ছোট গল্পের সন্ধানে || কলমে অয়ন

  • বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

    আনন্দ, উদ্বেগ আর প্রত্যাশার গণ্ডি পেরিয়ে চতুর্থ বারের জন্য অপেক্ষা দায়িত্বের। সেই দায়ভার থেকেই জন্ম এই চতুর্থ সন্তানের। আগের বারের "মৃত্যু রহস্য"র পর ইয়ং ইন্সপেক্টর সৌমিলির ডাক পড়েছে এক জটিল সমস্যার সমাধানে। গ্রাম বাংলার এক সুন্দর প্রকৃতির প্রেক্ষাপটে ঘটে চলেছে অদ্ভুত সব ঘটনা। যাকেই সে সন্দেহের তালিকায় আনছে, হঠাৎ করে সে-ই খুন হয়ে যাচ্ছে। সৌমিলি কি পারবে এই কেস সলভ করতে❓ তারই গল্প বলতে প্রকাশিত হচ্ছে আমার চতুর্থ বই "আই ক্যান্ডি" এবারের কলকাতা বইমেলা ২০২৫ এ ক্লিক করুন

  • বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

    প্রথম বারের আনন্দ আর দ্বিতীয় বারের উদ্বেগের গণ্ডি পেরিয়ে তৃতীয় বারের জন্য অপেক্ষা প্রত্যাশার। সেই থেকেই জন্ম এই তৃতীয় সন্তানের। আগের বারের "পায়ে পায়ে রহস্য" র সাফল্যের পর ইয়ং ইন্সপেক্টর সৌমিলি সমাধান করে ফেলেছে আরও কিছু জটিল কেস। তারই গল্প বলতে প্রকাশিত হচ্ছে আমার তৃতীয় নতুন গল্পের বই "মৃত্যু রহস্য" এবারের কলকাতা বইমেলা ২০২৪ এ। আশা করি এই বই আমার পাঠকদের আনন্দ দেবে বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    আজকের দুনিয়ায় টেকনোলজিও যত উন্নত হয়েছে, পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিত্য নতুন অপরাধের ধরণ। একজন ইয়ং ইন্সপেক্টর কিভাবে কেসের পর কেসের কিনারা করবে, তারই বেশ কিছু ঝলক থাকবে পাঠকদের সামনে। বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    মুঠোফোনের দুনিয়ায় আমার প্রথম বই শব্দের স্বরলিপি এনে দেবে একরাশ মুক্ত বাতাস। বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • প্রতি সপ্তাহে নতুন গল্প

    গল্প পড়ার থেকে শুনতে বেশি ভালবাসেন? বাচ্ছারা রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময় গল্প শুনতে চায়? তাহলে দেরী না করে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন ইউটিউব চ্যানেলটা, আর বেল আইকন টা প্রেস করতে ভুলবেন না। আসছে প্রতি শুক্রবার রাত ৯ টায়। সঙ্গে থাকুন।

  • #ভোকাট্টা#

    চারপাশের আকাশে শুধু রঙ বেরঙের ঘুড়ি। এখনকার মত নানারকমের ক্যামেরা না থাকলেও ছবি গুলো উজ্জ্বল হয়ে থাকত স্মৃতির মণিকোঠায়। মাঝে মাঝে তারস্বরে চিৎকার, “ভো কাট্টা!

  • #অরণ্যে দুই রাত্রি#

    কথায় বলে বাঙালির পায়ের তলায় সর্ষে। কিন্তু এই বিগত দেড় বছরের করোনা পরিস্তিতিতে সবার মত তারাও হয়ে পড়েছিল ঘরবন্দি। তাই এখন একটু পরিস্তিতি ঠিক হতেই সবাই আবার বেড়িয়ে পড়েছে কাছে পিঠে। সেই রকমই একটা উইকএন্ড ডেসটিনেশনের কথা

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    মুঠোফোনের দুনিয়ায় আমার প্রথম বই শব্দের স্বরলিপি এনে দেবে একরাশ মুক্ত বাতাস। বিশদে জানতে ক্লিক করুন


Best Bangla Books to Buy in 2024

#পাএী চাই#

পাএী চাই
#পাএী চাই#
“পঃবঃ সঃচাঃ দুর্গাপুরে কর্মরত অনূর্ধ ২৮ পাএী চাই”, সকালে নিউজপেপার দেখে এটাই আজকের প্রথম পছন্দ হল সমরেশের। এরপর চা খেয়ে দিতিকে আর ওর মা কে ডেকে এটা দেখাবেন তিনি। ৯টা নাগাদ শুরু করবেন ফোন করা। প্রাথমিক কথাবার্তায় পছন্দসই হলে পরের রবিবার আসার আহ্বান, নাহলে পরের পছন্দের পাএপক্ষের নাম্বার ডায়াল। দিতি ও এখন অভ্যস্ত রবিবারের এই প্রারম্ভিক ক্রিয়াকলাপ এ। দুর্গাপুর সন্বন্ধে সমরেশের একটু দুর্বলতা আছে, ১২ বছরের চাকরিজীবন ও ৪ বছরের কলেজলাইফ। দিতির জন্মও দুর্গাপুরে, আর সমরেশের দৃঢ় ধারণা দিতির সুন্দর আচার আচরণের পিছনে ওখানকার পারিপার্শ্বিক পরিবেশের যথেষ্ট প্রভাব আছে। দিতিও যথেষ্ট সুন্দরী, মেধাবী, প্রাইভেট স্কুলে চাকুরীরতা। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি বিয়ের পিঁড়িতে বসতে আপত্তি তার। বাবাকে সে যমের মত ভয় পায়, মা কে বলেও বিশেষ পাত্তা পায়নি। তাই সে কিছু-না কিছুর ছলে আগের দুটি সন্বন্ধকে কাটিয়েছে। বাবা দিতিকে যথেষ্ট ভালবাসে তা সে জানে, তাই বাবার অমতে সে কিছুই করেনা। আর সেই কারনে স্কুল কলেজ লাইফে অনেক প্রোপোজাল পেলেও ভুলেও সে প্রেমের পথ মারায়নি।
৯টায় ফোন করল সমরেশ। সমস্ত কথাবার্তার পর আগামী রবিবার পাএপক্ষ আসবে বলে ঠিক হল। সমরেশ ওদের লাঞ্চ করার নিমন্ত্রণ করল। শোনার পর থেকেই দিতির মাথায় প্ল্যান ঘুরতে থাকল, কিভাবে তৃতীয় পক্ষকে নিরস্ত করা যায়।
রবিবার অন্য সপ্তাহের মত বিছানায় আলসেমি   করতে পারেনি দিতি। হাতে হাতে সাহায্য করেছে মাকে। নির্দিষ্ট সময়ে পাএপক্ষ এসেছে। প্রাথমিক কথাবার্তার পর দিতিকে দেখতে চান ওঁরা।
দিতি জলখাবার নিয়ে ঘরে ঢোকে। আড়চোখে দেখে নেয় গিনিপিগ টাকে। মন্দ নয় সে পাএ ভাল, সুদর্শন যাকে বলে, প্রথম দর্শনে তাই মনে হয় দিতির। কথাপ্রসঙ্গে দিতি বলে যে ও চাকরিটা কন্টিনিউ করতে চায়। ওনারা জানান যে বিয়ের পরেও দিতি যদি চাকরি করতে চায় আপওি নেই তাদের। দিতির প্রথম অস্ত্রটা ভোঁতা হতে দেখে সে কিছুটা গুমরে যায়। এই অস্ত্রেই আগের পক্ষ ঘায়েল হয়েছিল। এরপর সকলে লাঞ্চ করা শুরু করে, পবিবেশনের দায়িত্ব নেয় দিতি ও তার মা। খাওয়া পর্ব শেষ হলে সমরেশ বলে, যা না দিতি শৈবালকে ছাদ টা দেখিয়ে নিয়ে আয়।
দিতি বুঝতে পারে, ফার্স্ট স্টেপ পাশ। ও শৈবালকে নিয়ে ওপরে ওঠে। একে অপরের ভালবাসার বিষয়বস্তু আলোচনা করতে করতে কিছুক্ষণ কেটে যায়। হঠাৎই দিতি মোক্ষম অস্ত্রটা ছাড়ে। শৈবালকে জিজ্ঞাসা করে “আপনার কোন অ্যাফেয়ার ছিল?“ শৈবাল একটু থতমত খেয়ে বলে, “হ্যাঁ ছিল, স্কুল লাইফ থেকে, চলেছিল অনেকদিন। কিন্তু মেয়েটি কেরিয়ারের জন্যে ব্যাঙ্গালোর চলে যায়। সেটাটেই ঘোর আপত্তি ছিল আমার। আর এই নিয়েই অশান্তি থেকে সম্পর্কের ইতি।” দিতি বলে তাহলে আমাদের সম্পকেও তো এই ঘটনা ঘটতে পারে। আমিও কেরিয়ারিস্টিক। চাকরির জন্য লোকেশন চেঞ্জ করতে হলেও আমি তাই করব। শৈবাল বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে ও বিভিন্ন যুক্তি দেয়। কিন্তু দিতি তো এই চালেই চেকমেট করতে বদ্ধমূল। ফলে এবিষয়ে আর কিছুক্ষণ আলোচনার পর ওরা নিচে নেমে আসে।
আর কিছু সময় পর ওনারা বিদায় নিলেন। দিতির খারাপ লাগেনি ছেলেটাকে। তাই এভাবে পাশ কাটানোয় কিছুটা গুম মেরে গেছে ও। বাবা দিতিকে বলে তোর মুখ দেখে বুঝতে পেরেছি উওরটা, কারনটা বলতে পারবি? দিতি সত্যি মিথ্যা মিশিয়ে ঘটনাটা বলে বাবাকে। এরপর থেকে দিতি লক্ষ্য করে বাবা পেপারে পাএ-পাএীর বিঞ্জাপন দেখা বন্ধ করে দেয়। মনে মনে বাবার জন্য কষ্ট হলেও হাফঁ ছাড়ে সে।
এরপর কেটে গেছে বছর কয়েক। দিতি এখনো সিঙ্গল। ইতিমধ্যে একটা মোবাইল কোম্পানি চালু করেছে এক বন্ধুত্বের ভয়েস মেলবক্স। এখানে প্রথমে কল করে রেজিষ্টার করতে হবে। তবেই বাকি রেজিষ্টারড্ কলারদের ভয়েস ও সিরিয়াল নং জানা যাবে। যার উদ্দেশ্যে কথা বলা হবে, তার সিরিয়াল নং প্রেস করে নিজের ভয়েস মেসেজ রেকর্ড করতে হবে। যখন সেই সিরিয়াল নং ধারী কল করবে, তখনই সে শুনতে পাবে প্রেরকের বার্তা। ব্যাপারটায় তাৎক্ষনিক যোগাযোগের সুযোগ না থাকলেও বেশ একটা রোমান্টিকতা আছে। অনেকটা অতীতের পএবন্ধুর মত। এক রবিবার দিতির বাবা মা গেছে ওর পিসির বাড়ি। এই সুযোগে দিতি ঠিক করে ল্যান্ডফোন থেকে ট্রাই করবে নতুন বন্ধুত্বের। নিজের মেসেজ রেকর্ড করে ও। তারপর যথারীতি কিছুদিন ভুলে যায়। হঠাৎ একদিন আবার ঘোরায় নাম্বারটা। বেশ কয়েকটা মেসেজ এসেছে ওর। কয়েকজনকে ও আবার ভয়েস মেসেজ রিপ্লাই করে। এমনি করে কিছুদিন চলতে থাকে। ও এখন নেশাগ্রস্ত হয়ে গেছে এই বন্ধুত্বের কন্ঠস্বর আদানপ্রদানে। যদিও মাস খানেক যাবদ শুধু একজনের সাথেই ওর এই দূরভাষে স্বরালাপ চলছে। বাবা-মা ঘুমোনোর পর শুরু হয় ওর এই কার্যকলাপ। এখনো ওরা কেউই নিজের পরিচয় প্রকাশ করেনি। ওদের বন্ধুত্বের এটাই ছিল প্রাথমিক শর্ত। দিতি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে এই ভয়েস ফ্রেন্ডের ওপর। একদিন ও মেসেজে জানায়, এবার দেখা করা যাক। উওরের অপেক্ষায় থাকে কয়েকদিন। তারপর উওর আসে নন্দন চত্তরে দেখা হবে নীল পাঞ্জাবীতে। রবিবার ৫টায়। দিতিও জবাব পাঠায় দেখা হবে কালো রেশমের কাপড়ে, যদিও আঁচল থাকবেনা মাথায়। কল্পনায় গড়ে তোলা অবয়বটাকে অনুভব করতে চায়। আবার ওর অনুসন্ধানী মন ভাবতে থাকে, সত্যিই ও কি পাবে ওর মনের রাজকুমারকে। যদি তাকে দেখতে সুন্দর না হয় তাতেও চলবে, মনটা হতে হবে স্বচ্ছ। যদিও এতদিনের কথাবার্তায় সে বিশ্বাস তার জন্মেছে। গুনগুন করে ওঠে, “তারে আমি চোখে দেখিনি, তার অনেক গল্প শুনেছি/ গল্প শুনে তারে আমি অল্প অল্প ভালবেসেছি“
আজ রবিবার, সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে পড়েছে দিতি। সবকিছু তাড়াতাড়ি মিটিয়ে ও গন্তব্যস্থলে পৌঁছেছে একটু আগেই। ঢোকার মুখে বাঁ দিকে বসেছে সে। বেশ কয়েক নীল পাজ্ঞাবী চলে গেছে সামনে দিয়ে। একটু অন্যমনস্ক হয়ে যায় সে। সত্যিই সে আসবে তো। অযথা আবেগতাড়িত হয়ে সে বোকামি করছে না তো।
হঠাৎ মুখ তুলে দেখে একটা অবয়ব এগিয়ে আসছে ওর দিকে। নীল পাজ্ঞাবীই তো, মুখটাও খুব চেনা লাগছে। ভাল করে দেখার আগেই সে বলল, কেমন আছো?এবার আবার রিজেক্ট করবে না তো? অদৃষ্টের পরিহাস বোধহয় একেই বলে। শৈবাল সামনে দাঁড়ায়ে।
হালকা কথাবার্তায় আড়ষ্ঠতা ভাঙে দিতির। নিঃশর্ত ক্ষমা চায় শৈবালের থেকে ওদের শেষবারের কথোপকথনের জন্য।
আচমকা ভিড়ে ভরা নন্দন চত্তরে শৈবালের হাত ধরে প্রোপোজ করে ও। “আমাকে বিয়ে করবে?” শৈবাল ওকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলে, “চাকরি ছাড়লে চলবেনা কিন্তু।” হাসতে থাকে দুজনে, এবার বাড়িতে বলতে হবে, বাবারই পছন্দের দুর্গাপুরের পাএকে বাবা কখনই রিজেক্ট করতে পারবেনা। হাত ধরাধরি করে এগিয়ে চলে ওরা নতুন জীবনের সন্ধানে।
©Ayan
Share:

#ওয়েল উইশার#

#ওয়েল উইশার#
অনেক দিন পর ফেসবুকে লগইন করল পলাশ। প্রচুর আপডেট, ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট। ঘাটঁতে ঘাঁটতে একটা পোস্ট এ চোখটা আটকে গেল পলাশের। “still searching my well-wisher”, মুখটা চেনা চেনা লাগছে। হুড়মুড় করে ভিড় করে এল বছর ছয়েক আগের স্মৃতি।
সেমিস্টার ৬ - প্রথম পরীক্ষা Thermodynamics, পলাশ সকালে হোস্টেলে ঢুকে ব্যাগ টা রেখেই পরীক্ষার হলে ছুটল। অন্যসময় পরীক্ষা থাকলে বাড়ি থেকে আগের ট্রেনটাই ধরে পলাশ। আজও ওটার জন্যই এলার্ম দিয়েছিল, কিন্তু অনেক রাতে ঘুমিয়ে আর সকালে ঘুম ভাঙেনি। যাইহোক, মনে মনে প্রশ্নোত্তর গুলো ঝালিয়ে নিতে নিতে মেন বিল্ডিং এ এল আর নোটিস বোর্ড থেকে রুম নং দেখে exam hall এ ঢুকল। ড্রয়িং হল এ সিট পরেছে, বড় বড় ডেস্ক, প্রতি রো তে ১ জন। সামনে ও পিছনে দুটি স্যারেদের বসার চেয়ার টেবিল। সিট পরেছে লাস্ট রো তে। পলাশ টুকলি করেনা যদিও, তাও শেষ দিকে সিট পরলে টুকটাক কথা বলা যায় আর এই পেপারটা তো পলাশের favorite।
গার্ড দিতে এলেন এ কে এম স্যার। বসলেন পিছনের দিকের চেয়ারে। যে এলে স্টুডেন্টরা নিজেরা টুকলির যাবতীয় সামগ্রী স্বেচ্ছায় জমা দিয়ে আসে। বোর্ডের পিছনে সামান্য আঁচড় থাকলেও খাতা cancel করতে যার হাত কাঁপে না। তাই ছাএরা নিজে থেকে বোর্ড পর্যন্ত জমা দিয়ে দেয়। কথায় ছিল, এ কে এম এর হাতে ধরা পড়ার চেয়ে ফাঁকা খাতা জমা দিয়ে সাপ্লি খাওয়া ভাল। ধরা পরলে বাকি সেমিস্টারের জন্য marked হয়ে যাওয়া। খাতা দেওয়ার আগেই যাবতীয় গচ্ছিত micro xerox বিদ্যাভান্ডারে পিছনের টেবিল উপচে উঠল।
এবার এলেন কে সি স্যার যিনি একা গার্ড এ এলে ছাএমহলে খুশির হাওয়া বয়ে যেত। এমনই এক বৈচিত্র্যময় আবহাওয়ায় question papers দেওয়া শুরু হল। পলাশ ঠাকুরের নাম নিয়ে question paper খুলল।
একিঃঃ!!! ভুল আছে ভুল আছে বলে চিৎকার করছে পলাশ। সবাই স্তব্ধ হয়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে পলাশের দিকে। এ কে এম স্যার উঠে আসলেন পলাশের ডেস্কে। ওনাকে দেখে পরীক্ষা শুরুর আগেই যেন শেষ হয়ে গেল পলাশ। রাশভারী স্বরে প্রশ্ন করলেন “Any problem??” পলাশ তোতলাতে তোতলাতে বলল, Machine Design এর question paper স্যার। রাশভারী জবাব এল, আজকের এটাই পেপার। পলাশের মাথাটা ভোঁভোঁ করছে, চোখে সরষে ফুল দেখছে, সবাই হাঁ করে দেখছে ওকে। প্রারম্ভিক জড়তা কাটিয়ে পলাশ ভাবার চেষ্টা করে পরীক্ষার রুটিনটা কোথা থেকে নিয়েছিল। কি করে সে এতটা ভুল করল। সেমিস্টার ৬ এ সাপ্লি মানে ক্যাম্পাসিং এ বসতে না পারা, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। আদ্যপ্রান্ত পেপার টা দেখে কিছুই মনে করতে পারছেনা সে। আজ যে কার মুখ দেখে উঠেছিল কে জানে।
এমনি করতে করতে প্রায় এক ঘন্টা কেটে গেছে। পলাশের খাতা প্রায় ফাঁকা। হঠাৎ এ কে এম স্যারের মোবাইল এ ফোন এসেছে। স্যার কথা বলে ফিরে খুব উদ্বিগ্ন হয়ে কে সি স্যার কে, কি একটা বলে বেরিয়ে গেলেন। যিনি ৩ ঘন্টার পরীক্ষায় এক বারও ব্রেক নেন না, তার ক্ষেএে এটা ভীষন বেমানান। সবাই উসখুস করছে জানতে যে কি হয়েছে। হাঁফ ছাড়ল গোটা হল, বিশেষতঃ পলাশ। ওর পাশের টেবিলের ওপর উঁকি মারছে সমস্ত উওর ভান্ডার। হিতাহিত শূন্য হয়ে সে চেষ্টা করল রসদ সংগ্রহ করতে। জীবনে প্রথমবার চক্ষুলজ্জা বিসর্জন দিয়ে সে টুকে গেল আদ্যপ্রান্ত। বন্ধু ও micro xerox এর কল্যাণে। প্রতি মূহূর্তে ভয় করছে পলাশের, এই বুঝি ধরা পড়ে গেল। পরীক্ষা শেষের ঘন্টা যখন বাজল, হাঁফ ছাড়ল সে। খাতা জমা দেওয়ার পর পলাশ কে সি স্যারকে প্রশ্ন না করে পারলনা কেন এ কে এম চলে গেলেন? তিনি মৃদু হেসে বললেন, “না গেলে তো এযাএায় উতরোতে পারতিস না, ওনার ছেলে স্কুলে মারামারি করতে গিয়ে সিঁড়ি দিয়ে পড়ে সিরিয়াস অবস্থা।” লজ্জায় পলাশের মুখ চুন হয়ে গেল। Rank holder না হলেও নিজের যে আত্মমর্যাদা ছিল সেটাও যেন ধুলোয় মিশে গেল।
একমাস কেটে গেছে এরপর। রেজাল্ট বেরিয়েছে সেমিস্টারের। ভদ্রস্থ ভাবে পাশ করে গেছে পলাশ। স্যারের ছেলেও বাড়ি চলে এসেছে সুস্থ হয়ে।
পুনশ্চঃ স্যারের ছেলেকে গোপনে একটি বড় ডেয়ারি মিল্কের সেলিব্রেশান প্যাক দিয়ে এসেছিল পলাশ। ওপরে লেখা ছিল get well soon, ভিতরে ছিল “এযাএায় বাঁচিয়ে দিলে গুরু, বড় হও, পার্টিটা ডিউ রইল।”

সম্বিত ফিরল মায়ের ডাকে। ঝটপট্ ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালো অম্বরিশ মাইতিকে। ডিউটা ক্লিয়ার করতে হবে তাড়াতাড়ি।
©Ayan
Share:

#হঠাৎ সেদিন#

হঠাৎ মুখ ফিরিয়ে দেখি ওকে, চোখাচোখি। আমি ডাকার আগেই দেখি ও-ই হাত নেড়ে এগিয়ে আসছে। “কি খবর রে?” আমি বললাম, সেটা কি আমারই প্রশ্ন হওয়ার কথা নয়? হাত ধরে টান মেরে বলল, হাঁটতে হাঁটতে কথা বলা যাক। বললাম, পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্টতই দৃশ্যমান। তোর সাথে জোর ঝগড়া করব, পুরো হারিয়ে গিয়েছিলিস যেন, social anti-social সবরকমের মিডিয়া থেকে। ও বলল, এই তো ফিরে এলাম। এবার আর হারিয়ে ফেলিসনা। বাব্বা, খুব সাহস হয়েছে দেখছি। বলল, ঠিক সময়ে সাহসী না হওয়ার ফল তো ভুগছি, তাই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছি। পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করতে করতে হাঁটতে থাকলাম আমরা। এরকম কত virtual হেটেঁছি আমরা বন্ধুদের মানস ভ্রমনে যারা ভাবত, আমরা নাকি চুটিয়ে প্রেম করছি, বোটানিকাল যাচ্ছি, ফুচকা খাচ্ছি। আদতে, আমরা ভীষন ভাল বন্ধু ছিলাম, sharing and caring। মনের ভাব মুখে আসেনি কারোরই। তাই সময়ের স্রোতে যোগাযোগ হয়েছে বিচ্ছিন্ন। দেখা হল প্রায় বছর ১৫ পর।  বললাম, চল বাড়িতে, বউ এর সাথে আলাপ করে যাবি। ও বলল, কি খাওয়াবি? বললাম, যা যা খেতে চাইবি তাই, উওর এল, যা-ইচ্ছে-তাই?? তোর তো ৩৬০ ডিগ্রী পরিবর্তন হয়েছে দেখছি, আগের মত ক্যাবলা তো আর নেই। বলল, সময় শিখিয়েছে তাল মিলিয়ে চলতে। ভাবলাম ফোন করে বউ কে বলি, জলখাবারের ব্যবস্থা করতে। তারপর ভাবলাম, থাক surprise টা, প্রাক্তন ও বর্তমানের সাক্ষাৎটা জলছবি হয়ে থাকবে। কথায় কথায় পথ শেষ হয়ে ঘরের সামনে, বেল টা বাজাই!!!!
ওমা, বেলটা যে বেজেই যাচ্ছে, “দুধ দিতে এসেছে, দরজা খোলো”, বউ এর ধাক্কা খেয়ে ধড়ফড় করে উঠে বসি। চোখ কচলাতে কচলাতে বিছানা ছাড়ি।
মনে মনে ভাবি, ভোরের স্বপ্ন নাকি সত্যি হয়!!!!
©Ayan


    
Share:

মোট পৃষ্ঠাদর্শন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.