ছোট গল্পের সন্ধানে || কলমে অয়ন

  • বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

    আনন্দ, উদ্বেগ আর প্রত্যাশার গণ্ডি পেরিয়ে চতুর্থ বারের জন্য অপেক্ষা দায়িত্বের। সেই দায়ভার থেকেই জন্ম এই চতুর্থ সন্তানের। আগের বারের "মৃত্যু রহস্য"র পর ইয়ং ইন্সপেক্টর সৌমিলির ডাক পড়েছে এক জটিল সমস্যার সমাধানে। গ্রাম বাংলার এক সুন্দর প্রকৃতির প্রেক্ষাপটে ঘটে চলেছে অদ্ভুত সব ঘটনা। যাকেই সে সন্দেহের তালিকায় আনছে, হঠাৎ করে সে-ই খুন হয়ে যাচ্ছে। সৌমিলি কি পারবে এই কেস সলভ করতে❓ তারই গল্প বলতে প্রকাশিত হচ্ছে আমার চতুর্থ বই "আই ক্যান্ডি" এবারের কলকাতা বইমেলা ২০২৫ এ ক্লিক করুন

  • বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

    প্রথম বারের আনন্দ আর দ্বিতীয় বারের উদ্বেগের গণ্ডি পেরিয়ে তৃতীয় বারের জন্য অপেক্ষা প্রত্যাশার। সেই থেকেই জন্ম এই তৃতীয় সন্তানের। আগের বারের "পায়ে পায়ে রহস্য" র সাফল্যের পর ইয়ং ইন্সপেক্টর সৌমিলি সমাধান করে ফেলেছে আরও কিছু জটিল কেস। তারই গল্প বলতে প্রকাশিত হচ্ছে আমার তৃতীয় নতুন গল্পের বই "মৃত্যু রহস্য" এবারের কলকাতা বইমেলা ২০২৪ এ। আশা করি এই বই আমার পাঠকদের আনন্দ দেবে বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    আজকের দুনিয়ায় টেকনোলজিও যত উন্নত হয়েছে, পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিত্য নতুন অপরাধের ধরণ। একজন ইয়ং ইন্সপেক্টর কিভাবে কেসের পর কেসের কিনারা করবে, তারই বেশ কিছু ঝলক থাকবে পাঠকদের সামনে। বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    মুঠোফোনের দুনিয়ায় আমার প্রথম বই শব্দের স্বরলিপি এনে দেবে একরাশ মুক্ত বাতাস। বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • প্রতি সপ্তাহে নতুন গল্প

    গল্প পড়ার থেকে শুনতে বেশি ভালবাসেন? বাচ্ছারা রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময় গল্প শুনতে চায়? তাহলে দেরী না করে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন ইউটিউব চ্যানেলটা, আর বেল আইকন টা প্রেস করতে ভুলবেন না। আসছে প্রতি শুক্রবার রাত ৯ টায়। সঙ্গে থাকুন।

  • #ভোকাট্টা#

    চারপাশের আকাশে শুধু রঙ বেরঙের ঘুড়ি। এখনকার মত নানারকমের ক্যামেরা না থাকলেও ছবি গুলো উজ্জ্বল হয়ে থাকত স্মৃতির মণিকোঠায়। মাঝে মাঝে তারস্বরে চিৎকার, “ভো কাট্টা!

  • #অরণ্যে দুই রাত্রি#

    কথায় বলে বাঙালির পায়ের তলায় সর্ষে। কিন্তু এই বিগত দেড় বছরের করোনা পরিস্তিতিতে সবার মত তারাও হয়ে পড়েছিল ঘরবন্দি। তাই এখন একটু পরিস্তিতি ঠিক হতেই সবাই আবার বেড়িয়ে পড়েছে কাছে পিঠে। সেই রকমই একটা উইকএন্ড ডেসটিনেশনের কথা

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    মুঠোফোনের দুনিয়ায় আমার প্রথম বই শব্দের স্বরলিপি এনে দেবে একরাশ মুক্ত বাতাস। বিশদে জানতে ক্লিক করুন


Best Bangla Books to Buy in 2024

অলির মিঠে বুলি

#অলির মিঠে বুলি#

আমি অলি। আমার বয়স দশ। তাই বলে আমাকে ছোট ভাববে না। এই করোনার দেড় বছরে আমি আমার বয়সের তুলনায় অনেক বড় হয়ে গেছি। তবে আমার মনে হয় এই সময়ে আমরাই মানে বাচ্চারাই সব থেকে কষ্টে আছি। বড়রা তবু ভ্যাকসিন পেয়েছে, এদিক ওদিক কাজে অকাজে বেরোতে পারছে। আমরা তো পুরোপুরি গৃহবন্দী। প্রথম প্রথম বেশ ভাল লাগত জানোপড়াশোনা নেই, বাবা মা ও সারাদিন আমার কাছে। আমাদের মত যাদের বাবা মা দুজনেই চাকরি করে, তাদের তো হাতে চাঁদ পাওয়ার মত ব্যাপার। সারাদিন বাবার সাথে কত মজার মজার খেলা, মায়ের ও বাড়ি থেকেই কাজ, কি যেন বলে ওয়ার্ক ফ্রম হোম। তারই মাঝে আমাদের জন্য অনেক ভাল ভাল খাবার দাবারের আয়োজন করত। দুপুরে একসাথে বসে তিনজনে লাঞ্চ করা, আগে যা রবিবার ছাড়া হতোই না, বেশ ভালোই কাটছিল দিন গুলো জানো। কিন্ত মাঝে মাঝে টিভিতে নিউজ দেখে মা বাবা যখন গম্ভীর মুখে বসে থাকত, আমি পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলে আবার হাসিমুখ হয়ে যেত দুজনের। কিন্তু আমি লুকিয়ে শুনেছি, এরকম বেশিদিন চললে বাবাকে নাকি অফিস থেকে বের করে দেবে। আমি একদিন শুয়ে শুয়ে মাকে জিজ্ঞাসা করি, "আমরা কি তাহলে গরীব হয়ে যাব শেফালী পিসির মত।" ওহ! শেফালী পিসি কে চেনো না, আমার মাকে যে সকালে হেল্প করে। আমার ঠাম্মি কাজের লোক বলত, মা আমাকে শিখিয়েছে ডোমেস্টিক হেল্প বলতে। আসলে ও সকাল থেকে মাকে হেল্প করতো বলেই না মা বাবার অফিস যাওয়ার আগে খাবার বানিয়ে, আমার টিফিন গুছিয়ে সব রেডি করতে পারত। মা আমাকে আদর করে বলত, "দূর বোকা, তোর বাবা না গেলেও আমি চাকরি করি তো, তোকে ঠিক যত্নে রাখতে পারব।" প্রথম প্রথম আমার প্রিয় গান, নাচ, আবৃত্তি করতাম আর বাবা রেকর্ড করে ফেসবুক, ইউটিউবে দিত। সবাই কত প্রশংসা করতো আমার। খুব খুশি হয়ে যেতাম আমি। দাদান, দিদুনরা ফোন করলেও কত গল্প করতাম। 

তখন তো আর শেফালী মাসি আসত না। মায়েরও কিছুদিন পর থেকে কাজের চাপ বাড়তে লাগলো, আমার জন্য সময় গেল কমে। আমারও আসতে আসতে অনলাইন ক্লাস শুরু হল। সকাল থেকে ক্লাস, তারপর স্কুলের পড়া, খাওয়া দাওয়া করা, একঘেয়ে হয়ে যেতে লাগলো সবকিছু। বন্ধুদের দেখতে পেলেও কথা বলা যাবে না, ম্যাম বলবেন, ডোন্ট শাউট। স্কুলের মত টিফিন ভাগ করা যাবে না, বাইরে খেলাধুলো করা যাবে না, আর এই সব কিছুতে না শুনতে শুনতেই আসতে আসতে মন খারাপ হওয়া শুরু। বাবার অফিস শুরু হলে বাবা প্রায় রোজ বেরতে লাগলো। মা সব কিছু করে আমার সাথে টাইম দিতে পারত না আর। আমাকে নিজে নিজে খেলতে বলত। আচ্ছা বল তো, মা বাবা কি ছোটবেলায় একা একা খেলত? বাড়ির মধ্যে তাও আবার বন্ধুদের ছাড়া খেলা যায় নাকি? তাও আবার কিছুদিন নয় প্রায় মাস ছয়েকের বেশি। ধীরে ধীরে নিজের জন্য টাইম থাকলেও কিছু করার ইচ্ছাটাই কমে গেল। আর কিছু করতেই ভাল লাগতো না কিছুদিন পর থেকেই। আমার প্রিয় আঁকা, গল্পের বই পড়া সবই বন্ধ করে দিলাম। টিভির প্রতি আকর্ষণ বাড়ল কিছুদিন, কিন্তু সেটাও বেশিদিন ভাল লাগলো না। মাঝে মধ্যেই জেদাজেদি করে বাবা মায়ের কাছ থেকে বকুনি খেতে লাগলাম। কখনো কখনো জুটল মারও। আমিও আগের থেকে অনেক বেশি অভিমানী হয়ে গেলাম। বাবা মার কবে যে অফিস খুলবে বা আমারই যে কবে স্কুল খুলবে সেই চিন্তা করতে লাগলাম। কখনো আবার বলেও ফেললাম মাকে। আমার এটা বলে খুব কষ্ট হত জানো, কিন্তু তাও বলতাম যখন মা আমাকে অফিসের কাজের জন্য টাইম দিতে পারত না। খুব রাগ করতাম মা বাবার ওপর। মুখে মুখে কথা বলতে শুরু করলাম, পড়াশোনায় একদম মন বসত না আর। আমি বুঝতে পারছিলাম, বাবা মা আমাকে খুব খারাপ ভাবে এখন। সামনে না করলেও অনেক সময় দাদু দিদানের কাছে মন খারাপ করে মা। আমাকে নিয়ে বাবা মায়ের মধ্যে ঝগড়াও হয় মাঝে মাঝে। কখনো কখনো মাকে জড়িয়ে কেঁদে ফেলি আজকালমা ও বোঝে আমার মনের কথা, তাই সুযোগ পেলেই বাবার সাথে ঝগড়া করেও এদিক ওদিক টুকটাক নিয়ে বেরোয় মাঝে মাঝে। তবে, আবার এই তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় আমাকে আগলানোর জন্যই ওরা চারপাশ থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে আমায়। এই পরিস্থিতি আমাকে যেন বড় করে দিয়েছে অনেকটা, মানসিকভাবে। আসলে করোনা আমাদের শুধু যে শারীরিক ক্ষতি করেছে তা তো নয়, বরং মনের ক্ষতিই করেছে বেশি। ঠাম্মি বলে, যত বাঁধা আসবে তত তুমি কঠিন হবে, তত তুমি এগিয়ে যাবে। তাই আমার মত ছোট্ট বন্ধুরা, আজ থেকে আর দুঃখ করব না আমরা। এই পরিস্থিতির মধ্যেই এগিয়ে যেতে হবে আমাদের, খুশি থাকতে হবে, আনন্দ করতে হবে। ভেবে দেখ তো, আমাদের মত অনেকেরই বাবা মা হয়ত করোনায় মারা গেছে, কারোর আপনজন হয়ত চলে গেছে পৃথিবী ছেড়ে, কেউ হয়ত আর স্কুলে পড়তে পারছে না তাদের বাবার চাকরি চলে গেছে বলে। তাদের সবার থেকে তো অনেকগুণ ভালো আছি আমরা। এই কিছুদিন তাই না পাওয়া গুলোকে ডায়রিতে লিখে রাখি, যাতে পরে যখন এগুলো আবার সহজে পেয়ে যাব তখন তাদের কদর করবো আরও বেশি।

তাই আজ থেকে মন খারাপ করলেই আমি আবার বাবা মা কে জড়িয়ে ধরবো, আদর করবো। কারণ যতই তাদের সঙ্গে রাগ করি, ঝগড়া করি, তবুও আমি এদের ছাড়া চলতে নাহি পারি।

©Ayan

রচনার তারিখ: ২৫ শে অগাস্ট ২০২১
Share:

#আজব প্রেম#


            দিনকাল তখন ফেসবুক টুইটারের বেড়াজালে আটকে ছিল না। ছিল না শুধু শরীর সর্বস্ব ভালবাসা। স্কুল ফেরতা পথে তার এক পলক চাহনির ঝলক পেতে কাটিয়ে দেওয়া যেত অনেক পড়ন্ত বিকেল, যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অজানা থাকতো সম্পর্কের অভিমুখ। তবুও ওই ফেলে আসা জীবনের আনন্দ অনেককেই আজও করে তোলে স্মৃতিমেদুর।

            এরকমই এক সময়ের গল্প বলব আজ। সময়টা ১৯৯৯ সাল, তরুণ ছিল এক প্রাণ চঞ্চল ছেলে, যেকোনো পাড়ার লোকের বিপদে আপদে এক ডাকে চলে আসত নিজের দলবল নিয়ে। পড়াশোনায় বিশেষ মনোযোগ ছিল না কোনোদিনই। যদিও পরোপকার করতে গিয়ে মানে এর নোট্‌স ওর কাছে পৌঁছে দিতে গিয়ে সব কিছুই পেয়ে যেত কোন মন্ত্রবলে। তাই চিরকাল হামাগুড়ি দিয়ে পাস করে গেলেও ফেলের চৌকাঠ মাড়াতে হয়নি ওকে। তা এই তরুণ অন্য টিউশান মিস করলেও বাংলা টিউশান কোনোদিন মিস করতো না, বিশেষত নাইনের পর থেকে। উঁহু, ভাববেন না যে সামনে মাধ্যমিক বলে ও পড়ায় মনোযোগী হয়েছিল। আসলে, নাইন থেকে টিউশানে ভর্তি হয় শম্পা, যার প্রতি ও নাকি প্রথম দিন থেকেই ফিদা ছিল। কিন্তু, ওই যে বললাম, তখন দিনকাল এমন ছিল যে, বাড়ির লোকের হাতে প্যাঁদানি খাওয়ার আগেই টিচার, পাড়ার কাকা-জ্যাঠা আর যে যে পারত হাতের সুখ করে নিত। আর তারপর স্পেশাল ডিশ হিসাবে জুটত বাবা-মা এর হাতের মার।   

            তো সেই তরুণের বন্ধুর কোন অভাব ছিল না। বন্ধুরাও তরুণের জন্য প্রায় জান হাজির টাইপ। আসতে আসতে বন্ধুদের দ্বারা খোঁজ নিতে নিতে শম্পার সাথে সেম অঙ্কের কোচিনেও ঢুকে গেল সে। পড়ার প্রতি মনোযোগ না বাড়লেও শম্পার প্রতি মনোযোগ ও আকর্ষণ বাড়তে লাগলো তরুণের। তরুণের মা ওকে স্কুলে সাইকেল নিয়ে যেতে দিত না বাস রাস্তা দিয়ে যেতে হত বলে। কিন্তু বন্ধুবৎসল তরুণ জুটিয়ে নিত রোজই কারো না কারোকে যার সাথে সাইকেল চেপে ফিরত স্কুল থেকে। অবশ্য জি টি রোড ধরে না এসে ভিতরের রাস্তা ধরে ফিরত আদর্শ বালিকার পাস দিয়ে। ওহ বলতে ভুলে গেছি, আদর্শ বালিকা হল ওই সময়ের সেরা মেয়েদের স্কুল, ডানাকাটা পরীরা পড়ত সব ওখানে, পড়াশোনা, নাচ গান, সবকিছুতেই চৌখস। শম্পাও পড়ত ওই স্কুলেই, তাই ফেরার পথে বিভিন্ন জায়গায় ঠেক মেরে এক পলক চোখের দেখা দেখতে চাইত ওকে। বেশিরভাগ দিনই দেখতে পেত, কিন্তু কখনো আবার দেখাই পেত না। ঠিক যেন শরতের মেঘের মত রোদ বৃষ্টির লুকোচুরি।

            এইরকম কিছুদিন যেতে যেতে একদিন ও অনিন্দ্যর সাথে সাইকেলে ফিরছে, কিছুদুর যাওয়ার পর দূর থেকে দেখে শম্পা বসে আছে শিবমন্দিরের পাশের বটতলায়। মনে একটু পুলক জাগার আগেই দেখে পাশে রয়েছে তনুজা, ওর ছায়াসঙ্গি, বন্ধুরা মজা করে বলে বডিগার্ড। হঠাৎ ওই স্থূল বহর নিয়ে সাইকেলের প্রায় সামনে ঝাঁপিয়ে এসে পড়ে তনুজা। ক্যাঁচ করে ব্রেক চেপে অনিন্দ্য। “কিরে তরুণ, খুব দেখছি শম্পার পিছনে লেগেছিস। ভাল করে বলছি, এদিকে বেশি নজর দিস না। সামনে মাধ্যমিক, পড়াশোনায় মন দে। নাহলে কিন্তু তোর বাবা কে জানিয়ে দেব।” ওই সময় এই বাবা কে বলে দেওয়া উক্তিটি বললেই বেশিরভাগ কেসের ইতি হত। বাবার হাতের ছাতার বাঁট থেকে লাঠির গাঁট, যেকোনো কিছুর মারই বাকি থাকতো না।

            তরুণ একটু শান্ত হয়ে ধীরে বলল, “তনুজা, তাহলে কি মাধ্যমিকের পরে লাগতে বলছিস? কিন্তু ও অতদিন ধৈর্য ধরে থাকতে পারবে তো?” অনিন্দ্য তো উত্তর শুনে ভিরমি খাবার জোগাড়, মনে মনে ভাবছে ওর বাড়িতে জানতে পারলে কিছু না করেই উত্তম মধ্যম জুটবে আজ ওরও। শম্পা এবার এগিয়ে এসে বলে, “না, আর থাকতে পারছি না বলেই তো বলছি, এরকম ভাবে তোর জন্য উদাস হয়ে থাকলে মাধ্যমিকটা আর পাস করতে হবে না আমায়, তাই বলছি আর এই কিছুমাস এভাবে দেখা করিস না।”

            “ধুস, আমে দুধে মিশে গেল, আঁটি গড়াগড়ি খেল।”, তনুজা বলে উঠে অনিন্দ্যকে। বলে, “চল আমরা ওই বটতলায় বসি, ওরা একটু আগে পরের মীমাংসা করে নিক।” হাসতে থাকে অনিন্দ্য। জীবনটা এরকমই রঙিন ছিল তখন, ঝুপ করে সন্ধ্যে নামলেও আকাশে দেখা যেত আকাশ প্রদীপ। আজকের দুনিয়ায় চটক বেশি, দেখনদারি বেশি, কিন্তু সবই অন্ত্যঃসার শূন্য। যাইহোক সেই মীমাংসা চলল প্রায় ৩০ মিনিটের বেশি। আসতে আসতে সবাই জানতে পারল ওই গুটিকয় শিকে ছেঁড়া কিশোরের মত ভাগ্য ফিরেছে তরুণের। এনিয়ে সময় অসময়ে মস্করা চলত খুব। কিন্তু শম্পার বাড়ি খুব নিয়মকাননে কঠোর হওয়ায় ওদের ঘোরাঘুরি যত না হত বাস্তবিক, তার থেকেও বেশি হত বন্ধুদের মানসিক ভ্রমন। এই যেমন কদিন আগে, বিভাস বলছিল ওদের নাকি বটানিক্যাল গার্ডেনে দেখেছে, চেপে ধরতে বলে ও নাকি আবার শুনেছে মানসীর কাছে। রোজকার রুটিনে স্কুল ফেরতা আধঘণ্টার দেখা আর ওই দুটো কোচিন শেষে একটু দাঁড়িয়ে গল্প করা, এইটুকুই ছিল পাওনা। যদিও আজকের প্রেমিক প্রেমিকাদের মত নিজস্ব মুহূর্ত বা অন্তরঙ্গ অনুভুতি ছিল কল্পনার অতীত।

            এভাবেই দিন কাটে, মাস কাটে। মাধ্যমিকের আর এক মাস বাকি। টিউশান ও বন্ধ হতে চলায় দেখা হওয়ার উপায় ও বন্ধ হয় ওদের। একদিন দুপুরে দুজনেই ভয় ডর কাটিয়ে বাড়ির লোককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পগারপার হয় স্টেডিয়ামের পাশের নিরালা এলাকায়। প্ল্যানে সাহায্য করে তনুজা, ওদের বাড়িতে সবাই একসাথে পড়বে বলে জানিয়ে দেয় শম্পার মা কে। অনেক দিনের সুপ্ত অনুভুতি প্রকাশ করে দুজনে, প্রথম চুম্বনের সাক্ষী থাকে শীতের দুপুরের নিস্তব্দতা। শম্পা বলে, “পরীক্ষার আগে আর দেখা করা যাবে না, আবার দেখা করব পরীক্ষার শেষ দিনে। ততদিন এই ভালবাসার পরশ নিয়েই পড়ায় মন বসা।” প্রায় ২.৩০ ঘণ্টা কাটিয়ে সুখের সাগরে ভেসে যখন প্রায় বেরতে যাবে ওখান থেকে, ঠিক তখনই অসময়ে বাঘের ভয়ের মতই উদয় হয় শম্পার কাকা। দিকবিদিক শূন্য হয়ে যায় তরুণের, শম্পার হাত ধরে হিড়হিড় করে টানতে টানতে নিয়ে যান উনি।

            রাতের বেলা ফোন আসে তরুণদের বাড়ির ল্যান্ডফোনে। বাবা অফিস ফেরতা কানাঘুষোতে কিছু শুনে থাকলেও বিশেষ পাত্তা দেয়নি হয়ত, কিন্তু এই ফোনালাপের পর তরুণের ভাগ্যে জুটল জুতো পেটা। ওদিকে শম্পা হল পুরোপুরি গৃহবন্দি। তরুণও ছেড়ে দেওয়ার ছেলে নয়, তার ওপর রক্ত ফুটছে তখন টগবগ করে। পরের দিনই চলে যায় শম্পার বাড়ির সামনে, চিৎকার করে জানান দেয় ওর ভালবাসার অনুভূতি। মুহূর্তের মধ্যে ওর বাড়ির লোকজন বেরিয়ে মেরে ভাগিয়ে দেয় ওকে, আর বলে কোনোদিনও যেন শম্পার ত্রিসীমানায় না দেখে ওকে। কুঁড়িতেই বিনষ্ট হতে চলে ওদের পথ চলা।

            এদিকে পরীক্ষার কারণে বন্ধুদের মধ্যে দেখাসাক্ষাৎ কম হলেও এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পরে এলাকার মধ্যে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে মাধ্যমিকের ঠিক ২ দিন আগে পালিয়ে যায় দুজনে। দুই বাড়ির লোকজনই অনেক খোঁজ করে, থানা পুলিশও হয়। কিন্তু দেখা মেলে না ওদের। তনুজাকে আর তরুণের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদেরও এরই মধ্যে জেরা করে পুলিশ, কিন্তু কিছুই লাভ হয় না। শম্পার বাড়িতে উদ্ধার হয় একটা চিরকুট, লেখা আছে “আমাদের খোঁজার চেষ্টা করো না। তরুণের ফ্যামিলিকেও জড়িও না। আমার জেদ তোমার মতই, তুমি যেমন আমাদের মিশতে দেবে না বলেছিলে, তেমনি আমিও বললাম আমাদের আলাদা করতে পারবে না।” শম্পার বাবা নিস্তেজ হয়ে গেলেও কাকা কিন্তু ছাড়বার পাত্র ছিলেন না। পুলিশকে বলেন, আমাদের মেয়ে নাবালিকা, ওকে দিয়ে জোর করিয়েই এসব লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে। আপনারা খুঁজে বের করে দিন আমাদের শম্পাকে। পুলিশ চেষ্টা করলেও লাভের লাভ কিছুই হয়নি।

            এভাবে পালিয়ে যাওয়া ভবঘুরে তরুণের জন্য মেনে নেওয়া গেলেও পড়াশোনায় ভাল শম্পার জন্য এটা বন্ধুমহলেও বিশ্বাস করা শক্ত ছিল। কালের নিয়মে জীবন এগিয়ে চলে, ওদের আর কোন খবরও পাওয়া যায় না। ধীরে ধীরে স্মৃতির অতলে হারিয়ে যায় প্রাণচঞ্চল দুই কিশোর-কিশোরী। আমার বাবার ট্রান্সফারের জন্য আমিও ওখান থেকে চলে আসি উচ্চমাধ্যমিকের পর পরই। তাই ওদের কোনও পরবর্তীকালের খবরও জানা হয় না আমার। জীবনও এগিয়ে চলে, একইভাবে। চাকরি সুত্রে এখন দেশের অনেক গ্রাম্য অঞ্চলে যেতে হয় আমায়। সপ্তাহ খানেক আগে সেখানেই হঠাৎ দেখা হয় তরুণের সাথে। প্রায় বছর কুড়ি বাইশ পর দেখলেও চিনতে পারি দুজন দুজনকে। যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না ঘটনাটা। ও বলল, “চল আমার ঘরে চল।” তখনও কিছুটা ভয়েই জানতে চাইনি শম্পার কথা। ছিমছাম বাড়ি, অভাবের লক্ষণ না থাকলেও প্রাচুর্যেরও আভাস ছিল না ছিটেফোঁটা। ভিতরে ঢুকতেই একটা ছোট্ট ছেলে দৌড়ে এল বাবা বলে। ও বলল, “বস এখানে, একটু ভিতর থেকে আসছি।” খানিক পরেই শম্পাকে নিয়ে ঘরে ঢুকল তরুণ। মুহূর্তে ফিরে গেলাম সেই বাইশ বছর আগের সময়টাতে। বললাম, “খুব আনন্দ হচ্ছে রে তোদেরকে একসাথে দেখে, ভাবিনি আর কোনোদিন এটা ঘটবে জীবনে।” তরুণ বলল, “জীবনের কটা ঘটনাই বা নিয়ম মেনে ঘটে বল! এখানেই আজ খেয়ে যাবি কিন্তু।”

            বেশ ভাল করে খাওয়া দাওয়া করে উঠে তরুণকে জিজ্ঞাসা করেই ফেলি, “তোরা কিভাবে পালালি যে কেউ জানল না, পুলিশ খুঁজে পেল না আর এসব গোছালিই বা কি করে?” তরুণ জবাব দেয়, এটা শম্পাই ভাল বলতে পারবে। শম্পা সব কাজ সেরে এসে বলে, “এই প্রথম কারোর কাছে বলব সব ঘটনা, তুই কারোর কাছে কিছুই বলিস না কিন্তু। তোর সাথে আমাদের এত গভীর বন্ধুত্ব না থাকলেও আজ এই বয়সে এসে তোকে বলে একটু হালকা হতে চাই। আশা করি তুই আমাদের কথার মর্যাদা দিবি।” আমি বললাম, নিশ্চিন্ত থাক। ও বলতে শুরু করল, “তরুণ যেদিন মার খেয়ে ফিরে গেল, তারপর আমি ঘর বন্ধ করে কাঁদদে থাকি। বাবা ছাড়া কেউই আমার ঘরে ডাকতে আসে না, জানতিস বোধহয় আমার মা মারা যায় আমার ৪ বছর বয়সেই। বাবা রাতের দিকে আবার ঘরে এসে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে জানতে চাইল সত্যি আমি তরুণকে ভালবাসি কিনা। তরুণই বা কতটা আমার জন্য তৎপর। আমি বলি যে ওকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারবনা। বাবা ২ দিন সময় দিতে বলে। এর মাঝে নিজেই একদিন তরুণের সাথে দেখা করে বুঝতে চায় সে কতটা সামলাতে পারবে আমাকে। ২ দিন পর আবার রাতে আমার ঘরে এসে সব বুঝিয়ে টাকাপয়সা দিয়ে আমার নামে কেনা এই জায়গার কথা বলে। এখানকার এই জমির কথা কেউ জানত না। শুধু বলে এখান থেকে গেলে আর কোনোদিনই এবাড়িতে ফিরতে পারব না আমি। সেইমত আমরা পালাই ওখান থেকে।” আমি জিজ্ঞাসা করি ওই যে চিঠিটা পাওয়া গিয়েছিল শুনেছিলাম? “ওটাও বাবার পরিকল্পনা মত আমি লিখে রাখি। আমার কাকা খুব রাগী ছিল, বাবা জানত কাকার অমতে কোনোদিনও আমি ফিরতে পারব না। এখানকার কেয়ারটেকারকে লেখা বাবার চিঠি নিয়ে পাড়ি দিই আমরা দুজনে ভিনদেশের পথে। তোরা যখন মাধ্যমিক দিতে ব্যস্ত, আমরা আস্তানা গড়ি এই নতুন জায়গায়। পরের বছর বাবার ব্যাবস্থাতেই পরীক্ষা দিই দুজনে। আসতে আসতে পরের সোপানও পার করি দুজনে হাতে হাত ধরে, গ্র্যাজুয়েট হই। তারপর নিজেদের সংসার গড়ে তুলি। শুধু কারোর সাথে দেখা বা যোগাযোগও রাখতে পারিনা। এমনকি বাবার সাথেও না। ওইদিন আমার কাকার সাথে না দেখা হয়ে বাবার সাথে দেখা হলে হয়ত আমাদের জীবনটা আর পাঁচজনের মতই সাদামাটা হত।”

            শুনতে শুনতে কাকুর জন্য শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে আমার। এরকম বাবারা ছিলেন আর আছেন বলেই আজও মেয়েরা সমাজের চোখ রাঙানিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নিজেদের ভালবাসাকে প্রাণ দিতে পেরেছে।     

            আজ শম্পার কাকা মারা গেছেন, বাবাও অনেকটাই বার্ধক্য জড়িত। এবার সময় হয়েছে ওদের প্রত্যাবর্তনের। সেই ঠিকানা ওদের পথ চেয়ে আছে দুদশকেরও বেশি সময় ধরে। তিনজনে আজ ফিরছে নিজের আস্তানায়।

©Ayan

রচনার তারিখ: ২৩ শে অগাস্ট ২০২১

Share:

#পাতাল রহস্য#

 


ভারতের ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে প্রতি বছরের মতই সারা দেশে চালু হয়েছে চুড়ান্ত সতর্কতা। এই সময় জঙ্গি গোষ্ঠী গুলো একটু বেশিই নাশকতামুলক কাজকর্ম করতে তৎপর হয়। বিদেশ মন্ত্রকের নির্দেশে প্রতিটি রাজ্যস্তরে হবে তার ব্রিফিং। সেই জন্যই আজ লালবাজারে বিশেষ মিটিং। সুমি কেও যেতে হচ্ছে সেইকারণেই। সুমি মানে সৌমিলি সেন, ইন্সপেক্টর, হোমিসাইড। যদিও পোস্ট হিসাবে ওর এখানে যাওয়ার কথা নয়, কিন্তু এযাবৎ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কেস সল্‌ভ করে লালবাজারের অফিসারদের নেক নজরে আছে ও। তারজন্য যদিও একটু আধটু এক্সট্রা পরিশ্রম করতে হয় ওকে, কিন্তু নতুন কেস সল্‌ভ করার আনন্দটা অনেক বেশি আরামদায়ক।

ঠিক ১০ টায় শুরু হয় মিটিংটা। সেন্ট্রাল মিনিস্ট্রির ফুল ডিটেইল্‌সটা ব্রিফ করা হয় আর সম্ভাব্য পরিকল্পনা বলা হয় সকলকে। মিটিং শেষের পর ডিটেক্টিভ ডিপার্টমেন্টের হেড মিঃ রায় বলেন, কি মিস সৌমিলি সেন, কেমন আছেন? নতুন কোন কেস আসছে না নাকি?

“কি যে বলেন স্যার, না এলেই মঙ্গল। বোঝা যাবে দেশ টা এগোচ্ছে।”

“চোখ কান খোলা রাখুন, এখন সাইবার ক্রাইম কিন্তু খুব বেড়েছে। কিছু দরকার থাকলেই জানাবেন, আপনাদের মত ইয়ং ব্লাডই দরকার ডিপার্টমেন্টের।”

“সিওর স্যার, হ্যাভ আ গুড ডে।”

গাড়ি থেকে নামার আগেই ফোন এলো সুভাষের। সুমির থানার অফিসার ইন চার্জ। "ম্যাডাম, মার্ডার কেস ফ্রম বউবাজার। আমি অ্যাড্রেস টা টেক্সট করে দিচ্ছি।"

"ঠিক আছে, আমি আসছি।" ড্রাইভারকে গাড়ি ঘুরিয়ে ওদিকে যেতে বলে সুমি। অনেক খোঁজার পর টিপিকাল নর্থ কলকাতার অলি গলি পেরিয়ে খুঁজে বের করে বাড়িটা। ততক্ষণে সুভাষও এসে গেছে। বাইরে থেকে বাড়িটার আলাদা কোনোরকম বৈশিষ্ট্য দেখতে পেল না সুমি। নিচে একটা প্রেস এর ঘর, ভাড়ায়। উপরের এক কামরার ঘরের মধ্যে ঢুকেই দেখতে পেল ডেডবডিটা, বছর ৭০-৭২ এর বৃদ্ধা। রক্তে ভেসে যাচ্ছে ঘরটা, কোনায় বডির পাশে বসে আছে এক বছর ১৫র কিশোরী। বাড়ির লোকজনের সাথেই জড়ো হয়েছে আশেপাশের পড়শিদের ভিড়ও। সুভাষ কনস্টেবলকে দিয়ে বাড়ির লোক ছাড়া সবাইকেই সরিয়ে দেয়। পাশের একটা ঘরে সুমির বসার ব্যবস্থা করে ব্রিফ দেয় এখনও পর্যন্ত জানা তথ্যের।

মৃতার নাম যমুনাবালা মিত্র, বউবাজারের মিত্র পরিবারের কর্ত্রী। কিছুদিন আগেই ঘটে যাওয়া মেট্রোর সুড়ঙ্গ ধসে বাকি ৫০ টি বাড়ির মতই মিত্র বাড়িও মাটিতে ধসে পড়ে, রাতারাতি পথে বসে পুরো পরিবার। পরিবারে আছে দুই ছেলে ও তাদের বউ, বড় ছেলের এক মেয়ে আর ছোট ছেলের এক ছেলে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সবার জন্য ধর্মতলার কাছেই কিছু হোটেলে থাকার ব্যবস্থা হলেও বড় ছেলের মেয়ে ঋতু তার আদরের ঠাকুমার সাথে থাকত এখানেই। ঋতুর এবার মাধ্যমিক, হোটেলের ঘরে গাদাগাদিতে পড়ার দফারফা। তার ওপর এখান থেকে স্কুলটাও কাছেই। তাই ঠাকুমা নাতনিতে এখানেই থাকছিল শেষ কয়েক সপ্তাহ। এটাও ঋতুর দাদুর সম্পত্তি, বেশিরভাগই ভাড়া দেওয়া। বডির পাশে থাকা মেয়েটিই তাহলে ঋতু। শেষ কিছুদিনের দুটো বড় দুর্ঘটনা পরিবারটিকে তছ্নছ্ করে দিয়েছে।

"সুভাষ, সবার বয়ান নাও আর ঋতুকে পাঠিয়ে দাও এঘরে। আশপাশে একটু খোঁজ লাগাও কাউকে দেখেছে কিনা। ছুরি বসিয়ে খুন আবার মার্ডার উইপন নিয়ে চম্পট দেখে তো প্ল্যানড বলেই মনে হচ্ছে।"

একটু পরে ঘরে এল ঋতু। শান্তশিষ্ট চেহারার মেয়েটা একদম মুষড়ে পড়েছে। একটু সময় নিয়ে কথা শুরু করলো সুমি।

“কি নাম তোমার?”

“ঋতু”

“জানি তোমার এখন মনের অবস্থাটা, কিন্তু তোমার সাহায্য আমাদের সব থেকে বেশী লাগবে এখন তোমার ঠাকুমার খুনি কে ধরতে। কি, আমাদের সাহায্য করতে পারবে তো?” হালকা করে মাথা নাড়ায় ঋতু।

“আজকের সকালের পুরো ঘটনাটা আর একবার বল।” 

ঋতু বলতে শুরু করে “রোজকার মত আমি ভোর ৫.৩০ এ উঠে একটু পড়াশোনা করে, প্রাতঃক্রিয়া করে ৭ টা নাগাদ টিউশানে যাই। ঠাম্মা আমায় খাবার করে দেয়। বেরনোর আগে গলা জড়িয়ে চুমু খেয়ে বেরিয়ে যাই আমি। ফিরে এসে দেখি ঘরের দরজা ভেজানো। ভিতরে ঢুকে দেখি এই অবস্থা। কিছুটা ধাতস্থ্য হয়ে কল করি বাবাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই এসে যায় ওরা, সঙ্গে পুলিশ ও।” ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে ও।

সুমি জিজ্ঞাসা করে, “কাউকে সন্দেহ হয় তোমার? ইদানীং ওঁকে কোন টেনশন করতে দেখেছ?”

নেতিবাচক ঘাড় নাড়ে সে। “ঠাকুমা তো সারাদিন ঠাকুর নিয়ে আর আমার জন্য রান্না নিয়েই থাকতো।” ওকে যেতে বলে সুমি বাইরে আসে।

ইতিমধ্যে সুভাষ বাকি সকলের সাথে কথা বলেছে। তেমন কোন নতুন দিশা পায়নি। ঘর থেকে কোন জিনিস চুরি যায়নি, ছিলও না তেমন কিছু মূল্যবান জিনিস। ফরেন্সিক ও এসে গেছে সব নথি সংগ্রহ করতে। সুমি সুভাষকে বলে বডি পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠিয়ে ওর সাথে আসতে। হঠাৎ ঘুরে দাঁড়িয়ে যমুনা দেবীর বড় ছেলে মানস আর ছোট ছেলে তাপসকে জিজ্ঞাসা করে, “আচ্ছা আপনারা এখানে সব জিনিসপত্র আনলেন কিভাবে, সব তো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। এখানে ঠাকুরের সিংহাসনটাও দেখছি আছে। দেখে তো নতুন মনে হচ্ছে না। ”

“আসলে সেদিন প্রথমে প্রাণ বাঁচাতে সবাই বেরিয়ে আসি। পরের দিন গিয়ে কিছু দরকারি কাগজপত্র, মেয়ের বইপত্র আর মায়ের ঠাকুরের সিংহাসনটা নিয়ে আসি। আসলে আমাদের কুলদেবতা, আর মায়ের প্রাণ। মা চিরকাল বলত ঠাকুরই আমাদের চিরকাল বিপদ থেকে রক্ষা করবে, কিন্তু শেষ দুবার আর পারল কই!!” মানস বলে ওঠে।  

“ঠিক আছে। আপনাদের কারোর কিছু মনে পরলে আমাকে জানাবেন, আর মেয়েকে চোখে চোখে রাখবেন কদিন। ওর সব থেকে বেশি শক্‌ড। আর হ্যাঁ, পুলিসকে না জানিয়ে কেউ শহর ছাড়বেন না। আপনার মায়ের কি কোন উইল আছে?” না বলেন মানসবাবু। এমনকি এটাও বলেন, মায়ের পেনশনের টাকা মা নিজেই খরচ করত নাতি নাতনিদের শখ আহ্লাদের জন্য। কর্মঠ থাকার জন্য এখনো একা একাই ব্যাংক, পোস্ট অফিসের কাজও করতো।

গাড়িতে উঠে সুভাষকে বলে, “কি বুঝছ? কোন মোটিভ পেলে? তুমি বরং একবার ওদের হোটেল রুম টা চেক করে এসো।” ওকে হোটেলে ড্রপ করে থানায় চলে আসে। এক কাপ কড়া কফি দিতে বলে ওর টেবিলে।

বিকেলের দিকে সুভাষ ফিরে চলে আসে সুমির টেবিলে। হোটেলের ঘর থেকেও পায়না কোন সুত্র। এদিকে দুই ভাইয়ের আর্থিক অবস্থাও ভাল আর সম্পত্তি নিয়ে কোন বিবাদের চিহ্নই নেই। এমনকি এই কদিনে হোটেলে থাকাকালিন অন্যান্য পরিবারও অনুভব করেছে দুই জায়ের বন্ধুত্ব। তাই আচমকা মিত্র পরিবারের বিপদে সবাই বেশ মনমরা।

“ল্যাব থেকে ছবিগুলো এসেছে?”

“সফ্‌ট কপিটা দিয়েছে, কাল প্রিন্টটা দেবে।”

“আমাকে কপিটা পাঠাও আর কাল প্রিন্ট কপি পেলে একবার নিয়ে যাব ওদের কাছে।” সফ্‌ট কপিটা দেখে কিছু বের করতে পারে না তেমন। একজন সুস্থ সবল ৭২ এর মহিলা কে প্ল্যান মত মারার দরকার পড়ল কার? লাভবানই বা হল কে বা কারা? আশপাশের কোনো ঘটনা দেখে নেওয়ার মাশুল দিতে হল না তো ওনাকে? রাতে বাড়ি ফিরে বিছানায় মাথা এলিয়ে দিল সুমি। এটা ওটা চিন্তা করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে মনে নেই।

ঘুম ভাঙল ৫ টার অ্যালার্মে। মর্নিং ওয়াক সেরে ব্রেকফাস্ট করে তৈরী হয় সুমি। সুভাষকে ফটো প্রিন্ট কালেক্ট করে ওকে পিক আপ করতে বলে। সাড়ে দশটা নাগাদ যখন ওরা পৌঁছল মিত্র পরিবারের হোটেলের ঘরে, তখনও ওরা প্রাথমিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে পারেনি। সুমি ছবিগুলো সবাইকে মন দিয়ে দেখতে বলে, কিছু অসংলগ্ন লাগলে বলতে বলে ওদের। সবাই একে একে দেখে কিছুই তেমন পায় না। হঠাৎ ঋতু বলে ওঠে, “আরে, ঠাকুরের মুখে নকুলদানা কই? আমি তো পুজো দিয়েই গিয়েছিলাম।” সুমি ছবিটা ওর হাত থেকে নিয়ে দেখে যে সত্যি সেখানে কিছুই লেগে নেই। যদিও পরের ছবিতেও ঠাকুরের আসনের ওপরে পড়ে নেই কোনো নকুলদানার চিহ্ন। ঋতুর পিঠ চাপড়ে বেরিয়ে পরে, গন্তব্য খুনের স্পট। যাওয়ার মাঝে ফোন লাগায় দত্ত দা কে।

“কেমন আছেন দত্ত দা? কালকের একটা হোমিসাইড কেস এর এভিডেন্স গেছে না? কিছু পেয়েছেন স্পেসিফিক? আচ্ছা, একটা ঠাকুরের মূর্তিও ছিল, একটু চেক করে জানাবেন, কোনো নকুলদানার ট্রেস পেয়েছে কিনা?” উনি খোঁজ নিয়ে জানাবে বলেন। সুমিরা স্পটে গিয়ে সিংহাসনের কোথাও কোনো ট্রেস পায় না। ফোন করে মানসবাবুদের থেকে এই মূর্তির কোনো ইতিহাস থাকলে জানতে বলে সুভাষকে।

সুভাষ জানায়, মিত্র পরিবারের পূর্বপুরুষরা ছিলেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের কুল পুরোহিতের বংশধর। ওরা শুনেছে এই মূর্তি ওদের প্রপ্রপিতামহের হাত ধরেই ঢুকেছিল এই পরিবারে। যদিও দুই ভাই কেউই এসবে বিশ্বাস করতো না যেহেতু কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল না মূর্তিটার।  

কিছুক্ষণ পরে দত্ত দা জানান যে পুজোর কোনো উপাদানেরই ট্রেস নেই মূর্তিতে, তা সে নকুলদানাই হোক বা বাসি ফুল। এটা একদম নতুন কেনা, আনকোরা। টেবিল চাবড়ে ওঠে সুমি, একটু মোটিভের আলো দেখা দিয়েছে।

ঋতুকে নিয়ে দুই ভাইকে একবার থানায় আসতে বলে। ইতিমধ্যে ল্যাব থেকে আনিয়ে নেয় মূর্তিটা। ওদের সামনে নিয়ে আসে মূর্তিটা, ভাল করে হাতে নিয়ে এভিডেন্সের প্যাকটা পরখ করতে বলে। মানস, তাপস তেমন কিছু বলতে না পারলেও ঋতু মূর্তিটা নিয়ে বলে এটা খুব হালকা, এটা অন্য কোনো মূর্তি, আমাদেরটা নয়। শান্ত হয়ে সুমি জানায়, “মানস বাবু, আপনাদের মূর্তিটা চুরি হয়েছে, কিন্তু কি কারণে এখনো ঠিক জানিনা। আপনাদের কোনো রিলেটিভ আছে যারাও এই মূর্তির অংশীদার হতে পারত, রিসেন্টলি কোনো থ্রেট কল বা কোনো সন্দেহজনক কিছু টের পেয়েছেন?”

“না, সেরকম কিছু তো আসেনি। আর আমাদের ফ্যামিলি ট্রি তে আর কেউ এরকম ছিল বলে তো শুনিনি।”

“আপনাদের এই বংশের ইতিহাস নিয়ে বা এই মূর্তি নিয়ে এরকম কোথাও কোনো লেখা প্রকাশিত হয়েছিল কিনা বলতে পারেন?”

“সেরকম কিছু তো মনে পড়ছে না।” এবার তাপস বলে ওঠে, “দাদা সেই আমরা কলেজে পড়ার সময় একটা কি লেখা বেরিয়েছিল না যুগান্তর-এ? বাবা অফিস থেকে ফিরে দেখিয়েছিলেন?”

“হ্যাঁ, হ্যাঁ। সে বহুদিন আগের কথা, আমি ভুলে গেছিলাম। ১৯৯৪-৯৫ সাল নাগাদ হবে। বাবা বলেছিল বটে যে ওটা আমাদের নারায়ণ মূর্তি নিয়েই লেখা। কিন্তু মিত্র বাড়ির নাম লেখা না থাকায় আমরা বাবার সাথে মস্করা করেছিলাম।”

“অনেক ধন্যবাদ, আবার দরকার পরলে আপনাদের ডেকে পাঠাব। আর কিছু মনে পরলে আমাকে কল করবেন, নাম্বারটা নিয়ে নিন সুভাষের থেকে।”

ঝটপট পুরনো ডেটাবেস থেকে ওই সময়ের যুগান্তর খুঁজতে লাগিয়ে দেয় কয়েকজনকে। ওদিকে পোস্টমর্টেমের রিপোর্ট এসে পৌছয়, অতিরিক্ত কিছু পায় না ওখান থেকে। রাতের মধ্যেই টিম খুঁজে বের করে প্রকাশিত লেখাটা। লেখক মনোময় ঘোষ। টিম আবার খুঁজতে বসে লেখকের পরিচিতি। একঘণ্টার মধ্যে সুমিও পড়ে ফেলে ফুল রিপোর্টটা। ইতিমধ্যে টিম বের করে ফেলে লেখক মনোময় ঘোষের ঠিকানা। ইতিহাসবিদ, যাদবপুরের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর। সুমি ঘড়ি দেখে, রাত ২.৩০। সবাইকে একটু রেস্ট নিয়ে নিতে বলে ও।

পরদিন সকাল ৬ টায় হাজির হয় প্রফেসর মনোময় ঘোষের বাড়ি। “নমস্কার, আমি ইন্সপেক্টর সৌমিলি সেন, আমরা একটা ইনভেস্টিগেশনে এসেছি। আপনি প্রায় বছর ২৫ আগে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের নারায়ণ মূর্তি নিয়ে একটা লেখা লিখেছিলেন। সে বিষয়েই কথা বলতে এসেছি।” মিঃ ঘোষ সব শুনে বললেন, “কি ব্যাপার বলুন তো, আরেকজনও ওই মূর্তি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে এসেছিল। বলেছিল ইতিহাসে পি এইচ ডি করছে। আমার কাছে অনেকক্ষণ বসে সব জেনেছিল, এমনকি আমার রিপোর্টে না থাকা মিত্র বাড়ির কথাও বলেছিলাম ওকে।”

“ওর কোনো কার্ড দিয়েছিল বা ওকে দেখলে চিনতে পারবেন? কবে নাগাদ এসেছিল।” বলতে বলতেই ফোনে ধরে পুলিশের একজন স্কেচ আর্টিস্টকে। চলে আসতে বলে এই লোকেশানে। 

“দেখলে ঠিক চিনে নেব। ওই তো যেদিন মেট্রোর সুড়ঙ্গে ধস নামলো তার ঠিক আগের দিন এসেছিল।”

“আর কিছু মনে আছে ওর সম্বন্ধে?” না বলেন ভদ্রলোক। সুভাষকে বলে বেরিয়ে যায় ওখান থেকে। স্কেচ হয়ে গেলেই পাঠাতে বলে ওকে।

সুমি মনে মনে ছকে নেয় ঘটনার প্রেক্ষাপট। মেট্রোর সুড়ঙ্গে ধস হয়ত বিলম্বিত করেছিল বৃদ্ধার মৃত্যু, আততায়ী কে খুঁজে বের করতে হয়েছিল নতুন আস্তানা। সুমি চলে যায় মিত্রদের হোটেলের ঘরে। আবার জিজ্ঞাসা করে এখানে আসার পর কেউ যমুনা দেবীর ওই বাড়ির অ্যাড্রেস নিতে এসেছিল কিনা। তাপসের বউ বলেন, “একজন মাঝে এসেছিল পোস্ট অফিস থেকে মায়ের পেনশনের লাইফ সার্টিফিকেট নিতে। আমি ওবাড়ির অ্যাড্রেস বলেছিলাম। জিজ্ঞাসাও করেছিলাম, সে তো পোস্ট অফিসে গিয়ে করতে হয়, বাড়ি থেকে তো নিয়ে যায় না। আমাকে বলেছিল আমাদের এই দূরবস্থার জন্য সরকারের ব্যবস্থাপনায় এটা করা হচ্ছে। আমিও বিশ্বাস করে নিয়েছিলাম।”

সুভাষের কল আসে, স্কেচ তৈরি হয়ে গেছে। ও চলে যাচ্ছে লালবাজারে, আশপাশের সিসিটিভির কোনো ফুটেজ পাওয়া যায় কিনা দেখতে। ছবিটা পাঠিয়ে দেয় সব থানা, এয়ারপোর্ট, স্টেট বর্ডারেও। অ্যান্টিক জিনিস স্মাগলিং হওয়ার চান্সই সবথেকে বেশি। সুমিকেও সেন্ড করে দেয় হোয়াটস্‌অ্যাপে। সুমি ছবিটা দেখায় তাপসের বউকে, কনফার্ম করে সে। ছবিটা দেখে মনে হয় লোকাল হ্যান্ডলার।

ক্রাইম ডেটাবেসে ছবিটার কোনো হদিস পায় না টিম। কিন্তু সুভাষ পেয়ে যায় আততায়ীর ফুটেজ, খুনের পরেরই টাইমে ওই গলি থেকে বেরনোর মুখে। বাঁ হাতে ফোনে কথা বলতে বলতে চলে যায়। সুমি একটা ফোন লাগায় দত্তদা কে। সমস্ত বলে ছবি আর ভিডিও সেন্ড করে। একটা ঠিকানা পায় আধার ডেটাবেস থেকে, আর দত্তদা ইনফরমেশন দেয় বাঁহাতি। কালবিলম্ব না করে টিম নিয়ে চলে যায় ওই লোকেশানে। ধরা পড়ে ছেলেটি, যদিও আইডেন্টিফাই হয় সে ডানহাতি, ফিংগার প্রিন্টও ম্যাচ করে না। চাপ দিয়ে বের করা হয় অপর আরেকজনের নাম ও লোকেশান। ধরা পড়ে সেও গুয়াহাটি এয়ারপোর্টে। লাগেজ থেকে পাওয়া যায় নারায়ণের মূর্তি।

পরদিন সুমি সবাইকে নিয়ে বসে মিত্র পরিবারের সাথে, প্রফেসর মনোময় ঘোষও উপস্থিত। “এই যুগে আপনাদের মত সৎ দুইভাইয়ের দেখা পাওয়া দুস্কর। মূর্তির হাতবদলের কথা বুঝতে পারার পরই আমার সন্দেহ যায় আপনাদের দিকে। আমি জানিনা আপনারা ওই লেখা পড়েননি, নাকি পুরো নিরুৎসাহী ছিলেন। যদিও লেখাটা পড়ে আমার সন্দেহ আপনাদের ওপর থেকে পুরোপুরি চলে যায়। তবু আমি সকলের বিশেষত ঋতুর জন্য লেখাটার সারমর্ম পরতে চাই। পারিবারিক সম্পদ রক্ষায় প্রথম সাহায্য কিন্তু ওই করেছিল আমাদের।

“রাজা কৃষ্ণচন্দ্র খুব ধার্মিক মানুষ ছিলেন। অনেক মন্দির ও সেবা প্রতিস্থান স্থাপন করেছিলেন তিনি। পলাশীর যুদ্ধের সমকালীন সময়ে তিনি তাঁর কুলপুরোহিতকে একটি নারায়ণ মূর্তি দেন। কথিত আছে যে ওর মধ্যেই ছিল এক দুস্প্রাপ্য হীরে। সারা জীবন সেবা করার জন্যই তিনি এটি দিয়ে যান তাঁর কুলপুরোহিতকে, আর বলে যান সেটা বংশপরম্পরায় পুজো করে যেতে। আরও লেখা ছিল, সেই কুলপুরোহিতের পরিবারের বাস এখন কলকাতায়। যদিও সেখানে মিত্র পরিবারের নাম উল্লেখ নেই কোথাও।”

যদি কিছু মনে না করেন তাহলে কি মূর্তিটা দেখতে পারি একবার?”

“নিশ্চয়ই”, বলে ওঠে মানসবাবু।

সাদামাটা মূর্তির পিছনে একটা ছোট্ট ঘাঁট। একটু ঘোরালেই খুলে যায় ভিতরের সুড়ঙ্গ। মাঝখানে জ্বলজ্বল করছে সেই রত্নখচিত হীরে। 

©Ayan

রচনার তারিখ: ১৪ ই অগাস্ট ২০২১

Share:

মোট পৃষ্ঠাদর্শন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.