প্রিয়াদি বাবার বন্ধুর মেয়ে, বিয়ে হয়ে গেছে বছর দুয়েক আগে, এদিকেই বোধকরি শ্বশুরবাড়ি ছিল। ওর হাজব্যান্ড ব্যাঙ্গালোরে চাকরি করে, আর ও এখানে স্কুল টিচার।
লোকটা বেশ কিছুটা এগিয়ে গেছে, তাড়াতাড়ি হেঁটে লোকটাকে ফলো করতে থাকি আমি। লোকটা একটা গলির মধ্যে ঢোকে। কোণের সিগারেটের দোকানে কিছু একটা জিজ্ঞাসা করে, সম্ভবত অ্যাড্রেস। তারপর এগিয়ে যায়। হঠাৎ লক্ষ্য করি লোকটার কোমরের কাছটা উঁচু মত লাগছে, রিভলবারের মতন কি?
লোকটা একটা অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যে ঢোকে। সিকিউরিটি এর কাছে এন্ট্রি করে এগিয়ে যায়। চটপট আমিও এগিয়ে যাই সেদিকে।
"কোথায় যাবেন?" "প্রিয়া মিত্র, নাইনথ ফ্লোর" আড়চোখে দেখে নিয়েছিলাম আগের এন্ট্রির ফ্লোর নম্বরটা।
এন্ট্রি করে লিফটের কাছে এসে দেখি সেটা ততক্ষণে ৮ম তলায়। কালবিলম্ব না করে ছুটে উঠতে থাকি সিঁড়ি ধরে। নাইন্থ ফ্লোরে এসে দেখি লোকটা লিফটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে নামার জন্য। মুহূর্তে ঝাঁপিয়ে পড়ি লোকটার ওপর। এলোপাথাড়ি মারতে থাকি, হঠাৎ আক্রমণে লোকটা ঘাবড়ে যায়। চিৎকার করতে করতে আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে থাকে।
হঠাৎ সামনের ফ্ল্যাটের দরজাটা খোলে।
"অর্পণ তুই এখানে? কি হয়েছে?"
"প্রিয়াদি তুমি ঠিক আছো? এই লোকটা তোমাকে মারতে এসেছিল না?"
"কি বলছিস কি তুই? ও তো গাড়ির চাবি ডেলিভার করতে এসেছিল, রজত সারপ্রাইজ গিফট করেছে, আজ আমার জন্মদিন।"
আমার মুখটার কেউ দেখলে বুঝতে পারতো কি চলছে আমার মধ্যে। লোকটাকে জিজ্ঞাসা করি, "তাহলে টার্গেট পেয়েছি, কাজ ফিনিশ, ফোনে এসবের বলার মানে কি?"
"ওহহ: ওটা তো আমার ডেইলি ডেলিভারি টার্গেট, আর দিনের শেষে রিপোর্ট করতে হয় ফিনিশের রিপোর্ট। সেটাই বলেছি।"
লজ্জায় মনে হচ্ছিল নাইনথ ফ্লোর থেকে ঝাঁপ মারি। লোকটার হাতেপায়ে ধরে ক্ষমা চেয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। প্রিয়া তো হেসেই খুন। বললাম আমি "তোমার সাথে এতো বছর পরের সাক্ষাৎটা চিরজীবন মনে থেকে যাবে।"
©Ayan










