ছোট গল্পের সন্ধানে || কলমে অয়ন

  • বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

    আনন্দ, উদ্বেগ আর প্রত্যাশার গণ্ডি পেরিয়ে চতুর্থ বারের জন্য অপেক্ষা দায়িত্বের। সেই দায়ভার থেকেই জন্ম এই চতুর্থ সন্তানের। আগের বারের "মৃত্যু রহস্য"র পর ইয়ং ইন্সপেক্টর সৌমিলির ডাক পড়েছে এক জটিল সমস্যার সমাধানে। গ্রাম বাংলার এক সুন্দর প্রকৃতির প্রেক্ষাপটে ঘটে চলেছে অদ্ভুত সব ঘটনা। যাকেই সে সন্দেহের তালিকায় আনছে, হঠাৎ করে সে-ই খুন হয়ে যাচ্ছে। সৌমিলি কি পারবে এই কেস সলভ করতে❓ তারই গল্প বলতে প্রকাশিত হচ্ছে আমার চতুর্থ বই "আই ক্যান্ডি" এবারের কলকাতা বইমেলা ২০২৫ এ ক্লিক করুন

  • বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

    প্রথম বারের আনন্দ আর দ্বিতীয় বারের উদ্বেগের গণ্ডি পেরিয়ে তৃতীয় বারের জন্য অপেক্ষা প্রত্যাশার। সেই থেকেই জন্ম এই তৃতীয় সন্তানের। আগের বারের "পায়ে পায়ে রহস্য" র সাফল্যের পর ইয়ং ইন্সপেক্টর সৌমিলি সমাধান করে ফেলেছে আরও কিছু জটিল কেস। তারই গল্প বলতে প্রকাশিত হচ্ছে আমার তৃতীয় নতুন গল্পের বই "মৃত্যু রহস্য" এবারের কলকাতা বইমেলা ২০২৪ এ। আশা করি এই বই আমার পাঠকদের আনন্দ দেবে বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    আজকের দুনিয়ায় টেকনোলজিও যত উন্নত হয়েছে, পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিত্য নতুন অপরাধের ধরণ। একজন ইয়ং ইন্সপেক্টর কিভাবে কেসের পর কেসের কিনারা করবে, তারই বেশ কিছু ঝলক থাকবে পাঠকদের সামনে। বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    মুঠোফোনের দুনিয়ায় আমার প্রথম বই শব্দের স্বরলিপি এনে দেবে একরাশ মুক্ত বাতাস। বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • প্রতি সপ্তাহে নতুন গল্প

    গল্প পড়ার থেকে শুনতে বেশি ভালবাসেন? বাচ্ছারা রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময় গল্প শুনতে চায়? তাহলে দেরী না করে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন ইউটিউব চ্যানেলটা, আর বেল আইকন টা প্রেস করতে ভুলবেন না। আসছে প্রতি শুক্রবার রাত ৯ টায়। সঙ্গে থাকুন।

  • #ভোকাট্টা#

    চারপাশের আকাশে শুধু রঙ বেরঙের ঘুড়ি। এখনকার মত নানারকমের ক্যামেরা না থাকলেও ছবি গুলো উজ্জ্বল হয়ে থাকত স্মৃতির মণিকোঠায়। মাঝে মাঝে তারস্বরে চিৎকার, “ভো কাট্টা!

  • #অরণ্যে দুই রাত্রি#

    কথায় বলে বাঙালির পায়ের তলায় সর্ষে। কিন্তু এই বিগত দেড় বছরের করোনা পরিস্তিতিতে সবার মত তারাও হয়ে পড়েছিল ঘরবন্দি। তাই এখন একটু পরিস্তিতি ঠিক হতেই সবাই আবার বেড়িয়ে পড়েছে কাছে পিঠে। সেই রকমই একটা উইকএন্ড ডেসটিনেশনের কথা

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    মুঠোফোনের দুনিয়ায় আমার প্রথম বই শব্দের স্বরলিপি এনে দেবে একরাশ মুক্ত বাতাস। বিশদে জানতে ক্লিক করুন


Best Bangla Books to Buy in 2024

#আশীর্বাদ না অভিশাপ#

 

Bangla Choto Golpo Ashirbad na Ovishap

আগে ছিল একমাত্র ব্রেকিং নিউজ!! যা চলত ক্যামেরাম্যান অর্জুনের সাথে নিউজ লাইভ।

আর এখন সবই লাইভ। ছেলেমেয়ে পড়াশোনা করছে লাইভ, লোকজন অফিসের কাজ করছে লাইভ, শাশুড়ি গীতা পাঠ শুনছে লাইভ, বউমা শাড়ি কিনছে লাইভ, আদালতের কেস চলছে লাইভ, এমনকি বিদেশের গণেশ পুজো দেশ থেকে হচ্ছে লাইভ। মানে অনলাইন।

কিছুদিন আগে পর্যন্ত যারা ফেসবুক লাইভের নাম শুনলেও কেমন নাক সিটকোতো, তারাও এখন পুরোদমে ব্যাবসা করছে ফেসবুক লাইভে। আইটির ২৪x৭ জব যেমন দেশের জিডিপি বাড়াচ্ছে, তেমনি এই লাইভ নামক বস্তুটিও প্রি আর পোস্ট কোভিডের জীবন আমুল বদলে দিয়েছে। ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ, আজ তা আর বিরিয়ানি নয়, ডাল ভাত হয়ে উঠেছে।

আমাদের সামাজিক জীবনে টাচস্ক্রিন মোবাইল আর অফুরন্ত ফ্রি এর ইন্টারনেট আসার পর ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বেড়েছিল প্রচুর, যা একটা সময়ে পারস্পরিক দুরত্ব বাড়িয়েছিল। মাঝে মাঝে গুরুজনরা অভিযোগ করতেও ছাড়ত না। কিন্তু সাময়িক পরিস্তিতিতে এই “দো গজ কি দূরই” মোবাইলে কল করলে মিনিট খানেক ধরে শুনতে শুনতে “দোশো মাইল কা” ডিফারেন্সে পরিণত হয়েছে। এরই সুযোগ নিয়ে আবার প্রতিটি সেকটারই চেষ্টা করেছে এই ভার্চুয়াল দুনিয়ায় জায়গা করে নিতে। যাতে অল্টারনেটিভ ব্যবস্থা তৈরি হয়ে যায়।

শরীর খারাপ, কিন্তু ডাক্তারের কাছে না গিয়ে চিকিৎসা হচ্ছে লাইভ। ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট খুলবেন? যেতে হবে না ব্যাঙ্কে, সব হয়ে যাবে লাইভে। এই পরিসেবাও নিয়ে এসেছে কিছু বেসরকারি ব্যাঙ্ক। কে বলতে পারে, এইসব গুলোই হয়ে যাবে কিনা পরবর্তী যুগের নিউ নরমাল।

প্রথম প্রথম কিছু সেকটার স্তব্ধ হয়ে গেলেও কিছুদিন পর তারাই তৈরি করেছে সব দুরন্ত আইডিয়া। সুইগি দিয়ে খাবার আনানোর বদলে বুক লিস্টের সাথে মিলিয়ে শহরের অপর প্রান্ত থেকে ছেলের স্কুলের বই আনানোর কথা আগে শুনলে লোকে নির্ঘাত রাঁচির টিকিট ধরাত, কিন্তু এখন সেটাই বাস্তব। এমনকি, এরকম ঘটনাও হয়েছে, যেখানে আম্ফানের সময় বিদেশে থাকা ছেলে বাবা মায়ের সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে মেডিসিন ডেলিভারি করিয়েছে বাড়ির অ্যাড্রেসে, যাতে ঠিকঠাক ডেলিভারি হলে বুঝতে পারে বাবা মার কোন ক্ষতি হয়নি এই দুর্যোগে, তারা ঠিক আছে। অথবা, যে মাস্টারমশাই তার অঞ্চলের ছাত্রদের অনলাইন পড়াশোনার সুযোগ নেই ভেবে কোন এক মসজিদের আজানের সরঞ্জাম ব্যবহার করে সকাল সন্ধ্যে পড়াবার আয়োজন করেন। এগুলোই বোধহয় মানব সভ্যতার একবিংশের আবিস্কার। বিবাদ যোগ্য হলেও যেখানে একদিকে শোনা যায় কোন এক ল্যাবরেটরিতেই তৈরি হয়েছে এই কুড়ির বিষ, অপর দিকে এই চক্রব্যূহই সামনে খুলে দিয়েছে নতুন দিগন্ত তৈরির সোপান।

সত্যি এ যেন সেই ছোটবেলায় লেখা বিজ্ঞান, আশীর্বাদ না অভিশাপ।  

 

©Ayan

Share:

#ভোকাট্টা#

Bhokatta-new romantic love story in bengali


আকাশে আজ মুখ ভার, নেই কোন রংবেরঙের ঘুড়ি। নেই সেই পাড়ায় পাড়ায় বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন বা অরন্ধনের নিমন্ত্রন। ভাদ্র মাসে রান্না করে আশ্বিনে খাওয়া, দেবী মনসার পুজো করে তারপর সকলকে আতিথ্য করা। মূলত বিশ্বকর্মা পুজোর আগের দিনই হত এই রান্নাবান্না। সেদিন রাতে আর পরের দিন সবাই মিলে একসাথে খাওয়া দাওয়া, এই ছিল অরন্ধনের রীতি। বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে রান্নার চল ছিল না, একেই বলতো বুড়ো রান্না। আগে বাংলা মিডিয়াম স্কুলের হাফ ইয়ারলি পরীক্ষা শুরু হত মোটামুটি এই সময়েই। বেশিরভাগ সময়েই এই দু দিনের বিরতির পরেই থাকতো অঙ্ক পরীক্ষা। তবুও মায়েদের নিষেধ উড়িয়ে ওই দিনটা কাটত বেশ আনন্দেতেই।

কুশলদের জয়েন্ট ফ্যামিলিতে এটা ছিল একটা প্রাক পুজো জমায়েত। কুশলের দাদু ছিল মূল উদ্যোক্তা। কখনো কখনো একদিন আগে থেকেই বাড়িতে চলে আসত পিসিরা পরিবার নিয়ে। দাদুদের বোনেরাও আসত এই সময়ে। কোন বার বজবজ থেকে আবার কোন বার অন্য কোথাও থেকে দাদু নিয়ে আসত মস্ত মস্ত ইলিশ।

দুপুর থেকেই শুরু হয়ে যেত রান্না পুজোর সব আয়োজন। ঠাকুমা থাকতো তদারকিতে। বিশাল বিশাল থালা হাঁড়িতে ভরে উঠত খাবার। প্রায় ত্রিশ চল্লিশ জনের একসাথে খাওয়ার ব্যবস্থা হত দুদিনের। ইলিশের নানা পদের সাথে থাকতো হরেক রকম ভাজা, ছাঁচি কুমড়ো আরও অনেক কিছু। খাওয়া দাওয়া হত কলাপাতায়।

রাতের খাওয়ার আগেই শুরু হয়ে যেত পুজোর জামাকাপড় আদানপ্রদান। সব ভাইবোনদের সাথে শুরু হত জামাকাপড়ের কাউন্টিং, সাথে সাথে হিসাব হত পুজোর কাউন্টডাউন। সেইদিন থেকেই উঠে যেত পড়াশোনার পাঠ, অনিয়মের হাতেখড়ি শুরু হত রাতে টিভির পর্দায় চোখ রেখে, অনেক রাত পর্যন্ত ভাইবোনদের সাথে পুজোর প্ল্যানিং এ।

পরদিন ভোর ভোর উঠে সবাই মিলে কুশলরা ভিড় করত ভীমের দোকানে। এলাকায় মাঞ্জা বিশারদ আর দারুন ঘুড়ি তৈরিতে সিদ্ধহস্ত ছিল তিন বাই তিনের গুমটি ঘরটা। হরেকরকম ঘুড়ি আর মাঞ্জা নিয়ে সবাই বাড়ি ফিরত। নাকেমুখে গুঁজে জলখাবার পর্ব মিটিয়েই কুশল সবাইকে নিয়ে পাড়ি দিত ছাদের ওপরে। এলাকায় ওদের তিনতলা বিশাল ছাদের আশেপাশে তেমন কোন বড় বাড়ির ছাদ না থাকায় বেশ আমেজ করে ঘুড়ি ওড়ানো যেত। ওর কিছু বন্ধুও আসত একটু পরেই। দাদু এসে ওদের দুপুরে খাবার খেয়ে যেতে বলত। কেউ কখনো না করত না।

চারপাশের আকাশে শুধু রঙ বেরঙের ঘুড়ি। এখনকার মত নানারকমের ক্যামেরা না থাকলেও ছবি গুলো উজ্জ্বল হয়ে থাকত স্মৃতির মণিকোঠায়। মাঝে মাঝে তারস্বরে চিৎকার, “ভো কাট্টা!!!!” কখনো ওদের ছাদ থেকে, আবার কখনো আশপাশের বাড়ির ছাদ থেকে। তার মধ্যে ছোট ভাই বোন গুলো সাহায্য করত লাটাই ধরতে, আবার ঢিল বেঁধে গাছে বা পাশের বাড়ির কার্নিশে আটকে যাওয়া ঘুড়ি কুড়িয়ে আনতে। যে যত বেশি নিয়ে আসতে পারবে, তার পিঠ চাপড়ানি ওই যাকে বলে ‘প্যাট অন দা ব্যাক’ জুটত তত বেশি। দাদাদের মধ্যে নিজেকে একটু জাহির করতে পারত সে। পি টি ঊষার মত স্প্রিন্টও নিতে হত যখন একটা আটকে যাওয়া ঘুড়ির পিছনে ধাওয়া করত পাড়ার অনেকজন মিলে, যার হাতে আগে পড়ত সে নিয়েই পগারপার। মাঝে মাঝে কিছু দুষ্টু ছেলে নিজে না পেলেই অন্যের ধরা ঘুড়ি ছিঁড়েও দিত। তা নিয়ে শুরু হত আরেক লঙ্কাকাণ্ড।

এসবের মাঝে কখন যে দুপুর গড়িয়ে যেত। বিশাল দালানে একসাথে পাত পেড়ে মাটিতে বসে খাওয়া দাওয়া। প্রথমে বাড়ির ছোটরা, দাদু আর বাড়ির জামাইরা, তারপর বাবা কাকা পিসিরা, সব শেষে মা আর ঠাকুমারা। আর খাওয়ার পর ছোটরা জল আর নুন দিয়েই করত পরিবেশনের হাতেখড়ি। এত ভরপেট খেয়েই আবার সবাই আবার ছাদে উঠত ঘুড়ি ওড়াতে। মা পিসিদের মজলিশ বসত বাড়ির বৈঠকখানায়। কখনও আবার ছাদে উঠে মেতে উঠত ছোটদের সাথে। বড় বড় মোটা দেওয়ালের বাড়িগুলো তখনো এত তেতে পুড়ে এসি র আবদার করত না। পারস্পরিক উষ্ণতার পরশ থাকতো সবারই অন্তরে।

রাতের বেলা পেট পুজোর পর্ব মিটিয়ে সবাই রওনা দিত নিজের বাড়ির দিকে। বাড়ি ফাঁকা হতেই কুশলের শুরু হত অঙ্ক পরীক্ষার আতঙ্ক।

আজ কুশলের ছেলের অনলাইন ক্লাস চলছিল, ওরও অফিসের কাজ। বিশ্বকর্মা পুজোয় আর ছুটি থাকে না আজকাল। কাল বাজার ফেরতা চোখে পরেছিল ভীমের গুমটির জায়গাটা। এখন একটা মোবাইল রিপেয়ারিং এর দোকান হয়েছে ওখানে। হঠাৎ করেই ফ্ল্যাটের জানলা দিয়ে গোঁৎতা খেয়ে আটকাল একটা ঘুড়ি। গুনগুন করে উঠল কুশল, “পেট কাঠি চাঁদিয়াল…”

©Ayan

Share:

#অজানা সফর#

 

শরৎকাল আগত। চারদিকে সাজো সাজো রব না থাকলেও প্রকৃতি যেন তার নিজের খেয়ালে সেজে উঠছে ধীরে ধীরে। এই দুর্বিষহ রোগ যন্ত্রণার প্রাদুর্ভাবে সরকারি নির্দেশে এবছরেও হয়ত পুজো হবে বিশেষ সতর্কতায়। তবুও এরই মধ্যে মানুষ আনন্দ করবে, ভুলে থাকার চেষ্টা করবে সব দুঃখ কষ্ট।

রথিন বাবু বৈঠকখানায় বসে গল্পের বই পড়ছেন। আগেকার দিনের দোতলা বাড়ি, ফ্ল্যাট বাড়ির ড্রয়িং রুমের থেকে অনেকটাই আলাদা। রিটায়ার্ড হবার পর থেকে সকাল বেলা চায়ের পর সময় কাটতো তিন-চার টি কাগজে মুখ গুঁজে, এখন ছেলের নির্দেশে ও গিন্নির ভয়ে বাড়িতে নিউজপেপার নেওয়া বন্ধ। বিদেশ থেকে ছেলের পাঠানো ট্যাবে কিছুটা নিউজপেপার পড়তে স্বছন্দ হলেও এতে ঠিক মন ভরে না ওনার। তাই পুরনো গল্পের বই গুলোই ধুলো ঝেড়ে বের করে আজকাল পড়ছেন।

কিন্তু সারাদিন আর এই বাড়ির মধ্যেকার জীবন ভালো লাগে না ওঁর। ওই সকাল বেলায় একবার দুধ আনতে বের হন। বাকি বাজার, মাছ, মুদিখানার বেশিরভাগ টাই কাজের মেয়েটাকে দিয়ে অনন্যা মানে রথিন বাবুর স্ত্রী করিয়ে নেন। আলে কালে কিছু আনতে বের হন, ওদিকে ছেলের কড়া নিষেধ যে অযথা উনি যেন বাড়ির বাইরে না যান। পাসবুক আপডেটের অজুহাতে ব্যাঙ্ক যাওয়াটাও এখন বন্ধ। এদিকে রথিনবাবু চিরকালই ভ্রমণ পিপাসু।  চাকরী জীবনেও একদিনের সুযোগ পেলেই গিন্নিকে বা বন্ধুবান্ধবদের পরিবার নিয়ে একসাথে ঘুরতে বেরিয়ে যেতেন। আর এখন তো সব বন্ধুগুলোও ভয়েতে বেরতে চাইছে না, নিদেনপক্ষে কারোর বাড়ি আড্ডা মারার চল টাও আর নেই। যারা একটু সাহস করে যাওয়ার চেষ্টা করছে বা ভাবনার মধ্যে আনছে, তাদের ছেলে মেয়েরা তাদেরকে আটকে দিচ্ছে।

কিন্তু ছেলেমেয়েদের দোষ দিয়ে লাভ কি? শেষ মে মাসে যা খারাপ পরিস্থিতি হয়েছিল, কে আর বাবা মা কে অকালে হারাতে চায় ! তাই দূর থেকে আঁকড়ে ধরে রাখে তাদেরকে। এদিকে বাবা মায়েরাও মাঝে মাঝে যে এই অতিরিক্ত সাবধান বাণীর চোটে রুষ্ট হয়ে পড়েন না তা নয়, কিন্তু পরক্ষনেই আবার দূরে থাকা ছেলেমেয়ে নাতি নাতনিদের কাছে পাবার তাগিদে নিজেদের গুটিয়ে নেন।

রথিনবাবুও সম্প্রতি হারিয়েছেন ওনার এক বাল্যবন্ধুকে। ওনার ছেলে অর্কর বন্ধু সুজয় পুনে থেকে এসেছিল দেড় বছর পর বাবা মায়ের করোনার খবর পেয়ে, তো বাবা মাকে সুস্থ করে নিজেই কবলে পরে এই রোগের। পুনেতে ফেরা আর হয় না তার। এইসব খারাপ খবরে আজ জীবন বড়ই ভারাক্রান্ত। শুধু সকালে ওই দুধ আনতে এসে রতনের দোকানে দুএকজন পরিচিতর সাথে দূর থেকে কুশল বিনিময় করা, এটুকুই বেঁচে থাকার অক্সিজেন। মাস্কের ঘেরাটোপে মুখ দেখার উপায় নেই যে আর।

মনে মনে ভাবেন, যারা এই বিগত দু বছরে জন্ম নিচ্ছে, তারা বোধহয় বড় হয়ে আগের স্বাভাবিক জীবনকে ছাপার অক্ষরে বা ক্যামেরার ছবিতেই দেখবে। তাই গিন্নি মজেছে বেশি বেশি করে পুজো অর্চনায়, আর রথিনবাবু ডুবে গেছেন বই পড়ার জগতে।

এভাবেই জীবন কাটছিল নিজের গতিতে। হঠাৎই একদিন ঘুমোতে যাবার সময় অনন্যাকে বলে নিজের প্ল্যানটা।

“পাগল হয়েছ? এসব কথা ভাবাও পাপ, ছেলেটার কথা একটুও ভাববে না?”

“আরে ছেলের জন্য সব রেডি আছে, ওর কোন চিন্তা নেই। তোমার মত টা পেলেই এক্সিকিউট করব, এভাবে আর বেঁচে থাকার কোন মানে হয় না।”

“তোমাকে ছাড়া তো আমার চলবে না। এই চল্লিশ বছর কোনকিছুতে না বলিনি, এই শেষ বয়সে এসে যা করার একসাথেই করব।”

“ঠিক আছে, কাল মালতির যা পাওনাগণ্ডা আছে দিয়ে দিও।”

মনে মনে ভাবল অনন্যা, মানুষটা চাপা স্বভাবের হলেও এভাবে হুট করে কিছু ডিসাইড করবে ভাবেনি ও। তাহলে কি মনে মনে অনেকদিনই কষ্ট পাচ্ছিল রথিন? আসলে কম কথার লোকদের ডিপ্রেশন কেউ সহজে বুঝতে পারে না। আর মালতিও কিছুদিন ধরে ছুটি চাইছিল, ওকে সেটাই বলে দেবে বরং।

এরপর দিন তিনেক কেটে গেছে। রতনের দোকানে কদিন দেখা পায়নি কেউ রথিনবাবুর। আজ চতুর্থ দিন, রবিবার। শঙ্করদা আজ এসে রতনকে বলল,

“কি ব্যাপার বলত, রথিন তো কোনোদিন এরকম করেনি এর মধ্যে? কিছু ভালো মন্দ হল না তো ওদের? ছেলেও তো এখানে থাকে না। চল একবার যাওয়া যাক ওর বাড়ি।”

গলির শেষ প্রান্তে রথিনবাবুর বাড়ি। ওরা এসে বেল বাজিয়েও কোন সাড়া পেল না। দরজা জানলা সব বন্ধ, কোলাপ্সিবল গেটের তালাও ভিতর থেকে দেওয়া। কিন্তু কোন সাড়া শব্দ নেই। ওদের ডাকাডাকিতে আশপাশের কয়েকটা বাড়ির লোক উঁকি মারলেও কেউই ওদের এর মধ্যে বাইরে বেরতে বা ঢুকতে দেখেনি। লোকজনকে তো মেলামেশা করতেই ভুলিয়ে দিল এই মারন রোগ। ভিতরেই কোন খারাপ কিছু হল না তো?

রতন বলল, “শঙ্কর দা, চলো পুলিশে খবর দি। রথিন জ্যেঠুর ছেলের কোন নাম্বার জানো নাকি?”

“তাই কর। দেখি কারোর থেকে নাম্বারটা জোগাড় করতে পারি নাকি।”

একটু পরেই পুলিশ এসে আশেপাশে সব লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে কাজের লোক কেউ আসে কিনা জানতে চাইল। একজনের মুখ থেকে মালতির খবর পেয়ে তাকেও আনা হল এখানে।

মালতি বলল, “মাসীমা কে কদিন ধরেই ছুটির কথা বলেছিলাম। সেদিন হঠাৎ নিজে থেকেই চারদিনের ছুটি দিল আর পাওনাগণ্ডা দিয়ে দিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম কাজে রাখবে না নাকি গো? বলল, না তুই ছুটিতে যাচ্ছিস, তাই দিয়ে দিলাম, যদি কিছু খরচ লাগে করতে পারবি। এমনিতে তো দুজনে বেশ ভালো মানুষ ছিল…”

“ছিল মানে? কি বলতে চাইছিস? কি জানিস তুই আর? খুন করে চলে যাসনি তো?” শাসিয়ে ওঠে ইন্সপেক্টর। নির্দেশ দেয় দরজা ভাঙ্গার।

“এই এই হচ্ছে টা কি? কে কোথায় আছিস? সব গেল…” তারস্বরে আওয়াজ আসে একটা।

সবাই মুখ ফেরায় গলির মুখের দিকে। রাস্তার দিক থেকে মাস্ক পড়া একজন লাফাতে লাফাতে আসছে, হাতে দুটো ব্যাগ। পিছনে আরো একজনও আছে মাস্ক পরা।

কাছে আসতেই দেখা গেল, একি এ যে রথিনবাবু আর ওনার স্ত্রী!!!

কথা বলার পর জানা গেল, গিন্নির সাথে প্ল্যান করে কাউকে না জানিয়ে দিন তিনেকের জন্য চলে গিয়েছিলেন ঘুরতে, পাছে ছেলে বা রিলেটিভরা কেউ বাঁধা দেয়। অনেকের মত চোরকে জব্দ করার জন্য গেটের চাবিটা ওইরকম ভিতরের দিক দিয়ে দিতেন, যাতে কেউ বুঝতে না পারে যে বাড়িটা ফাঁকা। কিন্তু এভাবে শরতের মিঠে হাওয়া খেয়ে মুক্তির স্বাদ অনুভব করে ফিরে যা কাণ্ডটাই হতে যাচ্ছিল, একটুর জন্য বাড়ির সদর দরজা টা রক্ষা পেল পুলিশের ঘা থেকে।

যাক, ম্লান হলেও সামাজিকতা এখনো পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি দেখে কিছুটা স্বস্তি পেলেন ওনারা।      

©Ayan

রচনার তারিখ: ১২ই সেপ্টেম্বর ২০২১

Share:

#গেট_টুগেদার#

 


অনেকক্ষণ ধরে ফোনটা বাজছে, ঘুম চোখে বিরক্ত হয়ে অভ্রকে ঝাঁকুনি দেয় রিনি।
"
ফোনটা ধরো না, কতক্ষণ ধরে বাজছে"

রবিবারের বাজারে এত সকাল সকাল ফোন করছে কে আবার। ব্যাজার মুখে বিছানা থেকে নামে অভ্র। গিন্নির নিয়মে এখন মোবাইলটা ঘুমানোর সময়ে বিছানায় আর রাখা যায় না। প্রায় ঘুমন্ত অবস্থায় ফোনটা ধরে ও।

"হ্যালো!!"

"ভাই, এখন থেকে আমি মুক্ত কদিন। একটা বসার প্ল্যান করা যাক।" বলে উঠল সাম্য
"
মানে?"

"আরে তন্দ্রা কয়েক দিনের জন্য বাপের বাড়ি গেল। এই ওলাতে তুলেই তোকে কল করছি।" না বোঝার জন্য যে ও খুব বিরক্ত, সেটা গলার স্বরে বুঝতে পারল অভ্র।

"তুই এর জন্য রবিবার সকাল ৭টার সময় কল করে আমার ঘুম হারাম করছিস?" বেশ জোরেই কথাটা বলল ও।

"কে ফোন করেছে, সকাল সকাল চিৎকার করছো? একদিন একটু লেট করে উঠি বলে তোমার সহ্য হচ্ছে না।" রিনি বলে উঠল

ফোন টা কানে নিয়েই ব্যালকনি তে বেরিয়ে গেল অভ্র। সকাল থেকেই ম্যাডামের মুড অফ হয়ে গেলে মুশকিল।

ওদিকে সাম্য বলেই চলেছে, "আরে আগে ভাগে তোদের কে কল করছি যাতে সুযোগ টা মিস না হয়। কজন হয় দেখে সেই মত বাজার দোকান টা সেরে নেব।"

অনেকদিন হল কারোর সাথে দেখা সাক্ষাৎ আর হয়ে ওঠেনা। আগে তাও অফিস ফেরতা কোথাও কোথাও বসত ওরা। একটু আড্ডা মেরে ডিনার করে ফিরত। অভ্র সাধারণত বাড়িতে বলে গেলেও অনেক বন্ধুরা ঢপ মারতেই বেশী অভ্যস্ত ছিল। তাই অনেক সময় ফেসবুকে ছবিও দিতে পারত না। সাম্য হল এই গোত্রের পাবলিক। যদিও বউদের সঙ্গে নিয়েও মাঝে মধ্যে আসর বসত ওদের। কিন্তু এই ওয়ার্ক ফ্রম হোমের বাজারে সবাই আরও জড়িয়ে পড়েছে, পার্সোনাল টাইম আর ওয়ার্ক টাইমের কোনও বিভাজন বিশেষ থাকছে না। সবাই কম বেশী ফ্রাস্টেটেট, ডিপ্রেসড। তাই মনে মনে বেশ খুশি হল অভ্র

"তা কবে বসবি ভেবেছিস?"

"শুভসঃ শীঘ্রম!! তোর কবে হবে বল, কাল বা পরশু।"

"পরশু কর, তাহলে কাল একটু কাজ গুছিয়ে নেব। একটু দেরী করে গেলেও দরকার হলে তোর ওখানেই রাত টা কাটিয়ে ফিরব।"

"বেশ, তাহলে বাকিদের ফোন করে কনফার্ম করছি পরশু। আর হ্যাঁ, রিনি যেন আবার মহিলা মহলে পার্টির খবর দেয় না। তুমিও তো শালা বউ কে কিছু না বলে থাকতে পারো না, পেট পাতলা মাল।"

"আরে তুই চাপ নিস না তো। রিনি অতশত মাইন্ড করে না, ওকে বলতে বারণ করে দেব। একটু বলবে হয়ত আমায়, বেশ তো তোমরা এনজয় করবে। হতে পারে আমার সাথে চলেই গেল তোর বাড়িতে।" বলেই হাসতে থাকে অভ্র

"না, ভুলেও রিনিকে আনবি না। তাহলে কিন্তু গেট থেকেই বাড়ি পাঠিয়ে দেব।"

খানিক পরে রিনি ঘুম থেকে উঠলে দুজনে একসাথে চা নিয়ে বসল ব্যালকনিতে

"কে, ফোন করেছিল গো?"

"সাম্য। ওই পরশু একটু ওর বাড়িতে আড্ডার জন্য বলছিল।"

"সেদিন তন্দ্রা বলছিল মাল টা এত ল্যাদখোর হয়েছে যে পারলে অ্যাকোয়াগার্ড থেকে জলটাও আরবান কোম্পানিকে ডাকিয়ে ভরায়। তা সে হঠাৎ সকালে উঠে আড্ডার আহ্বান করছে, তন্দ্রা নেই মনে হয় বাড়িতে।"

"তুমি মহান, আমার শার্লক হোমস। এই জন্যই তোমাকে সাম্য এত ভয় পায়তুমি আবার তোমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এটা বলোনা। তোমার মত সবার বউ তো সমদার নয়।"
"
থাক থাক, সকাল সকাল আর বার খাওয়াতে হবে না। অন্যদের বউদের মত তুমিও যদি একটু আমায় ভয় পেতে গো।"

"সেটা হলে দুই ভীতু মিলে সংসার করতে কিভাবে?" মিচকে হাসতে থাকে অভ্র
"
কি!! আমি ভীতু, দাঁড়াও তোমার দেখাচ্ছি মজা।"

দুপুরের দিকে আবার ফোন করে সাম্য। "গুরু, অল সেট। রজত আর তমাল ও আসছে। অনেকদিন পর চার জন মিলে মস্তি করা যাবে। চিকেন, চিংড়ি, ভেটকি ফিলে সব এনে রেখেছি। কাল আমার কুক টাকে দিয়ে সব স্টাটার রেডি করিয়ে রাখব। রজত জলের ব্যবস্থা করবে। ওর লাস্ট ট্যুর থেকে আনা বোতলটাও আনছে। তুই চলে আসিস তাড়াতাড়ি।"

"তুই দেড় বছর বাইরে না বেরিয়ে এত এক্সাইটেট দেখিস যেন এর মধ্যেই হার্টফেল করে বসিস না।"

দুজনেই হাসতে থাকে। ওদের চারজনের সেই স্কুল থেকে বন্ধুত্ব, প্রায় ৩০ বছরেও তা আগের মতই অটুট। ওদের মধ্যে তমালই যা বাউন্ডুলে রয়ে গেল। না করল বিয়ে, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে চাকরি না করে ঢুকল বাবার প্রিন্টিং এর ব্যবসায়। এখন আবার কি একটা এনজিও নিয়ে খুব মেতে থাকে। কখনও কখনও মনে হয় ওই বেশ ভাল আছে, নেই কোন পিছুটান, বাঁধনছাড়া জীবন।

দেখতে দেখতেই মঙ্গলবার উপস্থিত। সন্ধ্যা পেরিয়েই সবাই হাজির হল সাম্যর বাড়িতে
অভ্র ঢুকেছে সবার শেষে, ঘড়িতে প্রায় আটটা। আগেই বাকি দুজন এসে অলরেডি এক পেগ চড়িয়ে ফেলেছে। অভ্র ঢুকতেই বেশ একটু লেগ পুল চলল। "ভাই তুই কিন্তু বেশ আছিস। বউ না গার্লফ্রেন্ডের সাথে ঘর করিস বোঝা যায় না। এখনও এত মাখো মাখো প্রেম যে ছেড়ে আসতে আটটা বাজিয়ে দিলি।" রজত বলল

আধ ঘন্টার মধ্যেই এক প্লেট কাবাবও পগারপার। রজত আর সাম্যর শুরু হয়ে গেছে দাম্পত্যের কুটকচালি। কাকে কত ওয়ার্ক ফর হোম করতে হচ্ছে, তাই নিয়েই চলছে দড়ি টানাটানি। একটা ফোন আসতে বারান্দায় বেরিয়ে যায় তমাল। বাকিদের হুঁশ নেই সেদিকে। মিনিট খানেক পর ঘরে ঢুকে তমাল বলে, "আমাকে বেরোতে হবে এক্ষুনি। অভ্র আমায় একটু ড্রপ করে দিতে পারবি বাঘাযতীনে?"

"মানে, হলো টা কি? অল ওকে? এই তো এলি, এর মধ্যেই চলে যাবি?" এক নিঃশ্বাসে বলে ওঠে সাম্য

"এনজিও থেকে কল এসেছিলপাঁচ ছটা বাচ্চাকে উদ্ধার করা হয়েছে ওই অঞ্চল থেকে। এক্ষুনি ওদের ওখান থেকে নিয়ে খাওয়া দাওয়ার আর হোমের ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের টিমের প্রায় সবাই আজ গেছিল সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এক গ্রামে, কিন্তু সেখান থেকে ওরা কেউ ফিরতে পারেনি। আমাকে তাই যেতে হবে এক্ষুনি, দেখি কি করা যায়।"

"এত রাতে খাবার পাবি কোথায়? বলছি আমাদের জন্য যা খাবার আছে এখনও, সেটাই নিয়ে গেলে কেমন হয়?" জিজ্ঞেস করে অভ্র।

"মানে আমরা কিছুই না খেয়ে এখন এসব বিলোতে বেরোবো? আর ইউ ক্রেজি? তুই না পারিস বটে!! একদিন আড্ডা দিতে বসে.." চিবিয়ে চিবিয়ে বলল সাম্য

"আরে আলবাত যাব, আমরা এতক্ষণ যা খেয়েছি সেটা মোর দ্যান এনাফ্। অভ্র তুই গাড়িটা পার্কিং থেকে বের কর। ততক্ষণে আমরা খাবার প্যাক করে নামছি।" লাফিয়ে ওঠে রজত

সাম্য কিছু বলার আগেই রজত বলে, "সহজে একটু সাহায্য করার সুযোগ পেয়েছিস, ছাড়িস না।" চোখ টিপে ওকে নিয়েই রান্নাঘরে ঢুকল ও

এক দায়িত্বপরায়ণ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যুবক, এক উপস্থিত বুদ্ধিসম্পন্ন বন্ধু, এক অদম্য উদ্যমী সহচর আর এক আপাতবিমুখ খাদ্যরসিককে নিয়ে গাড়ি ছুটল দুর্বার গতিতে বাইপাস ধরে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ওরা পৌঁছে গেল ওখানে। কাজে লেগে গেল তমাল ও বাকিরাও। আনুষঙ্গিক কাজকর্ম মেটাতে গেল তমাল আর অভ্র। রজত কাছের দোকান থেকে কিছু পরিষ্কার জামা কাপড়ের ব্যবস্থা করতে গেল।

একটু পরে ফিরে এসে ওরা দেখে, পরম মমতায় বাচ্চাগুলোকে খাইয়ে দিচ্ছে সাম্য। ওদের সাথেই হাসছে, গল্প করছে

টুক করে মোবাইলটা বের করে দৃশ্যটা ক্যামেরাবন্দি করল অভ্র। সাম্যকে মাঝে রেখে সবার সেল্ফি। জুকারবার্গের দেওয়ালে পোস্টালো "টুগেদার ফর আ কজ"। ট্যাগ করল তন্দ্রা সহ সকলকেই।

©Ayan

রচনার তারিখ: ১লা সেপ্টেম্বর ২০২১


Share:

মোট পৃষ্ঠাদর্শন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.