ছোট গল্পের সন্ধানে || কলমে অয়ন

  • বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

    আনন্দ, উদ্বেগ আর প্রত্যাশার গণ্ডি পেরিয়ে চতুর্থ বারের জন্য অপেক্ষা দায়িত্বের। সেই দায়ভার থেকেই জন্ম এই চতুর্থ সন্তানের। আগের বারের "মৃত্যু রহস্য"র পর ইয়ং ইন্সপেক্টর সৌমিলির ডাক পড়েছে এক জটিল সমস্যার সমাধানে। গ্রাম বাংলার এক সুন্দর প্রকৃতির প্রেক্ষাপটে ঘটে চলেছে অদ্ভুত সব ঘটনা। যাকেই সে সন্দেহের তালিকায় আনছে, হঠাৎ করে সে-ই খুন হয়ে যাচ্ছে। সৌমিলি কি পারবে এই কেস সলভ করতে❓ তারই গল্প বলতে প্রকাশিত হচ্ছে আমার চতুর্থ বই "আই ক্যান্ডি" এবারের কলকাতা বইমেলা ২০২৫ এ ক্লিক করুন

  • বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

    প্রথম বারের আনন্দ আর দ্বিতীয় বারের উদ্বেগের গণ্ডি পেরিয়ে তৃতীয় বারের জন্য অপেক্ষা প্রত্যাশার। সেই থেকেই জন্ম এই তৃতীয় সন্তানের। আগের বারের "পায়ে পায়ে রহস্য" র সাফল্যের পর ইয়ং ইন্সপেক্টর সৌমিলি সমাধান করে ফেলেছে আরও কিছু জটিল কেস। তারই গল্প বলতে প্রকাশিত হচ্ছে আমার তৃতীয় নতুন গল্পের বই "মৃত্যু রহস্য" এবারের কলকাতা বইমেলা ২০২৪ এ। আশা করি এই বই আমার পাঠকদের আনন্দ দেবে বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    আজকের দুনিয়ায় টেকনোলজিও যত উন্নত হয়েছে, পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিত্য নতুন অপরাধের ধরণ। একজন ইয়ং ইন্সপেক্টর কিভাবে কেসের পর কেসের কিনারা করবে, তারই বেশ কিছু ঝলক থাকবে পাঠকদের সামনে। বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    মুঠোফোনের দুনিয়ায় আমার প্রথম বই শব্দের স্বরলিপি এনে দেবে একরাশ মুক্ত বাতাস। বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • প্রতি সপ্তাহে নতুন গল্প

    গল্প পড়ার থেকে শুনতে বেশি ভালবাসেন? বাচ্ছারা রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময় গল্প শুনতে চায়? তাহলে দেরী না করে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন ইউটিউব চ্যানেলটা, আর বেল আইকন টা প্রেস করতে ভুলবেন না। আসছে প্রতি শুক্রবার রাত ৯ টায়। সঙ্গে থাকুন।

  • #ভোকাট্টা#

    চারপাশের আকাশে শুধু রঙ বেরঙের ঘুড়ি। এখনকার মত নানারকমের ক্যামেরা না থাকলেও ছবি গুলো উজ্জ্বল হয়ে থাকত স্মৃতির মণিকোঠায়। মাঝে মাঝে তারস্বরে চিৎকার, “ভো কাট্টা!

  • #অরণ্যে দুই রাত্রি#

    কথায় বলে বাঙালির পায়ের তলায় সর্ষে। কিন্তু এই বিগত দেড় বছরের করোনা পরিস্তিতিতে সবার মত তারাও হয়ে পড়েছিল ঘরবন্দি। তাই এখন একটু পরিস্তিতি ঠিক হতেই সবাই আবার বেড়িয়ে পড়েছে কাছে পিঠে। সেই রকমই একটা উইকএন্ড ডেসটিনেশনের কথা

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    মুঠোফোনের দুনিয়ায় আমার প্রথম বই শব্দের স্বরলিপি এনে দেবে একরাশ মুক্ত বাতাস। বিশদে জানতে ক্লিক করুন


Best Bangla Books to Buy in 2024

#শ্বাসরুদ্ধ পুজোর কলকাতা#


আজ মহা ষষ্ঠী!! শেষ কয়েক বছর ধরে মহালয়ার পর থেকেই ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পড়ছে সবাই। যাতে আনন্দ টা একটু বেশি সময় ধরে রাখতে পারে।

কলকাতায় যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যায় এই সময়ে। বাড়তি দায়িত্ব নেয় মেট্রো রেল। আজকাল তো মেট্রো স্টেশন অনুযায়ী পুজো পরিক্রমার গাইড বেরোয়। এবারে আবার অষ্টমীতে উদ্বোধন হবে ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রোর কিছুটা যাত্রাপথ। তাই পুলিশ প্রশাসনের ওপর চাপ কিছুটা বেশি।

এইমাত্র মিটিং করে বেরোলো সৌমিলি সেন। নরমাল ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের মিটিং, পুজোর চাপ, আচমকা কোনো টেররিস্ট অপারেশন হলে কি কর্তব্য সেসব নিয়েই জেনারেল মিটিং। এই মিটিং এ সুমির উপস্থিতি ইন্সপেক্টর, হোমিসাইড হিসাবেই। সাম্প্রতিক কেস গুলোর সাফল্য ওকে লালবাজারের অলিন্দে পরিচিতি দিয়েছে সহজে। ও ছাড়াও যদিও আরো কিছু বিচক্ষণ অফিসাররা ডাক পেয়েছে এখানে। এবার থানায় ফিরে সবাইকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে নিজের কাজকর্ম শেষ করতে থাকে সুমি, কাল থেকে ২ দিনের ছুটি নিয়েছে। এবার দেশের বাড়ি শ্রীরামপুরে যাওয়ার প্ল্যান করেছে ও।

একমাস আগে: তিন বন্ধু বসিরহাট সীমান্ত দিয়ে ঢুকে পড়ে পশ্চিমবঙ্গে। দায়িত্ব অনেক ওদের, এবারের পুজো সাকসেসফুল করতে হবে যে। ঠিকানা লেখা জায়গাতে পৌঁছতে কোনো অসুবিধা হলনা ওদের। কাল থেকে প্ল্যান অনুযায়ী কাজ শেষ করতে হবে, সময় কম।

ষষ্ঠীর দুপুর ২টা: তিনজন ছেলের দল ওদের শেষ ৫ দিনের কলকাতার আস্তানা ছেড়ে পা বাড়ালো নিজের নিজের গন্তব্যের উদ্দেশে।
ষষ্ঠীর সন্ধ্যা ৬টা: থানার বাইরেটা সেজে উঠেছে হরেকরকম আলোতে। একটা বছর ১৬-১৭র ছেলে গুটি গুটি পায়ে থানায় ঢুকে সাব ইন্সপেক্টর সুভাষের টেবিলে যায়। সব শুনে সুভাষ নিয়ে যায় ওকে ম্যাডামের কেবিনে।
"ম্যাডাম, একটু ব্যাপারটা শুনুন।"
"কি ব্যাপার? এই ছেলেটা কে?"
"বল তুই সব ম্যাডামকে, কোনো ভয় নেই।"
ছেলেটা বলল, "আমার নাম ছোটকা, একটা চা এর দোকান আছে গোপাল ব্যানার্জী লেনে। আজ দুপুর নাগাদ তিনজন ছেলে যারা উল্টোদিকের বাড়িটাতে থাকতো, বেরিয়ে যায়। প্রায় ঠিক সেইসময়েই ওদের ঘরের জানলা দিয়ে একটা কাগজ এসে পড়ে আমার দোকানের সামনে। আমি ওদের সেই মাত্র লক্ষ্য করেছিলাম বলে চিৎকার করে ডাকি, কিন্তু আমার ডাকের আগেই ওরা ট্যাক্সি নিয়ে বেরিয়ে যায়। তারপর কাগজ টা খুলে দেখি আমি। রেল লাইনের রুট ম্যাপ, কিছু জায়গা কালো করে দাগ কাটা। পিছনে কিছু হিজিবিজি, হঠাৎ কাহানি সিনেমাটার কথা মনে পড়ে যায় আমার। ভাবলাম, গিয়েই দেখি থানায়।" দম নিয়ে একটু জল চায় ছেলেটা।
এবার সুমি বলে ওঠে, "কিন্তু তুমি যে এটা নিজে করে এখানে মস্করা করতে আনোনি, কেমন করে বুঝবো সেটা?"
একটু থমকে যায় ছেলেটা। "ম্যাডাম, আপনাদের যা খুশি ভাবতে পারেন, এই জন্যই শালা কারোর ভালো করতে নেই আজকাল।" বেরিয়ে যায় সে।
ছেলেটার পিছনে পাঠাও কাউকে সুভাষ, আর বাড়িটা দেখে এসে রিপোর্ট দাও আমায়। ততক্ষনে সুমি একবার লালবাজারে আপডেট নেয় কোনো নতুন ইনফরমেশন এসেছে কিনা। কিছু না থাকায় ও আপাতত কিছু জানায় না ওখানে। আসলে নিজে কনফার্ম না হলে জানাবে না কাউকে।
একটু পরে সুভাষ জানায়, ঘরে সন্দেহজনক কিছুই নেই, কিন্তু অতিরিক্ত পরিষ্কার তিনজন পুরুষের ঘরের তুলনায়। চায়ের দোকানের ছেলেটাকে নিয়ে এসে তিনজনের স্কেচ বানাতে বলে। আর লালবাজারে আপডেট দিয়ে ফ্যাক্স করে দিতে বলে।
একটু খচ খচ করতে থাকে সুমির মনটা। ম্যাপটা কোথাকার, আদপেও কি কোনো রহস্য আছে, নাকি অযথা চিন্তা করে পুজোর ছুটির দফারফা করছে সে।
হাওড়া শিয়ালদহ ট্রেনের আর মেট্রোর রুট দেখে ওই কাগজের মিল খোঁজার চেষ্টা করে, কিন্তু কিছুই মেলেনা। হঠাৎ মনে পড়ে নতুন রুট টার কথা, কিন্তু কোনো ম্যাপ পায়না ওদের ডেটাবেস এ। ফোন লাগায় মি: দত্ত কে, যিনি আজকের সকালের মিটিং টার হোস্ট ছিলেন ফ্রম ক্রাইম ব্রাঞ্চ। উনি জানান কিছুক্ষনের মধ্যেই পাঠাচ্ছেন।
একটু ব্রেক নিয়ে টেবিল থেকে উঠে পড়ে, মা কে ফোন লাগায়। একটু পরে মি: দত্ত পাঠানো ম্যাপ দেখে মেলানোর চেষ্টা করে, কাগজের সাথে হুবহু মিলে যায় দুটো পয়েন্ট। সেক্টর ৫ আর শিয়ালদহ স্টেশন। যার মধ্যেই চালু হতে চলেছে ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রোর আপাত রুট।
সুমি ইনফর্ম করে লালবাজারে, আর সুভাসকে ফোর্স নিয়ে চলে যেতে বলে ওই রুটের প্রতিটি স্টেশনে। নতুন রুটের মধ্যে হামলা হলে সবচেয়ে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে শিয়ালদহ র। সব কিছুর পরেও কোনোমতেই কোনো সন্দেহজনক কিছুই পাওয়া যায় না কোনো স্টেশন থেকেই। কবে কোথায় কি হতে যাচ্ছে, সব কিছু ই অজানা।রাত পোহালেই সপ্তমী, ঘুম নেই সুমির। যে করেই হোক আটকাতেই হবে সম্ভাব্য বিপদ।
ভোর থেকেই কলা বৌ স্নান করানোর ভিড়। ৯টায় মিটিং ডেকেছেন লালবাজারে, থাকবে মেট্রো রেল ও শিয়ালদহ ডিভিশনের ম্যানেজাররা। থাকবেন মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়। ইতিমধ্যে সমস্ত থানায় পাঠানো হয়েছে তিনজনের ছবি, কিন্তু কোথাও থেকে কোনো আপডেট নেই। লালবাজারের বক্তব্য এই ঘটনার নিষ্পত্তির আগে নতুন রুটের উদ্বোধন না করার, কিন্তু বাকিরা চায় না আর দেরি হোক। দরকার হলে রুট কমিয়ে ফুলবাগানে শেষ করা যাবে যাত্রাপথ।
এ টি এস টিম আসতে চলেছে, সৌমিলী ছাড়াও ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের সুমন আছে ওদের সাহায্য করতে।
ইতিমধ্যে খবর আসে বসিরহাট থানা থেকে, একজন লোকাল লোক এদের মধ্যে একজনকে সপ্তাহ খানেক আগে দেখেছে। টিম চলে যায় ওদিকে আরো ইনফরমেশন পেতে।
সুমি ইন্টারনেট থেকে জানতে চেষ্টা করে আগামী ক দিন এই মেট্রো রুটের আশপাশে পুজো ছাড়াও কোনো বড়ো ইভেন্ট আছে কিনা।
দেখে সিটি সেন্টারের কাছে একটা বিখ্যাত গায়িকার পারফরম্যান্স আছে কাল, শেষ হবে ৯টা নাগাদ। আর অষ্টমীর দিন আছে সল্টলেক স্টেডিয়ামে মোহনবাগান আর ইস্টবেঙ্গলের সুপার কাপের ফাইনাল ম্যাচ। শেষ ৭টা নাগাদ। যদি শিয়ালদহ টার্গেট না হয়, তাহলে এই দুটো সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে ভিড় বেশি হবে বলে।
ইতিমধ্যে বসিরহাট অঞ্চলে খোঁজ পাওয়া যায় সেই ঠিকানার যেখানে আস্তানা গেরেছিল এরা। ঘর তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া যায় কিছু সিভিল ইঞ্জিনীরিংয়ের সরঞ্জাম।
পুরো এলাকার ভূগর্ভের ম্যাপ নিয়ে বসে গোটা টিম। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ববিদ আর পি ডব্লিউ ডি র আধিকারিকের ডাক পড়ে। ওনারা জানান, মাটির নিচে যে সুয়েজিং সিস্টেম আছে, সেটা প্রায় এই মেট্রোর রুট ই ফলো করেছে। সৌমীলি বলে, এলাকার সব জায়গার আন্ডারগ্রাউন্ড চেক পয়েন্ট ভেরিফাই করতে। টিম ওই অঞ্চলে পৌঁছে যায়। কিন্তু এত বড় এলাকা খুঁজতে রাত কেটে যায়, ভোরের দিকে আশার সঞ্চার করে বেঙ্গল কেমিক্যলস এর কাছের টিম। একজনকে গ্রেফতার করেছে তারা সন্দেহজনক ভাবে ঘোরাঘুরি করার জন্য। ওই এলাকা চষে বেড়িয়ে পাওয়া যায় একটা নতুন খোঁড়া সুড়ঙ্গ। যেটার একটা কানেক্ট করে আছে বেঙ্গল কেমিক্যালসের ফ্যাক্টরি, আর একটা ফুলবাগান মেট্রো স্টেশন। সুমির টিম যায় ওই লোকেশনে।
ইতিমধ্যে বেজে গেছে প্রায় দুপুর ১২টা। অষ্টমীর অঞ্জলী দিয়ে দিকে দিকে ভিড় বাড়ছে হুড়মুড় করে। বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে ফুলবাগান স্টেশন থেকে মেট্রোর উদ্বোধন। কিছুটা সচেতন হতে শিয়ালদহ থেকে সরানো হয়েছে অনুষ্ঠান। হাতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা।
গ্রেপ্তার হওয়া ছেলেটাকে অনেক জেরা করেও কিছুই বের করা যায় না, সে শুধু ওখানে পাহারার কাজে নিযুক্ত ছিল মোটা টাকার বিনিময়ে।
সৌমীলী আর সুমনের টিম দুটো ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় সুড়ঙ্গের দু দিকে। সুমি রা বেঙ্গল কেমিক্যালসের দিকে আর সুমনের দল স্টেশনের দিকে। ফ্যাক্টরির মধ্যে সুড়ঙ্গ টা শেষ হয়েছে একটা পরিত্যক্ত ব্লাস্ট ফার্নেসের কাছে। ওখানকার কর্মচারীদের কাছ থেকেও কোনো আশার আলো দেখতে পায় না ওরা। হঠাৎ সুমি খেয়াল করে সুড়ঙ্গের মাথার দিকে একটা আউটলেট আছে কিন্তু হাত ঢুকিয়ে পরিত্যক্ত মনে হয়। ও জানতে চায়, ওটার বাইরের দিক দিয়ে কোনো যোগাযোগ আছে কিনা। শোনা যায় অনেকদিন আগে ফার্ণেসের বর্জ্য পদার্থ ওই পথে বেরোত। কিন্তু নতুন নিয়মের পর এটা আর ইউজ করা হয় না।
সুমি জানতে চায়, কোনোভাবে কি ওটা আবার ইউজ করা সম্ভব? ওখানকার কর্মচারীরা জানায়, একমাত্র ল্যাব হেড ই বলতে পারবেন, কিন্তু উনি বোধহয় ছুটিতে আছেন। সুমির মনের খচখচানি দুর করতে অ্যাটেনডেন্স রেজিস্টার চেক করতে বলে। অনুমান নির্ভুল, দেখা যায় উনি ছুটিতে থাকলেও রাতের দিকে শেষ ৪-৫ দিন ওনার কার্ড ইউজ হয়েছে। কিছু একটা গন্ডগোল এখানেই আছে। লালবাজার কে আপডেট করে আর প্রপার টিম সেন্ড করতে বলে। অন্যদিকে সুভাষ কে বলে চলে যেতে ল্যাব হেড এর বাড়ি।
কিছুক্ষনের মধ্যেই এসে যায় লালবাজারের কেমিক্যাল অ্যান্ড রেডায়োলজি টিম। ওরা কিছুক্ষনের মধ্যেই বুঝতে পারে, ফ্যাক্টরির বর্জ্য নির্গমের পথ ঘুরিয়ে ফেলা হয়েছে ওই সুড়ঙ্গের মধ্যে, যা কাজ করতেও শুরু করে দিয়েছে ঠিক ৪ টে। যা কিছুক্ষনের মধ্যেই ভরিয়ে দেবে দূষিত গ্যাস এ। যা গ্রাস করে নেবে শহরের অধিকাংশ মানুষকে। সুমি জানতে চায়, এটা থামানোর রাস্তা কি? ওদের টিম চেষ্টা করতে থাকে আবার প্রপার চ্যানেলে দূষিত গ্যাসকে এনে ফেলার।
ওদিকে এ টি এস টিম আটকে রাখে ফুলবাগান স্টেশনে ঢোকার রাস্তা।
ল্যাব হেডের খোঁজ পাওয়া যায় বাড়িতে দড়ি বেঁধে রাখা অবস্থায়। ওনার সাহায্যেই জানা যায় আবার প্রপার চ্যানেলে দূষিত গ্যাস আনার প্রক্রিয়া। ফোনে টিম কে গাইড করে কাজ সম্পূর্ণ করেন তিনি।
হাঁফ ছেড়ে বাঁচল পুরো টিম। কিন্তু ওই তিনজন থেকে যায় অধরাই, হয়তো আবার কোনো বিপদ ঘটানোর চেষ্টা করবে তারা। কিন্তু এবারের মত বিপন্মুক্ত হয় দুর্গাপুজোর কলকাতা।
©Ayan
Share:

#বই বিভ্রাট#

Bangla Choto Golpo Boi Bivrat
রাত সাড়ে দশ টা। ব্রিফকেস হাতে আগন্তক বেল বাজাল দরজায়।
"আসুন, অল সেট। পেমেন্ট এনেছেন তো? পরের বার থেকে রেট টা বাড়াবেন।"
"আগে একটু বসি। আমার জিনিসটা প্লিজ।"
ব্যাগটা এগিয়ে দেয়, সন্তর্পনে দেখে নেয় আগন্তুক।
"এক্সিলেন্ট ওয়ার্ক, নাউ ইওর হার্ড ওয়র্ক উইল পে ইউ ব্যাক। ক্যান আই হ্যাব এ গ্লাস অফ ওয়াটার?"
"সিউর! নন্দিনী, প্লিজ হেল্প হিম।" নন্দিনী ভিতরে যায় জল আনতে।
আগন্তুক ব্রিফকেস এর ডালা খুলে সাইলেন্সার লাগানো বন্দুকের পর পর দুটো শর্ট করলো। এগিয়ে গেলো ভিতরের দিকে। নন্দিনী জল নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতেই আবার দুটো শর্ট। দেখে নিল দুজনেরই শ্বাস, অল ক্লিয়ার। ব্যাগটা তুলে দরজাটা ইন্টারলক করে বেরিয়ে গেল সে।
চার দিন পর, সকাল ১০ টা। সৌমিলি সেন এসে নিজের টেবিলে বসতেই দেখলো সুভাষ ফোনে কথা বলতে বলতে ওর কাছে আসছে। ফোন টা রেখে বললো, সাঁতরাগাছি পুলিশ স্টেশন থেকে কল এসেছিল, দম্পতির দেহ উদ্ধার। লোকাল অন ডিউটি অফিসার বললো কদিনের আগের মনে হচ্ছে দেখে।
"চলো গাড়ি বের করো।"
স্টেশন থেকে বেশ খানিকটা দূরে একটা সরু গলির মধ্যে ফ্ল্যাট টা। যা জানা গেল, আজ সকালে একজন প্রতিবেশী লক্ষ্য করে ২-৩ দিনের নিউজপেপার দরজায় পড়ে আছে, কোলাপ্সিবল গেট টা খোলা। ডাকাডাকি করে না সাড়া পেতে তিনিই পুলিশে খবর দেন। ঘটনাস্থলে এসে দরজা ভাঙ্গে পুলিশ। ড্রইং রুম আর কিচেনের সামনে দুটো ডেড বডি। তারপরই লালবাজার মারফৎ ডাক পড়ে করিৎকর্মা ইন্সপেক্টর সৌমিলী সেন ওরফে সুমির। এই দম্পতি সম্প্রতি মাস ছয়েক এখানে থাকছিল, যদিও মিশতো না তেমন কারোর সাথেই। কি করত জানত না কেউ।
ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় সজাগ রেখে রুমের ভিতরে পা রাখে সুমি আর সুভাষ। ঘরের কোনো জিনিস তেমন নড়াচড়া করে নি বলেই মনে হচ্ছে। ড্রইং রুমের সোফাতে পুরুষের ডেডবডি। দুটো বুলেট, কোনো প্রত্যাঘাত এর সাইন নেই। অন্য দিকে মহিলার মুখ কিচেন থেকে ড্রইং রুমের দিকে ফেরা, উপুড় করে, যদিও বুলেট এখানেও দুটো বুকের ওপরে। মাটিতে কাঁচ ছড়ানো, গ্লাসের টুকরো পরে রয়েছে।
সুভাষ কে বলে, কি বুঝতে পারলে?

আরও রোম্যানটিক গল্পের লিঙ্ক

ম্যাডাম, দেখে মনে হচ্ছে আততায়ী পূর্ব পরিচিত, নাহলে ঘরের মধ্যে সোফায় বসে খুন হত না।
সুমি বলে, "যদি বাইরের কোথাও থেকে গুলি চালায়? সোফার উল্টোদিকে জানলা টা কি খোলা ছিল?"
"না, ওটা আমরা এসে খুলেছি ", বলে ওঠে লোকাল থানার ওসি।
ঘর সার্চ করে পাওয়া যায় প্রায় ২০ লাখ টাকা। কিছু আর্ট এর সার্টিফিকেট, সবচেয়ে আশ্চর্যজনক রাশি রাশি একই বই, এক অজানা ভিনদেশী লেখকের প্রায়
২০০-৩০০ পিস বই। একটা বই তুলে নেয় সুমি। নাড়াচাড়া করে বুঝতে চেষ্টা করে বই এর বিষয়বস্তু। তেমন কিছু নয়, আঠেরোশো শতাব্দীর রোমান ইতিহাস, বই এর প্রথম পাতার রং টা ওই সময়ের মতই হলদেটে, বাকি সব নতুনের মত সাদা। লোকটা কি বুক সেলার বা ছদ্ম নামে লেখে? কিন্তু ক্যাশ ২০ লাখ টাকার অর্থ কি? কোনো আর্ট পিস জালিয়াতির কেস নয়তো? সুভাষ কে বই এর ডিটেইলস জানতে বলে কলেজ স্ট্রীট থেকে। আর শহরের আশপাশের সব রিসেন্ট আর্ট সামিট এর খোঁজ নিতে বলে। বডি পোস্টমর্টেম এ যায়, ফরেনসিক এর লোকেরা নমুনা সংগ্রহ করে।
বিকেলের দিকে সুভাষ খবর নিয়ে আসে যে ওই বই সারা বই পাড়াতে নেই। জনৈক প্রবীণ বই বিক্রেতা জানিয়েছে, এই বই এর লেখক থাইল্যান্ডের বাসিন্দা। ওখানেই প্রকাশিত হয় এই বই। ভারতের কোথাও এর মুদ্রণ হয় না।
তবে একটা সুখবর হলো, মৃত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে। সুভাষ অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসে গিয়ে ছবি দেখাতে একজন আর্ট কলেজের প্রফেসর চিনতে পারে, যদিও নাম মনে করতে পারেন না। কথা প্রসঙ্গে জানান অদ্ভুত কায়দায় অজানা আর্টও আসলের মত সুন্দর করতে পারতো সে। আর জাদুঘরে গিয়ে জানতে পারে এই লোক সম্প্রতি দুবার এসেছিল এখানে। প্রথম এসেছিল মাস ছয়েক আগে, আর শেষ এসেছিল চারদিন আগে।
"মানে মৃত্যুর দিন! কোন বিশেষ বিভাগে গেছেন দুবার ই?"
সুভাষ বলে, "হ্যাঁ, স্ট্যাম্প সংগ্রহশালাতেই গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কোনো সিসিটিভির ফুটেজ পাওয়া যায়নি। কারণ একমাসের বেশি পুরনো ফুটেজ রাখা হয় না, আর শেষ দিন যখন এসেছিল, তখন রেনোভেশনের জন্য স্ট্যাম্প বিভাগ বন্ধ ছিল। কিন্তু আগের পরিচিতির জন্য ওকে যেতে দেওয়া হয়, বাহাদুর গিয়ে দরজা খুলে দেয়। মিনিট খানেক পরেই বেরিয়ে যায় লোকটা। রেজিস্টারে নাম লিখেছিল সত্যেন বসু, অ্যাড্রেস টা যদিও ভুল ই দিয়েছিল। আর্ট কলেজের ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত আমার এক লোক আছে, তাকে নাম টা কলেজের রেজিস্টারে দেখতে বলেছি।"
"চলো কাল জাদুঘর। কিছু তো গড়বড় লাগছে।"
সকালেই পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এসে গেছে। কোনো অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া যায়নি। ৯ এম এম পিস্তল ইউজ করা হয়েছে।
ঠিক সাড়ে দশ টার সময় সৌমীলি সেনের গাড়ি এসে থামে জাদুঘরে। সুভাষ আগের দিনের অফিসারের সাথে কথা বলে আগে থেকেই ব্যবস্থা করে রাখে। কিন্তু বাহাদুর বলে, লোকটাকে ঘরে ঢুকিয়ে ও চলে আসে। কোন দিকে লোকটা গিয়েছিল সে দেখেনি। সৌমীলী স্ট্যাম্প সংগ্রহ শালার দিকে যায়। কোনো কিছুই মিল খুঁজে পায়না লোকটার ঘরের বাজেয়াপ্ত জিনিসগুলোর মধ্যে। অফিসারের নম্বর টা নিয়ে বলে আসে কিছু মনে পড়লে জানাতে। সুভাষ এর সোর্স খবর দেয় যে সত্যেন বসু আর্ট কলেজে থেকে পাশ করে ২০০০ সালে। যেখানেই চাকরি করতো বেশিদিন টিকে থাকতে পারেনি।
থানায় ফিরে সুমি ভাবতে থাকে লোকটা যে কিছু একটা জাল করছিল সেটা ঠিক, হয়তো স্ট্যাম্প ই। কিন্তু কিভাবে, কেনই বা এত বই বাড়িতে। হঠাৎই মনে পড়ে একটা স্ট্যাম্পের কথা, হলদেটে কাগজে রোমান সম্রাট এর ছবি। তখনই ফোন করে জাদুঘরের অফিসারকে।
"এত রাতে ফোন করার জন্য দুঃখিত। আপনাদের সংগ্রহশালার হলদেটে কাগজের রোমান সম্রাটের একটা স্ট্যাম্প দেখেছিলাম, তার আনুমানিক মূল্য কেমন?"
"ঠিক মত বলতে গেলে কাল ডকুমেন্টস দেখে বলতে হবে, কিন্তু আপনি যেটা বলছেন আর আমি যেটা ভাবছি সেটা ঠিক হলে মোটামুটি ১০ লক্ষ টাকার বেশি বই কম হবে না।"
সুমি: "এর মধ্যে ওই স্ট্যাম্প কখনো বাইরে এক্সিবিশনে গিয়েছিল।"
"গিয়েছিল তো সপ্তাহ খানেক আগে, কাল সকালে আপনি আসুন একবার অফিসে, আমি ৭ টার মধ্যে চলে আসবো।" সুমি চলে যায় আরেকবার ওই বন্ধ ফ্ল্যাটে। খুঁজতে থাকে ওর ধাঁধার শেষ ভাগ। খুঁজে পায় না সেটা।
সারারাত চোখের পাতা এক করতে পারেনা সুমি। ভোর হতে না হতেই চলে আসে জাদুঘরে। অফিসার জানায়, ওই স্ট্যাম্পের আনুমানিক মূল্য ১৫ লাখ, ওই স্ট্যাম্পের অকশনের জন্য এক কোম্পানি প্রাইস ভেরিফাই করে গেছে দিন তিনেক আগে। আসলে কোনো অকশন কোম্পানি ভেরিফাই করে রাখলে অকশনে তার দাম বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
"আপনার কাছে থাকা ওই স্ট্যাম্প টা এখন জাল, আপনি চাইলে ভেরিফাই করান।"
অফিসার বলে, "বলছেন কি? আমার তো চাকরি চলে যাবে। বাঁচান আমায়। আমাদের ভ্যালুয়ার কে দিয়ে যাচাই করিয়ে আপনাকে জানাচ্ছি যতটা সম্ভব তাড়াতাড়ি।"
সুমি ওখান থেকে অকশন কোম্পানির অ্যাড্রেস ডিটেইলস নিয়ে চলে আসে।
ফোন করে জেনে নেয় অকশন টাইম আর লোকেশন। লালবাজারে ফোন করে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট এর প্রিপারেশন করতে থাকে, কিন্তু ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট হেড বলেন, "সৌমীলি, আমার পুরো আস্থা আছে তোমার ওপর, কিন্তু তোমার কাছে কোনো সলিড এভিডেন্স নেই, না আছে মার্ডার উইপন। কোনো ইস্যু হলে লালবাজার রেসপনসিবিলিটি নেবে না।"
"ডোন্ট ওরি স্যার, আই উড লাভ টু টেক রেসপনসিবিলিটি।"
সুভাষ কে বলে ফোর্স নিয়ে অপেক্ষা করতে ওই অভিজাত হোটেলের লবিতে, ৯টা নাগাদ।
একটা নাটক সাজিয়ে নিয়ে ঠিক ৭ টায় হোটেলের হলে হাজির হয়।
ওপেনিং স্পীচ দেন অকশন কোম্পানির মালিক বিনোদ মালহোত্রা। বেশ কিছু অকশন আইটেমের পর আসে সেই স্ট্যাম্প। প্রতিটি পাতায় প্রায় ২০টি করে স্ট্যাম্প। শুরুর মূল্য ৩ কোটি। দাম ওঠে ৫ কোটি প্রতি পাতার ভ্যালু। প্রায় ১০০ পাতা। অকশন শেষ হয়, এবার শুরু হবে সুমির মঞ্চ। সুভাষ কে এসএমএস করে অ্যালার্ট করে দেয়। সেই সময় জাদুঘরের অফিসার ফোন করে জানায় সত্যি ওই স্ট্যাম্প টা নকল। সুমি ওনাকে ভ্যালুয়ারকে নিয়ে  হোটেলে চলে আসতে বলে। মঞ্চ থেকে নামতে উদ্যত হয় বিনোদ মালহোত্রা।
হঠাৎ ই স্টেজে উঠে মাইক্রোফোন নেয় সুমি।
"গুড ইভনিং, আমি বিনোদ মালহোত্রার বিশাল ফ্যান। ওনার মত বিচক্ষণ লোক খুব কম ই আছেন, কিন্তু এই মুহূর্তে উনি যে স্ট্যাম্প গুলি অকশন করেছেন সেগুলো জাল।"
হলে যেন পিন পড়লেও শব্দ হবে।
"কি বলছেন আপনি, সিকিউরিটি, প্লিজ হেল্প ম্যাডাম।"
"জাস্ট এ মিনিট, মি: মালহোত্রা। এই হল থেকে বেরোতে পারবেন না, চারপাশ ঘিরে রেখেছে পুলিশ। প্লিজ সি মাই আইডেন্টিটি। ইন্সপেক্টর সৌমীলি সেন, হোমিসাইড। এবার আপনি বলবেন এখানে, না আমি বলবো। আপনার ফিঙ্গার প্রিন্ট ম্যাচ করে গেছে।" মোক্ষম চাল টা ফেলে সুমি।
"লেটস গো আউটসাইড।"
ওই হোটেলের রুমেই বসে আছে সবাই। সুমি, বিনোদ মালহোত্রা আর ওনার সেক্রেটারি ও সুভাষ, জাদুঘরের অফিসার আর ওনার ভ্যালুয়ার।
সুমি: "আমি শুরু করি, মি: মালহোত্রা, কিছু এদিক ওদিক হলে ঠিক করে দেবেন। আমার প্রথম নজর পরে ডেডবডি মানে সত্যেন বসুর বাড়িতে ২০ লাখ টাকা দেখে, ওটা খুঁজে আপনি নিয়ে নিলে হয়তো আর একটু বেগ পেতে হতো। তারপর যখন শুনলাম সত্যেন দুবার প্রায় মাস ছয়েকের ব্যবধানে জাদুঘরে গেছে একই স্ট্যাম্প সংগ্রহ শালায়, তখন বোঝাই যায় প্রথমে নমুনা সংগ্রহে, আর দ্বিতীয়বার সেটার হাত সাফাই করতে। কিন্তু জাদুঘরের মধ্যে সেটা করা মুশকিল। তাই এক্সিবিশন এর সময় যাতায়াতের মধ্যেই পাল্টে যায় আসল স্ট্যাম্প। ইতিমধ্যে সত্যেন এর সাহায্যে বিনোদবাবুর কাছে আসে স্ট্যাম্প বানানোর নকল রেপ্লিকা এবং আসল স্ট্যাম্প ও। হয়তো বেশি দাবি করেছিল সত্যেন, তাই ওকে সরিয়ে দেওয়া হয়। খটকা লাগে যদি আসল জিনিস পাল্টে যায়, তাহলে ভেরিফাই করে অকশন কোম্পানির সার্টিফিকেট কিভাবে এলো? কিন্তু একটু ভাবলেই দেখবেন, যখন সার্টিফিকেট নেওয়া হয়, অলরেডী নকল স্ট্যাম্প দখল করেছে জাদুঘরের জায়গা। কিন্তু এই স্ট্যাম্প টাই যে নকল করা হচ্ছে, সেটা আমি নিশ্চিত ছিলাম না। এখানে আমাকে হেল্প করেন আমার ফরেনসিক এক্সপার্ট। ওই বই গুলোর হলদে প্রথম পাতাটা ইউজ করেই যে তৈরি করা যেতে পারে স্ট্যাম্প টা, নিশ্চিত করেছিল সে। সেই জন্যই অত বই, এটাতে আমার মতে সত্যেনবাবুরই কৃতিত্ব ছিল। আর্ট কলেজের ছাত্র হিসাবে সুচারু ছিল সে। সম্ভবত আরো কিছু সেট নকল করার জন্যই বইগুলোর অর্ডার দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আপনি যখন দেখলেন, সত্যেন বাবুর খিদে বেড়ে যাচ্ছে, আর আপনিও পেয়ে গেছেন প্রিন্টিং এর পেপার ও নকল স্ট্যাম্পের ছাপ। ওকে সরিয়ে দিলেন রাস্তা থেকে, যদিও ওনার স্ত্রীর এতে কোনো অবদান ছিল না। আশা করি এবার আপনি আসল স্ট্যাম্প টা আর মার্ডার উইপন টা আমাদের দেবেন, আমি চেষ্টা করবো সেই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাতে।
মাথা নত করে সেক্রেটারি কে লকার থেকে ফাইল টা এনে দিতে বললেন। সুভাষ এগিয়ে গেলো হাতকড়া নিয়ে। সুমি রুম থেকে বেরিয়ে পড়ল।
ঘরে ফিরে ঠান্ডা জলে স্নান করল সুমি। মোবাইলে একটা এসএমএস ফ্রম ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট হেডের। "প্রাউড অফ ইউ"
©Ayan
Share:

#নিব পেন#

bengali story blog ayan Nib Pen
শীতের রাতে কাকভোরে এসেছিল ফোনটা, তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে স্পটে এসে গিয়েছিল সুমি। দেখলো ওর আগেই সুভাষ চলে এসেছে। লন্ডভন্ড হয়ে আছে ঘরটা। সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছে বডিটা। ধীরে ধীরে ঘরটা দেখতে থাকে ও। টু বেডরুম ফ্ল্যাট, অ্যাকসিডেন্ট স্পট ছাড়া বাকি সব ঘর সাজানো গোছানো। পাওয়া গেছে সুইসাইড নোট, "প্রিয় সবাই, আমার মৃত্যুর জন্য অম্বর দায়ী।" সব কিছু চেক করে বডি পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠাতে বলে সুমি। ইতিমধ্যে এসে গেছে ফরেনসিক এক্সপার্টরা। এককোণে দাঁড়িয়ে রয়েছে ভিক্টিমের হাজব্যান্ড, অম্বর ঘোষ, পেশায় আইটি ম্যানেজার। কার্যত বিপর্যস্ত। বাইরের ঘরে আসে সুমি। সাব ইন্সপেক্টর সুভাষ জানায়, এদের বিয়ে হয়েছে বছর খানেক। এই ফ্ল্যাটে আর কেউ থাকত না ওরা ছাড়া। সুভাষ কে বলে আশেপাশের লোকের থেকে ইনফরমেশন নিতে, আর মি: ঘোষ কে ডেকে দিতে।
সুমি মানে সৌমিলি সেন, ইন্সপেক্টর, হোমিসাইড। অল্প বয়সেই তার বিচক্ষণতার পরিচয় পেয়েছে ডিপার্টমেন্ট। অম্বর আসে ঘরে।
বসুন মি: ঘোষ, লাস্ট কখন কথা হয়েছিল আপনার স্ত্রীর সাথে?
মি: ঘোষ: কাল রাতে আমার অফিসের কাজের চাপ ছিল, রাতে ফিরতে পারবোনা জানিয়ে দেবযানীকে কল করেছিলাম ৬ টা নাগাদ। রাতে ১০ টার দিকে ফোনে কথা হলো, বলল ডিনার করেছে, আমার হয়েছে কিনা জানলো। বললো ভালো থেকো। আমি ফিরেছি মোটামুটি ৪ টে নাগাদ। ডুপ্লিকেট চাবি থাকে আমারও কাছে। বেডরুমে ঢুকে দেখি এই ভয়ানক দৃশ্য। ফোন করি ১০০ ডায়াল করে। তারপর খবর দিই ওর আর আমার বাড়িতে। ও কিছুতেই সুইসাইড করতে পারেনা ম্যাডাম। ও খুব স্ট্রং, আমাদের মধ্যে এতটুকুও ঝগড়া হত না। চোখের কোন দিয়ে জল গড়াতে থাকে ওর।
সুমি: দেখুন ডাইরেক্ট চার্জ আছে আপনার ওপর এই সুইসাইড নোটে। এই সময়ে আপনি শহর ছাড়বেন না, আর ১০ টা নাগাদ থানায় আসবেন। আপনাদের কি অ্যারেঞ্জ না লাভ ম্যারেজ? কাউকে সন্দেহ করেন?
মি: ঘোষ: আমাদের দুজনেরই বাড়ি বাঁকুড়া। কলেজে পড়তে পড়তে প্রেম, চাকরি পেয়ে দুবছরের মধ্যেই বিয়ে। না কাউকেই সন্দেহ করার মত নেই। কিন্তু ও খুব চাপা স্বভাবের, খুব স্ট্রং, সুইসাইড ও করতেই পারে না।
গাড়িতে গা এলিয়ে ফ্ল্যাটের দিকে রওনা দেয় সুমি। এর পরের বাধাঁধরা কিছু কার্যক্রম শুরু হবে। মেয়ের বাড়ি এসে বধূ নির্যাতনের অভিযোগ করবে, গ্রেপ্তার হবে শ্বশুর বাড়ির লোকজন। কিছুদিন ঝড় উঠবে মিডিয়াতে, ধীরে ধীরে ধামাচাপা পড়বে। কিন্তু সুমির মন বলছে, এটা ৪৯৮ কেস নয়। যতটুকু স্টাডি করতে পেরেছে অম্বর কে। কিন্তু দেবযানী সুইসাইড নোটে স্বামীকে দায়ী করলো কেন?
সুভাষ দুপুরের মধ্যে দুই বাড়ির লোকজন, অম্বর এর অফিসের লোকজন, আশেপাশের সবার বয়ান নিয়ে হাজির। অপ্রত্যাশিত ভাবে ৪৯৮ কেস করেনি মেয়ের বাড়ির লোকজন। সবার কথা শুনেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কিছু ক্লু। কালকে পোস্টমর্টেমের রিপোর্ট পেলে যদি অজানা কিছু জানা যায়।
পরের দিনই দুটো খবর দেয় সুভাষ। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট অনুযায়ী শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে আর ঘরের মধ্যে পাওয়া ফিঙ্গারপ্রিন্ট এ দেবযানী আর অম্বর ছাড়াও রয়েছে আর একটা ছাপ, যেটা একটু অন্যরকম। পাওয়া গেছে একটা পেনের ওপর। পেন টার বিশেষত্ব নিব পেন, আজকের দিনে যেটা দুর্লভ। কিন্তু পেনের বক্সের ওপর কোনো ছাপ পাওয়া যায়নি।
ডিটেলস টা জেনে সুভাষকে বলে, একটা সূচ পাওয়া গেছে, লেগে পড়ো জানতে এদের পরিচিত কেউ আছে কিনা যার ৬ টা আঙ্গুল। তারপর ফোন করে ফরেনসিক বিভাগে।
"বলুন মিস সেন, কি খবর?" ফরেনসিক এর অভিজ্ঞ দত্ত দা বলেন।
"আরে এই যাদবপুরের কেস টা নিয়ে কথা বলার ছিল, এনি ইনফরমেশন?"
"আগে গলা টিপে হত্যা, তারপর ঝোলানো, অপটু হাতের কাজ, কিন্তু লোকটার হাতে সম্ভবত ওই অধিক আঙ্গুল নেই।"
সুমি আরেকবার স্পট থেকে সংগৃহীত জিনিসগুলো নাড়াচাড়া করতে থাকে। এক্সপার্ট জানিয়েছে এটা দেবযানীর ই হাতেরলেখা। কিন্তু এর পিছনের দিকে কি লেখা?
"লোভা কোথে।" সুইসাইড নোটের কাগজটা একটা ডাইরির পাতা, উল্টোদিকে লেখা ওই অদ্ভুত দুটো কথা।
অম্বর বাবু কে ফোন করে থানায় আসতে বলে ওকে। অম্বর আধ ঘন্টার মধ্যেই চলে আসে।
ডাইরির পাতার উল্টোদিকের লেখাটা পড়ে কিছু বুঝতে পারলেন?
"এটা আমাদের কোড ওয়ার্ড ছিল। কারোর সামনে কোনো কথা না বলা গেলে আমরা উল্টো করে বলতাম বা লিখতাম। এটার মানে ভালো থেকো। কিন্তু এটা ও কাল রাতেও ফোনে বলেছিল, নিশ্চয়ই কেউ ছিল ঘরে।"
"এই পেন টা আপনার?" ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাওয়া পেন টা দেখিয়ে বলে সুমি।
"না, আমার নয়, কিন্তু চেনা চেনা লাগছে।"
"মনে করুন ভালো করে।"
"হ্যাঁ, মনে পড়েছে, আমাদের এক কলেজ ফ্রেন্ড এইরকমই পেন ইউজ করত।"
"তার কি বাই এনি চান্স হাতে ৬ টা আঙ্গুল?"
"হ্যাঁ, কিন্তু?"
"যোগাযোগ, ঠিকানা, ফোন নম্বর?"
"না কিছুই নেই, আমি, দেবযানী আর নিখিল সোম খুব ভালো বন্ধু ছিলাম। কিন্তু আমাদের প্রেম পর্বের শুরু থেকেই ও আমাদের থেকে আস্তে আস্তে দূরে সরে যায়। সেকেন্ড ইয়ারে ফেল করে কলেজ ছেড়ে দেয়। কিন্তু এসব কি বলছেন আপনারা?"
আপনি আসতে পারেন, পুরনো কোনো নিখিলের ছবি থাকলে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাবেন।
সাইবার সিক্যুরিটি টিম কে ফোন করে এই তিনজনের ডিটেইলস পাঠায় সুমি। রাত নটা নাগাদ একটা লোকেশন আর ছবি পাঠায় ওকে। ফেসবুকের ইনকামিং পেন্ডিং ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট লিংক থেকে একটা সিমিলার আইডেনটিটির সন্ধান পাওয়া যায়।
রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ওই লোকেশনে ফোর্স নিয়ে চলে যায় সুমি।
নক করতে দরজা খোলে হালকা দাড়িওয়ালা লোকটা। কপালে হালকা ব্যান্ডেজ। পুলিশ দেখেও কোনো অভিব্যাক্তি নেই।
"হাউ ক্যান আই হেল্প ইউ?"
"আপনার নাম নিখিল সোম?"
"ইয়েস, কিন্তু কি চাই আপনাদের?"
"একটু জল খাওয়াবেন?" গ্লাসে ঢেলে জল এগিয়ে দেয় নিখিল সোম। সুমি পকেট থেকে রুমাল বের করে গ্লাস টি চালান করে সুভাষকে। মুহূর্তে চমকে ওঠে সুমি, একি, হাতে ৫ টাই আঙ্গুল আছে!!
"আপনার হাতে ৬টা আঙ্গুল ছিল না?"
"ছিল, কিন্তু এখন আর নেই, কলেজ ছাড়ার পর পরই একটা অ্যাকসিডেন্ট হাতের আঙ্গুলটা কেটে বাদ যায়।"
"তাহলে আপনার বান্ধবী দেবযানীকে মারলেন কিভাবে?"
"হোয়াট রাবিশ!!"
"সুভাষ, একে কাস্টডিতে নাও। আজ শুক্রবার, কাল পরশু কোর্ট বন্ধ, জামিনে ছাড়া পাওয়ার আগেই আশা করি সব স্বীকার করে নেবে।"
"অহেতুক বাড়াবাড়ি করছেন, প্রমাণ করতে পারবেন তো?"
ঘর থেকে বেরিয়ে যায় সুমি, নিখিল কে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে পুলিশ ফোর্স। সুমি আর বাড়ি না ফিরে সোজা চলে আসে নিজের ডেস্ক এ।
পুরনো ফাইল খুঁজে জানার চেষ্টা করে নিখিলের অ্যাক্সিডেন্টের সত্যতা। হাতের প্রমাণ তো ঐ ফিঙ্গারপ্রিন্ট টাই।
কিছু ফোন ঘোরাতে থাকে এদিক ওদিকে। সুভাষ এসে জানায় নিখিলের প্রিন্টের সাথে ম্যাচ হয়েনি আর কোনো পাওয়া প্রিন্ট। ফরেনসিক ও সফটওয়ারে কনফার্ম করতে পারেনি এই ৫ আঙ্গুলি নিখিল ই স্পট এ পাওয়া ৬ আঙ্গুলের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ওয়ালা সেম মানুষ কিনা। সুভাষ কে বাড়ি চলে যেতে বলে সুমি।
হঠাৎ একটা ফোনের রিং এ ভাঙে তন্দ্রা টা। নিজের ডেস্ক এ ঝিমিয়ে পড়েছিল কখন।
"থ্যাংক ইউ, আমি কিছুক্ষণের মধ্যেই জানতে পারবো।"
আবার ফোন করে ফরেনসিক এর দত্ত দা কে। "আরেকটা প্রিন্ট পাঠাচ্ছি, একটু তাড়াতাড়ি কনফার্ম করুন।"
প্রায় রাত ৩টে বাজে, একটু কফি আনায়। একটু পরেই সুখবরটা জানায় দত্তদা।
নিখিল কে এখনই ইন্টারোগেশন রুমে আনতে বলে। আধার কার্ড এর ডেটাবেস থেকে পাওয়া যায় পুরনো ৬ আঙ্গুলের ফিঙ্গারপ্রিন্ট যেটার ম্যাচ রিপোর্ট সামনে ফেলে সুমি।
"দেখুন, প্রমাণ এসে গেছে আমার হাতে। বলুন কেন খুন করলেন এতদিন বাদে আপনার বান্ধবী কে।"
কিছুক্ষন চুপ থেকে আর কোনো উপায় নেই দেখে মুখ খোলে নিখিল।
"আমি ভালবাসতাম দেবযানী কে, কিন্তু তার আগেই ওরা দুজনে এক হয়ে গেলো। আমি বিপথে গেলাম, ফেল করে কলেজ ছেড়ে চলে গেলাম কাজের তাগিদে নেপালে। ভুলেই গিয়েছিলাম ওদের, বছর ৫ পর কলকাতা ফিরে একদিন হঠাৎ ধর্মতলা এ একসাথে দেখলাম ওদের। খুঁজে খুঁজে ফেসবুক এ ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালাম কিন্তু কোনো উত্তর পেলাম না। কাজকর্ম ফেলে দিয়ে খুঁজতে থাকলাম ওদের ঠিকানা। পেয়েও গেলাম। একদিন হঠাৎ করেই উদয় হলাম সামনে, গড়িয়াহাট এর কাছে। চিনতে পারলো না একেবারে, নাকি এড়িয়েই গেলো। অনেক পরিচয় দিয়ে তারপর সেই পুরনো না বলা কথাটা বললাম, দেবযানী বললো তুই আর কোনোদিন আমার সামনে আসবিনা। এই দেখা আমাদের মধ্যে যেন হয়েনি কখনো। আমিও বললাম তুই যদি আমার না হোস, অম্বর কেও পিষে মারবো আমি। ওকে একটু ভীত দেখালো, কিন্তু মুখে বলল আমায় যা খুশি করিস, ওর গায়ে যেন হাত না লাগে।
সেদিনের মত কাটলাম। আবার কদিন পরে ধরলাম রাস্তাতেই। বললাম তোর বাড়ি যাব। আমাকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিল, বললো তোর কি মাথা খারাপ। আমি বললাম তুই তো বলেছিলিস অম্বর কে কিছু করিস না, আমায় যা খুশি করিস। শকুনের মত হাসছিলাম আমি। আমাকে বললো, অম্বর মাঝে মাঝেই লেট করে বাড়ি ফেরে, যেদিন সেরকম হবে তোকে আমি ইশারা করবো ফ্ল্যাটের বারান্দা থেকে। সেই থেকেই প্রায় একমাস ওদের ফ্ল্যাটের আশপাশে ঘুরেছি ছদ্মবেশে, কিন্তু ও ইশারা করেনি।
পরশু বিকাল থেকেই নজর রেখেছিলাম, ভেবেছিলাম আজ হেস্তনেস্ত করবই। ঠান্ডাটা পড়েছে বেশ। আপাদমস্তক গরমের জামায় ঢাকা আমার, যাতে কেউ চিনতে না পারে। হঠাৎ লোডশেডিং হয়ে সুযোগটা হয়ে গেল। ওয়াচম্যানের নজর এড়িয়ে ঢুকে পড়লাম ওর ফ্ল্যাটে। হঠাৎ দেখে আঁতকে উঠলেও ভিতরে আসতে বললো। বললাম চল পালাই দুজনে। বললো তা হয়না। তখনই ফোন এলো অম্বরের। ফোন রেখে বললো অম্বর আজ দেরি করে ফিরবে তুই খেয়ে যাস। পকেট থেকে বার করলাম আমার নিব পেন টা। দেখ, তোকে দেওয়ার জন্য কিনেছিলাম এটা ৫ বছর আগে, কিন্তু দেওয়া হইনি। খাপ সমেত রাখলাম টেবিলে। খাওয়ার পর সব বাসনপত্তর ধুয়ে এলো দেবযানী। ১০টা নাগাদ অম্বর কে ফোন করলো ও। আমাকে বললো এবার যা তুই। কিন্তু আমি ওকে ছাড়তে রাজি হলাম না। ওকে বললাম তুই আমার কাছে না এলে অম্বরকে শেষ করবো আমি। জোর করে ওকে দিয়ে সুইসাইড নোট লেখালাম। বললাম এটা দিয়েই অম্বরকে জেলের হাওয়া খাওয়াবো। ভাবলাম ভয়ে পেয়ে রাজি হবে ও। কিন্তু না, আচমকাই পেপারওয়েইট টা ছুড়ে মারলো। মুন্ডু টা গরম হয়ে গেলো। গলা টিপে ধরলাম ওর। ধস্তাধস্তিতে বিছানা লন্ডভন্ড হলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই নিস্তেজ হয়ে গেল শরীরটা। ভাগ্যিস হাতে গ্লাভস টা পড়া ছিল, তবুও তাড়াতাড়ি সব ফিঙ্গারপ্রিন্ট মুছে দিয়ে ওকে টাঙিয়ে দিলাম ফ্যানের সঙ্গে। ইন্টারলক করে চুপিসারে বেরিয়ে গেলাম ফ্ল্যাট থেকে।" দীর্ঘনিশ্বাস ফেললো নিখিল।
"আপনার নিব পেন টাই শেষ করলো আপনার প্রেম ও আপনাকেও"।
কেস রিপোর্ট লিখে বাড়ির পথে বেরোলো সৌমিলী সেন। শীতের সূর্য উঁকি মারছে আকাশে।
©Ayan
Share:

মোট পৃষ্ঠাদর্শন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.