ছোট গল্পের সন্ধানে || কলমে অয়ন

  • বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

    আনন্দ, উদ্বেগ আর প্রত্যাশার গণ্ডি পেরিয়ে চতুর্থ বারের জন্য অপেক্ষা দায়িত্বের। সেই দায়ভার থেকেই জন্ম এই চতুর্থ সন্তানের। আগের বারের "মৃত্যু রহস্য"র পর ইয়ং ইন্সপেক্টর সৌমিলির ডাক পড়েছে এক জটিল সমস্যার সমাধানে। গ্রাম বাংলার এক সুন্দর প্রকৃতির প্রেক্ষাপটে ঘটে চলেছে অদ্ভুত সব ঘটনা। যাকেই সে সন্দেহের তালিকায় আনছে, হঠাৎ করে সে-ই খুন হয়ে যাচ্ছে। সৌমিলি কি পারবে এই কেস সলভ করতে❓ তারই গল্প বলতে প্রকাশিত হচ্ছে আমার চতুর্থ বই "আই ক্যান্ডি" এবারের কলকাতা বইমেলা ২০২৫ এ ক্লিক করুন

  • বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

    প্রথম বারের আনন্দ আর দ্বিতীয় বারের উদ্বেগের গণ্ডি পেরিয়ে তৃতীয় বারের জন্য অপেক্ষা প্রত্যাশার। সেই থেকেই জন্ম এই তৃতীয় সন্তানের। আগের বারের "পায়ে পায়ে রহস্য" র সাফল্যের পর ইয়ং ইন্সপেক্টর সৌমিলি সমাধান করে ফেলেছে আরও কিছু জটিল কেস। তারই গল্প বলতে প্রকাশিত হচ্ছে আমার তৃতীয় নতুন গল্পের বই "মৃত্যু রহস্য" এবারের কলকাতা বইমেলা ২০২৪ এ। আশা করি এই বই আমার পাঠকদের আনন্দ দেবে বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    আজকের দুনিয়ায় টেকনোলজিও যত উন্নত হয়েছে, পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিত্য নতুন অপরাধের ধরণ। একজন ইয়ং ইন্সপেক্টর কিভাবে কেসের পর কেসের কিনারা করবে, তারই বেশ কিছু ঝলক থাকবে পাঠকদের সামনে। বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    মুঠোফোনের দুনিয়ায় আমার প্রথম বই শব্দের স্বরলিপি এনে দেবে একরাশ মুক্ত বাতাস। বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • প্রতি সপ্তাহে নতুন গল্প

    গল্প পড়ার থেকে শুনতে বেশি ভালবাসেন? বাচ্ছারা রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময় গল্প শুনতে চায়? তাহলে দেরী না করে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন ইউটিউব চ্যানেলটা, আর বেল আইকন টা প্রেস করতে ভুলবেন না। আসছে প্রতি শুক্রবার রাত ৯ টায়। সঙ্গে থাকুন।

  • #ভোকাট্টা#

    চারপাশের আকাশে শুধু রঙ বেরঙের ঘুড়ি। এখনকার মত নানারকমের ক্যামেরা না থাকলেও ছবি গুলো উজ্জ্বল হয়ে থাকত স্মৃতির মণিকোঠায়। মাঝে মাঝে তারস্বরে চিৎকার, “ভো কাট্টা!

  • #অরণ্যে দুই রাত্রি#

    কথায় বলে বাঙালির পায়ের তলায় সর্ষে। কিন্তু এই বিগত দেড় বছরের করোনা পরিস্তিতিতে সবার মত তারাও হয়ে পড়েছিল ঘরবন্দি। তাই এখন একটু পরিস্তিতি ঠিক হতেই সবাই আবার বেড়িয়ে পড়েছে কাছে পিঠে। সেই রকমই একটা উইকএন্ড ডেসটিনেশনের কথা

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    মুঠোফোনের দুনিয়ায় আমার প্রথম বই শব্দের স্বরলিপি এনে দেবে একরাশ মুক্ত বাতাস। বিশদে জানতে ক্লিক করুন


Best Bangla Books to Buy in 2024

#সরস্বতী দিবস#

ফোন টা রেখে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন মিসেস রুমি। তাহলে কি প্রায় পঞ্চাশ বছরের এত ঝড় সামলেও এবার শেষ হয়ে যাবে এতদিনের তিল তিল করে বানানো মানুষ গড়ার নেশা! শেষ ছয় মাসে অনেক ছোটাছুটি করেও তো কিছুই বিশেষ লাভ হলনা। হাওড়া শহরের অন্যতম পুরোনো ইংলিশ মিডিয়াম প্রি স্কুল, ক্লাস সেভেন পর্যন্ত থাকলেও মূলত নামডাক ছিল শিশুদের প্রথম জ্ঞান পিঠের ঠিকানা হিসেবেই। এখান থেকে পড়ে আগে যেমন সব নামকরা জেলা স্কুলে চান্স পাওয়া ছিল জলবৎ তরলং, তেমনই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এখন কলকাতা হাওড়ার যেকোনো ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলেই চান্স পেয়ে যায় বাচ্চারা। 

ব্যাংক ম্যানেজারের ফোন ছিল, তৃতীয় বারের জন্য লোন এর কিস্তির টাকা দেওয়া হয়নি বলে এবার হয়তো ডিফল্টার হতে হবে বলে জানালেন। এই লকডাউনের কিছু আগেই স্কুল লাগোয়া জমিতে বিল্ডিং তৈরী শুরু হয়েছিল যাতে ক্লাস টেন পর্যন্ত আপ্রুভাল করানো যায় স্কুল টা। তার জন্যই নেওয়া এই লোনটা। প্রায় এগারো মাস স্কুল বন্ধ, অনলাইন শিক্ষার পরিকাঠামো না থাকার কারণে লকডাউনের প্রথম মাস থেকেই অভিভাবকদের থেকে ফি না নেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন মিসেস রুমি। দ্য লিটল টটস্ স্কুলের রেক্টর। ঠিকই শুনেছেন, অন্য বড় বড় স্কুল যখন অনলাইন ক্লাসের নামে ফি বাড়িয়েছে, সেখানে উল্টো দিকে হেঁটে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তিনি। আসলে প্রথম থেকেই উনি ছিলেন সৎ ও নিষ্ঠার প্রতীক। এই দুঃসময়ে চেষ্টা করেছেন অভিভাবক, সহকর্মীদের হাতে হাত ধরে পার করতে। এতদিন টিচারদের মাইনে ও আনুষঙ্গিক খরচের পর জমানো পুঁজি ও শেষ, ভাবলেন এবারে তাহলে বসত বাড়িটা বন্ধক দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে, তাতে হয়তো আরো কয়েকমাস টানা যাবে তো। এরমধ্যে যদি সব নরমাল হয়ে যায়। এইসব ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে গেলেন তিনি। স্বপ্নে ফিরে গেলেন সেই বছর পঞ্চাশ আগের স্কুল প্রতিষ্ঠার দিনটিতে।

দৃশ্য দুই: রিমলিদের অনলাইন আড্ডা, থাকে কৌশিক জার্মানী থেকে, সুবোধ দিল্লী থেকে, সুজয় নিউইয়র্ক, রোজা ও রূপ কলকাতা থেকে। ওদের মূল উদ্যোক্তা রিমলি লকডাউনের সময় থেকেই আটক হাওড়ার বাড়িতেই, সেখান থেকেই চলছিল ওয়ার্ক ফ্রম হোম। আর পাঁচটা বাঙালি গ্রুপের মত এরা বছরে একটি বার মিট করত দুর্গাপুজোর সময় নয়, সরস্বতী পুজোর দিন। তাও সেটা হতে চলল সেই ২০০২ থেকে। কারণ টা একটু অন্যরকম, ওই বছরের পুজোয় রূপ রোজা কে প্রোপোজ করেছিল, যদিও এখন প্রায় ৮ বছরের বিবাহিত জীবন ওদের। আসলে বছর কুড়ি আগে এটাই ছিল বাঙালির ভ্যালেন্টাইনস ডে। প্রতি বছর ওই দিন ওরা পুরোনো স্কুলে ঘুরে যেত। এবারের করোনা আবহে ওদের মিট টা তো হবে না, তাই অনলাইন কোনও অনুষ্ঠান করার প্ল্যান করছিলো ওরা। তার জন্যই এই উইকএন্ডে জড়ো হয় ওরা অনলাইন আড্ডায়। আর সরস্বতী পুজোর বাকি দুই সপ্তাহ। যদিও আজকের মিড উইক মিটের জরুরি তলব রিমলির। 

রিমলি বলে, ওর খুড়তুতো দাদা যে ব্যাংকের ম্যানেজার, তার থেকে শুনেছে ওদের ছেলেবেলার প্রথম স্কুলের অবস্থার কথা, কি করা যায় বলত সবাই মিলে? কৌশিক একটা ফান্ড রেইজারের কথা বলে। রূপ বলে, মিসেস রুমিকে ফোন করে জানবে অবস্থাটা। আসলেই ওরা দুজন প্রতি বছর দেখা করতে যায় মিস এর সাথে, তাই নাম্বার টা আছে রূপের কাছে। রোজা বলে, ওনাকে না বলেই যা ব্যবস্থা করার করতে হবে, নাহলে উনি যা আত্মমর্যাদা সম্পন্ন মহিলা, আমাদের সাহায্য হয়তো নিলেন না। সুজয় একমত হয় রোজার কথায়, আজই ফান্ড জোগাড় করা শুরু করতে হবে। 

দৃশ্য তিন: মিসেস রুমি আজ বিধ্বস্ত, আগামীকাল সরস্বতী পুজো, এই প্রথম ওর স্কুলে পুজো হচ্ছে না। আজ বাড়ির সব কাগজপত্র ব্যাঙ্কে দেখিয়ে উকিলের সাথে ফাইনাল কথা বলে এসেছেন। পুজোর পরেই সব ব্যবস্থা করে ভাড়া বাড়িতে চলে যাবেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর এই প্রথম আরেকবার মৃত্যু চিন্তা আসছে মনে, সন্তান স্নেহে বড় করা স্কুলে আরেকবার যাবেন কাল সন্তানহীন দম্পতির মত।

আজ সরস্বতী পুজো: রূপ রোজা ও রিমলি মিলিত হল স্কুলের মাঠে। দেখে, টিচারস্ রুমের একা বসে আছেন মিসেস রুমি। ওরা এগিয়ে গিয়ে প্রণাম করে হাতে তুলে দেয় ১০ লাখের চেক। মিসেস রুমি বললেন, এসব কি? রূপ সেটআপ করতে থাকে সদ্য কিনে আনা ডেস্কটপ টা, ছেলেবেলার মিস কে বলে, আজ যা কিছু করতে পেরেছি এই স্কুল আর আপনার মতো শিক্ষকদের জন্যই। এটুকু ফিরিয়ে দেওয়া তো আমাদের কর্তব্য। তারপর নিজের ল্যাপটপ খুলে কানেক্ট করে বাকিদের। সংযোগ করে প্রজেক্টার আর ডিসপ্লে হয় বীণাপানির আরাধনা। পূর্ব পরিকল্পনা মতো সমস্ত প্রাক্তনীরা জুড়ে আছে স্ক্রিন, মাঝে রিমলিদের বাড়ির পুজোর লাইভ। সবাই ফিরে যায় ছোট বেলার স্মৃতির সরণিতে। রাশভারি মিসেস রুমির চোখ দিয়ে ঝরঝর করে জল পড়তে থাকে। সমস্বরে রব ওঠে, লং লিভ দ্য লিটল টটস্। হিপ হিপ হুররে!!!©Ayan


Share:

মোট পৃষ্ঠাদর্শন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.