো আর রেস্ট পাই না"। বলেই ধপাস করে বসে পড়ল। নিজের মেদ সর্বস্ব চেহারা নিয়ে নিজেই এত হাসায় যে অন্য কেউ কিছু বলার সুযোগ পায় না।
            মানুষটা কে আমি অত টা পছন্দ না করলেও মুখের ওপর কিছুই বলতে পারি না। কি জানি, বয়সে আমার থেকে কিছুটা বড় বলে? নাকি ওর অল্প বয়সে বিধবা হওয়ার কথা জেনে? ওর প্রতি আমার একটা আলগা আশকারা আছে। আর আমার সাথেই শম্পাদির যত রাজ্যের কথা।
কবে বাড়ির ইলেকট্রিক বিল দিতে দেরি করেছিল বলে বৌদি দু কথা শুনিয়েছে, কবে পাশের বাড়ির মুন্নির পাকা দেখতে আসার সময়ে ওর উপস্থিতি কে বাঁকা চোখে দেখেছে পাড়ার লোকে। আসলে ওর স্বামী মারা যাওয়ার পর শ্বশুরবাড়ি থেকে হঠাৎ যখন বিদায় করে দিয়েছিল, তখন থেকেই পড়ে আছে বাপ মায়ের ভিটেতে। তবুও নিজের চাকরির জোর আছে বলে লোকের চোখে চোখ রেখে চলতে পারছে। নাহলে যে কি দশা হত কে জানে। তবুও দাদা বৌদির সংসারে বেরোনোর আগে পর্যন্ত যতটা পারে হাত লাগিয়ে সাহায্য করে আসে।
আমিও অনেককে শম্পাদির অনুপস্থিতিতে উপদেশ দিতে শুনেছি, "সামলে থেকো ভায়া। তোমার ওপর যে নজর পড়েছে তোমাকে বিয়েটা করতে দিলে হয়।" আমি এইসব পি এন পি সি কে পাত্তা দিয় না। আর তাই এই ট্রেন মিস করলে আমার যেন আরো অস্বস্তি লাগে। পাছে আমার জন্যে ওকে কোনো কথা শুনতে হয়।
আজ যেন ট্রেন টা বড়ই দেরি করছে। স্টেশনে যেমন বেড়ে চলেছে ভিড়, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শম্পাদির বকবক। হঠাৎ হাত ধরে বলল, "হ্যাঁ রে? প্রেম করছিস নাকি? এত অন্যমনস্ক? ভ্যালেন্টাইনস ডে'র দিন অফিস কামাই করে অ্যাপো মারার কথা ছিল নাকি রে?" বলেই চোখ মারে মুচকি হাসতে হাসতে।
বলে উঠলাম, "তাতে তোমার এত জ্বলছে কেন? নিজের বয়স তো গেছে, এবার লোকজনের পার্সোনাল জীবনে ঢোকাটা কি বন্ধ করা উচিত নয়?"
হঠাৎ যেন উজ্জ্বল চোখ গুলো মরচে পড়া বাল্বের মত নিভে গেল। আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কেমন যেন অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল। আমিও ঠিক বুঝলাম না, কেন করলাম এই ঝটিকা আক্রমণ? আমার নিজের প্রেমহীন জীবনের ফ্রাস্ট্রেশনটা ঝেড়ে দিলাম অন্যের ওপর। আরেকবার ওর পাড়ার লোকগুলোর মতই করলাম অপমান।
দুম করে দমকা বাতাস বইয়ে ট্রেন ঢুকল প্ল্যাটফর্মে। সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ল ট্রেনের পেটে ঢুকবে বলে। ট্রেনটা চলতে শুরু হতেই হঠাৎ আর্তনাদ। কেউ বলছে চেন টানুন, কেউ বলছে ভিতরে তুলুন। সহসা একটা হেঁচকি তুলে দাঁড়িয়ে পড়ল ট্রেনটা। আমার মতই যারা প্রায় বাইরের দিকেই ছিল নেমে দাঁড়ালাম পরিস্থিতি বোঝার জন্যে।
প্ল্যাটফর্মে নামতেই পা টা যেন আটকে গেল। ধরাধরি করে বডিটা বের করে আনছে লোকে। চোখ দুটো এক দৃষ্টে খোলা শম্পাদির। যেন আমার দিকেই তাকিয়েই বলতে চাইছে, আজকের দিনে এমন অপমান আর নিতে পারলাম না রে রজত। ভালো থাকিস।

©️ কলমে_অয়ন
রচনা কালঃ ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
Share:

কিস_কা_কিস্_সা

Kiss Day

কিরে, অফিস থেকে ফিরেই তোর এমন মুখ ভার কেন? পুষি কে কোলে নিয়ে বলল তিন্নি।
আর বলিস না, মার্চ আসছে। সবাই এমন গ্যালন গ্যালন তেল নিয়ে উপুড় করে দিচ্ছে যে আদানিও লজ্জা পেয়ে যাবে। আর সেই তেলের হড়কানি তে আমাদের ম্যানেজার বাবুর অবস্থা টাইট। বেরোনোর আগে আমাকে কেবিনে ডেকে বলল, 'অর্ক, এবারেও তোমার অনসাইট টা হবে না। ক্লায়েন্ট এখুনি নতুন রিসোর্স চাইছে না। তাই পুরোনো দের মধ্যে সাম্যই যাচ্ছে নেক্সট উইক। বাট, আই অ্যাম প্রাউড অফ দ্য ওয়ার্ক।'
তুই জানিস কত খেটেছিলাম এটার জন্য। শুনে এমন মাথা গরম হয়ে গেল যে দুম করে দরজা বন্ধ করে বেরিয়ে সোজা বাড়ি এলাম।
তিন্নি এসে পিছন থেকে জড়িয়ে একটা চুমু খেয়ে বলে উঠল, এবার মুড টা ঠিক করে নে।
'প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া এই দেশে অপরাধ' - নচিকেতার সেই বিখ্যাত লাইন টা মনে নেই তোর?
'সে তো মনেই আছে, কিন্তু ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে থেকে তুই প্রকাশ্যের লজিক টা একটু বুঝিয়ে বলবি?'
'তুই যে পুষির সামনে এইসব করছিস? বেড়াল বলে কি মানুষ নয়? এত ইগনোরেন্স?' বলেই হাসতে থাকে অর্ক
তিন্নিও হেসে ওঠে। অর্কর এই মজার অ্যাট্রাকশনেই তো প্রেমে বিভোর হয়ে গিয়েছিল ও। কিন্তু আজকাল একটা অপরাধ বোধ কাজ করে ওর মনে। এতদিনে তো একটা ফুটফুটে শিশুকে আদর করার কথা ছিল ওর। পাঁচ পেরিয়ে ছয় হতে চলল ওদের বিয়ের। দুজনের কারোর কোনো সমস্যা না থাকলেও এখনও মা হতে পারেনি ও। এইসব ভাবলেই ওর মনে হয় অর্ক কে ও বোধহয় পূর্ণাঙ্গ ভালোবাসার স্বাদ দিতে পারছে না। হয়তো অন্য কাউকে বিয়ে করলে পিতৃত্বের পরশ পেত অর্ক। তাই তো এত বেশি এই বেড়ালদের নিয়ে জড়িয়ে থাকে ও। এভাবেই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে চায় তিন্নিও।
তিন্নির এই হঠাৎ হঠাৎ চুপ করে যাওয়ার সাথে বেশ পরিচিত অর্ক। এটা বেশ বছর খানেক ধরেই বাড়ছে আসতে আসতে। তাই পরিচিত এক ডক্টর বন্ধুর পরামর্শে একটা ডিসিশন নিয়েছিল বেশ কিছুদিন আগেই। আজ অফিস থেকে রাগ করে বেরিয়ে ওটার কাজটাই শুরু করে এসেছে। এতদিন একটা দোনামোনা ছিল, কেরিয়ার না ফ্যামিলি, কাকে প্রায়োরিটি দেবে। কিন্তু আজকের রিজেক্টশানটা ওর দ্বিধা কাটিয়ে দিতে সাহায্য করেছে। মনের ভিতরে একটা আশঙ্কা ছিলই যে তিন্নি কে বলবে কিভাবে। ভেবে দেখল, এখনই যথাযথ সময়।
পিছন থেকে তিন্নিকে জড়িয়ে ধরে হাতে তুলে দিল অ্যাডপ্টশনের সব ফরমালিটিসের পেপার। এক মুহূর্তেই মুখটা হাসিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে তিন্নির। ধীরে ধীরে দুজনে আসতে থাকে আরও কাছে। দুজনের ঠোঁট মিশে যায় দুজনায়।

©️কলমে_অয়ন
রচনা কালঃ ১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩





 

Share:

হাগ ডে

 

হাগ ডে

হোয়াটসঅ্যাপে নোটিফিকেশনটা ঢুকতেই ফোনটা খুলল সুমনা। এই সময়েই রানীর স্কুলের পুল কার ছেড়েছে কি তার আপডেট আসে। সেটা আবার জানাতে হয় মিশ্র মাসি কে। মিশ্র মাসি সেই রানীর আঁতুড় থেকেই এই বাড়িতে রয়ে গেছে কিন্তু এখনও মোবাইলে তেমন সড়গড় নয়। ফোনে মাসিকে কল করে পেল না ও। অনেক সময়েই এটা হয়ে থাকে কিন্তু এই টাইমে কল এলে মাসি বুঝে যায় যে মেয়েকে আনার কল। সেই মতো রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়ে বাস স্ট্যান্ডের উদ্দেশ্যে। তাই ফোনে না পেলেও অত ব্যস্ত হয় না সুমনা। একটা মিটিংয়ে যাওয়ার তাড়ায় ফোনটা ডেস্কে ফেলেই চলে গেল কনফারেন্স রুমে।
বার বার ফোন করে দুজনের কাউকেই ফোনে পাচ্ছে না অভি। এই এক জ্বালা আজকাল, আবার পল্টুদাকে জানাতে হবে। কিছুক্ষণ টাইম নষ্ট হবে আজ। ময়না কে নিয়ে একটু বেরোবে ভেবেছিল, তার আর টাইম পাবে না মনে হচ্ছে। সবাই যে দুজনেই চাকরি করে কেন কে জানে। আর চাকরি করুক, কিন্তু বাচ্চার দায়িত্ব টা নেবে তো ঠিক করে।
এইসব ভাবতে ভাবতেই পল্টুদার ফোন। ও ফোনে পায়নি রানীর বাবা মাকে। বলল, কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বাড়ির কেউ না আসা পর্যন্ত।
ধুর, আবার ময়না কল করছে। আরে সেই সময়ে হঠাৎ দেখা পাড়ার চন্দনদার সাথে। একথা ওকথার মাঝে চন্দনদাই সব শুনে বলে আমি আছি এখানে। তুই যা যেখানে যাবি, এই কিছুক্ষণ আমি ম্যানেজ করে নেব। অভি বলে দেখো কিন্তু, আমার চাকরির ব্যাপার। এইসব জিনিসে পল্টুদার একদম মাথা ভরা রাগ।
মিটিং থেকে ফিরেই সুমনা দেখে গুচ্ছ গুচ্ছ মিসড কল। প্রথমে কল করে মিশ্র মাসিকে, কিন্তু পায় না। তারপর ফোন লাগায় অভি কে। ওকেও ফোনে পায় না। এবার একটু টেনশন হতে থাকে ওর। ফোন লাগায় পল্টুদাকে, কিন্তু উনি জানান অভি আছে ওখানে। কিন্তু অভি কে তো পায় নি ফোনে। ও এরপর ফোন লাগায় সম্রাট কে। সম্রাট ও সবে মিটিং থেকে বেরিয়েছে। ও তাড়াতাড়ি অফিস থেকে বেরোতে চায়। কিন্তু সুমনার অফিস কাছে বলে ওকে আসতে বারণ করে।
বেরিয়ে এসেই ট্যাক্সি ধরেই বাড়ির দিকে ফিরতে থাকে। আর কল করতে থাকে অভি কে। ফাইনালি পেয়ে যায় ওকে। কিন্তু ও ওখানে না থাকার কথা বলায় মাথার ঠিক থাকে না সুমনার। যা নয় তাই বলে ওকে। কিন্তু ভিতরে ভিতরে প্রচণ্ড ভয় জড়িয়ে ধরে ওকে। অভি ওকে শান্ত হতে বলে কনফারেন্স কলে নেয় চন্দনদাকে। কিন্তু চন্দনদা এবার বাউন্সার দেয় ওদেরকে। বলে, একজন লোক এসে ওকে বলে নিয়ে গেল ওই সামনের মিষ্টির দোকানে। চন্দনদা ভেবেছে চেনে বাচ্চা টাকে। তাই ওখান থেকে চলে এসেছে।
ট্যাক্সি টা থামার আগেই প্রায় লাফিয়ে নেমে পড়ে সুমনা। ছুটতে ছুটতে যেতে থাকে দেশপ্রিয় মিষ্টান্ন ভান্ডারে। গিয়েই দেখতে পায় রানী কে। ফ্ল্যাটের নিচের আয়রন ওয়ালার ছেলেটার সাথে বসে মিষ্টি খাচ্ছে। সুমনা যেতেই বলে, তোমাদের মাসি বেরোতে গিয়ে পড়ে গেছে গো। তাই আমাকে দেখে ওকে একটু আনতে বলে, মাসি নিচেই বসে আছে বোধহয়।
সুমনার কিছুই কানে যাচ্ছে না। চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে অবিরাম জল। আর বুকের ভেতর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে রানী কে।

©️কলমে_অয়ন
রচনা কালঃ ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
Share:

রেডি টেডি

 


স্কুল থেকে বেরিয়ে তাড়াতাড়ি বাড়ির দিকে হাঁটা লাগিয়েছিল তিথি। ফেরার পথে দুদিন বেশ আচমকা surprise পেয়েছে। ওদের বাড়িতে ঢোকার আগেই পেরোতে হয় দুটো সরু গলি। সেই গলির পাঁচিলেই এমন ভাবে রাখা ছিল প্রথম দিন না চাইতেও চোখ চলে যায় ওদিকে। কারণ ওই দিক দিয়ে ঢুকলে একমাত্র ওদের বাড়ির দরজা আসে শেষ দিকে। প্রথম দিনে পেয়েছিল একটা গোলাপ, রাখা ছিল একটা রোমান্টিক গল্পের বইয়ের মধ্যে। এদিক ওদিক তাকিয়ে কাউকে না পেয়ে কিছুটা কৌতুহলী হয়েই তুলে নিয়েছিল ওটা। মনে একটা ধন্ধ থাকলেও একদিন পরের চকোলেটের বক্সে পেয়েছিল একটা ধন্যবাদের চিঠি। অদৃশ্য আগন্তুক যে তিথির জন্যই এগুলো পাঠিয়েছে সেটা জেনে মনের মধ্যে একটা কিশোরীর শিহরণ জেগেছিল ওর মনে। কিন্তু ভরসা করে কাউকেই বলতে পারেনি কিছু। এমনকি ওর প্রাণের বন্ধু শ্রীতমা কেও কিছুই বলেনি। যদি শেষে দেখে এটা অন্য কারোর করা কোনো প্র্যাংক, তাহলে আর লজ্জায় বন্ধু মহলে মুখ দেখাতে পারবে না। কারণ, বন্ধু মহলে পড়ুয়া তিথি বরাবরই স্পষ্টবক্তা আর এই ন্যাকা ন্যাকা প্রেম বিরোধী। তো এই কারণেই আজ একটু হন্তদন্ত হয়ে বাড়ি ফেরা। অচেনা পৃথিবী কি তিথি কে বাস্তবে ফিরিয়ে আনছে? নিজের অজান্তেই মুখে চলে আসছে হাসির রেখা। আজও ঠিক সেম জায়গা থেকে পায় একটা ছোট্ট কিউট টেডি বেয়ার। তাড়াতাড়ি সেটাকে ব্যাগের মধ্যে চালান করেই বাড়িতে ঢোকে ও। মনের আনন্দে গান গাইতে গাইতে স্নানের পর্ব শেষ করে। আজ ওর মন কোনো বাধা মানছে না। চুপচাপ ইন্ট্রোভাট তিথি যেন একটু আবেগপ্রবণ হয়ে গেছে। হঠাৎ তিথি কি একটু বেশি ভেবে ফেলছে নাকি সব সেই হরমোনের খেলা?
বাথরুম থেকে বেরিয়েই শোনে পাশের গলিতে কাদের যেন কথাবার্তা, জোরে নয় আবার আস্তেও নয়। ব্যাগ থেকে টেডি বেয়ার টা বের করে দু হাতে জড়িয়ে বারান্দায় বেরোয় ও।
"বিশ্বাস কর, আমি তিনদিন এখানেই রেখেছিলাম গিফট গুলো। কে যে নিয়ে চলে যাচ্ছে কে জানে। আমাদের এই জায়গা টা তো কেউই জানেনা বল। সেই জন্যই তোকে নিয়ে এলাম এখানে। এখনও পরে আছে দেখ টেডি বেয়ারের বুকে লাগানো লাভ সাইন টা।"
তিথি তুলে দেখে ওর জড়ানো নরম সফট টয় টাকে। মুহূর্তের আনন্দ বদলে যায় বিষাদের স্রোতে। সবার অলক্ষ্যে চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে বেদনার অশ্রু।
©️কলমে_অয়ন
রচনা কালঃ ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩


Share:

চকোলেট ডে



খাই খাই করো কেন
Chocolate খেয়ে যাও
একদিনে বাড়বে না
জিরো ফিগার টাও
আজকের দিনটা তে
বিরিয়ানি ডাহা ফেল
দোকানে দোকানে সব
Chocolate হোলসেল
এত খেয়ে জমে গেছে
ক্যালোরি অনেকটাই
কাল যদি টেডি পাই
করিয়ে দলাই মলাই
ফের আমি ফিরবই
আগের মাপের মতই

©️ কলমে_অয়ন
রচনাঃ ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
Share:

ফিবার এলএম

 



হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। ফিবার এফ এম (Fever 104 FM) নয়, এটা ফিবার এল এম। মেসি জ্বরে আক্রান্ত গোটা বিশ্ব। আর একটা মাত্র ধাপ। তারপরই হয় চূড়ান্ত সাফল্য না হয় ব্যর্থতার হতাশা। আগের একুশ বারের মধ্যে লাতিন আমেরিকা ন টা জিতলেও পাল্লা ভারী ইউরোপের, সব মিলিয়ে বারোটা জেতার নজির রয়েছে ওদের। তাই এবারের কাপ যেমন আর্জেন্টিনা আর মেসির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ লাতিন আমেরিকার বিজয় কেতন উড়িয়ে রাখার জন্য। নাহলে ফুটবলের লাতিন শিল্প যে অস্তাচলে পাড়ি দেবে।
এদিকে নেট দুনিয়ায় নানা মেমের মধ্যে সব থেকে আকর্ষণীয় যেটা হয়েছে তা হল, ব্রাজিলের সমর্থকদের দলে দলে আর্জেন্টিনার দলে যোগ দেওয়ার। এ যেন সেই ভোটের আগে কাজ না করতে পারার অজুহাতে দল পরিবর্তনের খেলা।
এবারের ফাইনাল দুটো দলের কাছেই নতুন মাইলস্টোন ছোঁয়ার দিন। একদিকে এমবাপে সহ ফ্রান্সের চাহিদা পর পর দুবার জিতে ব্রাজিল কে স্পর্শ করার, অন্যদিকে মেসির আর্জেন্টিনার পাখির চোখ ছত্রিশ বছরের ট্রফি খরার অবসান। দিন যত এগিয়ে আসছে তত বাড়ছে উত্তেজনা, পাড়ায় পাড়ায়, অলিতে গলিতে, ঘরে ঘরে।
শহর মুড়েছে নীল সাদা পতাকায়। বাসের পিছনে, টোটোর সামনেও পত্পত্ করে উড়ছে সে। সারা বাংলা, ভারত তথা বিশ্বের সমস্ত মানুষের মনের একমাত্র চাহিদা ওই ম্যাজিসিয়ানের হাতেই এবার উঠুক সেরার শিরোপা। এবারই শেষ হয়ে যাবে ওঁর সেই ড্রিবল, যা আর দেখা যাবে না বিশ্বকাপের মাঠে। নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন যে। তাই প্রার্থনার লাইন হচ্ছে লম্বা, আরো লম্বা। যেন সেই মৃত্যুমুখী কোভিড ফিবারের মত কাউন্ট বাড়ছে শুধু। পার্থক্য এই শুধু, এ ফিবার সোশ্যাল ডিস্টেনসিং কমাচ্ছে। সবাই জড়ো হচ্ছে বিবাদ মত ভেদ ভুলে। আরো আরো মানুষের গোল হার্ডেল তৈরি হচ্ছে। এ ফিবার এল এম টেনের, মেসি ফিবার।

রচনার সময়ঃ ১৭ই ডিসেম্বর, ২০২২ 

Share:

সেমিফাইনালের সিঁড়ি


সেবার চোখ বন্ধ করে ঠাকুরকে ডেকেছিল মন প্রাণ দিয়ে। রবার্তো বাজ্জিও পেনাল্টি মিস করেছিল।
এবারেও সেরকমই চেষ্টা করেছিল একটা। কিন্ত ঠাকুরও ঠিক ধরতে পারেনি কার জন্যে প্রার্থনা করা হচ্ছে। তাই চারটের মধ্যে দুটো পেনাল্টি মিস করে ব্রাজিল গেল ছিটকে।
ব্রাজিলের ফ্যানেরা দু ফোঁটা চোখের জল ফেলে আবার ঘুম ঝেড়ে উঠে বসেছিল পরের ম্যাচে আর্জেন্টিনা কে হারাবে বলে। নাহলে পরের দিন পাশের ফ্ল্যাটের রুচির বাবা থেকে মাছের বাজারের অজয় দা, পক্ষান্তরে অর্ধেক বাংলার কাছে মুখ দেখাবার জো থাকবে না যে। আর্জেন্টিনার ফ্যানেরাও যথেষ্ট উদগ্রীব ছিল বছর তিরিশের বেদনার ঝুলি উজাড় করতে। নেহাত যতক্ষণ পর্যন্ত নিজেদের গদি শক্ত পোক্ত হচ্ছে, মন খুলে মাঠে নামতে পারছিল না। যেই না মাত্র সেমিফাইনালে উঠে গেল, রাত সাড়ে তিনটে আই এস টি তেও ফেসবুকের সার্ভারে আসতে থাকলো নানা স্বাদের উপদেশ
দেখো কাকা, দেখো চেয়ে মামা
ওই আমাদের বিধূ,
ব্রাজিলের পতাকা ঝুলিয়েছে শুধু
মোর গায়ে (মেসির) ১০ নাম্বার জামা
আসলে আমরা কোনোদিন বিশ্বকাপে যাই বা নাই যাই, আমাদের পৃথিবী দুই ভাগ হয়ে যায় এই দুই দেশের জন্য গলা ফাটিয়ে। ধীরে ধীরে ইন্দ্রপতন হয়েছে অনেক। অনেক মনোরম দৃশ্য ফ্রেমে বন্দি হয়েছে কালের নিয়মে। তবুও সব দুঃখ ভুলে, সবাই আবার আজ রাতে একত্রিত হবে লাতিন আমেরিকার জয় গান গাইতে। সে যতই নেইমারের বা সুয়ারেজের হাত পাখা হোক না কেন, আজ যে ইউরোপের দর্প চূর্ণ করে মহাকাব্যিক লাতিন শিল্পকলাকে আবার পুনরুদ্ধার করার দিন।
বিশ বছর তো কম সময় নয়, একটা গোটা প্রজন্ম ছোট থেকে যৌবনে পৌঁছে গেল, তবু তার দেখা পেল না। অপেক্ষায় রয়েছেন সবাই, আর মাত্র দুটো পদক্ষেপ। একটু একটু করে এগিয়ে যাওয়া ওকে স্পর্শ করার নেশায়। 'গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ' যে তা না হলে অবহেলিত থেকে যাবে।
©️ Ayan

রচনাঃ ১৩ই ডিসেম্বর, ২০২২


Share:

#বিশ্বকাপ_ম্যানিয়া#

 


সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল
- বাঙালিরা আজ ফুটবল খেলতে ভুলতে বসলেও সারা বাংলা কাঁপছে বিশ্বকাপের জ্বরে। নিজের দেশের জাতীয় পতাকার রং বলতে গিয়ে একটু থমকে গেলেও ব্রাজিলের বা আর্জেন্টিনার পতাকা কিন্তু সবাই এক চোখেই চেনে। পাড়ার মোড়ে রাজনৈতিক দলের ব্যানার সরিয়ে ঝুলে পড়েছে লম্বা লম্বা পতাকা। হাকিম পাড়ার মাতাল কেষ্ট দা আবার ওটাকে রক্ষা কালী পুজোর অন্নকূটের প্যান্ডেল ভেবে বাটি হাতে বসে পড়েছিল সেদিন। কলকাতা ময়দানের ক্লাব গুলোতে বাঙালির সংখ্যা নগন্য হলেও রবিবারের চায়ের দোকানের আড্ডায় নিজ নিজ দলের জন্যে যা বেট পড়ছে, তাতে মেসি নেইমারের ম্যানেজাররাও লজ্জা পাবে।
- তো দেখতে দেখতেই সেকেন্ড রাউন্ডের খেলা শুরু হয়ে গেছে। এবারের বিশ্বকাপ কে বলা হচ্ছে অঘটনের বিশ্বকাপ। যদিও এখন আর ছোট বড় টিম গুলোর মধ্যে তেমন কোনো তফাৎ নেই। তাও ওই নামেই গগন ফাটানো টিম গুলো হেরে গেলে অন্যেরা এটাকে মেনে না নিয়ে অঘটন বলতেই বেশি পছন্দ করে।
- এই বিশ্বকাপ দেখা শুরু হয়েছিল ১৯৯৪এ। বাড়িতে বাবা এনেছিল নতুন কালার টিভি অনিডা। মজার কথা হল আজকের মত সেইসব টিভি থাকতো না শোবার ঘরে, বরং থাকতো বাড়ির সেই ঘর টায় যেখানে সব থেকে বেশি লোক বসে দেখতে পারবে। মনে আছে সেই বেবেতোর গোল আর সেই বিখ্যাত পোজ, যা দেখেই মর্নিং স্কুলে বেরিয়ে যাওয়া। মনে আছে সেই মারাডোনার মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে যেতে কান্না। রাত জেগে সেই শুরু ফুটবল খেলা দেখার আর ব্রাজিলের সাপোর্টার হয়ে যাওয়ার।
- আর একটা ম্যাচের কথা ভুলব না কোনোদিন, ২০০২ এর ব্রাজিলের সাথে ইংল্যান্ডের কোয়ার্টার ফাইনাল। খেলা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের এলাকায় লোডশেডিং। ল্যান্ড লাইনে ফোন করে করে জানা হচ্ছিল কোথায় পাওয়ার আছে। খেলা দেখার অপশন খুঁজতে খুঁজতে পাওয়া গেলো বাবার এক পরিচিতর বাড়ি যেখানে লোডশেডিং হয়নি। মায়ের রক্ত চক্ষু কে পাশ কাটিয়ে এক গাড়ি লোক নিয়ে বেরিয়ে পরা হল সেই কাকুর বাড়ির উদ্দেশ্যে। যাওয়ার সময়ে জানা গেল এক গোলে পিছিয়ে পড়েছে ব্রাজিল। যদিও শেষ পর্যন্ত রোনাল্ডিনহোর বিখ্যাত ফ্রি কিকে জয় দেখে বাড়ি ফেরা আর মনের কোণে জমিয়ে রাখা বছর বিশেক আগের স্মৃতি। একটা টিভি তে ৩০ জন দেখার থেকে এখন পাশাপাশি দুটো ফোনে আলাদা আলাদা ভাবে জিও সিনেমায় দেখা।
- এভাবেই চার বছর অন্তর অন্তর বিশ্বকাপ হয় আর আমাদের স্মৃতির ঝাঁপি হয় লম্বা। আপনার কাছেও কি আছে এমন কোনো গল্পের ঝুলি, তাহলে এই দেওয়ালে পোস্টাতে পারেন।
©️ কলমে অয়ন
©️ Ayan

রচনার তারিখ: ৪ ঠা ডিসেম্বর ২০২২


Share:

#এনভাইরনমেন্ট_এডুকেশন#

                মাসের পয়লা আজ। বিশু বাবু শনিবারের সকালে বাজারের ব্যাগ নিয়ে বাজার যাচ্ছেন। বাজারের ব্যাগ টা একটু ছিঁড়ে গেছে, গিন্নির তাগাদাতেও কেনা হচ্ছে না। রতনের দোকানটাও খোলেনি এখনো, নাহলে আজই কিনে নিতেন। কিন্ত গিন্নিকে বললেই বলবে, কোথায় কোথায় আড্ডা মেরে আসছো আর এখন আবার গুল মারছো। তা প্রথমেই সব্জি আর ফল কিনে ব্যাগ প্রায় ভর্তি করে ফেললেন উনি। আসলে সপ্তাহের এই একদিনই বাজারের পর্ব টা মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন উনি। এবার এগিয়ে চললেন মাছের বাজারের দিকে। ওকে দেখে আবার চা দিতে বলে মাছের দোকানের মালিক বাপিদা। আসলে সেই বাবার আমল থেকেই মাছ আসে এখান থেকেই। বেছে বেছে মাছ নিয়ে সব শেষে টাকাপয়সা মিটিয়ে বিশু বাবু বললেন, দিন এবার সব ভরে।

ব্যাগ টা দিন, বলল বাপিদা। বিশু বাবু একটু রেগেই বলল, ১৫০০ টাকার মাছ কেনার পরও একটা প্যাকেট দিতে পারছ না? এরকম কিপটে তো ছিলে না বাপু।

আরে খবর টবর কিছুই যে রাখছেন না দাদা। আজ থেকেই তো এখানে প্লাস্টিকের প্যাকেট বন্ধ। তা আমি বরং একটা চটের থলেতে দিই। বাড়িতে ঢোকার আগে বের করে নেবেন। যাবে তো সব সেই পেটেই।

অগত্যা সেই সমাধান সূত্র নিয়েই এবার গেলেন মিস্টির দোকানে। সেখানেও একই কেলো। রসগোল্লা আর সন্দেশ কাগজের ঠোঁয়ায় নিয়ে গেলে বাড়িতে তার কোন রূপ যে পৌঁছবে, তা ভগবানের জানাও অসাধ্য। তাও ওই মিস্টির লোভটা তো সহজে যাবে না। এরকম ভাবেই ম্যানেজ করে কিনে নিলেন খান কতক।

কিন্ত সব থেকে বড় প্রবলেম হল ঠাকুরের মালা কিনতে গিয়ে। এটা তো আর মাছ মিষ্টির সাথে নিতে পারবে না। হঠাৎই একটা আইডিয়া খেলে গেল মাথায়। নেহাত নিজের দুহাত জোড়া, নাহলে নিজেই নিজের পিঠ চাপড়ে দিতেন।

ফেরার পথে অনেকেই বিশু বাবুর দিকে চেয়ে মুচকি হাসলেও পাত্তাই দিলেন না উনি। বাড়িতে এসে বেল বাজাতেই গিন্নি দরজা খোলার পর প্রায় মূর্ছা যাওয়ার উপক্রম।

বিশু বাবুর এক হাতে বাজারের ব্যাগ, অন্য বগলে মাছ ভর্তি চটের থলে, রক্ত পড়ছে চুঁইয়ে। আর গলায় পরিহিত জবা ও গাঁদার মালা। যদিও মিস্টির অবস্থানটা উনিও ঠিক আন্দাজ করতে পারেননি এখনো, তবু হাসি মুখ রেখেছেন বহাল। আফটার অল পরিবেশ বান্ধব সমাজের জন্য এটুকু তো করাই যায় একটা দিন। কাল থেকে নাহয় আইটেম ওয়াইজ থলি নিয়ে যাবেন।

©️Ayan

রচনার তারিখঃ ৩০শে অক্টোবর, ২০২২

Share:

মোট পৃষ্ঠাদর্শন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.

ব্লগ সংরক্ষাণাগার