ছোট গল্পের সন্ধানে || কলমে অয়ন

  • বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

    আনন্দ, উদ্বেগ আর প্রত্যাশার গণ্ডি পেরিয়ে চতুর্থ বারের জন্য অপেক্ষা দায়িত্বের। সেই দায়ভার থেকেই জন্ম এই চতুর্থ সন্তানের। আগের বারের "মৃত্যু রহস্য"র পর ইয়ং ইন্সপেক্টর সৌমিলির ডাক পড়েছে এক জটিল সমস্যার সমাধানে। গ্রাম বাংলার এক সুন্দর প্রকৃতির প্রেক্ষাপটে ঘটে চলেছে অদ্ভুত সব ঘটনা। যাকেই সে সন্দেহের তালিকায় আনছে, হঠাৎ করে সে-ই খুন হয়ে যাচ্ছে। সৌমিলি কি পারবে এই কেস সলভ করতে❓ তারই গল্প বলতে প্রকাশিত হচ্ছে আমার চতুর্থ বই "আই ক্যান্ডি" এবারের কলকাতা বইমেলা ২০২৫ এ ক্লিক করুন

  • বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

    প্রথম বারের আনন্দ আর দ্বিতীয় বারের উদ্বেগের গণ্ডি পেরিয়ে তৃতীয় বারের জন্য অপেক্ষা প্রত্যাশার। সেই থেকেই জন্ম এই তৃতীয় সন্তানের। আগের বারের "পায়ে পায়ে রহস্য" র সাফল্যের পর ইয়ং ইন্সপেক্টর সৌমিলি সমাধান করে ফেলেছে আরও কিছু জটিল কেস। তারই গল্প বলতে প্রকাশিত হচ্ছে আমার তৃতীয় নতুন গল্পের বই "মৃত্যু রহস্য" এবারের কলকাতা বইমেলা ২০২৪ এ। আশা করি এই বই আমার পাঠকদের আনন্দ দেবে বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    আজকের দুনিয়ায় টেকনোলজিও যত উন্নত হয়েছে, পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিত্য নতুন অপরাধের ধরণ। একজন ইয়ং ইন্সপেক্টর কিভাবে কেসের পর কেসের কিনারা করবে, তারই বেশ কিছু ঝলক থাকবে পাঠকদের সামনে। বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    মুঠোফোনের দুনিয়ায় আমার প্রথম বই শব্দের স্বরলিপি এনে দেবে একরাশ মুক্ত বাতাস। বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • প্রতি সপ্তাহে নতুন গল্প

    গল্প পড়ার থেকে শুনতে বেশি ভালবাসেন? বাচ্ছারা রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময় গল্প শুনতে চায়? তাহলে দেরী না করে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন ইউটিউব চ্যানেলটা, আর বেল আইকন টা প্রেস করতে ভুলবেন না। আসছে প্রতি শুক্রবার রাত ৯ টায়। সঙ্গে থাকুন।

  • #ভোকাট্টা#

    চারপাশের আকাশে শুধু রঙ বেরঙের ঘুড়ি। এখনকার মত নানারকমের ক্যামেরা না থাকলেও ছবি গুলো উজ্জ্বল হয়ে থাকত স্মৃতির মণিকোঠায়। মাঝে মাঝে তারস্বরে চিৎকার, “ভো কাট্টা!

  • #অরণ্যে দুই রাত্রি#

    কথায় বলে বাঙালির পায়ের তলায় সর্ষে। কিন্তু এই বিগত দেড় বছরের করোনা পরিস্তিতিতে সবার মত তারাও হয়ে পড়েছিল ঘরবন্দি। তাই এখন একটু পরিস্তিতি ঠিক হতেই সবাই আবার বেড়িয়ে পড়েছে কাছে পিঠে। সেই রকমই একটা উইকএন্ড ডেসটিনেশনের কথা

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    মুঠোফোনের দুনিয়ায় আমার প্রথম বই শব্দের স্বরলিপি এনে দেবে একরাশ মুক্ত বাতাস। বিশদে জানতে ক্লিক করুন


Best Bangla Books to Buy in 2024

আশার আবেগ

Bengali Story|Choto Golpo Bangla|Bangla Short Story Blog|Bengali Story Reading App

asar abeg

আচ্ছা, আবেগ বলে কি আর কিছু থাকবে না। --- মাছের বাজারে ঢোকার মুখে চায়ের দোকানে তুমুল আলোচনা চলছে।
এবারে আর কারোরই তেমন উৎসাহ নেই। খেলার মধ্যে পলিটিক্স ঢুকে সব নষ্ট করে দিল। এত কোলাহল হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। একশো বছরেরও বেশি পুরোনো এই কলকাতার বড় ম্যাচ বা ডার্বি যা এই সেদিন পর্যন্ত জন্ম দিয়েছে অনেক নতুন তারকার। ঠিক আগের দিনেও স্টেডিয়ামে নেই কোনো টিকিট কেনার লাইন। নেই সেই ঐতিহাসিক উন্মাদনাও। একদিকে স্পনসরদের কম টিকিট বন্টনের চোখ রাঙানি উস্কে দিয়েছে ক্লাব সহ আই এফ এ কে। বয়কট করেছে ওই দুশো বা তিনশো টিকিটের দাক্ষিণ্য। সত্যিই তো, বিশাল এই আবেগতাড়িত সমর্থকদের ছাড়া ক্লাব গুলো কি অস্তিত্বহীন নয়? তাহলে তাদের মতামত কে অগ্রাহ্য করা কেন? তেমনই আরেক দলের নাম পরিবর্তন নিয়ে সমর্থকদের আবেগের বহিঃপ্রকাশ, যা বয়কটের চেহারা নিতে চলেছে এবার। নিউজ রিপোর্টে প্রকাশ, মাত্র কুড়ি শতাংশ সেল হয়েছে টিকিটের। যা বোধহয় ডার্বির ইতিহাসেও প্রথমবার।
কিন্তু এমন তো হওয়ার নয়। একদিকে মোহনবাগানের পর পর আট টা ম্যাচ জেতার হাতছানি, অন্যদিকে ডুবতে থাকা ইস্টবেঙ্গল দলের অন্যতম সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্লেটনের ডার্বি জেতার হুঙ্কার। দল বদলের সেই উন্মাদনা তো কবেই শেষ হয়ে গেছে। এবার কি শেষ হওয়ার পালা এই ঐতিহ্যের পরম্পরার? ইলিশ চিংড়ির লড়াইয়ের দিন কি ফিকে হয়ে এলো? আর কি বাঙাল শ্বশুরের সাথে তর্কে মাতবে না ঘটি জামাইয়ের দল? কোনো এক ঘটি বাড়ির বাঙাল বউ কি ডার্বি তে ইস্টবেঙ্গলের জয়ের আনন্দে লুকিয়ে নেচে উঠবে না সকলের আড়ালে?
ফুটবলপ্রেমীরা, এবার চোখ ফেরান প্রিমিয়ার লীগ থেকে নিজেদের ঘরের দিকে। দল মত নির্বিশেষে একজোট হোন কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার নেশায়। নাহলে দেশকে বিশ্বকাপে না দেখতে পাওয়ার হতাশার মত দেশের মাটিতে ফুটবলটাই হয়তো উঠে যাবে। ওই যে মেয়েটা নেচে উঠত সবার অলক্ষে, ওই যে ছেলেটা বস কে ঢপ মেরে প্রতিবার অফিস কাটত ডার্বি দেখার বাহানায়, সেই সব সোনালী দিনকে হত্যার আগেই রুখে দাঁড়াই সবাই। নাহলে পরবর্তী অনেক প্রজন্মের জিজ্ঞাসার কাছে রয়ে যাবে বধির এক সভ্যতা।

©️ কলমে_অয়ন
রচনা কালঃ ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
Share:

যাত্রাপথের ডায়েরি

যাত্রাপথের ডায়েরি

'ক্যান আই গেট দ্য অফার ফর কলকাতা লোকেশন?' প্রশ্নকর্তা বেশ গম্ভীর মুখে প্রশ্ন করল।
তারপর ফোনের ওপারের উত্তর শুনে বলল, 'ওহ, সার্টেনলি। প্লিজ সেন্ড দ্য মেল অ্যান্ড আই উইল কনফার্ম ইউ ব্যাক।'
গাড়ি চালাতে চালাতেই মৌসম উত্তর দিচ্ছিল। ফোনটা রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলে, 'উফ, হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। পাঁচটা থেকে ইন্টারভিউটা ছিল, কিন্তু দেরি করতে করতে ঠিক বেরোতে যাচ্ছি, তখনই কল টা করল। যাইহোক, পেয়ে গেছি মনে হচ্ছে। কি মনে হল আপনার?'
যাত্রাপথেই মৌসমের সাথে পরিচয়। ওর গাড়িতে আরো দু-তিনজনের সাথে শেয়ার করতে করতে বাড়ি ফেরা। মার্কেটিং বুলি, কার্বন এমিশন বাঁচাতে সহায়তা করছি। আদতে পয়সা সেভ করে বেশ কিছুটা আরামে ফেরা আর কি।
আমি কি আর বলি। একপেশে কথা শুনে ইন্টারভিউ কেমন হয়েছে জানতে চাওয়াটা কিছুটা ওই ব্রিজ তৈরির আগেই উদ্বোধনের দিনক্ষণ ঠিক করার মত ব্যাপার। তবুও চক্ষু লজ্জার খাতিরে আর শেষের ওই কনফার্ম শব্দের প্ররোচনায় বললাম, 'হম, সে তো বটেই। কিন্ত আপনাদের এখনকার অফিসের মত মেডিক্যাল, পার্কস যেমন তিন বেলা খাবার ইত্যাদি সেইসব পাবেন কি নতুন জায়গায়?' অদূর ভবিষ্যতে ওর ম্যানেজারের কষ্ট কিছুটা লাঘব করার উদ্দেশ্যেই মৌসমকে কিছুটা দ্বন্দ্বে ফেলার চেষ্টা করি। কিছুদিন আগে নিজের টিমের অনেকে ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট কি আর সহজে ভোলা যায়। প্রসঙ্গত বলে রাখি এখানে একমাত্র এই কোম্পানিরই এসবের সুনাম আছে, যদিও স্যালারি স্কেল টা মার্কেটের তুলনায় একটু কম।
শুনে ও বলে ওঠে, 'আরে কি যে বলেন। এখানে এরা বিশেষত এইচ আর রা আমাদের মানুষ মনে করে? জয়েন করার সময়ে এক মূর্তি আর তারপর পুরো অন্য রূপ। ঠিক যেন প্রেমিকা আর বউয়ের মত। অনেক হল, আর নেওয়া যায় না বুঝলেন।' তারপর আরো কিছুক্ষণ বলে চলল ওর কিছু দুঃখের কাহিনী আর আমিও হু হা করতে লাগলাম।
আড়চোখে দেখছিলাম, অনেকক্ষণ থেকে পিছনের সিটে বসা একজন বেশ উসখুস করছে। চোখ পড়াতে জিজ্ঞাসা করলাম, 'কিছু বলবেন?'
'আমি ওনার কোম্পানিরই এইচ আর, আর গালাগাল দেবেন না প্লিজ।'
মৌসমের অবস্থা প্রায় ছুঁচো গেলার মত। গাড়িটা সজোরে ব্রেক কষে দাঁড় করিয়ে পিছনের দিকে তাকিয়ে বলল, 'আপনি কিছু শোনেননি কিন্তু দাদা।'
**সব চরিত্র কাল্পনিক, সত্য ঘটনা অবলম্বনে

©️কলমে_অয়ন
রচনা কালঃ ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

Share:

ভ্যালেন্টাইনস ডে

 

valentines day

            সেদিন ট্রেন ধরতে গিয়ে দেখি দশ টা দশের লোকাল টা জাস্ট বেড়িয়ে গেল। এই হন্তদন্ত হয়ে এসে মুখের সামনে দিয়ে ট্রেন মিস হয়ে গেলে না ভীষণ বিরক্ত লাগে। একটু এগিয়ে শের্ডের ভিতরে গিয়ে বসতে যাব, পিছন থেকে শম্পাদি প্রায় গায়ের ওপর লাফিয়ে উঠে বলল, "কিরে, আজও ট্রেন মিস করেছিস? তোর বস তো এবার তোকে চিবিয়ে খাবে। আসতে আসতে শুনলাম পরের দুটো মেচেদাও নাকি ক্যানসেল। আমার বাপু ভালই লাগে, এইটুকু সময় ছাড়া তো আর রেস্ট পাই না"। বলেই ধপাস করে বসে পড়ল। নিজের মেদ সর্বস্ব চেহারা নিয়ে নিজেই এত হাসায় যে অন্য কেউ কিছু বলার সুযোগ পায় না।
            মানুষটা কে আমি অত টা পছন্দ না করলেও মুখের ওপর কিছুই বলতে পারি না। কি জানি, বয়সে আমার থেকে কিছুটা বড় বলে? নাকি ওর অল্প বয়সে বিধবা হওয়ার কথা জেনে? ওর প্রতি আমার একটা আলগা আশকারা আছে। আর আমার সাথেই শম্পাদির যত রাজ্যের কথা।
কবে বাড়ির ইলেকট্রিক বিল দিতে দেরি করেছিল বলে বৌদি দু কথা শুনিয়েছে, কবে পাশের বাড়ির মুন্নির পাকা দেখতে আসার সময়ে ওর উপস্থিতি কে বাঁকা চোখে দেখেছে পাড়ার লোকে। আসলে ওর স্বামী মারা যাওয়ার পর শ্বশুরবাড়ি থেকে হঠাৎ যখন বিদায় করে দিয়েছিল, তখন থেকেই পড়ে আছে বাপ মায়ের ভিটেতে। তবুও নিজের চাকরির জোর আছে বলে লোকের চোখে চোখ রেখে চলতে পারছে। নাহলে যে কি দশা হত কে জানে। তবুও দাদা বৌদির সংসারে বেরোনোর আগে পর্যন্ত যতটা পারে হাত লাগিয়ে সাহায্য করে আসে।
আমিও অনেককে শম্পাদির অনুপস্থিতিতে উপদেশ দিতে শুনেছি, "সামলে থেকো ভায়া। তোমার ওপর যে নজর পড়েছে তোমাকে বিয়েটা করতে দিলে হয়।" আমি এইসব পি এন পি সি কে পাত্তা দিয় না। আর তাই এই ট্রেন মিস করলে আমার যেন আরো অস্বস্তি লাগে। পাছে আমার জন্যে ওকে কোনো কথা শুনতে হয়।
আজ যেন ট্রেন টা বড়ই দেরি করছে। স্টেশনে যেমন বেড়ে চলেছে ভিড়, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শম্পাদির বকবক। হঠাৎ হাত ধরে বলল, "হ্যাঁ রে? প্রেম করছিস নাকি? এত অন্যমনস্ক? ভ্যালেন্টাইনস ডে'র দিন অফিস কামাই করে অ্যাপো মারার কথা ছিল নাকি রে?" বলেই চোখ মারে মুচকি হাসতে হাসতে।
বলে উঠলাম, "তাতে তোমার এত জ্বলছে কেন? নিজের বয়স তো গেছে, এবার লোকজনের পার্সোনাল জীবনে ঢোকাটা কি বন্ধ করা উচিত নয়?"
হঠাৎ যেন উজ্জ্বল চোখ গুলো মরচে পড়া বাল্বের মত নিভে গেল। আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কেমন যেন অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল। আমিও ঠিক বুঝলাম না, কেন করলাম এই ঝটিকা আক্রমণ? আমার নিজের প্রেমহীন জীবনের ফ্রাস্ট্রেশনটা ঝেড়ে দিলাম অন্যের ওপর। আরেকবার ওর পাড়ার লোকগুলোর মতই করলাম অপমান।
দুম করে দমকা বাতাস বইয়ে ট্রেন ঢুকল প্ল্যাটফর্মে। সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ল ট্রেনের পেটে ঢুকবে বলে। ট্রেনটা চলতে শুরু হতেই হঠাৎ আর্তনাদ। কেউ বলছে চেন টানুন, কেউ বলছে ভিতরে তুলুন। সহসা একটা হেঁচকি তুলে দাঁড়িয়ে পড়ল ট্রেনটা। আমার মতই যারা প্রায় বাইরের দিকেই ছিল নেমে দাঁড়ালাম পরিস্থিতি বোঝার জন্যে।
প্ল্যাটফর্মে নামতেই পা টা যেন আটকে গেল। ধরাধরি করে বডিটা বের করে আনছে লোকে। চোখ দুটো এক দৃষ্টে খোলা শম্পাদির। যেন আমার দিকেই তাকিয়েই বলতে চাইছে, আজকের দিনে এমন অপমান আর নিতে পারলাম না রে রজত। ভালো থাকিস।

©️ কলমে_অয়ন
রচনা কালঃ ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
Share:

কিস_কা_কিস্_সা

Kiss Day

কিরে, অফিস থেকে ফিরেই তোর এমন মুখ ভার কেন? পুষি কে কোলে নিয়ে বলল তিন্নি।
আর বলিস না, মার্চ আসছে। সবাই এমন গ্যালন গ্যালন তেল নিয়ে উপুড় করে দিচ্ছে যে আদানিও লজ্জা পেয়ে যাবে। আর সেই তেলের হড়কানি তে আমাদের ম্যানেজার বাবুর অবস্থা টাইট। বেরোনোর আগে আমাকে কেবিনে ডেকে বলল, 'অর্ক, এবারেও তোমার অনসাইট টা হবে না। ক্লায়েন্ট এখুনি নতুন রিসোর্স চাইছে না। তাই পুরোনো দের মধ্যে সাম্যই যাচ্ছে নেক্সট উইক। বাট, আই অ্যাম প্রাউড অফ দ্য ওয়ার্ক।'
তুই জানিস কত খেটেছিলাম এটার জন্য। শুনে এমন মাথা গরম হয়ে গেল যে দুম করে দরজা বন্ধ করে বেরিয়ে সোজা বাড়ি এলাম।
তিন্নি এসে পিছন থেকে জড়িয়ে একটা চুমু খেয়ে বলে উঠল, এবার মুড টা ঠিক করে নে।
'প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া এই দেশে অপরাধ' - নচিকেতার সেই বিখ্যাত লাইন টা মনে নেই তোর?
'সে তো মনেই আছে, কিন্তু ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে থেকে তুই প্রকাশ্যের লজিক টা একটু বুঝিয়ে বলবি?'
'তুই যে পুষির সামনে এইসব করছিস? বেড়াল বলে কি মানুষ নয়? এত ইগনোরেন্স?' বলেই হাসতে থাকে অর্ক
তিন্নিও হেসে ওঠে। অর্কর এই মজার অ্যাট্রাকশনেই তো প্রেমে বিভোর হয়ে গিয়েছিল ও। কিন্তু আজকাল একটা অপরাধ বোধ কাজ করে ওর মনে। এতদিনে তো একটা ফুটফুটে শিশুকে আদর করার কথা ছিল ওর। পাঁচ পেরিয়ে ছয় হতে চলল ওদের বিয়ের। দুজনের কারোর কোনো সমস্যা না থাকলেও এখনও মা হতে পারেনি ও। এইসব ভাবলেই ওর মনে হয় অর্ক কে ও বোধহয় পূর্ণাঙ্গ ভালোবাসার স্বাদ দিতে পারছে না। হয়তো অন্য কাউকে বিয়ে করলে পিতৃত্বের পরশ পেত অর্ক। তাই তো এত বেশি এই বেড়ালদের নিয়ে জড়িয়ে থাকে ও। এভাবেই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে চায় তিন্নিও।
তিন্নির এই হঠাৎ হঠাৎ চুপ করে যাওয়ার সাথে বেশ পরিচিত অর্ক। এটা বেশ বছর খানেক ধরেই বাড়ছে আসতে আসতে। তাই পরিচিত এক ডক্টর বন্ধুর পরামর্শে একটা ডিসিশন নিয়েছিল বেশ কিছুদিন আগেই। আজ অফিস থেকে রাগ করে বেরিয়ে ওটার কাজটাই শুরু করে এসেছে। এতদিন একটা দোনামোনা ছিল, কেরিয়ার না ফ্যামিলি, কাকে প্রায়োরিটি দেবে। কিন্তু আজকের রিজেক্টশানটা ওর দ্বিধা কাটিয়ে দিতে সাহায্য করেছে। মনের ভিতরে একটা আশঙ্কা ছিলই যে তিন্নি কে বলবে কিভাবে। ভেবে দেখল, এখনই যথাযথ সময়।
পিছন থেকে তিন্নিকে জড়িয়ে ধরে হাতে তুলে দিল অ্যাডপ্টশনের সব ফরমালিটিসের পেপার। এক মুহূর্তেই মুখটা হাসিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে তিন্নির। ধীরে ধীরে দুজনে আসতে থাকে আরও কাছে। দুজনের ঠোঁট মিশে যায় দুজনায়।

©️কলমে_অয়ন
রচনা কালঃ ১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩





 

Share:

হাগ ডে

 

হাগ ডে

হোয়াটসঅ্যাপে নোটিফিকেশনটা ঢুকতেই ফোনটা খুলল সুমনা। এই সময়েই রানীর স্কুলের পুল কার ছেড়েছে কি তার আপডেট আসে। সেটা আবার জানাতে হয় মিশ্র মাসি কে। মিশ্র মাসি সেই রানীর আঁতুড় থেকেই এই বাড়িতে রয়ে গেছে কিন্তু এখনও মোবাইলে তেমন সড়গড় নয়। ফোনে মাসিকে কল করে পেল না ও। অনেক সময়েই এটা হয়ে থাকে কিন্তু এই টাইমে কল এলে মাসি বুঝে যায় যে মেয়েকে আনার কল। সেই মতো রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়ে বাস স্ট্যান্ডের উদ্দেশ্যে। তাই ফোনে না পেলেও অত ব্যস্ত হয় না সুমনা। একটা মিটিংয়ে যাওয়ার তাড়ায় ফোনটা ডেস্কে ফেলেই চলে গেল কনফারেন্স রুমে।
বার বার ফোন করে দুজনের কাউকেই ফোনে পাচ্ছে না অভি। এই এক জ্বালা আজকাল, আবার পল্টুদাকে জানাতে হবে। কিছুক্ষণ টাইম নষ্ট হবে আজ। ময়না কে নিয়ে একটু বেরোবে ভেবেছিল, তার আর টাইম পাবে না মনে হচ্ছে। সবাই যে দুজনেই চাকরি করে কেন কে জানে। আর চাকরি করুক, কিন্তু বাচ্চার দায়িত্ব টা নেবে তো ঠিক করে।
এইসব ভাবতে ভাবতেই পল্টুদার ফোন। ও ফোনে পায়নি রানীর বাবা মাকে। বলল, কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বাড়ির কেউ না আসা পর্যন্ত।
ধুর, আবার ময়না কল করছে। আরে সেই সময়ে হঠাৎ দেখা পাড়ার চন্দনদার সাথে। একথা ওকথার মাঝে চন্দনদাই সব শুনে বলে আমি আছি এখানে। তুই যা যেখানে যাবি, এই কিছুক্ষণ আমি ম্যানেজ করে নেব। অভি বলে দেখো কিন্তু, আমার চাকরির ব্যাপার। এইসব জিনিসে পল্টুদার একদম মাথা ভরা রাগ।
মিটিং থেকে ফিরেই সুমনা দেখে গুচ্ছ গুচ্ছ মিসড কল। প্রথমে কল করে মিশ্র মাসিকে, কিন্তু পায় না। তারপর ফোন লাগায় অভি কে। ওকেও ফোনে পায় না। এবার একটু টেনশন হতে থাকে ওর। ফোন লাগায় পল্টুদাকে, কিন্তু উনি জানান অভি আছে ওখানে। কিন্তু অভি কে তো পায় নি ফোনে। ও এরপর ফোন লাগায় সম্রাট কে। সম্রাট ও সবে মিটিং থেকে বেরিয়েছে। ও তাড়াতাড়ি অফিস থেকে বেরোতে চায়। কিন্তু সুমনার অফিস কাছে বলে ওকে আসতে বারণ করে।
বেরিয়ে এসেই ট্যাক্সি ধরেই বাড়ির দিকে ফিরতে থাকে। আর কল করতে থাকে অভি কে। ফাইনালি পেয়ে যায় ওকে। কিন্তু ও ওখানে না থাকার কথা বলায় মাথার ঠিক থাকে না সুমনার। যা নয় তাই বলে ওকে। কিন্তু ভিতরে ভিতরে প্রচণ্ড ভয় জড়িয়ে ধরে ওকে। অভি ওকে শান্ত হতে বলে কনফারেন্স কলে নেয় চন্দনদাকে। কিন্তু চন্দনদা এবার বাউন্সার দেয় ওদেরকে। বলে, একজন লোক এসে ওকে বলে নিয়ে গেল ওই সামনের মিষ্টির দোকানে। চন্দনদা ভেবেছে চেনে বাচ্চা টাকে। তাই ওখান থেকে চলে এসেছে।
ট্যাক্সি টা থামার আগেই প্রায় লাফিয়ে নেমে পড়ে সুমনা। ছুটতে ছুটতে যেতে থাকে দেশপ্রিয় মিষ্টান্ন ভান্ডারে। গিয়েই দেখতে পায় রানী কে। ফ্ল্যাটের নিচের আয়রন ওয়ালার ছেলেটার সাথে বসে মিষ্টি খাচ্ছে। সুমনা যেতেই বলে, তোমাদের মাসি বেরোতে গিয়ে পড়ে গেছে গো। তাই আমাকে দেখে ওকে একটু আনতে বলে, মাসি নিচেই বসে আছে বোধহয়।
সুমনার কিছুই কানে যাচ্ছে না। চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে অবিরাম জল। আর বুকের ভেতর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে রানী কে।

©️কলমে_অয়ন
রচনা কালঃ ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
Share:

মোট পৃষ্ঠাদর্শন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.