ছোট গল্পের সন্ধানে || কলমে অয়ন

  • বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

    আনন্দ, উদ্বেগ আর প্রত্যাশার গণ্ডি পেরিয়ে চতুর্থ বারের জন্য অপেক্ষা দায়িত্বের। সেই দায়ভার থেকেই জন্ম এই চতুর্থ সন্তানের। আগের বারের "মৃত্যু রহস্য"র পর ইয়ং ইন্সপেক্টর সৌমিলির ডাক পড়েছে এক জটিল সমস্যার সমাধানে। গ্রাম বাংলার এক সুন্দর প্রকৃতির প্রেক্ষাপটে ঘটে চলেছে অদ্ভুত সব ঘটনা। যাকেই সে সন্দেহের তালিকায় আনছে, হঠাৎ করে সে-ই খুন হয়ে যাচ্ছে। সৌমিলি কি পারবে এই কেস সলভ করতে❓ তারই গল্প বলতে প্রকাশিত হচ্ছে আমার চতুর্থ বই "আই ক্যান্ডি" এবারের কলকাতা বইমেলা ২০২৫ এ ক্লিক করুন

  • বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

    প্রথম বারের আনন্দ আর দ্বিতীয় বারের উদ্বেগের গণ্ডি পেরিয়ে তৃতীয় বারের জন্য অপেক্ষা প্রত্যাশার। সেই থেকেই জন্ম এই তৃতীয় সন্তানের। আগের বারের "পায়ে পায়ে রহস্য" র সাফল্যের পর ইয়ং ইন্সপেক্টর সৌমিলি সমাধান করে ফেলেছে আরও কিছু জটিল কেস। তারই গল্প বলতে প্রকাশিত হচ্ছে আমার তৃতীয় নতুন গল্পের বই "মৃত্যু রহস্য" এবারের কলকাতা বইমেলা ২০২৪ এ। আশা করি এই বই আমার পাঠকদের আনন্দ দেবে বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    আজকের দুনিয়ায় টেকনোলজিও যত উন্নত হয়েছে, পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিত্য নতুন অপরাধের ধরণ। একজন ইয়ং ইন্সপেক্টর কিভাবে কেসের পর কেসের কিনারা করবে, তারই বেশ কিছু ঝলক থাকবে পাঠকদের সামনে। বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    মুঠোফোনের দুনিয়ায় আমার প্রথম বই শব্দের স্বরলিপি এনে দেবে একরাশ মুক্ত বাতাস। বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • প্রতি সপ্তাহে নতুন গল্প

    গল্প পড়ার থেকে শুনতে বেশি ভালবাসেন? বাচ্ছারা রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময় গল্প শুনতে চায়? তাহলে দেরী না করে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন ইউটিউব চ্যানেলটা, আর বেল আইকন টা প্রেস করতে ভুলবেন না। আসছে প্রতি শুক্রবার রাত ৯ টায়। সঙ্গে থাকুন।

  • #ভোকাট্টা#

    চারপাশের আকাশে শুধু রঙ বেরঙের ঘুড়ি। এখনকার মত নানারকমের ক্যামেরা না থাকলেও ছবি গুলো উজ্জ্বল হয়ে থাকত স্মৃতির মণিকোঠায়। মাঝে মাঝে তারস্বরে চিৎকার, “ভো কাট্টা!

  • #অরণ্যে দুই রাত্রি#

    কথায় বলে বাঙালির পায়ের তলায় সর্ষে। কিন্তু এই বিগত দেড় বছরের করোনা পরিস্তিতিতে সবার মত তারাও হয়ে পড়েছিল ঘরবন্দি। তাই এখন একটু পরিস্তিতি ঠিক হতেই সবাই আবার বেড়িয়ে পড়েছে কাছে পিঠে। সেই রকমই একটা উইকএন্ড ডেসটিনেশনের কথা

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    মুঠোফোনের দুনিয়ায় আমার প্রথম বই শব্দের স্বরলিপি এনে দেবে একরাশ মুক্ত বাতাস। বিশদে জানতে ক্লিক করুন


Best Bangla Books to Buy in 2024

কলিগ কলিং

 

colleague-calling

"কি করো সংসারে আমার জন্যে? একটা রবিবার ও ছুটি পাই না, তারপর আবার তোমার মা তোমার বোনের সাথে তুলনা করে বলে, দেখো আমার মেয়েটা সারাদিন চাকরি করে আসে, ফিরে আবার রাতের খাবার গরম করে।" রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে অপর্ণা শোনাতে থাকে সুমিত কে।
"ঠিক আছে, কাল আমি সব করে দেবো, তোমায় কিছু করতে হবে না।" তাৎক্ষণিক ঝগড়া থামানোর মোক্ষম দাওয়াই।
কারণ অপর্ণা নিজেই তারপর বলবে, "থাক, অনেক হয়েছে। একটা কাজ করে আমার সারাদিনের কাজ বাড়িয়ে দেবে।"
কিন্তু সেদিন হঠাৎ তিনশো ষাট ডিগ্রি ঘুরে বলে, "ঠিক আছে, তাই ক'রো তাহলে।"
সুমিত যেন চোখে সর্ষে ফুলের ক্ষেত দেখতে পেল। ঘুম উড়ে গেল চোখ থেকে। ভাবতে থাকে কিভাবে ড্রিবল করবে এই পরিস্থিতি কে।
অনেক রাত পর্যন্ত ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় চলতে থাকে নানান ছকের পরিকল্পনা। শেষ পর্যন্ত সব ব্যবস্থা করে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ে ও।
সকালে ঘুম চক্ষু খুলেই প্রাতঃকর্ম করতে বাথরুমে ঢুকল সুমিত।
এই সময়ে ফোন এলো রাজা দার থেকে, অফিসের সিনিয়র।
অপর্ণা ফোন টা নিয়ে এসে বলল, কথা বলো, ফোনটা স্পিকারে দিচ্ছি।
পশ্চাদের বেগ আটকে চিৎকার করে বারণ করে সে। কিন্তু তার আগেই স্পিকারে অন হয়ে আসছে রাজা দার স্বর।
"শোন, এখন অপর্ণা আছে তো সামনে, তাহলে শুরু করি তোর শেখানো কথা গুলো। ফোন টা স্পিকারে দে তাড়াতাড়ি।
একটু পজ নিয়ে, "তোকে এখুনি আসতে হবে অফিসে। ক্লায়েন্ট আজই দেখতে চায় প্রেজেন্টেশন। তুই একবার ল্যাপটপ টা খোল তো।"
আবার একটু পজ দিয়ে "ঠিক আছে তো, চলে আয় অলি তে, অনেকদিন পর একটু জমিয়ে বসা যাবে।"
সুমিত বাথরুমে প্রায় অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। আর বাইরে অপর্ণা শুধু ফোন টা কাটার আগে বলল, "ধন্যবাদ রাজা দা।"
আজ প্রমিসটা সত্যিই রাখতে হবে দেখছে সুমিত।
©️কলমে_অয়ন

রচনার তারিখ: ১১ই ফেব্রুয়ারী ২০২৪

Share:

চিট ডে

 

cheat-day

মেয়ে স্কুল থেকে এসে সবে হাত মুখ ধুয়ে আসতে গেছে, এর ফাঁকে মেয়ের ব্যাগ থেকে চকোলেট টা বের করে মুখে চালান করে দিল রুমি।
বেশ আয়েশ করে তারিয়ে তারিয়ে চকোলেট টা খাচ্ছে, মেয়ে বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে বলল, "তুমি আবার আমার চকোলেট নিয়ে খাচ্ছ? এমন করলে আর ডায়েট করবে কিভাবে?"
আরে ওসব তো সারা বছরই আছে। আজ একটু ব্রেক নিয়েছি। ওই তোরা যাকে বলিস চিট ডে।" মুখে বললেও ভালই জানে যে এই ব্রেক ফেল হতে হতে বছর শেষ হয়ে যায়। গঙ্গা যমুনায় জলের প্রস্থ ওর নিজের প্রস্থের সাথে ব্যস্তানুপাতিকে কমতে থাকে। কিন্তু তা ব'লে এসবের লোভ কি ছাড়া যায়! রুমির মায়ের কম বয়স থেকেই ডায়বেটিস ছিল আর তাতেই বেচারা সারা জীবন না খেয়েই মরে গেল। আজ নয় কাল ওরও ডায়বেটিস ধরা পড়লে তো বাধ্য হয়েই সব ছাড়তে হবে। স্বামীকে হারানোর পর মেয়ের যে একমাত্র অবলম্বন সে নিজেই।
চকোলেট টা শেষ করে র‌্যাপার টা ফেলতে যাবে, দেখে পিছনে লেখা রয়েছে-
"হ্যাপি চকোলেট ডে টু মাই ভ্যালেন্টাইন"
চোখ তুলে দেখে দরজার আড়াল থেকে মুচকি হাসছে মেয়ে।
দৌড়ে গিয়ে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে রুমি।
©️কলমে_অয়ন

রচনার তারিখ: ৯ই ফেব্রুয়ারী ২০২৪


Share:

বিলুপ্ত

 

bilupto

টেন্ডার প্রোপোজালটা লিখতে লিখতেই কলটা রিসিভ করল শান্তনু।
প্রথমে কিছুক্ষণ হু হু করে কাটিয়ে হঠাৎ সম্বিত ফিরে পেল জয়িতার শব্দবাণে।
"এতক্ষণ ধরে কিছুই শুনছ না তাহলে, কি বললাম বলো দেখি।"
ল্যাপটপ স্ক্রিনে ডিজিট গুলো যেন লাফালাফি করছে আর তার মধ্যে এই বাড়ির জ্বালা। এই জন্যই সেদিন রানা দা বলছিল, "বুঝলে মুকুজ্জে, এই সব কারণেই আমি ওয়ার্ক ফ্রম হোম করি না, তার থেকে বনহুগলি থেকে যাতায়াত করতেও আমি দু পায়ে খাড়া।"
প্রাথমিক জড়তা কাটিয়ে বলি, "বলুন জাহানারা, আপনার কি সেবায় আসতে পারি?"
"যা যা আনতে বললাম, সেগুলো তো কিছুই কানে যায়নি তোর। আপাতত........
"লোন বা ক্রেডিট কার্ড নেবেন"
গলা টা কিরকম পাল্টে গেল মনে হচ্ছে, বুঝলো নিশ্চয় একটা ক্রস কানেকশন হয়েছে। মুহূর্তে দুষ্টু বুদ্ধি ভর করল শান্তনুর মাথায়।
"তোমার ভয়েস টা কি সুন্দর" কথা টা বলল জয়িতা আবার কানেক্ট হয়েছে বুঝেই।
উল্টো দিকে সেই বিভ্রান্ত মহিলা আর কিছু বলার আগেই জয়িতা বলে উঠল "দাঁড়াও দেখাচ্ছি মজা"
"একি, আমি তো তোমাকেই বলছি। তোমাকে কেমন অচেনা লাগছে কেন?"
"স্যার, প্রোপোজাল টা শুনবেন?......." আবার সেই কাতর চাহিদা
"এই বয়সে প্রোপোজ!" দিল কা লাড্ডু সবে ফুটে উঠেছে
"টেক্সট করে রাখছি। মনে করে আনিস।" বলেই ফোনটা কেটে দিল জয়িতা। উধাও সেই মহিলার কন্ঠস্বরও।
প্রোপোজ এর প্রোপোজাল কর্পূরের মত বিলুপ্ত হয়ে গেল এবারের মত।
তবে কাল কিস নে দেখা। 😜
©️কলমে_অয়ন

রচনার তারিখ: ৮ই ফেব্রুয়ারী ২০২৪


Share:

রোজ রোজ কা কাহানী

 roj-roj-ka-kahani



"রোজ রোজ আঙ্খো তালে" শোনাও তো ভায়া
"আর ইউ লুকিং ফর রোজ? হেয়ার আর ফিউ সাইট ফ্রম হুইচ ইউ ক্যান অর্ডার" - মহিলা কন্ঠে উত্তর দিল গুগল ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্স
সারাদিন অফিসের পর টিভি তে একটু গান শুনতে গিয়ে একি বিপত্তি! ভাবছি এদেরও প্রোগ্রামিং বিগড়েছে নাকি?
আড়চোখে তাকিয়ে দেখি, বেটার হাফও শুনে ফেলেছেন এই বাণী।
পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময়ে বলল, "গুগলও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে একজন কতটা আন-রোমান্টিক।"
অন্ধকার হাতড়ে আজকের দিনটার কথা হঠাৎ মনে পড়তেই বললাম, "দেখলে না কত সুন্দর একটা রোমান্টিক গান শোনাব বলে অর্ডার করলাম গুগল কে, আর ও কিনা নিজের মূর্খামি ঢাকতে....."
ততক্ষণে মোবাইলে খুঁজে নিয়ে চালিয়ে দিয়েছি "রোজ রোজ আঙ্খো".....
এখনো দু ঘন্টা উনত্রিশ মিনিট বাকি আছে দিন টা শেষ হতে, সেরে ফেলুন 🌹
©️কলমে_অয়ন

রচনার তারিখ: ৭ই ফেব্রুয়ারী ২০২৪

Share:

লাল ডায়েরি

lal-diary

সেদিন প্রণাম সারতে গিয়েছিলাম এক আত্মীয়দের বাড়ি। হঠাৎ আসতে চাওয়ার আব্দার করাতে তাড়াতাড়ি গুছিয়ে পরিষ্কার করে ফেলেছিল দু কামরার ফ্ল্যাট টা। চা খেতে খেতে আবিষ্কার করলাম একটা দুর্দান্ত জিনিস, যা ইদানিং কালের বহুল চর্চিত সেই তথাকথিত লাল ডায়েরিকেও হার মানাবে।
জিনিসটা কি? কি বা ছিল তাতে যা এতটাই আকৃষ্ট করেছিল আমাকে?
জিজ্ঞাসা করুন কি ছিল না তাতে!
লক্ষ্মীর মাইনে থেকে তেলের প্যাকেট কাটার ডেট। লেবুতলা বারোয়ারি কে দেওয়া মনসা পুজোর একত্রিশ টাকার চাঁদা থেকে সাধনার ননদের মেয়েকে বিয়েতে দেওয়া শাড়ির দাম। এসবই কারেন্ট মান্থের খতিয়ান। মনের অনুসন্ধানী কৌতুহল কে না দমিয়ে উল্টে ফেললাম আগের পাতা।
ওপরে থাকা নিষ্পাপ পাখির চোখ টা বড়ই করুণ। সে জানেনা কেন তার ডানা থেকে ঠোঁটের ডগা পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে অগণিত শব্দ আর সংখ্যার আঁকিবুঁকি।
সেই বোনাস দেওয়ার সংখ্যা থেকে ছেলের পরীক্ষার ডেট, কিছুই বাকি নেই সেখানে।
পাতার পর পাতা উল্টে পাওয়া যাচ্ছে গুপ্তধনের সন্ধান। বৈশাখে কেনা সাড়ে সাত গ্রাম সোনার হিসাব থেকে এফডি ম্যাচিওরিটির ডেট, সব রয়েছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে।
মাঝে মধ্যে এত অ্যারো (মানে ওই তীরের মত দিক নির্দেশ আর কি) চারদিকে যে টিভিতে দেখা মহাভারতের সেই যুদ্ধের আবহ মনে পড়তে বাধ্য আপনার। অনেক জায়গায় আবার সংখ্যা লেখা এড়াতে তার পাশেই লেখা রয়েছে বৃত্তান্ত, যেমন নয় এর পাশে হাইফেন দিয়ে (৯ - ) লেখা 'বার পটি, ওষুধ নিয়েছি' ----
সত্যি বলছি, এটার মানে বুঝতে সত্যি বেশ বেগ পেতে হয়েছিল।
চমক ভাঙল ওঁর ডাকে।
"এমন মন দিয়ে ক্যালেন্ডারে কি দেখছিস রে শুভ?"
ভাবলাম বলি, এই সৃষ্টি মিউজিয়ামে স্থান পাওয়ার বস্তু। এখানে অযত্নে পড়ে রয়েছে। কিন্তু প্লেটের ফিস ফ্রাই টা দেখে মনকে অল্প বকে দিয়ে মুচকি হেসে বললাম, "এই যে সামনে কবে অমাবস্যা আছে চেক করছিলাম।"
উনি বললেন, "কালকেই তো কালীপুজো। আর তুই এখনও অমাবস্যা খুঁজে বেড়াচ্ছিস। নে, খেয়ে নে।"
• সব চরিত্র কাল্পনিক। জাগতিক বা মহাজাগতিক কারোর সাথে মিল থাকলে তা নেহাতই কাকতালীয়। তবে আপনার সংগ্রহে সেইরকম কিছু থাকলে তার ছবি শেয়ার করতে পারেন। তাতে সকলেই নিজেদের জ্ঞান বাড়াতে সমর্থ হবেন।
©️কলমে_অয়ন

রচনার তারিখ: ১২ই নভেম্বর ২০২৩


 

Share:

গান্ধী জয়ন্তী

gandhi-jayanti

আজ ছুটির দিন। পুজো কাছে এসে গেছে। অনেকদিন ধরেই যাব যাব করে আর পুজোর মার্কেটিং করতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল না গিন্নিকে। তাই বৃষ্টি মুখর আজকের দিনটাকেই টার্গেট করলেন অমুক বাবু। কারণ বৃষ্টিতে দোকান গুলোতে ভিড় থাকার সম্ভাবনা কম। আর গিন্নিও যেতে চাইবে না সঙ্গে। এখনও যদি কারোর মনে প্রশ্ন থাকে, দ্বিতীয় কারণটা কিভাবে সাহায্য করবে অমুক বাবু কে! তাহলে বলাই বাহুল্য যে প্রশ্নকর্তা এখনও নারী সঙ্গে (স্ত্রী হোক বা বান্ধবী) বঞ্চিত।
ব্যাপারটা হল যুগলে গেলে একটা জিনিস ছত্রিশ রকম ভ্যারাইরি দেখে চয়েস করলেও আবার কেনার ঠিক আগের মুহূর্তে প্রথম জিনিসটা দেখানোর বায়না করবে দোকানদারের কাছে। আর ওনারাও হাস্য মুখে দেখাবেন সদ্য ভাঁজ করে তুলে রাখা শাড়ি বা পছন্দের আইটেমটা। এক এক সময়ে মনে হয় এরা যেন সেই স্বর্গের দেবতাদের মত ধৈর্য্যর পরীক্ষা দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত, কলি যুগের অপ্সরাদের সামনে। আর এই সব ঘটনার ঘন ঘটায় কি করে যে ঘন্টা পেরিয়ে যায় বোঝা যায় না। তাই তো এরকম ডজ দিয়ে বৃষ্টি কে মাথায় নিয়ে বেরিয়ে পড়া।
তো অমুক বাবু একটা ঝাঁ চকচকে মলে এসে সবে প্রথম দোকানে ঢুকতে যাবেন, সিকিউরিটি টা ছুটে আসে ঘাড়ের কাছে। ওনার তো প্রায় এই যায় কি সেই যায় অবস্থা। আদ্যপান্ত সাদামাটা অমুক বাবু বুঝতে পারার আগেই সে ধমক দিয়ে বলে, বন্ধ করুন। কিছু বুঝতে না পেরে উনি তখনই ওই দোকান থেকে বেরিয়ে যান। মনে মনে আজকের দিনের মত "বুড়া মাত্ শুনো" র উপদেশ মাথায় নিয়ে এগিয়ে যান পরের দোকানে।
বেশ কয়েকটি জিনিস পছন্দ হয়েছে এমন সময়ে দেখেন, উল্টোদিকে শপিং করতে থাকা মহিলা ওনাকে ইশারায় কি সব বলছেন। মাঝে মাঝে চোখ মারছেন আর...না না, অমুক বাবু সেইরকম লোক নন যে বউকে আনেননি বলে যা ইচ্ছে তাই করবেন। যদিও এখনও নিজের গ্ল্যামার আছে ভেবে মনে মনে একটু উৎফুল্ল। কিন্তু ওই মহিলার ভাব গতিক সুবিধার লাগছে না। ওনার দিকেই তো করছেন সেই একই ইশারা। না, আর বিলম্ব না করে "বুড়া মাত্ দেখো" র উপদেশ মাথায় রেখে অমুক বাবু বেরিয়ে পড়লেন ওই দোকান থেকেও। কার যে মুখ দেখে বেরিয়েছিলেন আজ, মূল উদ্দেশ্য যে বিফলে যেতে বসেছে।
দূর, এইসব জায়গায় কিছু পাবে না ভেবে অমুক বাবু বেরিয়ে পড়লেন পাড়ার বাজারের দিকে। টোটো তে উঠতে যাওয়ার আগে বেশ খিদে লেগেছে। বাইরের চাট পাপড়ির দোকানে এসে কিনে নিলেন এক প্লেট। খেতে খেতে বাজারে পৌঁছাতেই শুরু হয়েছে আবার তুমুল বৃষ্টি। আর সেই সুযোগ নিয়ে নামার সময়ে টোটোর ছেলেটা দশ টাকার বদলে চেয়ে বসে কুড়ি টাকা। মাথাটা আর ঠিক রাখতে পারেন না অমুক বাবু। দিনে দুপুরে ডাকাতি করছ যে তুমি। এভাবে রোজগার করলে সেটা কোন ফাঁক দিয়ে যে গলে যাবে বুঝতেও পারবে না।
ছেলেটা বলে ওঠে, "কাকা, এভাবে দরজা ওপেন রাখলে ডাকাতি তো হবেই।"
মুখ থেকে দুটো বাজে কথা বেরিয়ে যাচ্ছিল অমুক বাবুর। তারপর "বুড়া মাত্ বোলো" র উপদেশ মত নিজেকে সংযত করেন উনি।
জিনিসপত্র কিনে বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফিরে সোফায় হেলান দিয়ে গিন্নিকে বলছিলেন আজকের ঘটনা। আর গান্ধীজির দেখানো পথে চলে অমুক বাবু যে কেমন আজ ওনার জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য দিয়েছেন, সেটাই বেশ গর্বের সঙ্গে বর্ণনা করছিলেন গিন্নিকে। কিন্তু লোকের এই ব্যবহারের কারণ বোঝেননি উনি।
গিন্নি কটমট করে তাকিয়েই বলল, "এমন ভাবে প্যান্টের চেন খুলে বিশ্ব দূষণ করে এলে কেউই যে তোমার শ্রদ্ধার্ঘ্য গ্রহণ করবে না বাবা।"
চটপট দরজা বন্ধ করেন অমুক বাবু।
©️কলমে_অয়ন

রচনার তারিখ: ২ রা অক্টোবর ২০২৩


 

Share:

দেওয়া নেওয়া

 

deoya-neya

ফেরার টাইম হয়ে গেছে, এখনো এলো না মেয়েটা। রোজ এই সময়ে জানলার পাশে ঘেঁষে বসে। উঁকি মেরে দেখে গলিতে ঢুকল কিনা। শারীরবৃত্তীয় প্রবৃত্তি গুলো আজ টাইম টেবিলে বন্দি। এত বড় হয়ে গেছে, এত দিন ধরে চাকরি করে একা হাতে সংসার টাকে ধরে আছে মেয়েটা, তবুও আশঙ্কা যায় না সুবীরের। আর যা দিনকালের অবস্থা আজকাল, বাড়িতে না ফেরা পর্যন্ত নিশ্চিন্ত হওয়া যায় না। আগে যদিও সময়ে অসময়ে ফোন করে খবর নেওয়া যেত, কিন্তু যতদিন এই টাচ ফোন দিয়েছে কি যেন বলে ওরা, স্মার্ট ফোন না কি! এটা আরো অসহ্য হয়েছে ওর। আর তার ওপর মেয়েও আজকাল পছন্দ করে না ওই সব সময়ের তদারকি। তাই ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে।
একবার ওর জন্মদিনে মেয়েই দিয়েছিল এটা। ততদিনে ওর মা গত হয়েছে। বাপ মেয়ের এইসব আহ্লাদি মুহূর্ত দেখে যাওয়া হয়নি ওর মায়ের। আগে চিরকাল মেয়েকে আগলে রাখতে সোহাগের থেকে ওর বজ্র আঁটুনি ছিল যে মা মেয়ের চক্ষুশূল। সামনে রাগ দেখালেও বাবা না থাকলে মা কে সমঝে চলত মেয়ে। পাছে দু চার ঘা পড়ে যায় পিঠে, কারণ সেই সময়ে বাঁচানোর জন্যে বাবা যে থাকত না আশেপাশে। আর আজ পঙ্গু বাবার একমাত্র অবলম্বন সেই মেয়ে।
তখনও চাকরির অবসরের বছর দশেক বাকি। অফিস ফিরতি পথে একটা অ্যাক্সিডেন্টে পুরোপুরি শয্যাশায়ী হয়ে যায় সুবীর। কিছুদিনের মধ্যে হঠাৎ মারা যায় ওর স্ত্রীও। সদ্য গ্র্যাজুয়েট অন্য মেয়ে হলে হয়তো দিকভ্রান্ত হয়ে যেত। কিন্তু মেয়ে যে তার মায়ের মতই গুণবতী। প্রথমে টিউশন আর সুবীরের সঞ্চয়, তারপর ধীরে ধীরে একটা চাকরি। সাথে পার্ট টাইমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া। মাস্টার্স কমপ্লিট করে এখন একটা বড় ফার্মে ঢুকেছে।
এভাবেই মেয়েকে আঁকড়ে বেঁচে থাকা। মাঝে মাঝে নিজেকে বড়ই অকর্মর্ণ মনে হয় সুবীরের। নিজেকে শেষ করে দিতে ইচ্ছে করে, তারপর মেয়েটার মুখের কথা ভেবে নিজেকে সামলে নেয়। কদিন আগে রাগের মাথায় বলা মেয়ের কথা গুলো বুকে বাজে ওর।
"ছোট বেলায় যেমন শাসন করেছো তেমন অনেক উপহারও দিয়েছ। কিন্তু এখন দুটোই আর করার ক্ষমতা নেই তোমার।"
ও বেরিয়ে যাওয়ার পর অনেকক্ষণ বসে ভেবেছে। সত্যি কথাই তো বলেছে মেয়ে। কিন্তু অভিমান কাটিয়ে শিখতে শুরু করেছে জীবনের নতুন ধারা।
আচমকা বেল বেজে ওঠে। কি আশ্চর্য, চাবি থাকে তো মেয়ের কাছে, নিজেই তো খোলে। আজ বেল বাজাচ্ছে কেন? তাহলে কি অন্য কেউ এলো? ভাবনার অবসান ঘটে স্বশব্দে।
"একটু দড়ির আংটা টেনে দরজা টা খুলতে পারো তো।"
"এত দেরী হল যে তোর!"
মেয়েই লোক ডাকিয়ে তৈরি করিয়েছিল এই দড়ি টেনে দরজা খোলার ব্যবস্থাটা এমার্জেন্সি সিচুয়েশনের জন্য। যাক, এইসব এখন বললে আরো খেপে যাবে। আসলে হাত ভর্তি জিনিস নিয়ে ঘরে ঢুকেছে যে।
টেবিলের সামনে সাজিয়ে দিয়েছে বাবার জন্য আনা শার্ট, ঘড়ি আরো কিছু। সঙ্গে দুজনের রাতের খাবার।
হুড়োহুড়ি করে বলে ওঠে, "তাড়াতাড়ি খাবে চলো, খুব খিদে পেয়েছে।"
টেবিলের নিচে থেকে মেয়েকে তুলে নিতে বলে বক্সটা। অনলাইন অর্ডার করার উপায় শিখে সদ্য কিনে আনা স্মার্ট ওয়াচটা তুলে দেয় মেয়ের হাতে।
"হ্যাপি ডটারস্ ডে"
দুজনেই জড়িয়ে ধরে দুজনকে। গড়িয়ে পড়তে থাকতে আনন্দের অশ্রুধারা।
©️কলমে_অয়ন

রচনার তারিখ: ৪ ঠা সেপ্টেম্বর ২০২৩


Share:

আবোল তাবোল ও একশো

 

আবোল_তাবোল_ও_একশো

"আজি হতে শতবর্ষ পরে, কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতা খানি কৌতুহল ভ'রে" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আপনি বাঙালি কিন্তু আবোল তাবোল পড়েননি এরকম মানুষ মনে হয় নেই। নিজে অনেকে না পড়লেও ছেলে মেয়েকে পড়িয়েছেন নিশ্চিত। আর বাড়িতে একটা আবোল তাবোল নেই সেইরকম বাঙালি বাড়িও বোধহয় মেলা ভার। আবোল তাবোল সুকুমার রায়ের বিখ্যাত "ননসেন্স ছড়া" সংকলন।
আমি তখন প্রথম চাকরি সূত্রে দক্ষিণে, সে কোম্পানিতে ট্রেনিং এর প্রথম তিন চার মাসে চলত টিকে থাকার প্রচেষ্টা। সারা জীবনে যত না পরীক্ষা দিয়েছি, তার থেকে বেশি পরীক্ষা দিতে হত ওই তিন চার মাসে। পাশ করতে না পারলে পরের দিনই মেন গেটের রাস্তা। তাই ওই সার্ভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্টের মন্ত্র অনুযায়ী চলত ক্লাস-পড়া-পরীক্ষা-রিপিট। আর সেই চাপ মুক্তির কিছু আয়োজনের মধ্যে ছিল অবসরে আমার আবৃত্তি করা। ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত রীতিমত চর্চা করতাম যে। সেরকমই এক বিকেলে বোধহয় নিজের রুমে করছিলাম সুকুমার রায়ের কোনো এক কবিতা আবৃত্তি, আর তা শ্রুতিগোচর হয় আমার এক কলিগের। সে আবার ছিল অসমের। তাই সব শব্দের মানে না বুঝলেও ভাব খানা বেশ বুঝেছিল সে। রীতিমত রুমে নক করে আরো কিছু ছড়া শুনে তার অর্থ বুঝিয়ে দিয়ে তবে পাই সেদিন নিষ্কৃতি। অনেকদিন পরে সুবিধা মত ওকে দিয়েছিলাম আবোল তাবোল। তাই ছন্দের জাদুকর সুকুমার রায়ের ছড়া যে শুধু বাঙালির মধ্যেই সীমাবদ্ধতা ছিল তাই নয়, দেশ কালের গণ্ডি পেরিয়ে সে পৌঁছে গিয়েছে বহুদূর।
সম্প্রতি চলে গেল সেই বইয়ের শতবর্ষ পালন। উনিশে সেপ্টেম্বর ১৯২৩ সালে ইউ রায় এন্ড সন্স থেকে প্রকাশিত হয় এটি। আর প্রকাশের কদিন আগেই ১০ই সেপ্টেম্বর মারা যান সুকুমার রায়, মাত্র ছত্রিশেই। প্রকাশ কালে তিনি জীবিত না থাকলেও এই বই কোনোদিন আউট অফ প্রিন্ট হয়নি।
তাই সে বড় বাবুর গোঁফ চুরিই হোক বা সৎ পাত্রের খোঁজ, সেঞ্চুরি হাঁকিয়েও আজও অমলিন সে। এভাবেই থেকে যাক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
©️কলমে_অয়ন

রচনার তারিখ: ২৩ শে সেপ্টেম্বর ২০২৩
Share:

জওয়ান এক ঝড়

 jawan-ek-jhor


জন্মাষ্টমীতে কৃষ্ণের আবির্ভাবের মত এবারে আবির্ভাব হল জওয়ানের। স্বর্গ মর্ত্য কাঁপিয়ে দেশ বিদেশের বায়োস্কোপে একদিনে প্রায় একশো ত্রিশ কোটির ঝড় তুলে যখন প্রমাণ করেই ফেলেছে যে সারা বিশ্বে ভারতীয় সবথেকে বেশি, মানে ভারতের জনসংখ্যার কাছাকাছি একদিনের কালেকশন হলে তো সেরকমই মনে হওয়া স্বাভাবিক। তখন সাংসারিক শান্তি বজায় রাখার জন্য এই অধমকেও হল মুখী হতে হল ওই কোটির মধ্যে বিন্দু দানের অভিলাষে। বলে রাখা ভাল, আমি ওনার বিন্দুমাত্র হাত পাখা বা ফ্যান নই, আর এটাই জীবদ্দশায় দেখতে যাওয়া দ্বিতীয় (এর আগে একমাত্র চক দে ইন্ডিয়া হলে দেখেছি) অভিযান।
এদিকে যাব তো বলেছি গিন্নিকে, কিন্তু চারিদিকে ত্রাহি ত্রাহি ভাব, টিকিট পাওয়া দুষ্কর। অনেকটা মনে করাচ্ছে করোনা কালে অক্সিজেন সিলিন্ডারের আকাল। এদিকে ফেসবুকে ইন্সটায় যত ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শোয়ের নোটিফিকেশান আসছে মিউচুয়াল বন্ধুদের থেকে, ততই চাপ বাড়ছে ঘরে বাইরে। শো বাড়ছে ভোর থেকে মধ্য রাত, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সিটের দাম। আর সারা বছর অফারের ঠেলায় ব্যতিব্যস্ত করা মেসেজ সার্ভিস টাও যেন ঝিম মেরে গেছে। সব কটা সাইট ঘুরেও পাওয়া যাচ্ছে না বিশল্যকরণী। লেট নাইট মুভি ডেটের চেষ্টা করতে করতে ফাইনালি বিড়ালের গলায় শিকে ছিঁড়ল আরলি মর্নিং মুভি দেখার সুযোগ। যাই বলুন না কেন, রবিবারের নটার শোয়ে এরকম সিনেমা দেখতে গেলে নিজের কলজের জোর আছে এলেম হয়।
এবার আসা যাক মোদ্দা কথায়। বাণিজ্যিক ভাবে সফল করার সমস্ত মশলা রয়েছে ছবির ছত্রে ছত্রে। আর শুরু ও মাঝের বিরতিতে প্রায় পঁচিশ ত্রিশ মিনিটের দুবার ব্রেক লজ্জায় ফেলতে পারে আইপিএলের ইনিংস ব্রেককেও।
তবে এতে দক্ষিণের ঝারপিট আছে। মানি হেইস্টের আদলে আকাশ কুসুম সমাপ্তি আছে। কমার্শিয়াল গান আছে। প্রেম প্রীতি বিচ্ছেদ আছে। প্রতিশোধ স্পৃহা আছে। জাতীয়তাবাদী স্পিরিট আছে। ফিরে আসার হিন্টও আছে। আর হ্যাঁ, প্রচুর টুইস্ট আছে যা ঘাড়ে ব্যথা করানোর জন্য যথেষ্ট। কিন্তু বিক্রম আর আজাদ নতুন কিছু দিতে ব্যর্থ। যদিও আশাও ছিল না বড়। আসলে শাহরুখ খান ব্যবসা বোঝেন ভালই, তাই বিজয় সেতুপতি নয়নতারার উপস্থিতি জোরদার করেছে দক্ষিণী মেলবন্ধন। তেমনই সুন্দর সামঞ্জস্য রেখেছে দীপিকা সানিয়াদের চিত্রনাট্যের সংযোজন। তবে স্ক্রিপ্ট ভালই, অন্তত একবার হলে দেখে আসতে পারেন। তাতে হাজার কোটির মূলধনে আপনারও অনুদান থাকবে। তবে, এরকম সিনেমা হলে না দেখলে ফিলটা পাবেন না।
তাই, শীঘ্রই যোগাযোগ করুন আপনার নিকটতম প্রেক্ষাগৃহে। নাহলে, এ সমাজ কি আপনাকে মেনে নেবে!! প্রশ্ন টা থাকবেই
©️কলমে_অয়ন


রচনার তারিখ: ১০ই সেপ্টেম্বর ২০২৩
Share:

শিক্ষক দিবস

 

shikkhok-dibos

ছোট থাকতে মনে হত কবে বড় হব, কবে নিজে উপার্জন করব। কিন্তু বয়স যত বাড়ছে, ততই ফিরে যেতে ইচ্ছে করে স্কুল জীবনে। ফেলে আসা কত স্মৃতি যে ভিড় করে আসে।
বেশ মনে আছে, শিক্ষক দিবসের দিনে সব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হত নিয়মিত। দিন পনেরো আগে থেকেই চলত রিহার্সাল। গান আবৃত্তি নাটক থেকে শুরু করে অনেক কিছুই হয়ে থাকত। একসাথে হল ঘরে বেঞ্চ জড়ো করে মঞ্চ তৈরি থেকে শুরু করে সব চলত ক্লাসের মধ্যে দিয়েই।
আর এর সাথে ছিল সেদিনের স্পেশাল টিফিনের আনন্দ। আর কিছু ছেলেপুলের রোল কলের খাতা দেখে উপস্থিতির কাউন্ট ইচ্ছে করে বাড়িয়ে দেওয়া, যাতে শেষে পাওয়া যায় বাড়তি টিফিনের ভাগ।
কিছু কিছু ঘটনা যা হয়তো ভোলা যাবে না কোনোদিন। যদিও ঘটনা না বলে দুর্ঘটনাই বলা বেটার। তখন বোধহয় এইট কি নাইন। স্যারদের টেবিল চেয়ার থাকতো একটা উঁচু ডায়াসের ওপর ঠিক ব্ল্যাক বোর্ডের সামনেই। কে যেন সঞ্জয়কে (নাম পরিবর্তিত, এই বয়সে তাদের আর বিব্রত করতে চাই না) উস্কে দিয়েছিল এই বলে যে ওই ডায়াস ভাঙতে পারে কিনা, আর সেও অটোবার মোডে সেই ধ্বংস লীলায় মেতে উঠল। কিছুক্ষণ পর ডায়াসের সলিল সমাধির সাথে সাথে স্যারের আগমন আর কালপ্রিট কে খুঁজে না পেয়ে সারা ক্লাস কে নীলডাউন করে দেওয়া। বেশ একটা বিপ্লবী বিপ্লবী হাবভাব লাগত যে শত্রু পক্ষের হাত থেকে উদ্ধার করা গেছে সহযোদ্ধা কে।
আরেকটা মনে পড়ে, সেই ইলেভেনে বোধহয়। স্যার অঙ্ক করাচ্ছেন, খুব ভালো অঙ্ক করাতেন উনি। মোটামুটি শান্ত ক্লাসরুম। হঠাৎ ওঁর হালকা টাকে গুলতির মত স্যাট করে পিছন থেকে উড়ে এলো একটা রাবারের গার্ডার। স্যার অঙ্ক করাতে করাতে ঘুরলেন, তীব্র গতিতে ছুঁড়লেন একটা চক। লাগল মাঝের সারির সমীরের (নাম পরিবর্তিত) হাতে। বেচারা শুধুমাত্র স্যারের ঘুরে দেখার সময়ে মুচকি হাসছিল। কিন্তু ওই টিপ করার নূন্যতম যোগ্যতা ওর ছিল না। এত বছরে কোনোদিন ক্রিকেটে চান্স পায়নি সে। তবুও সারা ক্লাস স্যারকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছিল সেই সত্যিটা। বেশ মনে আছে, অকারণে প্রচুর মার খেয়েছিল সে।
এরকমই আরেকটা, টেনের অ্যাডিশানাল ম্যাথের ক্লাসে আমরা মাত্র ছয়-সাত জন ছাত্র ছিলাম। যিনি ক্লাস নিতেন, নতুন এসেছেন স্কুলে। ওই স্যারকে বুঝিয়ে সুজিয়ে রাজি করানো হল ক্লাসের শেষে স্কুলের ঠিক বাইরেই থাকা ঝালমুড়িওলার থেকে আমাদের এই জনা সাতেককে ঝালমুড়ি খাওয়ানোর। সবাই মোটামুটি ভালই ছিলাম পড়াশোনায়। এই ক্লাস টা লাস্ট পিরিয়ডে হত। স্যার শুধু বললেন, দেখিস, ব্যাপারটা যেন পাঁচ কান না হয়। আমরাও ততোধিক শয়তান, স্যার কে বললাম, তাহলে চলুন একটু তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যাই। সেদিন রাজি হয়ে গেটের কাছে এসে জাস্ট উনি অর্ডার দিতে যাবেন, একজন বলে উঠল, স্যার ওর ওই কাটা জিনিস গুলো ভাল লাগছে না দেখতে। চলুন না, বাস স্ট্যান্ডে ওই কচুরির দোকান থেকে টাটকা ভাজা কচুরি খাই। নিমরাজি হয়েই স্যার চললেন আমাদের সাথে। দুশো মিটার দূরে বাস স্ট্যান্ড, পৌঁছতেই তৃতীয় তীর বেরোয়। স্যার, এই তেলের জিনিস খেলে না আমার শরীর ভালো লাগে না। তার চেয়ে বরং কোল্ডড্রিঙ্ক খাই, এই গরমে মন ও ভরবে সবার। বাকি সকলেই হ্যাঁ তে হ্যাঁ মেলায়। আসলে এটাই ছিল সেদিনের ত্রিস্তরীও প্ল্যান। স্যারই বা কি বলেন, হয়ত বাধ্য হয়েই খাওয়ালেন। কিন্তু গোলমাল বাঁধল এর পরেই। এসবের মাঝে স্কুলের ছুটি হয়ে গেছে। অন্যান্যদেরও ক্লাস শেষ, তারাও এসে পড়েছে বাস স্ট্যান্ডে। আর স্যারকে বলছে, কি স্যার শুধু এদেরকে খাওয়াতে আনলেন। কেউ কেউ আবার অন্য স্যারদের কোচিং এও এইসব গল্প করে বেড়ায়। আর গল্পের গরু তো কোল্ডড্রিঙ্ক থেকে ততক্ষণে মোগলাই এ পৌঁছে গেছে। আর সেইসব নিয়ে স্যারকেও হয়ত শুনতে হয়েছিল টিচারস রুমের হাসি মস্করা। তাই পরদিন আমাদের পিঠে পড়েছিল বেশ কিছু স্কেলের চিহ্ন। অঙ্কের কোন ফর্মুলায় যে সেই স্কেলাঘাত আর কোল্ডড্রিঙ্কের দামের যোগ ছিল, তা আজও সেই কজনের কাছে রয়ে গেছে অজানা।
এরই সাথে ছিল সরস্বতী পুজোর পরে খাওয়া দাওয়া বিশেষত উদ্দাম রসগোল্লা খাওয়ার কম্পিটিশন।
এইসব সুখ দুঃখ হাসি কান্নায় বারে বারে ফিরে আসে সেই স্মৃতির শিক্ষক দিবস।
শিক্ষক দিবসের প্রাক্কালে আমার সমস্ত শিক্ষকদের জানাই সশ্রদ্ধ প্রণাম।
©️কলমে_অয়ন

রচনার তারিখ: ৪ ঠা সেপ্টেম্বর ২০২৩


Share:

প্রতিবিম্ব

 

protibimbo

সকাল সকাল উইকএন্ডে উঠতে হলে শুভর বেশ রাগই হয়। আর তারপর যদি হয় এইসব ভুলভাল কাজ, তাহলে আর দেখে কে।
গতকাল কাজ শেষ করে সবে ল্যাপটপ বন্ধ করতে যাবে, তখনই ঢুকল মেইল টা।
"ইওর সি এস আর অ্যাক্টিভিটি ইজ পেন্ডিং ফর দিস ইয়ার। পার্টিসিপেট টুমরো টু এলিজিবল ফর ভ্যারিয়েবল পে।"
মোদ্দা কথা, কালকের সি এস আর টাস্কে মানে কর্পোরেট সোস্যাল রেস্পন্সিবিলিটি অ্যাক্টিভিটি তে অংশগ্রহণ না করলে ভ্যারিয়েবল পে এর টাকাটা দেবে না। এটা তো একপ্রকার জোর জবরদস্তি করা। কিন্তু কি আর করা যাবে, চাকর যখন হয়েছ, সে মুদির দোকানে হোক বা কর্পোরেট, সব জায়গায় একই অবস্থা।
প্রথমে ভেবেছিল, কাটিয়ে দেবে। কিন্তু সিনিয়রদের থেকে শুনল এটার বেশ গুরুত্ব আছে কোম্পানি তে। আসলে এভাবেই নিজেদের সোস্যাল উপস্থিতি প্রচার করা আর কি। তবে অনিচ্ছুক লোকজন কে দিয়ে কি সত্যি কিছু সৎ ভাবে করা সম্ভব? ভাবে, সেভাবেই তো চলছে এতকাল। ওর ভাবনায় কার কি এসে যায়।
তবে ফুট নোটে ছোট্ট ছোট্ট করে লেখা ছিল যে লাঞ্চের ব্যবস্থা থাকবে, সেই পলিসি অ্যাড গুলোর কনডিশান অ্যাপ্লায়েডের মত।
পরেরদিন বাইক নিয়ে পৌঁছে যায় নির্দিষ্ট গন্তব্যে। একটা ছোট একতলা বাড়িতে থাকে পনেরো কুড়ি টা শিশু ও কিশোর। ওদের থাকা খাওয়া পড়াশোনার ব্যবস্থা করে একটি সংস্থা, যার মূল কান্ডারি এই সুদর্শন মিস্টার বাগচী। বড় কর্পোরেটে এরূপ সোস্যাল ওয়ার্কার খুব একটা দেখা যায় না। পিছনে ধূ ধূ মাঠ, আর তার পিছনে একটা বিস্তীর্ণ জলাশয়। শহরের এত কাছে এরকম মনোরম পরিবেশ দেখেনি ও কোনোদিন। এত অল্পে সন্তুষ্ট হওয়ার পাঠ যেন শিখিয়ে দিল ওরা। ঘুম ধরা জনগণের সত্যি আসা উচিত এসবের মাঝে। নিড আর গ্রিডের মধ্যেকার সীমান্ত চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় ওদের জীবনযাপন।
সকাল থেকে ওদের সাথে কাটিয়ে কিভাবে যে সময় বয়ে গেল, বুঝতে পারল না শুভ। ওর সব সময়ের সঙ্গী ডিএসএলআরে বন্দি হয়ে রইল সারাদিনের উৎযাপন। মনে মনে শপথ নিল প্রতি মাসে ফিরে আসার। আর এরকম উদ্যোগের জন্য সত্যি সাধুবাদ জানানো উচিত ওর কোম্পানিকে। এইসব খবর যে সত্যি প্রচার যোগ্য। যদিও মিডিয়ার এসবে উৎসাহ নেই।
বাড়ি ফিরে সোস্যাল মিডিয়ায় আজকের পোস্ট দিতে গিয়ে মনে পড়ল আজকের দিনটার কথা। বাগচী দা দাঁড়িয়ে রয়েছে ওদের সকলের মাঝে, পিছনে ঝাপসা জলাশয়। বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবসে এর থেকে ভালো ফ্রেম বোধহয় হতে পারে না।
©️কলমে_অয়ন

রচনার তারিখ: ১৯ শে অগাস্ট ২০২৩


Share:

রান্নাঘর

ranna-ghar

একদিন ভোরে উঠে জ্যাসমিন দেখে ছেলে তার মায়ের জন্য স্পেশাল ব্রেকফাস্ট তৈরি করছে। বেড রুমের বিছানা থেকেই দেখা যায় রান্না ঘরটা। তাই, দেখতে পেলেও বিছানা ছেড়ে উঠল না সে। ছোট্ট ছেলে টা অনেক বড় হয়ে গেছে। হঠাৎ আওয়াজ শুনে আড় চোখে দেখল, ডিম পড়ে গেছে মাটিতে। হাত থেকে পড়েই ফাটিয়েছে বোধহয়। নিজে হাতেই পরিষ্কার করে নিচ্ছে। কষ্ট হলেও নিজেকে আটকে রাখে। এই একদিনের আনন্দ মাটি করতে চায় না ছেলের। দূর থেকে দেখতে থাকে নিজের সন্তান কেমন ভাবে খুশি করতে চায় মা কে। হোক না সে এই একটা দিনের জন্যই, এটুকুই বা পায় কজন।
এই ভূত টা মাথায় চেপেছিল ছেলের সেই কলেজের ফাস্ট ইয়ার থেকে। সেই থেকে আজ পাঁচ বছর চাকরি হতে চলল, একটা বছরও দিন টা ভুলে যায়নি। কখনো কখনো এই একটা দিনের জন্য ছুটি নিয়ে চলে এসেছে। এই একটা দিন মায়ের রান্নার ছুটি। আগে থেকে নিত্য নতুন রান্না শিখে মা কে সারপ্রাইজ দিয়েছে। এই তো বেল টা বাজছে। ধড়মড় করে উঠতে গিয়ে বুঝতে পারে স্বপ্নের দুনিয়ায় এতক্ষণ ছিল জ্যাসমিন।
সেবার ও বেল টা বেজেছিল তারস্বরে। দরজা খুলেই ওর বন্ধুর মুখে শুনেছিল ঘটনাটা। বাড়ি আসার পথেই অ্যাক্সিডেন্টে নিথর হয়ে গিয়েছিল ছেলে এই মাতৃ দিবসের দিনেই।
সেই থেকে মাতৃ দিবস আসে যায়। জ্যাসমিন সেই বসে থাকে ছেলের হাতের রান্নার প্রতীক্ষায়। কখনো স্বপ্নে, কখনো বাস্তবে।
©️কলমে_অয়ন

রচনার তারিখ: ১৪ই মে ২০২৩


 

Share:

মহারাজা তোমারে সেলাম

moharaja-tomare-selam

শুরু সেই পাহাড়ে ফেলুদা দিয়ে। দিদার কাছ থেকে পাওয়া গিফট থেকেই ভালোলাগায় পড়া। একে একে 'ফেলুদার গোয়েন্দা গিরি', 'গ্যাংটকে গন্ডগোল' হয়ে যখন 'ভূ-স্বর্গ ভয়ঙ্কর' এ এসে পৌঁছলাম, ততক্ষণে পুরো প্রেমে হাবুডুবু।
তারপর চাক্ষুষ দর্শন সেই ঘুরঘুটিয়ার ঘটনা, গোলকধাম রহস্য থেকে টেলিভিশনের পর্দায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের তুখোড় ম্যানারিজমকে সঙ্গী করেই। ধীরে ধীরে আরো বন্ধনে জড়িয়ে পড়া ছুটি ছুটির পর্দায় সেই সোনার কেল্লা আর জয় বাবা ফেলুনাথ এর হাত ধরে। 'ত্রিনয়ন ও ত্রিনয়ন, একটু জিরো' থেকে শুরু করে সেই ক্যাপ্টেন স্পার্কের হিন্ট, 'মূর্তি আছে রাজার কাছে, আফ্রিকার রাজা'
এইসব পড়ে ও দেখে আমি এবং তথাকথিত বাঙালি ঢুকে পড়েছিল রহস্য সন্ধানে, বুদ্ধির গোড়ায় ধোঁয়া দিতে।
আর ফেলুদা ছাড়াও যে অমোঘ সৃষ্টি নিয়ে বাঙালি আজও গর্ব করে, তা হল লালমোহন বাবু ওরফে জটায়ু, প্রোফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু, তারিণীখুড়ো।
যদি উনি শুধু এইটুকুই সৃষ্টি করতেন, তাহলেও বোধহয় অমর হয়ে থাকতেন পাঠকের আঙিনায়।
ঠিক ধরেছেন, আজ সেই বহুমুখী প্রতিভাধর লেখক, শিল্পী, চলচ্চিত্র পরিচালক, কার্টুনিস্ট আরো শত কোটি চরিত্রের অধিকারী মানুষটির জন্মদিন।
সত্যজিৎ রায়, মহারাজা তোমারে সেলাম!!
©️কলমে_অয়ন

রচনার তারিখ: ২রা মে ২০২৩


 

Share:

স্মৃতির দেওয়াল

 

smritir-deoyal

আজ ট্রেনের খুব গণ্ডগোল। অনেক কষ্টে এলাম। দেখতে দেখতে প্রায় চল্লিশ বছর ডেইলি প্যাসেঞ্জারী করছি বর্ধমান মেন লাইনে। অবশ্য সারা বছর নয়, চার মাস। এক বছর বড় ভাই আরেক বছর মেজ ভাইয়ের পালা। ওখানে কুল দেবতা নারায়ণ মঙ্গল চন্ডীর পুজো হয় যে। ছোট ভাই অনেক বছর বিদেশ বাসি, তাই এসবের মোহ মায়া থেকে মুক্ত। বছরের পৌষ থেকে চৈত্র এর মাঝেই থাকে এই পালা। তাই শীতে নলেন গুড় আর রকমারি মিষ্টির সম্ভার থাকতো ওখান থেকে আর সবার স্কুলের ছুটির অন্যতম গন্তব্য ছিল ওই দেশের বাড়ি। যদিও দূরত্ব বেশি না হওয়ার জন্যে লোকজনের আসা যাওয়া চলতেই থাকত।
এভাবেই আমাদের দাদু বড়-দাদু রা যাতায়াত করেছে নিজেদের সারাদিনের কাজ কর্ম শেষ করে। ঠাকুমারা ওখানে থেকেই করেছে চার মাস সংসার। ছুটিতে এসে রোদে দেওয়া সাবুর পাপঁড়, ছোট্ট চৌবাচ্ছার জলে স্নান, মাঝে মধ্যে পিকনিক। কত শত স্মৃতি, মুহূর্তে ভিড় করে এলো বাড়ির দেওয়ালে।
©️কলমে_অয়ন


রচনার তারিখ: ১লা মে ২০২৩
Share:

মোট পৃষ্ঠাদর্শন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.

ব্লগ সংরক্ষাণাগার