ছোট গল্পের সন্ধানে || কলমে অয়ন

  • বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

    আনন্দ, উদ্বেগ আর প্রত্যাশার গণ্ডি পেরিয়ে চতুর্থ বারের জন্য অপেক্ষা দায়িত্বের। সেই দায়ভার থেকেই জন্ম এই চতুর্থ সন্তানের। আগের বারের "মৃত্যু রহস্য"র পর ইয়ং ইন্সপেক্টর সৌমিলির ডাক পড়েছে এক জটিল সমস্যার সমাধানে। গ্রাম বাংলার এক সুন্দর প্রকৃতির প্রেক্ষাপটে ঘটে চলেছে অদ্ভুত সব ঘটনা। যাকেই সে সন্দেহের তালিকায় আনছে, হঠাৎ করে সে-ই খুন হয়ে যাচ্ছে। সৌমিলি কি পারবে এই কেস সলভ করতে❓ তারই গল্প বলতে প্রকাশিত হচ্ছে আমার চতুর্থ বই "আই ক্যান্ডি" এবারের কলকাতা বইমেলা ২০২৫ এ ক্লিক করুন

  • বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

    প্রথম বারের আনন্দ আর দ্বিতীয় বারের উদ্বেগের গণ্ডি পেরিয়ে তৃতীয় বারের জন্য অপেক্ষা প্রত্যাশার। সেই থেকেই জন্ম এই তৃতীয় সন্তানের। আগের বারের "পায়ে পায়ে রহস্য" র সাফল্যের পর ইয়ং ইন্সপেক্টর সৌমিলি সমাধান করে ফেলেছে আরও কিছু জটিল কেস। তারই গল্প বলতে প্রকাশিত হচ্ছে আমার তৃতীয় নতুন গল্পের বই "মৃত্যু রহস্য" এবারের কলকাতা বইমেলা ২০২৪ এ। আশা করি এই বই আমার পাঠকদের আনন্দ দেবে বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    আজকের দুনিয়ায় টেকনোলজিও যত উন্নত হয়েছে, পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিত্য নতুন অপরাধের ধরণ। একজন ইয়ং ইন্সপেক্টর কিভাবে কেসের পর কেসের কিনারা করবে, তারই বেশ কিছু ঝলক থাকবে পাঠকদের সামনে। বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    মুঠোফোনের দুনিয়ায় আমার প্রথম বই শব্দের স্বরলিপি এনে দেবে একরাশ মুক্ত বাতাস। বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • প্রতি সপ্তাহে নতুন গল্প

    গল্প পড়ার থেকে শুনতে বেশি ভালবাসেন? বাচ্ছারা রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময় গল্প শুনতে চায়? তাহলে দেরী না করে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন ইউটিউব চ্যানেলটা, আর বেল আইকন টা প্রেস করতে ভুলবেন না। আসছে প্রতি শুক্রবার রাত ৯ টায়। সঙ্গে থাকুন।

  • #ভোকাট্টা#

    চারপাশের আকাশে শুধু রঙ বেরঙের ঘুড়ি। এখনকার মত নানারকমের ক্যামেরা না থাকলেও ছবি গুলো উজ্জ্বল হয়ে থাকত স্মৃতির মণিকোঠায়। মাঝে মাঝে তারস্বরে চিৎকার, “ভো কাট্টা!

  • #অরণ্যে দুই রাত্রি#

    কথায় বলে বাঙালির পায়ের তলায় সর্ষে। কিন্তু এই বিগত দেড় বছরের করোনা পরিস্তিতিতে সবার মত তারাও হয়ে পড়েছিল ঘরবন্দি। তাই এখন একটু পরিস্তিতি ঠিক হতেই সবাই আবার বেড়িয়ে পড়েছে কাছে পিঠে। সেই রকমই একটা উইকএন্ড ডেসটিনেশনের কথা

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    মুঠোফোনের দুনিয়ায় আমার প্রথম বই শব্দের স্বরলিপি এনে দেবে একরাশ মুক্ত বাতাস। বিশদে জানতে ক্লিক করুন


Best Bangla Books to Buy in 2024

#অদ্ভুতুড়ে#

অফিসের এক কলিগের বিয়ের নিমন্ত্রণ খেয়ে বাড়ি ফিরছি। রবিবার রাত, প্রায় ১০.৩০ বাজে, হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেন ধরবো। ১০.৪০ এর বর্ধমান লোকালে বেশ জানলার ধারেই সিট পেয়ে গেলাম। শীতের রাত বলে ট্রেনটা বেশ খালি।
কদিন ধরে হালকা বৃষ্টি হয়ে বেশ ঠান্ডাটা পড়েছে, নাহলে কলকাতাতে কি আর এমন ঠাণ্ডা পড়ে। তাতেই দেখলাম আজ বিয়ে বাড়িতে লোকজন প্রায় গরম জামা কাপড়ে নিজেদের মুড়ে ফেলেছে। তবুও আমাদের বাড়ির দিকে তাও একটু পরে। আমার বাড়ি মশাগ্রাম স্টেশনের কাছে, স্টেশন থেকে নেমে আরো ১৫-২০ মিনিট সাইকেলে যেতে হয়।
বেশ জোর খাওয়া হয়ে গেছে আজ। দারুন ছিল মেনুগুলোও। এই আবহাওয়ায় একটু ঝিমুনি লাগছিল, ভাবলাম একটু ঘুমিয়ে নি, আরো ঘন্টা খানেক লাগবে সময়। বেশ খানিকক্ষণ পর একটু ঘুম টা ভেঙেছে।
ওমা একি! চারিদিক সুনসান, ট্রেনটা দাড়িয়ে আছে, কামরায় আর কেউ নেই। এতই ঘুমোলাম যে বর্ধমান এসে ট্রেন কার্শেডে চলে গেলো, বুঝতেও পারলাম না নাকি! গেটের দিকে এগোলাম, চারপাশটা নজর দিয়ে দেখি বাকি কামরাগুলো সব অন্ধকার।
গা টা ছমছম করে উঠলো। একটা ছোট স্টেশনের মত লাগছে জায়গা টা। মনে জোর এনে নেমে পড়লাম ট্রেন থেকে। নামার পরই ট্রেনের কামরা় টাও অন্ধকার হয়ে গেলো।
চারপাশ নিকষ অন্ধকার, আজ বোধহয় অমাবস্যা হবে। দূরে একটা ক্ষীণ আলোর রেখা দেখতে পেলাম। সাহসে ভর করে এগিয়ে গেলাম ওই দিকে। চোখ টা একটু সয়ে এসেছে অন্ধকারটা। মেঠো পথ ধরে এগিয়ে গেলাম বেশ খানিকটা। এবার আসতে আসতে একটা মাটির বাড়ি দেখতে পেলাম, ওটা থেকেই আসছে আলোটা। আরো কিছুটা এগিয়ে বাড়িটার দোরগোড়ায় পৌঁছে গেলাম। মনে শান্তি এলো একটু, খুব জোরেই হেঁটে এসেছি বোধহয়, তাই একটু হাঁপাছিলাম।
কেউ আছেন? জোরে হাঁক দিলাম একটা। ফাঁকা চারপাশ থেকে আমার গলার স্বরটাই প্রতিধ্বনিত হলো গমগম করে। একটু অপেক্ষা করেও কোনো সাড়াশব্দ পেলাম না কারোর। এগিয়ে গিয়ে দরজাটা ধাক্কা মেরে দেখতে গেলাম, আর তখনই ক্যাঁচ করে দরজাটা খুলে গেলো। দেখলাম একটা মানুষ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে, হঠাৎ লক্ষ্য করলাম মুখটা আমার দিকে হলেও ধড়টা উল্টো দিকে। প্রাণ টা মনে হলো গলার কাছে বেরিয়ে এলো। দিকবিদিক শূন্য হয়ে উল্টো দিকে দৌড় লাগালাম, কিন্তু প্রাণপণে দৌড়বার চেষ্টা করেও একটুও এগোতে পারছিনা, মনে হচ্ছে কেউ পিছন থেকে জামাটা টেনে আছে। চিৎকার করে উঠলাম, "বাঁচাও, বাঁচাও!!!"
সবাই ধাক্কা মারছে, "ও চ্যাটার্জী দা, হাওড়া এসে গেছে তো, চিল্লাছেন কেনো? যা ঘুমের ঘোরে বলছিলেন না!! পেট গরম হলো নাকি আপনার? কাল রাতে বৌদি ভালো মন্দ খাইয়েছে মনে হয়, হজম হয়েনি?
এখনও বুকটা ধড়ফড় করছে আমার, কাল রাতে বিয়েবাড়ি খেয়ে ট্রেনে ফিরেছিলাম বটে, কিন্তু বাকিটা কি সত্যি না স্বপ্ন!!!
©Ayan
Share:

#ফোটো ফিনিশ#

"রাসবিহারী! রাসবিহারী!", সিট ছেড়ে বাসের দরজার কাছে এলো লোকটা। ভিড় বাসটা, আমি দাঁড়িয়ে দরজার সামনে। হঠাৎ নজর গেল লোকটার মোবাইল এ। ফটো স্ক্রল করছে, প্রিয়া দি না? ভাবলাম, প্রিয়া দি আবার প্রেম করছে নাকি? তখনই একটা ফোন এলো লোকটার মোবাইল এ। "হমঃ, টার্গেট পেয়েছি, কাজ ফিনিশ হলেই ইনফর্ম করছি।" বলেই চলন্ত বাস থেকে নেমে যায় লোকটা। হঠাৎ করেই মনটা কেমন কু গেয়ে উঠল। ঝটপট করে আমিও নামলাম চলন্ত বাসটা থেকে।
প্রিয়াদি বাবার বন্ধুর মেয়ে, বিয়ে হয়ে গেছে বছর দুয়েক আগে, এদিকেই বোধকরি শ্বশুরবাড়ি ছিল। ওর হাজব্যান্ড ব্যাঙ্গালোরে চাকরি করে, আর ও এখানে স্কুল টিচার।
লোকটা বেশ কিছুটা এগিয়ে গেছে, তাড়াতাড়ি হেঁটে লোকটাকে ফলো করতে থাকি আমি। লোকটা একটা গলির মধ্যে ঢোকে। কোণের সিগারেটের দোকানে কিছু একটা জিজ্ঞাসা করে, সম্ভবত অ্যাড্রেস। তারপর এগিয়ে যায়। হঠাৎ লক্ষ্য করি লোকটার কোমরের কাছটা উঁচু মত লাগছে, রিভলবারের মতন কি?
লোকটা একটা অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যে ঢোকে। সিকিউরিটি এর কাছে এন্ট্রি করে এগিয়ে যায়। চটপট আমিও এগিয়ে যাই সেদিকে।
"কোথায় যাবেন?" "প্রিয়া মিত্র, নাইনথ ফ্লোর" আড়চোখে দেখে নিয়েছিলাম আগের এন্ট্রির ফ্লোর নম্বরটা।
এন্ট্রি করে লিফটের কাছে এসে দেখি সেটা ততক্ষণে ৮ম তলায়। কালবিলম্ব না করে ছুটে উঠতে থাকি সিঁড়ি ধরে। নাইন্থ ফ্লোরে এসে দেখি লোকটা লিফটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে নামার জন্য। মুহূর্তে ঝাঁপিয়ে পড়ি লোকটার ওপর। এলোপাথাড়ি মারতে থাকি, হঠাৎ আক্রমণে লোকটা ঘাবড়ে যায়। চিৎকার করতে করতে আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে থাকে।
হঠাৎ সামনের ফ্ল্যাটের দরজাটা খোলে।
"অর্পণ তুই এখানে? কি হয়েছে?"
"প্রিয়াদি তুমি ঠিক আছো? এই লোকটা তোমাকে মারতে এসেছিল না?"
"কি বলছিস কি তুই? ও তো গাড়ির চাবি ডেলিভার করতে এসেছিল, রজত সারপ্রাইজ গিফট করেছে, আজ আমার জন্মদিন।"
আমার মুখটার কেউ দেখলে বুঝতে পারতো কি চলছে আমার মধ্যে। লোকটাকে জিজ্ঞাসা করি, "তাহলে টার্গেট পেয়েছি, কাজ ফিনিশ, ফোনে এসবের বলার মানে কি?"
"ওহহ: ওটা তো আমার ডেইলি ডেলিভারি টার্গেট, আর দিনের শেষে রিপোর্ট করতে হয় ফিনিশের রিপোর্ট। সেটাই বলেছি।"
লজ্জায় মনে হচ্ছিল নাইনথ ফ্লোর থেকে ঝাঁপ মারি। লোকটার হাতেপায়ে ধরে ক্ষমা চেয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। প্রিয়া তো হেসেই খুন। বললাম আমি "তোমার সাথে এতো বছর পরের সাক্ষাৎটা চিরজীবন মনে থেকে যাবে।"
©Ayan
Share:

#স্বাধীনতার সূর্যোদয়#

15 ই আগস্ট স্বাধীনতা দিবস। সকাল ৯টা।ব্যাঙ্গালোর এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করেছে ফ্লাইট টা। কালো কোট পরা লোকটা তাড়াতাড়ি লাগেজ বে ‌এ‌র দিকে এগিয়ে গেল। লাগেজটা তুলেই চলে গেল এক্সিট পয়েন্টের দিকে।
অর্ণব বললো দাঁড়া, ওয়াশ রুম থেকে ঘুরে আসি।অর্ণব আর ইকবাল এসেছে ব্যাঙ্গালোর ব্রাঞ্চ এ একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এ। অর্ণব ফিরতে ওরা ব্যাগ কালেক্ট করতে গেল। ইকবালের লাগেজটা এলেও অর্ণব এরটা আর আসেই না। শেষে ওরা দেখে অর্ণবের ব্যাগের মতই একটা চক্কর খাচ্ছে লাগেজ বে তে। "কিরে অর্ণব, এটা তো তোর নয়, হবে টা কি লাগেজ না পেলে, ওতেই তো সব কন্টেন্ট আর ফাইল টা আছে।" তাড়াতাড়ি ওরা ওই ব্যাগ টা নিয়ে ইন্ডিগোর কাউন্টারে আসে।
"এক্সকিউজ মি! আমার লাগেজটা মনে হয় অন্য ট্রাভেলারের সাথে এক্সচেঞ্জ হয়ে গেছে। সেম কালার, সেম টাইপ।" এয়ারলাইন অ্যাটেনডেন্ট বলে, "একটু ওয়েট করুন, আমরা চেক করছি।" ইকবাল বলে সে মনে হয় একজনকে দেখেছে ওইরকম একটা ব্যাগ নিয়ে বেরোতে। ব্যাগেজ নম্বর দেখে এয়ারলাইন কল করে প্যাসেঞ্জার কে। সে অনেক অজুহাত দেখিয়ে বলে যে ব্যাগ দিতে এলে অনেক লেট হবে। কিন্তু অর্ণবরাও জানায়, ওদের অলরেডি অনেক লেট হয়ে গেছে। আর আধঘন্টার মধ্যে না পেলে ওরা কমপ্লেন করতে বাধ্য হবে। প্যাসেঞ্জারটিকে এয়ার্লাইনস আবার কল করতে সে আস্তে রাজি হয়।
ইতিমধ্যেই কেটে গেছে প্রায় এক ঘণ্টা। ইকবাল অফিসে ফোন করে মিটিংটার টাইম চেঞ্জ করতে বলে।
অবশেষে লোকটা আসে আর ইন্ডিগো ম্যানেজার বলে অর্ণবকে আউট গেটের বাইরে গিয়ে ব্যাগ চেক করতে। ইকবালকে ভিতরেই অপেক্ষা করতে বলে বাইরে যায় অর্ণব। সাইড চেন গুলো চেক করে দেখে এটা ওর ব্যাগ, মুখ তুলে তাকিয়ে দেখে লোকটা এর মধ্যেই ওর ব্যাগটা নিয়েই হাওয়া। ইশারা করে ডাকে ইকবালকে। হঠাৎ করেই দুম!!!!
কয়েক সেকেন্ড পর ইকবালের হুশ ফেরে, চারদিকে ধোঁয়া, কাঁচ ছড়ানো, লোকের হুড়োহুড়ি। পুলিশের ছোটাছুটি। বিস্ফোরণ!!অ্যাক্ট অফ টেরোরিজম!! কিন্তু অর্ণব কই? মুহূর্তে দেখে পুলিশ ঘিরে রয়েছে অর্ণবের দাঁড়ানো জায়গাটায়। চারিদিকে মৃতদেহের সারি। অর্ণব আর নেই। কিরকম একটা হয়ে যায় ইকবাল। সম্বিত ফিরল কিছু সিকিউরিটি অফিসারদের ডাকে।
"মি: ইকবাল, সরি ফর ইউর ফ্রেন্ড, উই নিড টু টক।" ইকবাল বলে ও একটা ফোন করবে, বাড়িতে ঘটনা জানিয়ে অফিসে ইনফর্ম করে ও। ব্যাঙ্গালোর অফিস থেকে কলিগরা আসছে বলে জানায়। এয়ারপোর্ট অথরিটি ওই ট্রাভেলারের মোবাইল নাম্বারে কল করে সুইচ অফ পায়, লাস্ট নোন টাওয়ার লোকেশন দেখায় এয়ারপোর্ট। ইতিমধ্যে নিউজে দেখায় একই ভাবে কলকাতা, দিল্লী, মুম্বাই এয়ারপোর্টেও হয়েছে ব্লাস্ট। সারাদেশে জারি হয়েছে রেড অ্যলার্ট। সিকিউরিটি অফিসার ইকবালের বয়ান রেকর্ড করে। আরো কিছু প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান ও রেকর্ড করে ওরা। ইকবালকে জিজ্ঞাসা করে অর্ণবের সাথে বাইরে যাইনি কেন ও? সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার দিকে। ইকবাল বলে অর্ণবই ওকে অপেক্ষা করতে বলেছিল। ওদের ওখানেই থাকতে বলা হয়। ইকবালের হালকা মনে পড়ে একই কালারের ব্যাগ হাতের লোকটার কথা। ও কথা বলতে চায় অফিসারদের সাথে। ইতিমধ্যেই অ্যান্টি টেরোরিস্ট স্কোয়ার্ড এলাকার দখল নিয়ে নিয়েছে। তাদেরই একজনকে ডেসক্রিপশন দিয়ে স্কেচ আর্টিস্টের হাতে ফুটে ওঠে লোকটার অবয়ব। এরই মাঝে এ টি এস এর কাছে আপডেট আসে, কোনো এক নিউজ চ্যানেলে এই জঙ্গিহানার দায় স্বীকার করেছে এক টেরোরিস্ট সংগঠন। দাবী জানায় মুম্বাই বিস্ফোরণের গ্রেপ্তার হওয়া হাফিজকে ছেড়ে দিতে হবে ৫ ঘণ্টার মধ্যে। নাহলে একই কায়দায় যেকোনো ডেলিভারি বয় এর মাধ্যমে সারা দেশে অসংখ্য লোকেশনে হবে প্রচন্ড বিস্ফোরণ। Swiggy, ফ্লিপকার্ট, আমাজন, ব্লু ডার্ট সংখ্যাটা অসংখ্য।
মিনিস্ট্রিতে জরুরি বৈঠক করেন পি এম ও, প্রতিরক্ষা দফতর ও অন্যান্যরা। ব্লু প্রিন্ট তৈরি হয় পরের অ্যাকশনের।
এয়ারপোর্টের ওই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আশ্চর্য হয়ে যায় এটিএস। সার্ভার হ্যাক করে ওই টাইমের পুরো ফুটেজটাই গায়েব। ইতিমধ্যেই ইকবালের দেওয়া স্কেচ থেকে এটিএস ফেস রিকগনিশন সফটওয়ার দিয়ে আইডেন্টিফাই করতে পারে আংশিক ম্যাচিং আইডেন্টিটি। টিম যায় সেই অ্যাড্রেস এ, দেখে ভুয়ো অ্যাড্রেস। ইকবালের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করেও সন্দেহজনক কিছুই মেলেনা।
পুরো ঘটনার অনুসন্ধানে কলকাতা থেকে উড়িয়ে আনা হয়েছে মি: হিমাদ্রী রায়কে। প্রাক্তন এ টি এস চিফ, যে এই ধরণের অনেক কেসের মূল রক্ষাকর্তা,  বর্তমানে গভর্নমেন্ট অ্যাডভাইজর ইন ক্রিটিক্যাল ইনসিডেন্ট। তিনি স্কেচটা দেখে ডাকতে বলেন ইকবালকে।
"মি: ইকবাল, আমি এখনো সিওর নই আপনার কানেকশন এই ঘটনার সাথে কাকতালীয় না স্বতঃপ্রণোদিত। আপনি যদি লোকটার সম্বন্ধে আর কোনো স্পেসিফিক জিনিসের কথা মনে করতে পারেন, ভাবুন।" "হঠাৎ করেই মনে পড়ে যায় লোকটা বোধহয় কেলভিন ক্লেইন এর চশমা ব্যবহার করছিল, আর ওটা প্রায় নতুন। কারণ সাইডের লোগোটা স্পষ্ট ছিল।" ফ্রেমটার সম্ভাব্য রং ও বলে ওঠে ইকবাল। ধন্যবাদ জানান হিমাদ্রী।
টিম লেগে যায় লাস্ট উইকের সম্ভাব্য ক্রেতার খোঁজ নিতে। পেয়ে যায় লিস্ট প্রায় ১২ জনের, কিছু অনলাইন আর কিছু অফলাইন। হিমাদ্রী বলে অফলাইন স্টোরের সিসিটিভি দেখে আইডেন্টিফাই করতে লোকটাকে, যদিও ওর বিশ্বাস অনলাইনেই কিনেছে লোকটা। আরেকটা টিম লেগে যায় অনলাইনে যে যে অ্যাড্রেসে ডেলিভার হয়েছে তার লিস্ট বের করতে। দেখা যায় ২টি হয়েছে কলকাতার লোকেশনে। দুষ্কৃতী কলকাতা থেকেই ট্রাভেল করেছে ধরলে এরই মধ্যে একটা হবে। সেই দুটির মধ্যে একটিতে মেলে একই চেহারার খোঁজ। ওই অ্যাড্রেসে হানা দিয়ে এটিএস দেখে ভাড়ায় থাকতো লোকটা, বেরিয়ে গেছে আজই। তন্ন তন্ন করে খুঁজেও পাওয়া যায় না কোনো ফিঙ্গার প্রিন্ট। কিন্তু ডাস্টবিন থেকে পাওয়া যায় কিছু কাগজের টুকরো, সেগুলো জোড়া লাগিয়ে পাওয়া যায় ১টা কোড। PEETURIUQYR
সব অ্যানালিস্ট লেগে পড়ে কোডটা উদ্ধার করতে। অন্য লোকেশন থেকেও আলাদা কোনো ক্লু পাওয়া যাচ্ছেনা। অলরেডি ২ ঘণ্টা অতিক্রান্ত। হঠাৎ ডিকোড করে পাওয়া যায় 03357487164 (qwerty কিবোর্ডের অক্ষর অনুযায়ী নাম্বার P-0,E-3), ট্রেস করে দেখা যায় এন্টালির অ্যাড্রেস, পৌঁছে যায় ফোর্স নিঃশব্দে। ধরা পড়ে এখানে থাকা শাকিল। চাপ দিয়ে জানার চেষ্টা করে ওদের পরের কৌশল। কিন্তু কোনো কিছুই জানায় না সে। তল্লাশি করে পাওয়া যায় মুম্বাই এর মূল পান্ডার যোগাযোগ। সেই সময় হিমাদ্রী একটা মোক্ষম চাল চালে।
নিউজে লাইভ করতে বলে "গভর্নমেন্ট হাফিজকে ট্রান্সফার করছে মুম্বাই এয়ারপোর্টের কাছে।" খবর পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই শাকিলের নম্বরে এসএমএস আসে, অ্যাক্টিভেট নেক্সট স্টেপ। টাওয়ার লোকেশন ট্রেস করে পাওয়া যায় ২কিলোমিটার রেডিয়াসের জায়গা। এটিএস টিম জায়গাটা এনক্লোজ করতে থাকে। ধরা পড়ে মূল চক্রান্তকারী।
বিকেল সাড়ে ৫ টায় প্রেস কনফরেন্স করে পিএমও আর এটিএস। "সব ইন কন্ট্রোল। মৃত ৪০, আহত শতাধিক। সাহায্য করেন অনেকে, মূলত মি: ইকবালের সহযোগিতায় মূল সূত্র ধরা পড়ে, যিনি নিজের বন্ধুর মৃত্যুর শোককে ভুলে আমাদের সাহায্য করেন।"
রিটার্ন ফ্লাইট ধরতে এগোয় ইকবাল, করমর্দন করে যায় হিমাদ্রী। দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে অর্ণবকে স্মরণ করে ইকবাল। ©Ayan
Share:

#ঋণমুক্তি#

লাফালাফি করে শার্টলটা পেল সন্তু। আজ সেমিস্টারের শেষ পরীক্ষা। সবদিন যে শার্টলে যায় তা নয়, কিন্তু বাবার থেকে শার্টলের ভাড়াটাই নেয় সে। সেই কাটমানি থেকেই টুকটাক বন্ধুদের সাথে ঘোরার হাতখরচটা উঠে যায়। কলেজে ঢোকার মুখে টুং করে মোবাইলে মেসেজ ঢোকে। স্মার্ট ফোনের নোটিফিকেশনে চোখ বুলিয়ে দেখে “Recharge of Rs. 1999 is successful for your Jio number.”
ওফঃ, আগের লাখ টাকা জেতার লটারির এসএমএস গুলোর মতন এখন আবার রিচার্জেরও আসছে। মোবাইল সুইচ অফ করে পরীক্ষার হলে ঢোকে ও।
পরীক্ষা শেষের পর হল থেকে বেরিয়ে আজ ওদের বন্ধুদের প্ল্যান কোথাও বসে আড্ডা মারা। মোবাইল সুইচ অন করে সন্তু। হুড়মুড় করে ঢুকতে থাকে অজস্র আপডেট। হঠাৎ ও লক্ষ্য করল একটা আননোন নাম্বার থেকে প্রায় ১০-১২টা মিসড্ কল, মায়ের কিছু হল না তো, বেরোনোর সময় বলছিল যে শরীরটা ভাল নেই। এসব কু-চিন্তা করতে করতেই সন্তু ওই নাম্বারটায় কল করে। “কি মশাই আপনি, আক্কেল নেই আপনার, এতগুলি মিসড্ কল পেয়েও রিং করেননা, নাকি ফোকটে টাকা পেয়ে ঝেড়ে দেবার ধান্দা?”
কলেজের হার্টথ্রব সন্তু একটু ভেবাচেকা হয়ে যায়। জড়তা কাটিয়ে তারপর বলে “ও হ্যালো, কি সব বলছেন আপনি, রাঁচি থেকে পালানো কেস নয়তো”,
“আরে ২০০০ টাকার রিচার্জের মেসেজটা পাননি নাকি? ওটাতে বাই মিসটেক রিচার্জ হয়ে গেছে, এখন তাড়াতাড়ি পেটিএম বা কোন ওয়ালেটে ফেরত দিন ব্যস। নাহলে কিন্তু”
সন্তুঃ “নাহলে?” এতক্ষণে বুঝতে পেরেছে কেসটা কি। কলেজের মেয়েদের মধ্যমণি সন্তুকে থ্রেট দেওয়া, তোমাকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাবো আমি।
“নাহলে আবার কি? আমার ভুল হওয়ার জন্য ক্ষমা চাইছি, কিন্তু টাকাটা পাঠান নাহলে মাস চালাতে পারবনা।”
সন্তুঃ “দিতে পারি কিন্তু কেন দেব, মিট করুন, দেখি সত্যিই আপনার নাম্বার না চোরাই মাল” মনে মনে ভাবল, পথে এস বাছা।
“না না, ওসব হবে না”
সন্তুঃ “তাহলে ভুলে যান। ১০ টাকার রিচার্জ করে দিচ্ছি, মাস কাটলে হাতখরচ পেলে আবার করে দেব”। ফোনটা কেটে দেয় ও। তারপর ভাবে সত্যিই হয়ত মেয়েটা হস্টেলে থাকে, এটা তো ওর সাথেও হতে পারত। তারপর আবার ভাবে নিজে ভুল করে লোকজনকে ধমক দিচ্ছে, এদের একটু শিক্ষা হওয়া দরকার।
সাতপাঁচ ভেবে আবার ফোন লাগায় ওই নাম্বারে। বলে, “দেখুন, একসাথে তো দিতে পারবনা, আমার মান্থলি রিচার্জের সময় হাতখরচ থেকে প্রতিমাসে আপনাকে রিচার্জ করে দেব, আপাতত ১০০ করে দিচ্ছি। চলবে?” উত্তর আসে “দৌড়োবে, থ্যাংকস্”। সন্তু কিছু বলার আগেই ফোনটা কেটে দেয় মেয়েটা। সন্তু ভাবে নামটা জানারও সুযোগ দিল না যে। বন্ধুদের সাথে আড্ডা মেরে বাড়ি ফিরে মেয়েটার নামোদ্ধারে লেগে পড়ে। যদিও হোয়াটস্অ্যাপ ফেসবুক ট্রু-কলার ইত্যাদি খুঁজেও নাম্বারটার কোন হদিশ পায় না ও।
এরপর মাঝেমধ্যে অন্য নাম্বার থেকে কল করে বিভিন্ন কায়দায় নাম জানার চেষ্টা করেছে ও। প্রতিবারই অদ্ভূতভাবে মেয়েটি বুঝে গিয়ে রিপ্লাই করেছে “এখনো মাস কাটেনি আর রিচার্জেরও টাইম হয়নি, হলে জানাব”। বলেই ফোনটা কেটে দিয়েছে। নাছোড়বান্দা সন্তুও সরাসরি নাম জিঞ্জাসা করে উওর পেয়েছে, সময় হলে জানাব। গুডমর্নিং গুডনাইট মেসেজ পাঠাতে পাঠাতে একসময়ে হাল ছেড়ে দিয়েছে সন্তু। কিন্তু মনে মনে অনেক কল্পনার জাল বুনেছে।
হঠাৎ ওর মোবাইলে একদিন মেসেজ আসে।
“আজ রিচার্জ করে দেবেন, একমাস শেষ”।
সন্তু ভাবে আশ্চর্য মেয়ে বটে, দরকার ছাড়া রিপ্লাই করে না। ও মনে মনে ঠিক করে দেখা ও করবেই। এরকম করেই কেটে গেছে বেশ কয়েক মাস। এখন মাঝেমধ্যে মেসেজের রিপ্লাই আসে। টুকটাক কথা হয় মেসেজের মাধ্যমে। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবল। বর্ষাও এসে গেছে বঙ্গে। সন্তু গোঁড়া ব্রাজিল সাপোর্টার হলেও জানতে পারে মেয়েটি মেসি ভক্ত তথা আর্জেন্টিনার সাপোর্টার। খেলা প্রসঙ্গে তাও মেসেজের রিপ্লাই পায় ও। পরপর রাউন্ডের বাধা টপকে ব্রাজিল আর্জেন্টিনার আজ মহারণ, ফাইনাল। রাতভর অনেক মেসেজ চালাচালি হয়েছে ওদের।
সকালে এসএমএসের ঘন্টিতে ঘুম ভাঙে সন্তুর।
“আজ শেষ রিচার্জের দিন, ঋণমুক্তির দিন। আমার দল জিতলে দেখা হবে রাসবিহারীর রেস্তোরাঁয়, অ্যাড্রেস পাঠালাম।”
খুশিতে ভরে যায় সন্তুর মনটা। তাড়াতাড়ি উঠে
পড়ে বিছানা ছেড়ে। সন্ধ্যা ৭টা থেকে খেলা শুরু হলেও সন্তু তাড়াতাড়ি চলে আসে রেস্তোরাঁয়। সারা কলকাতা ভরে গেছে বিশ্বকাপ জ্বরে। রেস্তোরাঁয় ঢোকার মুখে রাস্তায় জায়ান্ট স্ক্রিন লাগিয়েছে কোন সংস্থা। ভিতরেও লেগেছে স্ক্রিন, সন্তু ঢুকে এমন টেবল বেছে নেয় যেখান থেকে রেস্তোরাঁর এন্ট্রি আর জায়ান্ট স্ক্রিন দুটোই দেখা যায়।
খেলা শুরু হয়ে গেল কিন্তু এখনো তো সে এল না। মেসেজ করল সন্তু কিন্তু কোনো রিপ্লাই পেল না। ভাবল, মেয়েটা ইয়ার্কি মারল ওর সাথে। দুত্তোর! সব ভুলে খেলা দেখায় মন দিল ও। অর্ডার দিল কিছু স্ন্যাক্সের। ফাইনালী অনেক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর জিতল ব্রাজিল।
আনন্দে প্লাবিত হওয়ার মাঝেই ওয়েটার এসে বিল দিয়ে যায়। সন্তু পেমেন্ট করে অ্যাওয়ার্ড সেরিমনি দেখতে থাকে। ইতিমধ্যে কখন এসে চেঞ্জ দিয়ে গেছে। তুলতে গিয়ে দেখে ১০০ টাকা বেশী। সাথে একটা চিরকুট।
“শুভেচ্ছা জেতার জন্য, প্রতিশ্রুতি মতন আমার দল না জেতায় মোলাকাত হল না, দেখা হবে অন্য কোথাও অন্য কোনোখানে। ঋণমুক্তির চুক্তি অনুযায়ী নিজেকে জানান দিলাম। — বৃষ্টি”
সন্তু ডাক দিল ওয়েটারকে, জানতে চাইল প্রেরকের ঠিকানা। ওয়েটার জানাল, ওই তো আপনার পিছনের টেবিলে ছিল ওই ম্যাডাম। ঘুরে কাউকেই দেখতে পেল না সে। প্রিয় দলের জয় আর নাম পরিচয়ের স্মৃতি নিয়েই বাড়ির পথ ধরল সে। “বৃষ্টির বন্ধুত্ব গ্রহণ করলাম” ছোট্ট উওরে জানিয়ে দিল আগামীর আহ্বান। ©Ayan
Share:

#বন্ধুত্বের অপমৃত্যু#

#বন্ধুত্বের অপমৃত্যু#
অভিদের ছাদে আড্ডা মারে ওরা ৩জন। অভি, ইমন আর তথা, পাড়ায় যাদের পরিচিতি হরিহর আত্মা। ক্লাস ১২ এর পরীক্ষার পর আড্ডাটা আরোই বেড়েছে ইদানিং। কেউ বিরক্ত করার নেই। আর সেটার বেস্ট জায়গা হল অভির পড়ার ঘর কাম অ্যাটাচ ছাদ। সমস্ত অনিয়মের আস্তানা। পরীক্ষার আগে এমনও দিন গেছে যখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে দেদার আড্ডা মেরেছে ওরা আর পাড়ার কেউ বাড়িতে জানিয়েছে ওদের। বাড়িতে ফিরে জুটেছে প্রচন্ড বকুনি। এরপর রেজাল্ট বেরিয়েছে, ওরা পড়তে চলে গেছে আলাদা কলেজে। অভি আর ইমন গেছে হস্টেলে, আর তথা ভর্তি হয়েছে ডে-স্কলার হিসেবে। তবু প্রায় প্রতি উইকএন্ডেই বাড়ি আসে অভি ও ইমন, আর ওদের জমায়েত হয় ছাদে।
এখন মাঝেসাঝে ওদের দলে যোগ দেয় ছোট্ট রিমি, বছর তিনেক বয়েস, অভিদের পাশের বাড়ির কুন্তলদা আর ছন্দা বউদির মেয়ে। অভিদের খুব নেওটা। ওরা ছুটিতে এলেই গুটিগুটি পায়ে হাজির হয় ওদের বাড়িতে। কিছুক্ষণের জন্যে বৌদিও নিশ্চিন্ত হয়। ইদানীং আবার একটা পুরোনো স্মার্ট ফোন আনে, ওর মায়েরই পুরোনো ফোন, সেটা নিয়েই কত যে কান্ডকারখানা করে, অভিরা ভাবে এরা বড় হলে কি যে করবে।
ওদের আরেক কাছের বন্ধু ইশানী। ইশানী আর তথা একই ইংরেজী কোচিনে পড়ত। একবার তথার জন্মদিনের গেট টুগেদারে ইমনদের সাথে আলাপ, আস্তে আস্তে বন্ধুত্ব। কিন্তু এখন এক ঘেঁটে যাওয়া পরিস্থিতি, বিশেষত তথার কাছে। কারন শেষ কয়েক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ।
ইশানীর সাথে যোগাযোগ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই অভি জানায় “আমি ওকে ভালবাসি”। অভির কথায় খুব একটা পাত্তা দিত না ওরা, সুন্দরী দেখলেই ওর এই ফেজ টা শুরু হত। কিন্তু এবার ও বেশ সিরিয়াস ইন দিস রিলেশান। নিজেও অ্যাপ্রোচ করার ট্রাই করে, কিন্তু ইশানী বিশেষ পাত্তা দেয় না। ইমন একটু চাপা স্বভাবের, ইশানীকে মনে মনে ভাল লাগলেও কাউকেই প্রকাশ করেনি সে। ইতিমধ্যে ইশানী একদিন ফোন করে তথা কে। “তোদের ওই বন্ধু ইমন কে খুব ভাল লেগেছে আমার, একটু লাইন টা এগিয়ে দে না”। তথার প্রায় ফোন টা পড়ে যাওয়ার অবস্থা, ইশানীকে বলে, দাঁড়া দেখছি। ও তারপর ফোন লাগায় ইমনকে। “ভাই, ইশানী তোকে লাইক করে”। কিন্তু ইমন বলে, “এটা হয় না, অভি অত্যন্ত সিরিয়াস এ বিষয়টা নিয়ে, আর এই কারনে আমাদের বন্ধুত্বে যেন আঁচড় না লাগে।” আরও বলে, “তোকেই বলছি, আমারও ভাল লাগে ইশানীকে, কিন্তু আজকের পর যেন এ বিষয়ে আলোচনা না হয়, তুই কাউকে এই কথাটা বলবিনা”, দিব্বি করিয়ে নেয় তথার থেকে। এদিকে ইশানী ওদিকে অভি, মাঝে ইমনের দিব্বি। সব মিলিয়ে ঘেঁটে ঘ। তথা ঠিক করে সবাইকে আচমকা মুখোমুখি বসিয়ে এর শেষ করবে, যাতে বন্ধুত্বও না ভাঙে অথচ নতুন সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
সেই জন্যই ওরা জড়ো হয়েছে অভিদের ছাদে। তথাই ডেকেছে ইশানীকেও, কিন্তু আগে থেকে ইমনদের কিছু বলেনি। ইশানীকে যে কোন কারনেই হোক পছন্দ নয় কাকীমার, মানে অভির মায়ের, এদের বিয়ে হলে না একদম আইডিয়াল শাশুড়ী বউমা কম্বিনেশন হবে। আজকেও ও ঢোকার সময় কাকীমার সেম এক্সপ্রেশান দেখে হাসি পায় তথার।
ওদেরকে ছাদে কথা বলতে বলে তথা বলে, “দাঁড়া, একটু চপ মুড়ি নিয়ে আসি”। আড়চোখে দেখে রিমি মনের সুখে মোবাইলে খুটখাট করে যাচ্ছে। ওকে বলে যাবি আমার সাথে বাইরে, মোবাইল থেকে মুখ না তুলেই ঘাড় নাড়িয়ে না বলে রিমি।
৫-১০ মিনিটের মধ্যে চপ নিয়ে ঢুকতে গিয়েই একটা ধপ করে জোরে আওয়াজ শোনে তথা। সঙ্গে ইশানীর চিৎকার। সিঁড়ি দিয়ে ওঠার আগেই দেখে হুড়মুড় করে নামছে ইমন, “অভি পড়ে গেছে”, সব ফেলে দুজনে দৌড় লাগায় পাশের গলিতে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে গলি। “অভি! অভি।” তারস্বরে চিৎকার করতে থাকে ওরা। ইতিমধ্যে অভির বাড়ির লোক, পাড়ার লোকেরা এসেছে, ইমন ফোন করে মোড়ের ক্লাবের অ্যাম্বুলেন্সকে। কেউ একজন নিয়ে আনে পাড়ার ডাক্তারকে। ডাক্তার বাবু জানান, সব শেষ, অভি আর নেই!! ডুঁকরে কেঁদে ওঠে ইশানী, ওর কোলে রিমি। কাকীমা জ্ঞান হারান, ধরাধরি করে ওঁকে ঘরে নিয়ে যায় সবাই। অভিকে জড়িয়ে কাঁদতে থাকে ইমন ও তথা। ডাক্তার বাবু বলেন, অ্যাক্সিডেন্ট কেস, থানায় খবর দিতে। পুলিশ এলে যেন ওনাকে জানানো হয়।
তথা জিঞ্জাসা করে ইমনকে কি করে হল? “অভি যেমন এক পা তুলে পাঁচিলে বসে, সেভাবেই বসেছিল, আমি রিমিকে দেখতে ঘরে ঢুকি, সে সময় আচমকাই পা হড়কে যায় ওর”। এটা প্রথমবার নয় যে অভি এভাবে বসেছে, ওরাও তো বসত, কি যে হল।
পুলিশ এসে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখল। রুটিন ইনভেস্টিকেশানের পর বডি পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠায়। তারপর এক এক করে ওদের বয়ান নেওয়া শুরু করে। সবার শেষে ডাকে অভির মা কে। সবার মতই জিঞ্জাসা করে কাউকে সন্দেহ করেন কিনা। অভির মা ইশানীকে দেখিয়ে বলে “এই যত নষ্টের মূল, এর জন্যই আমার ছেলেটা চলে গেল”, কেঁদে ওঠে ইশানী। তথারা অবাক হয়, অভি ওর মায়ের খুব কাছের ছিল, হয়ত বলেছিল ওর ভাললাগার কথাটা। হয়ত এটাও বলেছিল প্রত্যুত্তর না পাওয়ার কথাও। এটাই হয়তো ওনার ইশানীর প্রতি রাগের কারন। ইন্সপেক্টরকে ইমন বলে এটা কাকীমার রাগের কথা, কিন্তু তিনি নাছোড়বান্দা। ইতিমধ্যে ইশানীর বাবাও এসে পড়ে। ইন্সপেক্টর ইশানীকে জেরা করার জন্য থানায় নিয়ে যেতে চায়। ইমন আর স্থির থাকতে পারেনা। চেঁচিয়ে বলে, “আরে বলছি তো মশাই এটা অ্যাক্সিডেন্ট, ফালতু হ্যারাশ করছেন কেন?” পাল্টা উওর আসে, “এটাকেও লকআপে ঢোকা তো”। তথা ইমনকে শান্ত করার চেষ্টা করে, ইমনকে বলে “লেট দেম ডু দেয়ার জব, ইশানীকে জিঞ্জাসাবাদের জন্যই তো নিয়ে যাচ্ছে, সবাই আছে তো”। সরে আসে ইমন, “তুই কি সন্দেহ করছিস?” তথা জবাব দেয়, “তুই চাপ নিচ্ছিস কেন?” ইমন বলে “তোর গার্লফ্রেন্ডের হলে বুঝতিস।” অবাক হয়ে তথা জবাব দেয়, “বাঃ বাঃ, এত দিব্বি দিলি, সব গেল কই, এবার তো আমার সত্যিই সন্দেহ জাগছে রে।”
ইন্সপেক্টরের সাথে যাবার প্রস্তুতি নেয় ইমন, অভির সাথে সাথে ওদের বন্ধুত্বেরও সলিল সমাধী হয়।
ইতিমধ্যে পাড়ায় শুরু হয় মৃদু জল্পনা কল্পনা, পরের দিনের পেপার এ ছোট্ট কলামে বেরোয় মুখরোচক ত্রিকোণ প্রেমের কাহিনী। তথা ইমনের বাড়িতে এলেও ইমন ওকে এড়িয়ে যায়, ঘরবন্দী করে নিজেকে। খবর পায় যে বিকেলের দিকে বডি আসবে।
তথা জাস্ট বাড়ি ঢুকেছে, এমন সময় ছন্দা বৌদির ফোন আসে। “এখনই থানায় যাও, ইশানী ও ইমনকেও খবর দিয়েছি আমি, তোমার দাদা ফোন করেছিল, কিন্তু কোনো কারণ বলল না, কি হল একটু খবর দিও তোমরা”।
ও গিয়ে দেখে কুন্তলদাও রয়েছে ওখানে। ইমন আর ইশানীও পৌঁছে গেছে। ইন্সপেক্টর মন দিয়ে মোবাইলে কি একটা দেখছে। দেখার পরে বলে, “থ্যাংকস্ মিস্টার মল্লিক ফর অল দ্য হেল্প, আমরা কেসটা ক্লোস করছি অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথ হিসাবে”। তথারা তো পুরো হাঁ, কিছুই বুঝে উঠতে পারেনা। ওদের মুখের এক্সপ্রেশান দেখে কুন্তলদা বলে, “কাল আমার মোবাইলের মেমরি কার্ডটা ড্যামেজ হয়েছিল, বেরোনোর আগে আজ বৌদির পুরনো ফোনটা যেটা রিমির কাছে থাকে, ওটার মেমরি কার্ডটা লাগিয়েছিলাম। পড়ে নাড়াচাড়া করতে গিয়ে হঠাৎ দেখি অভিদের ছাদের ছবি, ভিডিও, খাপছাড়া অপটু হাতের। অভির শেষ কিছু মূহূর্তও ক্যামেরা বন্দী হয়েছে হয়ত রিমির অন্যমনস্কতায়। সাথে সাথে বৌদিকে ফোন করে তোদের ডাকতে বলি আর আমি চলে আসি এখানে।” তথা ও ইমন পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে। ইশানীও পাশে এসে দাঁড়ায়, চোখ ছলছল। অভির শেষ যাত্রার আগে ওদের পুনর্মিলনের সাক্ষী থাকে কুন্তল।
©Ayan
Share:

#পাএী চাই#

পাএী চাই
#পাএী চাই#
“পঃবঃ সঃচাঃ দুর্গাপুরে কর্মরত অনূর্ধ ২৮ পাএী চাই”, সকালে নিউজপেপার দেখে এটাই আজকের প্রথম পছন্দ হল সমরেশের। এরপর চা খেয়ে দিতিকে আর ওর মা কে ডেকে এটা দেখাবেন তিনি। ৯টা নাগাদ শুরু করবেন ফোন করা। প্রাথমিক কথাবার্তায় পছন্দসই হলে পরের রবিবার আসার আহ্বান, নাহলে পরের পছন্দের পাএপক্ষের নাম্বার ডায়াল। দিতি ও এখন অভ্যস্ত রবিবারের এই প্রারম্ভিক ক্রিয়াকলাপ এ। দুর্গাপুর সন্বন্ধে সমরেশের একটু দুর্বলতা আছে, ১২ বছরের চাকরিজীবন ও ৪ বছরের কলেজলাইফ। দিতির জন্মও দুর্গাপুরে, আর সমরেশের দৃঢ় ধারণা দিতির সুন্দর আচার আচরণের পিছনে ওখানকার পারিপার্শ্বিক পরিবেশের যথেষ্ট প্রভাব আছে। দিতিও যথেষ্ট সুন্দরী, মেধাবী, প্রাইভেট স্কুলে চাকুরীরতা। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি বিয়ের পিঁড়িতে বসতে আপত্তি তার। বাবাকে সে যমের মত ভয় পায়, মা কে বলেও বিশেষ পাত্তা পায়নি। তাই সে কিছু-না কিছুর ছলে আগের দুটি সন্বন্ধকে কাটিয়েছে। বাবা দিতিকে যথেষ্ট ভালবাসে তা সে জানে, তাই বাবার অমতে সে কিছুই করেনা। আর সেই কারনে স্কুল কলেজ লাইফে অনেক প্রোপোজাল পেলেও ভুলেও সে প্রেমের পথ মারায়নি।
৯টায় ফোন করল সমরেশ। সমস্ত কথাবার্তার পর আগামী রবিবার পাএপক্ষ আসবে বলে ঠিক হল। সমরেশ ওদের লাঞ্চ করার নিমন্ত্রণ করল। শোনার পর থেকেই দিতির মাথায় প্ল্যান ঘুরতে থাকল, কিভাবে তৃতীয় পক্ষকে নিরস্ত করা যায়।
রবিবার অন্য সপ্তাহের মত বিছানায় আলসেমি   করতে পারেনি দিতি। হাতে হাতে সাহায্য করেছে মাকে। নির্দিষ্ট সময়ে পাএপক্ষ এসেছে। প্রাথমিক কথাবার্তার পর দিতিকে দেখতে চান ওঁরা।
দিতি জলখাবার নিয়ে ঘরে ঢোকে। আড়চোখে দেখে নেয় গিনিপিগ টাকে। মন্দ নয় সে পাএ ভাল, সুদর্শন যাকে বলে, প্রথম দর্শনে তাই মনে হয় দিতির। কথাপ্রসঙ্গে দিতি বলে যে ও চাকরিটা কন্টিনিউ করতে চায়। ওনারা জানান যে বিয়ের পরেও দিতি যদি চাকরি করতে চায় আপওি নেই তাদের। দিতির প্রথম অস্ত্রটা ভোঁতা হতে দেখে সে কিছুটা গুমরে যায়। এই অস্ত্রেই আগের পক্ষ ঘায়েল হয়েছিল। এরপর সকলে লাঞ্চ করা শুরু করে, পবিবেশনের দায়িত্ব নেয় দিতি ও তার মা। খাওয়া পর্ব শেষ হলে সমরেশ বলে, যা না দিতি শৈবালকে ছাদ টা দেখিয়ে নিয়ে আয়।
দিতি বুঝতে পারে, ফার্স্ট স্টেপ পাশ। ও শৈবালকে নিয়ে ওপরে ওঠে। একে অপরের ভালবাসার বিষয়বস্তু আলোচনা করতে করতে কিছুক্ষণ কেটে যায়। হঠাৎই দিতি মোক্ষম অস্ত্রটা ছাড়ে। শৈবালকে জিজ্ঞাসা করে “আপনার কোন অ্যাফেয়ার ছিল?“ শৈবাল একটু থতমত খেয়ে বলে, “হ্যাঁ ছিল, স্কুল লাইফ থেকে, চলেছিল অনেকদিন। কিন্তু মেয়েটি কেরিয়ারের জন্যে ব্যাঙ্গালোর চলে যায়। সেটাটেই ঘোর আপত্তি ছিল আমার। আর এই নিয়েই অশান্তি থেকে সম্পর্কের ইতি।” দিতি বলে তাহলে আমাদের সম্পকেও তো এই ঘটনা ঘটতে পারে। আমিও কেরিয়ারিস্টিক। চাকরির জন্য লোকেশন চেঞ্জ করতে হলেও আমি তাই করব। শৈবাল বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে ও বিভিন্ন যুক্তি দেয়। কিন্তু দিতি তো এই চালেই চেকমেট করতে বদ্ধমূল। ফলে এবিষয়ে আর কিছুক্ষণ আলোচনার পর ওরা নিচে নেমে আসে।
আর কিছু সময় পর ওনারা বিদায় নিলেন। দিতির খারাপ লাগেনি ছেলেটাকে। তাই এভাবে পাশ কাটানোয় কিছুটা গুম মেরে গেছে ও। বাবা দিতিকে বলে তোর মুখ দেখে বুঝতে পেরেছি উওরটা, কারনটা বলতে পারবি? দিতি সত্যি মিথ্যা মিশিয়ে ঘটনাটা বলে বাবাকে। এরপর থেকে দিতি লক্ষ্য করে বাবা পেপারে পাএ-পাএীর বিঞ্জাপন দেখা বন্ধ করে দেয়। মনে মনে বাবার জন্য কষ্ট হলেও হাফঁ ছাড়ে সে।
এরপর কেটে গেছে বছর কয়েক। দিতি এখনো সিঙ্গল। ইতিমধ্যে একটা মোবাইল কোম্পানি চালু করেছে এক বন্ধুত্বের ভয়েস মেলবক্স। এখানে প্রথমে কল করে রেজিষ্টার করতে হবে। তবেই বাকি রেজিষ্টারড্ কলারদের ভয়েস ও সিরিয়াল নং জানা যাবে। যার উদ্দেশ্যে কথা বলা হবে, তার সিরিয়াল নং প্রেস করে নিজের ভয়েস মেসেজ রেকর্ড করতে হবে। যখন সেই সিরিয়াল নং ধারী কল করবে, তখনই সে শুনতে পাবে প্রেরকের বার্তা। ব্যাপারটায় তাৎক্ষনিক যোগাযোগের সুযোগ না থাকলেও বেশ একটা রোমান্টিকতা আছে। অনেকটা অতীতের পএবন্ধুর মত। এক রবিবার দিতির বাবা মা গেছে ওর পিসির বাড়ি। এই সুযোগে দিতি ঠিক করে ল্যান্ডফোন থেকে ট্রাই করবে নতুন বন্ধুত্বের। নিজের মেসেজ রেকর্ড করে ও। তারপর যথারীতি কিছুদিন ভুলে যায়। হঠাৎ একদিন আবার ঘোরায় নাম্বারটা। বেশ কয়েকটা মেসেজ এসেছে ওর। কয়েকজনকে ও আবার ভয়েস মেসেজ রিপ্লাই করে। এমনি করে কিছুদিন চলতে থাকে। ও এখন নেশাগ্রস্ত হয়ে গেছে এই বন্ধুত্বের কন্ঠস্বর আদানপ্রদানে। যদিও মাস খানেক যাবদ শুধু একজনের সাথেই ওর এই দূরভাষে স্বরালাপ চলছে। বাবা-মা ঘুমোনোর পর শুরু হয় ওর এই কার্যকলাপ। এখনো ওরা কেউই নিজের পরিচয় প্রকাশ করেনি। ওদের বন্ধুত্বের এটাই ছিল প্রাথমিক শর্ত। দিতি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে এই ভয়েস ফ্রেন্ডের ওপর। একদিন ও মেসেজে জানায়, এবার দেখা করা যাক। উওরের অপেক্ষায় থাকে কয়েকদিন। তারপর উওর আসে নন্দন চত্তরে দেখা হবে নীল পাঞ্জাবীতে। রবিবার ৫টায়। দিতিও জবাব পাঠায় দেখা হবে কালো রেশমের কাপড়ে, যদিও আঁচল থাকবেনা মাথায়। কল্পনায় গড়ে তোলা অবয়বটাকে অনুভব করতে চায়। আবার ওর অনুসন্ধানী মন ভাবতে থাকে, সত্যিই ও কি পাবে ওর মনের রাজকুমারকে। যদি তাকে দেখতে সুন্দর না হয় তাতেও চলবে, মনটা হতে হবে স্বচ্ছ। যদিও এতদিনের কথাবার্তায় সে বিশ্বাস তার জন্মেছে। গুনগুন করে ওঠে, “তারে আমি চোখে দেখিনি, তার অনেক গল্প শুনেছি/ গল্প শুনে তারে আমি অল্প অল্প ভালবেসেছি“
আজ রবিবার, সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে পড়েছে দিতি। সবকিছু তাড়াতাড়ি মিটিয়ে ও গন্তব্যস্থলে পৌঁছেছে একটু আগেই। ঢোকার মুখে বাঁ দিকে বসেছে সে। বেশ কয়েক নীল পাজ্ঞাবী চলে গেছে সামনে দিয়ে। একটু অন্যমনস্ক হয়ে যায় সে। সত্যিই সে আসবে তো। অযথা আবেগতাড়িত হয়ে সে বোকামি করছে না তো।
হঠাৎ মুখ তুলে দেখে একটা অবয়ব এগিয়ে আসছে ওর দিকে। নীল পাজ্ঞাবীই তো, মুখটাও খুব চেনা লাগছে। ভাল করে দেখার আগেই সে বলল, কেমন আছো?এবার আবার রিজেক্ট করবে না তো? অদৃষ্টের পরিহাস বোধহয় একেই বলে। শৈবাল সামনে দাঁড়ায়ে।
হালকা কথাবার্তায় আড়ষ্ঠতা ভাঙে দিতির। নিঃশর্ত ক্ষমা চায় শৈবালের থেকে ওদের শেষবারের কথোপকথনের জন্য।
আচমকা ভিড়ে ভরা নন্দন চত্তরে শৈবালের হাত ধরে প্রোপোজ করে ও। “আমাকে বিয়ে করবে?” শৈবাল ওকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলে, “চাকরি ছাড়লে চলবেনা কিন্তু।” হাসতে থাকে দুজনে, এবার বাড়িতে বলতে হবে, বাবারই পছন্দের দুর্গাপুরের পাএকে বাবা কখনই রিজেক্ট করতে পারবেনা। হাত ধরাধরি করে এগিয়ে চলে ওরা নতুন জীবনের সন্ধানে।
©Ayan
Share:

#ওয়েল উইশার#

#ওয়েল উইশার#
অনেক দিন পর ফেসবুকে লগইন করল পলাশ। প্রচুর আপডেট, ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট। ঘাটঁতে ঘাঁটতে একটা পোস্ট এ চোখটা আটকে গেল পলাশের। “still searching my well-wisher”, মুখটা চেনা চেনা লাগছে। হুড়মুড় করে ভিড় করে এল বছর ছয়েক আগের স্মৃতি।
সেমিস্টার ৬ - প্রথম পরীক্ষা Thermodynamics, পলাশ সকালে হোস্টেলে ঢুকে ব্যাগ টা রেখেই পরীক্ষার হলে ছুটল। অন্যসময় পরীক্ষা থাকলে বাড়ি থেকে আগের ট্রেনটাই ধরে পলাশ। আজও ওটার জন্যই এলার্ম দিয়েছিল, কিন্তু অনেক রাতে ঘুমিয়ে আর সকালে ঘুম ভাঙেনি। যাইহোক, মনে মনে প্রশ্নোত্তর গুলো ঝালিয়ে নিতে নিতে মেন বিল্ডিং এ এল আর নোটিস বোর্ড থেকে রুম নং দেখে exam hall এ ঢুকল। ড্রয়িং হল এ সিট পরেছে, বড় বড় ডেস্ক, প্রতি রো তে ১ জন। সামনে ও পিছনে দুটি স্যারেদের বসার চেয়ার টেবিল। সিট পরেছে লাস্ট রো তে। পলাশ টুকলি করেনা যদিও, তাও শেষ দিকে সিট পরলে টুকটাক কথা বলা যায় আর এই পেপারটা তো পলাশের favorite।
গার্ড দিতে এলেন এ কে এম স্যার। বসলেন পিছনের দিকের চেয়ারে। যে এলে স্টুডেন্টরা নিজেরা টুকলির যাবতীয় সামগ্রী স্বেচ্ছায় জমা দিয়ে আসে। বোর্ডের পিছনে সামান্য আঁচড় থাকলেও খাতা cancel করতে যার হাত কাঁপে না। তাই ছাএরা নিজে থেকে বোর্ড পর্যন্ত জমা দিয়ে দেয়। কথায় ছিল, এ কে এম এর হাতে ধরা পড়ার চেয়ে ফাঁকা খাতা জমা দিয়ে সাপ্লি খাওয়া ভাল। ধরা পরলে বাকি সেমিস্টারের জন্য marked হয়ে যাওয়া। খাতা দেওয়ার আগেই যাবতীয় গচ্ছিত micro xerox বিদ্যাভান্ডারে পিছনের টেবিল উপচে উঠল।
এবার এলেন কে সি স্যার যিনি একা গার্ড এ এলে ছাএমহলে খুশির হাওয়া বয়ে যেত। এমনই এক বৈচিত্র্যময় আবহাওয়ায় question papers দেওয়া শুরু হল। পলাশ ঠাকুরের নাম নিয়ে question paper খুলল।
একিঃঃ!!! ভুল আছে ভুল আছে বলে চিৎকার করছে পলাশ। সবাই স্তব্ধ হয়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে পলাশের দিকে। এ কে এম স্যার উঠে আসলেন পলাশের ডেস্কে। ওনাকে দেখে পরীক্ষা শুরুর আগেই যেন শেষ হয়ে গেল পলাশ। রাশভারী স্বরে প্রশ্ন করলেন “Any problem??” পলাশ তোতলাতে তোতলাতে বলল, Machine Design এর question paper স্যার। রাশভারী জবাব এল, আজকের এটাই পেপার। পলাশের মাথাটা ভোঁভোঁ করছে, চোখে সরষে ফুল দেখছে, সবাই হাঁ করে দেখছে ওকে। প্রারম্ভিক জড়তা কাটিয়ে পলাশ ভাবার চেষ্টা করে পরীক্ষার রুটিনটা কোথা থেকে নিয়েছিল। কি করে সে এতটা ভুল করল। সেমিস্টার ৬ এ সাপ্লি মানে ক্যাম্পাসিং এ বসতে না পারা, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। আদ্যপ্রান্ত পেপার টা দেখে কিছুই মনে করতে পারছেনা সে। আজ যে কার মুখ দেখে উঠেছিল কে জানে।
এমনি করতে করতে প্রায় এক ঘন্টা কেটে গেছে। পলাশের খাতা প্রায় ফাঁকা। হঠাৎ এ কে এম স্যারের মোবাইল এ ফোন এসেছে। স্যার কথা বলে ফিরে খুব উদ্বিগ্ন হয়ে কে সি স্যার কে, কি একটা বলে বেরিয়ে গেলেন। যিনি ৩ ঘন্টার পরীক্ষায় এক বারও ব্রেক নেন না, তার ক্ষেএে এটা ভীষন বেমানান। সবাই উসখুস করছে জানতে যে কি হয়েছে। হাঁফ ছাড়ল গোটা হল, বিশেষতঃ পলাশ। ওর পাশের টেবিলের ওপর উঁকি মারছে সমস্ত উওর ভান্ডার। হিতাহিত শূন্য হয়ে সে চেষ্টা করল রসদ সংগ্রহ করতে। জীবনে প্রথমবার চক্ষুলজ্জা বিসর্জন দিয়ে সে টুকে গেল আদ্যপ্রান্ত। বন্ধু ও micro xerox এর কল্যাণে। প্রতি মূহূর্তে ভয় করছে পলাশের, এই বুঝি ধরা পড়ে গেল। পরীক্ষা শেষের ঘন্টা যখন বাজল, হাঁফ ছাড়ল সে। খাতা জমা দেওয়ার পর পলাশ কে সি স্যারকে প্রশ্ন না করে পারলনা কেন এ কে এম চলে গেলেন? তিনি মৃদু হেসে বললেন, “না গেলে তো এযাএায় উতরোতে পারতিস না, ওনার ছেলে স্কুলে মারামারি করতে গিয়ে সিঁড়ি দিয়ে পড়ে সিরিয়াস অবস্থা।” লজ্জায় পলাশের মুখ চুন হয়ে গেল। Rank holder না হলেও নিজের যে আত্মমর্যাদা ছিল সেটাও যেন ধুলোয় মিশে গেল।
একমাস কেটে গেছে এরপর। রেজাল্ট বেরিয়েছে সেমিস্টারের। ভদ্রস্থ ভাবে পাশ করে গেছে পলাশ। স্যারের ছেলেও বাড়ি চলে এসেছে সুস্থ হয়ে।
পুনশ্চঃ স্যারের ছেলেকে গোপনে একটি বড় ডেয়ারি মিল্কের সেলিব্রেশান প্যাক দিয়ে এসেছিল পলাশ। ওপরে লেখা ছিল get well soon, ভিতরে ছিল “এযাএায় বাঁচিয়ে দিলে গুরু, বড় হও, পার্টিটা ডিউ রইল।”

সম্বিত ফিরল মায়ের ডাকে। ঝটপট্ ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালো অম্বরিশ মাইতিকে। ডিউটা ক্লিয়ার করতে হবে তাড়াতাড়ি।
©Ayan
Share:

#হঠাৎ সেদিন#

হঠাৎ মুখ ফিরিয়ে দেখি ওকে, চোখাচোখি। আমি ডাকার আগেই দেখি ও-ই হাত নেড়ে এগিয়ে আসছে। “কি খবর রে?” আমি বললাম, সেটা কি আমারই প্রশ্ন হওয়ার কথা নয়? হাত ধরে টান মেরে বলল, হাঁটতে হাঁটতে কথা বলা যাক। বললাম, পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্টতই দৃশ্যমান। তোর সাথে জোর ঝগড়া করব, পুরো হারিয়ে গিয়েছিলিস যেন, social anti-social সবরকমের মিডিয়া থেকে। ও বলল, এই তো ফিরে এলাম। এবার আর হারিয়ে ফেলিসনা। বাব্বা, খুব সাহস হয়েছে দেখছি। বলল, ঠিক সময়ে সাহসী না হওয়ার ফল তো ভুগছি, তাই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছি। পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করতে করতে হাঁটতে থাকলাম আমরা। এরকম কত virtual হেটেঁছি আমরা বন্ধুদের মানস ভ্রমনে যারা ভাবত, আমরা নাকি চুটিয়ে প্রেম করছি, বোটানিকাল যাচ্ছি, ফুচকা খাচ্ছি। আদতে, আমরা ভীষন ভাল বন্ধু ছিলাম, sharing and caring। মনের ভাব মুখে আসেনি কারোরই। তাই সময়ের স্রোতে যোগাযোগ হয়েছে বিচ্ছিন্ন। দেখা হল প্রায় বছর ১৫ পর।  বললাম, চল বাড়িতে, বউ এর সাথে আলাপ করে যাবি। ও বলল, কি খাওয়াবি? বললাম, যা যা খেতে চাইবি তাই, উওর এল, যা-ইচ্ছে-তাই?? তোর তো ৩৬০ ডিগ্রী পরিবর্তন হয়েছে দেখছি, আগের মত ক্যাবলা তো আর নেই। বলল, সময় শিখিয়েছে তাল মিলিয়ে চলতে। ভাবলাম ফোন করে বউ কে বলি, জলখাবারের ব্যবস্থা করতে। তারপর ভাবলাম, থাক surprise টা, প্রাক্তন ও বর্তমানের সাক্ষাৎটা জলছবি হয়ে থাকবে। কথায় কথায় পথ শেষ হয়ে ঘরের সামনে, বেল টা বাজাই!!!!
ওমা, বেলটা যে বেজেই যাচ্ছে, “দুধ দিতে এসেছে, দরজা খোলো”, বউ এর ধাক্কা খেয়ে ধড়ফড় করে উঠে বসি। চোখ কচলাতে কচলাতে বিছানা ছাড়ি।
মনে মনে ভাবি, ভোরের স্বপ্ন নাকি সত্যি হয়!!!!
©Ayan


    
Share:

মোট পৃষ্ঠাদর্শন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.