ছোট গল্পের সন্ধানে || কলমে অয়ন

  • বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

    আনন্দ, উদ্বেগ আর প্রত্যাশার গণ্ডি পেরিয়ে চতুর্থ বারের জন্য অপেক্ষা দায়িত্বের। সেই দায়ভার থেকেই জন্ম এই চতুর্থ সন্তানের। আগের বারের "মৃত্যু রহস্য"র পর ইয়ং ইন্সপেক্টর সৌমিলির ডাক পড়েছে এক জটিল সমস্যার সমাধানে। গ্রাম বাংলার এক সুন্দর প্রকৃতির প্রেক্ষাপটে ঘটে চলেছে অদ্ভুত সব ঘটনা। যাকেই সে সন্দেহের তালিকায় আনছে, হঠাৎ করে সে-ই খুন হয়ে যাচ্ছে। সৌমিলি কি পারবে এই কেস সলভ করতে❓ তারই গল্প বলতে প্রকাশিত হচ্ছে আমার চতুর্থ বই "আই ক্যান্ডি" এবারের কলকাতা বইমেলা ২০২৫ এ ক্লিক করুন

  • বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

    প্রথম বারের আনন্দ আর দ্বিতীয় বারের উদ্বেগের গণ্ডি পেরিয়ে তৃতীয় বারের জন্য অপেক্ষা প্রত্যাশার। সেই থেকেই জন্ম এই তৃতীয় সন্তানের। আগের বারের "পায়ে পায়ে রহস্য" র সাফল্যের পর ইয়ং ইন্সপেক্টর সৌমিলি সমাধান করে ফেলেছে আরও কিছু জটিল কেস। তারই গল্প বলতে প্রকাশিত হচ্ছে আমার তৃতীয় নতুন গল্পের বই "মৃত্যু রহস্য" এবারের কলকাতা বইমেলা ২০২৪ এ। আশা করি এই বই আমার পাঠকদের আনন্দ দেবে বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    আজকের দুনিয়ায় টেকনোলজিও যত উন্নত হয়েছে, পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিত্য নতুন অপরাধের ধরণ। একজন ইয়ং ইন্সপেক্টর কিভাবে কেসের পর কেসের কিনারা করবে, তারই বেশ কিছু ঝলক থাকবে পাঠকদের সামনে। বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    মুঠোফোনের দুনিয়ায় আমার প্রথম বই শব্দের স্বরলিপি এনে দেবে একরাশ মুক্ত বাতাস। বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • প্রতি সপ্তাহে নতুন গল্প

    গল্প পড়ার থেকে শুনতে বেশি ভালবাসেন? বাচ্ছারা রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময় গল্প শুনতে চায়? তাহলে দেরী না করে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন ইউটিউব চ্যানেলটা, আর বেল আইকন টা প্রেস করতে ভুলবেন না। আসছে প্রতি শুক্রবার রাত ৯ টায়। সঙ্গে থাকুন।

  • #ভোকাট্টা#

    চারপাশের আকাশে শুধু রঙ বেরঙের ঘুড়ি। এখনকার মত নানারকমের ক্যামেরা না থাকলেও ছবি গুলো উজ্জ্বল হয়ে থাকত স্মৃতির মণিকোঠায়। মাঝে মাঝে তারস্বরে চিৎকার, “ভো কাট্টা!

  • #অরণ্যে দুই রাত্রি#

    কথায় বলে বাঙালির পায়ের তলায় সর্ষে। কিন্তু এই বিগত দেড় বছরের করোনা পরিস্তিতিতে সবার মত তারাও হয়ে পড়েছিল ঘরবন্দি। তাই এখন একটু পরিস্তিতি ঠিক হতেই সবাই আবার বেড়িয়ে পড়েছে কাছে পিঠে। সেই রকমই একটা উইকএন্ড ডেসটিনেশনের কথা

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    মুঠোফোনের দুনিয়ায় আমার প্রথম বই শব্দের স্বরলিপি এনে দেবে একরাশ মুক্ত বাতাস। বিশদে জানতে ক্লিক করুন


Best Bangla Books to Buy in 2024

#যমজ ভালবাসা#

Bengali Story|Choto Golpo Bangla|Bangla Short Story Blog|Bengali Story Reading App 

যমজ ভালবাসা

কিরে যাবি না?”

আরে দাঁড়া একটু পড়াশোনা টা শেষ করি।

আজ বাদে কাল সরস্বতী পুজো, এখন এত পড়াশোনা করার কি দরকার?“

আরে তোর মতো অত বুদ্ধিমান নয় যে একটু পড়লেই হয়ে যাবে।“

হ্যাঁ, সে আর বলতে যাক বাদ দে, তুই কখন আসবি বল? আমি তার কিছুক্ষণ আগে বাইরে বেরোবো তাহলে।“ “শোন এখন আর আমার বাড়ির এদিক দিয়ে আসিস না আমি ডাইরেক্টলি দিদির কোচিং এ চলে যাব তারপর সন্ধ্যে পর্যন্ত ওখানে আড্ডা দেওয়া যাবে।“

আরে সে না হয় হল কিন্তু আমাদের যে শ্রুতি নাটক করার প্ল্যান ছিল সেটা কি হবে?”

তার জন্য তো বাকিদেরও রাজি করাতে হবে।“

সে তুই তোর সৈন্য-সামন্ত দের রেডি কর।“

ঠিক আছে দেখি কজনকে ম্যানেজ করা যায় বেশি বড় স্ক্রিপ্ট করিস না কিন্তু এত তাড়াতাড়ি সবাইকে তৈরি করা যাবে না।“

সে ঠিক আছে আমি দেখে নিচ্ছি।“

এরকমই ছিল তখনকার দিনের সরস্বতী পুজো নির্ভেজাল আড্ডা, সাথে স্কুল আর কোচিং এর সরস্বতী পুজো সাথে কখনো কখনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ সবই করত ছাত্র-ছাত্রীরা। সরস্বতী পুজো ছিল বাঙালির ভ্যালেন্টাইনস ডে। তখনো পর্যন্ত এত আধুনিকতার বিষ বাতাসে সমাজ কলুষিত হয়নি।

বাংলা কোচিনের পঞ্চপান্ডব ছিল সমস্ত অনুষ্ঠানের আয়োজনের মূলে। তা সে সরস্বতী পুজো হোক বা পিকনিক। দুজনের কথোপকথন তো আগেই বললাম এবার বাকি তিন জনের কথায় আসি। এর মধ্যে যে সবথেকে নাটা, যাকে ওরা নাটা গণেশ বলতো, সে ছিল যেমন পেটুক তেমন ঘুমকাতুরে। যেখানে-সেখানে ঘুমিয়ে পড়ার জন্য কম মার খানি। কিন্তু ওর হাতের কাজ এত সুন্দর ছিল যে চালচিত্র থেকে শোলার সাজসজ্জা, সমস্ত কিছুই ছিল ওই দায়িত্বে। আর সেখানে কারোর প্রবেশাধিকার ছিল না।

আর বাকি দুজন ছিল জগাই মাধাই, দুই যমজ বোন। ওদের এরকম নামকরণের কারণ ছিল জটিল। এমন হিংসুটে মজ বোন বোধহয় সারা দুনিয়ায় দুটো ছিল না একজনকে কোন কাজ দিলে অন্যজনও সেই কাজ করার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠতো। কিন্তু প্রকারান্তরে দুজনেই সেই কাজটি করতে গিয়ে ছড়াতো আর বন্ধুদের গালি খেত। কিন্তু এরা না থাকলে বাকিদের হাস্যরসের উপাদান জুটত না। তাই ওই দুই যমজ বন্ধুর উপস্থিতি না হলে ওদের আড্ডাটা পূর্ণ হতো না

তখনো পাড়া কালচার মুছে যায়নি শহরতলির বুক থেকে। বাড়িতে বিরাজ করত রোয়াক আর উঠোন। তো বিকেলের দিকে ওরা ছাড়াও অন্য ব্যাচের ছেলেমেয়েরাও জড়ো হয়েছে দিদির বাড়ির উঠোনে। তাদের দিয়ে মোটামুটি ঠাকুরের আলপনা দেওয়া শেষ। কিন্তু নাটা গণেশ এখনো এসে পৌঁছল না যে। তখনকার সময় তো আর হাতে হাতে মোবাইল ছিল না যে চট করে জেনে নেওয়া যাবে করছেটা কি। এদিকে কপোত-কপোতী মানে আমাদের সূর্য আর শ্রাবন্তী ব্যস্ত শ্রুতি নাটকের মহড়া। সকলে এদেরকে প্রেমিক প্রেমিকা বলে ক্ষ্যাপালেও এরা ছিল বেস্ট ফ্রেন্ড। তাই চিরকালীন লেখক সূর্য নিজের আর শ্রাবন্তীর অংশই রাখত বেশি স্ক্রিপ্টে পারিপার্শ্বিক কুশীলব থাকতো সামান্যই তাই কেউই বিশেষ অংশ নিতে চাইত না ওদের শ্রুতি নাটকে শেষে শ্রাবন্তীকে মধুর চাহনিতে কাৎ করতে হতো কিছু সৈন্য-সামন্ত কে। এভাবেই মঞ্চস্থ হশ্রুতি নাটক

একদল ব্যস্ত পুজোর জোগাড়ে। আরেকদল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানসূচি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়, এমন সময় প্রাচী মানে মজ বোনের একজন এসে বলল, “আমি অনুষ্ঠানে এন্ড করব একটা স্বরচিত পা দিয়ে"

অমনি সূচি মানে আরেক বোন এসে বলে, “তাহলে আমিও অনুষ্ঠান শুরু করব রবীন্দ্র সংগীত দিয়ে। পাশ থেকে একজন ফুট কাটলো, তাহলে অনুষ্ঠানটা শুরু হবার আগেই শেষ হয়ে যাবে।“ শ্যামলা রঙের সূচি একটা রাগত দৃষ্টি দিল ছেলেটার দিকে।

যাই হোক সকলের মন রেখে চূড়ান্ত হলো অনুষ্ঠানসূচি। প্রায় আটটার পর যে যার বাড়ি ফিরল সকলে। সূর্য পৌঁছে দিয়ে এলো শ্রাবন্তী কে। ফেরার সময় শ্রাবন্তী সূর্য কে বলল, "আজ প্রাচীকে লক্ষ্য করেছিস? কেমন যেন তোর প্রতি ফিদা লাগছিল।“

ভাট বকিস না তো কিছু না খেয়ে পেট গরম হয়েছে তোর। কাল স্কুলে বেশি ছেলে না দেখে তাড়াতাড়ি চলে আসিস এখানে। আর সবাইকে ড্রেসের কথাটা বলে দিলি তো?”

চাপ নিও না বস যতদিন শ্রাবন্তী আছে এই প্রোগ্রাম ফেল হবে না।”

শ্রাবন্তী কে ছেড়ে দিয়ে আসার সময় সূর্য ভাবছিল একই কথা। আজকে যেন একটু অন্যরকমই লাগছিল প্রাচীর হাবভাব। বেশি না মাথা ঘামিয়ে বাড়ির পথে হাঁটা দিল সূর্য কাল আবার সকালে একবার স্কুলে ঢুঁ মারতে হবে। যদিও আজকাল ওইদিনই সরস্বতী পুজোর খাওয়া-দাওয়া টা হয় না বলে রক্ষে।

আজ সরস্বতী পূজা। সকাল থেকেই কচিকাঁচাদের ভিড়। প্রায় সকলেরই পরনে বাসন্তীর আবরণ, বসন্ত আগত দুয়ারে। স্কুলের পর্ব মিটিয়ে সূর্যরা মিলিত হয় নাটা গণেশের বাড়ি। ওখানে ওদের বাড়ির পুজো প্রতিবারের মতোই এবারেও নিমন্ত্রণ থাকে পঞ্চপাণ্ডবদের। চোখ পড়ে প্রাচীর উপর, সবার মধ্যেও একটু অন্যভাবে সাজিয়েছে নিজেকে একরাশ বাসন্তীর ভিড়ে আলাদা করে চোখে পড়ছে ও। হঠাৎ শ্রাবন্তীর কনুইয়ের খোঁচায় টনক নড়ে সূর্যর। ব্যাপারটা কি? মনটা কেমন গার্ডেন গার্ডেন লাগছে তোর? হোঁচট খেয়েছিস নাকি?”

পাল্টা একটা চিমটি কেটে সূর্য নিচুস্বরে বলে, নির্জলা উপবাস করেছিস নাকি ভরপেট? একটু ওয়েট কর, খাবার এলো বলে। ওদের এই খুনসুটি চিরন্তন। শ্রাবন্তী ডাকসাইটে সুন্দরী হলেও কখনো ওদের মধ্যে সেই প্রেমের ছোঁয়া লাগেনি। নিখাদ বন্ধুত্বেই বছর চারেক কাটছে ওদের।

কাকিমার আতিথিয়তায় খাওয়া দাওয়ার পর্ব মিটিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয় সকলে। বিকাল পাঁচটায় সবাই জড়ো হয় কোচিং সেন্টারে।

হাসির রোল উঠলো উদ্বোধনী রবীন্দ্র সংগীত শুনে। পরবর্তী অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে সেটাকে ম্যানেজ করে নেয় শ্রাবন্তীরা। প্রত্যাশামতোই জোরদার হয় শ্রুতি নাটক। সবশেষে শুরু হয় প্রাচীর ভাষ্যপাঠ। সবাইকে অবাক করে দিয়ে ভাষ্যপাঠ এর শেষে সূর্যকে প্রেম নিবেদন করে প্রাচী। সবার মতই অপ্রস্তুত দিদি ও উপস্থিত কিছু গার্জেন। সাময়িক নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করে মেসোমশাই মানে দিদির বাবা বলে ওঠেন, “বেশ করেছে প্রেম করেছে করবেই তো এখন না করে কি আমাদের মত বুড়ো বয়সে করবে? সকলের অবাক হওয়ার কিছু নেই। লেট্স এনজয়।“ হাসির ফোয়ারা ছুটিয়ে ব্যাপারটাকে একটু খানি লঘু করে দেন মেসোমশাই

আড়চোখে শ্রাবন্তীর দিকে তাকিয়ে দেখে মিচকি মিচকি হাসছে ওর দিকে তাকিয়ে সেটা দেখে আরো রেগে যায় সূর্য। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের এই সুন্দর উপস্থাপনা বাহবা দেয় সবাই ওদের। কিন্তু এই ব্যাপারটা একটা হেস্তনেস্ত করতে হবে আজকেই। খাবার পরিবেশনের ফাঁকে আড়চোখে দেখে ছাদের সিঁড়ি দিয়ে উঠে যাচ্ছে ই শ্যামলা রঙের হরিণ নয়নী। মুহুর্তের মধ্যে পায়ে পায়ে পৌঁছে যায় সিঁড়ির গোড়ায়। পা টিপে টিপে উঠতে থাকে ছাদের দিকে।

ছাদের কিনারায় দেখে দাঁড়িয়ে রয়েছে সেই ছায়ামূর্তি। ধীরে ধীরে পাশে গিয়ে বলে, সত্যিই এতটা চাস আমাকে কবে থেকে? আমিও কিছুদিন ধরে তোর প্রতি কেমন যেন একটা হয়ে গেছি।“

মুখটা ওর দিকে ঘুরিয়ে সোজাসুজি জিজ্ঞাসা করে, “বলতো আমি কে?”

প্রাচী, আবার কে?”

“এখনো চিনতেই পারিস না আমাকে, তুই নাকি ভালবাসবি আমায়?”

পাঁচিলের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে আরেক ছায়া মূর্তি। হালকা আলোয় সূর্য বুঝতে পারে না পুরো একই মেকআপ আর পোশাকের কে যে প্রাচী আর কে যে সূচি। মাথা টা বনবন করতে থাকে ওর। আবার কি কেস খেল ও?

শেষমেষ বলে ওঠে প্রথমজন। লেখাটা সূচির হলেও সবার সামনে নিজের মনের ভাষা ব্যক্ত করার সাহস ছিল না ওর তাই সদা হিংসুটে বলে পরিচিত বোন দুটি পরিচয় বদলে দিয়েছিল শুরু ও শেষের অনুষ্ঠানে।

“এরপর থাকলে আবার কিন্তু হিংসুটে হয়ে যেতে পারি,

তোদের হবে চাপ,

শুরু করো এবার তোমরা তোমাদের প্রেমালাপ।“

চোখের কোণটা চিকচিক করার আগেই নিজের মনকে দমিয়ে ঝুপ করে সিঁড়ির দিকে দৌড়ে চলে গেল প্রাচী। মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রইল একটুকরো ভালবাসা। ধীরে ধীরে সূর্যের হাত উঠে এল সূচির হাতের ওপর। মাঝখান দিয়ে ওই যে উঠোনে দেখা যাচ্ছে দেবী মূর্তিকে।

©Ayan

রচনার তারিখ: ৫ই ফেব্রুয়ারী ২০২২


Share:

#প্রজাতন্ত্র দিবস#

 

republic day

“আরে চল না একদিন কোথাও ঘুরে আসি।“

“টাকা পয়সার খুবই টানাটানি চলছে। এই মার্চ মাসে একটা বোনাস পাব, তারপর নিয়ে যাব তোকে। তোর যা যা ইচ্ছা তাই তাই করবি।“

কথা চলছে দুই তরুণ তরুণীর। মোবাইলে, রাতের খাওয়ার পর এই দশ পনেরো মিনিটই কথা হয় দুজনের। সারাদিনের কাজের কথা, দুজনের চাওয়া পাওয়ার কথা, আগামীর পরিকল্পনার কথা – সবই জুড়ে থাকে এইটুকু সময়। দুজনের বাড়ির কেউই জানে না এখনো এই সম্পর্কের কথা। একজন নার্সিং এর কোর্স করে একটা প্রাইভেট এজেন্সির মাধ্যমে লোকের বাড়ি সিস্টারের কাজ করে। আর অন্যজন একটা বিখ্যাত কোম্পানির ডেলিভারি বয়। দুজনেই নিজের মত করে গুছিয়ে নিতে চায় কয়েক বছর। আর ওদের নিম্ন-মধ্যবিত্ত জীবনে অনেক প্রতিকুলতার মধ্যেও আছে একটু নিশ্বাস নেবার আকাশ। সেই আকাশেই উড়তে চায় ওরা।

কাজ করতে গিয়ে কালকের রাতের কথাটাই মনে পড়ছিল সুমিতের বারবার। রঞ্জনা তো তেমন কিছুই চায় না কোনোদিন। কিন্তু তাও ওকে বারণ করতে হল। আসলে কদিন আগেই মায়ের জন্য বেশ কিছু টাকা খরচ হয়ে গেছে। সেটার জন্য সুপারভাইজারের কাছ থেকে কিছু আগাম ধার নিয়েছিল। মাসের মাইনে থেকে কাটাচ্ছে ওই টাকাটা। আর ওদের মধ্যে এই আন্ডারস্ট্যান্ডিংটা আছে বলেই কেউ কিছু রাখ ঢাক রেখে কথা বলে না। দুজনের মধ্যে এই পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপরই দাঁড়িয়ে রয়েছে ওদের সম্পর্কের ভিত। বাবার ছোট্ট দোকানটাও চলে না আর সেরকম। তাই ওর রোজগারের ওপরেই নির্ভর করে আছে পরিবার। বিকেলে ওয়ারহাউসে ডিটেলস এন্ট্রি করানোর সময় দেখা হল সুজয়ের সাথে। প্রায় একসাথেই কাজে ঢুকেছিল ওরা, সেই থেকেই বন্ধুত্ব। কিন্তু কাজের জন্য দেখা হয়না প্রতিদিন। যেদিন দেখা হয়, বাড়ি ফেরার আগে একটু চা খেয়ে নিজেদের মনের কথা আলোচনা করে দুজনে। একমাত্র ওই জানে রঞ্জনার কথা। আজ সুজয় চা খাওয়ার কথা বললেও ও না করে দেয়।

Best Bangla Books to Buy in 2022

সুজয় বলে, “কিরে, শরীর ঠিক আছে তো রে?”

“হম। ঠিক আছি রে। মন টা ভালো নেই।” তারপর বলে কাল রাতের কথা। ওর সাথে কথা বলে মন টা একটু হালকা হয়।

এদিকে সকালে উঠে রঞ্জনার শরীরটা বেশ খারাপ লাগছে। কাল রাতে সুমিতের থেকে না যাওয়ার কথাটা শুনে বেশ মন খারাপ হয়েছিল ওর। যদিও জানে যে সুমিতের কিছু করার নেই। এই সোজাসাপ্টা জবাবের জন্যই সুমিতকে এত ভালবাসে ও। আর সুমিত তো এখনকার ছেলেপুলেদের মত মদ সিগারেট বা অন্য কোন কিছুর নেশা করে না, যে ওখানে টাকা বের হয়ে যাবে। ছেলেটা খাটেও প্রচুর সারাদিন। দুচোখে থাকে ওদের আগামীর রঙিন স্বপ্ন। কিন্তু কাল যেন কিছুতেই নিজের মন কে বোঝাতে পারছিল না রঞ্জনা। শুয়ে শুয়ে শুধু বালিশ ভিজিয়েছে। আর সেই জন্যই রাতের ঘুমটা হয়নি ঠিকমত। আবার সকালে উঠে রান্নাবান্না করে কাজে বেরোতে হবে। মা মরা মেয়েটা করে চলেছে সেই ক্লাস ইলেভেন থেকে। শরীরটা ম্যাচ্‌ম্যাচ্‌ করলেও গা ঝেড়ে উঠতে হবে ওকে। নাহলে যে একটা দিনের টাকা পাবে না ও। পরের মাসেই সুমিতের জন্মদিন। টাকা জমিয়ে একটা গিফট কেনার প্ল্যান আছে ওর।

পরের দিন একটা জরুরি মিটিং ডেকেছে সুমিতদের সুপারভাইজার। কেউ কেউ বলছে, চাকরি ছাঁটাইয়েরও গল্প হতে পারে। শুনেই বুকটা ধুকপুক করতে থাকে। প্রায় মাস ছয়েকের বেশি হয়ে গেলেও ওর নামে কোন কমপ্লেন আসেনি কোনোদিন। কিছুদিন আগেই সুপারভাইজার বলছিল একবছরে কোন কমপ্লেন না এলে নাকি কি একটা এক্সট্রা বোনাস দেয়। যাইহোক মিটিঙের পর মন টা খুশ হয়ে যায় সুমিতের। মেসেজ করে রঞ্জনাকে জানায় ভালো খবর আছে।

যথারীতি রাতের সময় আজ সুমিতই ফোনটা লাগায়। রঞ্জনাকে জানায় ছাব্বিশে জানুয়ারী ওরা সারাদিনের জন্য ঘুরতে যাবে। সব প্ল্যান করে নিতে বলে সুমিত।

“কি ব্যাপার? কোন লটারির টাকা পেয়েছিস নাকি সকালে?”

“আরে না না। কুড়ি থেকে পঁচিশে জানুয়ারি কোম্পানির সেল চলবে। এই কদিন নাকি প্রচুর অর্ডার আর অনেক ডেলিভারি করতে হবে। একটা কাউন্টের বেশি পর পর পাঁচদিন ডেলিভারি করতে পারলেই বোনাস। সেই বোনাস দিয়েই ঘুরে আসব আমরা তোর পছন্দের জায়গায়।”

“আর কত বেশি করবি? এমনিতেই তো সেই নটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত ডিউটি। কিচ্ছু করতে হবে না, ওই মার্চের পরেই যাব।”

“আরে তুই চাপ নিস না। চার পাঁচ দিনের ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে ওই একদিনের আনন্দে। তুই দেখে রাখ কোথায় যাবি কি করবি সব।”

দুচারটে রোজকার কথাবার্তা বলার পর ঘুমিয়ে পড়ল দুজনে। আর দুজনেরই ঘুম হল দারুণ। আসলে বলে না মনে শান্তি থাকলে ভাত ডালেও জীবন নিশ্চিন্ত হয়।

আসতে আসতে ওই সপ্তাহ আসতে লাগলো। ইতিমধ্যে ওরা ঠিক করে ফেলেছে ওদের গন্তব্য। এই কদিন সামান্যই কথাবার্তা হল দুজনের। হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পর আর শরীর চলছিল না সুমিতের। কিন্তু ওই সামনের সূর্যোদয়ের দিকে তাকিয়ে একমনে কাজ করে যাচ্ছিল ও।

চব্বিশে জানুয়ারি রাতে ফোন করল রঞ্জনা। সুমিতের খবর নিয়ে ওকে বলল, “শোন, কাল একদম তাড়াহুড়ো করবি না। যদি যতগুলো দরকার ততগুলো ডেলিভারি নাও হয়, তাতেও কিছু যায় আসবে না আমাদের। এবার না হলেও অন্যবার আমরা যাবই।”

“আরে তুই একদম টেনশন করিস না। পাঁচদিনের টার্গেট মিট হয়েছে মানে ভগবানও আমাদের সাথে আছে। কাল ঠিক সব হয়ে যাবে। বাড়ি ফিরে তোকে কল করব।”

সারাদিন একটু বেশিই ছোটাছুটি করতে হল ওকে। আজ যেন মনে হচ্ছে সব অ্যাড্রেস গুলোই একটু দূরে দূরে। টাইমও লাগছে বেশি। এটা ওটা ভাবতে ভাবতে আজকের লাঞ্চটা বাদ দিল ও। মিনিট তিরিশেক বাঁচবে তাহলে। বিকেলের দিকে একটা ডেলিভারি করে একটা গলির মধ্যে থেকে বেরচ্ছিল ও। আসতে আসতে বাইক চালাতে চালাতেই একটু বিস্কুটও খেয়ে নিচ্ছিল। হঠাৎই গলি থেকে বেরোনোর সময় আচমকা আসা একটা গাড়ি এত জোরে প্রায় ধাক্কা মারতে মারতে বেরিয়ে গেল যে নিজেকে বাঁচাতে কোনোরকমে পাশ কাটালেও বাইক সমেত পড়ে গেল রাস্তার পাশেই। একটু ধাতস্ত হয়ে প্রথমেই উঠে দেখতে গেল সব আইটেম ব্যাগে ঠিকঠাক আছে কিনা। কিন্তু উঠতে গিয়ে বুঝল পা টা বেশ ভালোই জখম হয়েছে। বাইক চালিয়ে এখান থেকে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। ফোন করল সুজয়কে। ও জানালো মিনিট পনেরোর মধ্যে আসছে ও। ধীরে ধীরে বাইকটা রাস্তার সাইডে নিয়ে এল কোনোরকমে। সাথে ডেলিভারির বড়সড় ব্যাগটাও। হাতড়ে হাতড়ে দেখতে থাকল জিনিস গুলো সব ঠিক আছে কিনা।

“তুই ঠিক আছিস?” সুজয় এসেই জিজ্ঞাসা করল ওকে। জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে সুমিত। এত কিছু করেও শেষে তীরে এসে তরী ডুবল। বেশ কয়েকটা পার্সেল ড্যামেজ হয়েছে মনে হচ্ছে।

“আরে এসব ছাড়। তুই ঠিক আছিস তো। এসব ঠিক হয়ে যাবে। সব পার্সেলের ইন্সিওরেন্স করা থাকে। কোন অসুবিধা হবে না। আমি একটা ওয়ারহাউসে কল করে আসছি।”

একটু পরে এসে ও বলল, “একটা কথা বলত, তোদের কত টাকা লাগবে কালকের জন্য?”

“হাজার তিনেক মতন। কিন্তু…”

“তুই যাই করিস না কেন আজকের টার্গেট মিট হবে না। আর বোনাসও পাওয়া যাবে না। যতগুলো পার্সেল বাকি আছে সব দিয়ে আসতে হবে ওয়ারহাউসে। ওরা চেক করে দেখবে সব ডেলিভারি করা যাবে নাকি কিছু রিপ্লেসমেন্ট করতে হবে।” বলতে বলতে ওর ব্যাগ টা হাতড়াতে থাকে সুজয়। তারপর একটা টোটো ডেকে ওকে আর ব্যাগ টাকে তুলে কাছের ডাক্তারের কাছে যেতে বলে। আর কল করে দেয় পাড়ার বাইকের গ্যারেজে। ওদের ছেলেরা এসে তুলে নিয়ে যাবে বাইকটা।

যেতে যেতে বলে, “শোন, একটা উপায় আছে। আমি ওদের বলেছি যে তুই ফোন করার পরই প্রায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিলিস। আমি এসে মুখে জল দিয়ে জ্ঞান ফিরিয়েছি। পড়ে থাকা জিনিসগুলোর মধ্যে একটা ট্যাব আছে মনে হচ্ছে। এটা আমি বিক্রি করে রাতের মধ্যেই টাকার ব্যবস্থা করছি। তোর অচৈতন্যের সময় কেউ যদি ব্যাগ থেকে কিছু নিয়ে থাকে, তাতে তোর তো কিছুই জানার নয়। তুই শুধু ওখানে গিয়ে যেরকম বললাম বলবি।“

“চুরি করব?”

“চুরি করছিস কোথায়? তুই যে এই কদিন এক্সট্রা খাটলি তার জন্য বোনাস টার হিসাব বুঝে নিচ্ছিস। কারণ সৎ পথে গেলে এটা তুই পাবি না।“

“না না, এটা করতে পারব না। কেউ জানতে পারলে চাকরিটাও যাবে।“

“আর না করলে তুই কোন মুখে রঞ্জনার সামনে দাঁড়াবি?”

গুম হয়ে যায় সুমিত। মনের মধ্যে চলতে থাকে বিবেকের দংশন।        

ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ফোন করেন সুপারভাইজার। বলে উনি রাতে বাড়ি এসে সব ডিটেলস নিয়ে যাবেন। ওকে আর এই অবস্থায় আসতে হবে না ওয়ারহাউসে।

সুমিতকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে সুজয় ট্যাবটা নিয়ে বেরোতে যাবে, এমন সময়ে সুমিত ওর হাত ধরে বলে, “রাতে যদি পারিস হাজার দুয়েক টাকা ধার দিয়ে যাস। একটু ভাবতে দে আমায়, ট্যাবটা আপাতত থাক এখানেই।”

রাতের দিকে সুপারভাইজার এলে সব জিনিস বুঝে নিয়ে যায়। পিঠ চাপড়ে চিয়ার আপ করে বোনাস না পাওয়ার জন্য দুঃখ করতে বারণ করেন উনি। ট্যাবটাও দিয়েই দেয় সুমিত। একটা মিথ্যের আশ্রয়ে ওদের আনন্দ মুহূর্তটাকে বিষাক্ত করতে চায় না সে।

সুজয় এসে হাজার টাকা দিয়ে যায়। বলে, এর থেকে বেশি জোগাড় করতে পারেনি। আসার আগে সুপারভাইজারকে একবার ফোন করে সুজয়।

সুজয় চলে যাওয়ার পর রাতের খাবার খেয়ে ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে সুমিত। প্রায় বারোটার পর আচমকা ঘুম ভাঙ্গে ওর। দেখে, প্রায় পঞ্চাশটা মিসড কল রঞ্জনার।

ফোনটা লাগায় ওকে। ওপার থেকে ভেসে আসতে থাকে শুধুই কান্না, এতক্ষণের না পাওয়ার দুশ্চিন্তায়। আসতে আসতে সব ঘটনা বলে সুমিত। রঞ্জনাও সহমত হয় সুমিতের আচরণের। মুহূর্তের ভুলে হতে পারত আরও কোন খারাপ পরিস্থিতি। 

ঠিক এই সময় একটা এস এম এস আর একটা মেল ঢোকে সুমিতের।

“রুপিস ৫০০০ ক্রেডিটেড ইন ইওর অ্যাকাউন্ট”

মেলে লেখা, “কোম্পানি ইস রিওয়ার্ডিং ইউ ফর ইউর অনেস্টি অ্যান্ড হার্ড ওয়ার্ক।”

প্রাণ খোলা আনন্দে মাতোয়ারা হয় দুজনে। আকাশে মেঘের ভ্রুকুটি সরে গিয়ে প্রজাতন্ত্রের ভোরে দুজনের যাত্রা হয় শুরু।

আর একটা মেসেজ ঢোকে মোবাইলে। “হাজার টাকার ধার টা ছাড়াও খাওয়াটা পাওনা রইল। দিনটা ভালো কাটুক তোদের। - সুজয়” 

©Ayan

রচনার তারিখ: ২৪শে জানুয়ারী ২০২২


Share:

#যদি এমন হত#

যদি এমন হত

“অনেকদিন হল আমাকে নিয়ে তেমন কোন বিতর্ক হয়নি। পাবলিকের নজরে থাকতে অনেকে এই সময়ে আমাকে নিয়ে আদিখ্যেতা করে। কাল আবার একটা বিশেষ দিন“ এক মহাজাগতিক ভিন গ্রহে বসে ভাবছিলেন উনি।

এদিকে অনেকের বড় মূর্তি হলেও ওনার তেমন বড় আকারের কিছু নেই। ওনার বন্ধুদের অনেকেরই যেটা আছে, বন্ধুমহলে মাঝে মাঝেই মস্করা হয় এই নিয়ে।

“কি হে ভায়া, এত কিছু যে করলে তার তো কোন প্রতিদান পেলে না? মনে হয় না শুধু শুধুই জীবনে এত ত্যাগ করেছ? এখনকার ছেলেমেয়েরা তো ঠিক করে তোমার কাহিনীটাই বলতে পারবে না। বরং নেতাদের নাম শুনলেই বিরূপ মনোভাবই প্রকাশিত হয় তাদের।”

সত্যিই তো, নিজেও যে ভাবিনি তা নয়। আফসোসও হয় মাঝে মাঝে, কি ভেবেছিলাম আর কি হয়েছে। একটা কর্মহীন দিন আর উইকএন্ড ট্রিপের জন্য একটা অজুহাত। স্কুলের প্রেজেন্টেশানেই আটকে পড়ে আছে সব কিছু, ইমপ্লিমেন্টেশানের অভাব। যুবকদের মধ্যেও সেই প্রতিবাদী স্বর উধাও। বরং কিছু একটা ভাবে ভারচুয়াল দুনিয়ায় কিভাবে ফেমাস হওয়া যায় সেটায় ব্যস্ত সবাই। সে বাড়ি ঘর ঝাঁট কিভাবে দিচ্ছে, রান্না করছে কিভাবে, নিদেনপক্ষে কিছুই না পারলে কি করে ইন্টারনেটে নিজের বাড়ি খুঁজবে সেটাও করে দেখাচ্ছে। অথচ, সে বসে আছে নিজের বাড়িতেই। এ যেন সেই মাছের তেলে মাছ ভাজার মত ব্যাপার। কত ফলোয়ার, কত লাইক, কত ভিউ সেসব দেখেই নাকি বোঝা যায় তুমি কত ফেমাস। এখনো গায়ে কাঁটা দেয় সেসময়ের বাড়ি থেকে পালানোর কথাটা মনে পড়লে। না ছিল গুগুল ম্যাপ, না ছিল ইন্টারনেট। আজকের দিনে হয়ত নেটফ্লিক্স স্পনসর করে দিত ট্রিপ টা, সঙ্গে করে নিত ওয়ার্ল্ড টেলিকাস্টের স্বত্ব। কিন্তু নিজের তেজস্বী ভাব তো এখনও বর্তমান। তাই মুখে বলি “কিছু পাওয়ার আশায় তো কিছু করিনি। যা করেছি স্বেচ্ছায় করেছি।”

ওরা বলে তা তো করেছ। কিন্তু ওই যে ওনার সাথে তোমাকে নিয়ে কম্পেয়ার করাটা পাবলিক এখনো ভোলেনি। এখনো এই নিয়ে আলোচনা হলে তোমাদের নামটাই আসে, আর আমরা সব পার্শ্ব চরিত্র।

বলি, “চলো না এমন কিছু করি যাতে পুরো যুবসমাজ আবার চাঙ্গা হয়ে ওঠে।”

সবাই কথা টা শুনে নড়ে চড়ে বসে। মোটামুটি সকলেই একমত কিছু একটা করার ব্যাপারে, কিন্তু কিভাবে এই জেগে ঘুমন্ত ১৩৮ কোটির দেশকে নাড়ানো যায়? ভাবতে থাকে সকলেই। সেই আগেকার দিনের মত বিভিন্ন মতামত দিতে থাকে সকলে। শেষ পর্যন্ত সকলে পৌঁছয় একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে। কিন্তু সেই চিরকালের মত বাঁধা দেন বাপু। তবে সবাইকে বিস্মিত করে বলেন, এখনকার মতোই হ্যাস ট্যাগ ইউজ করতে হবে। একটা একাউন্ট তৈরি করে নিতে হবে সব সোশ্যাল মিডিয়ায়।

আজ নতুন সকাল, ভোরের সূর্য উঠে দূর করে দেবে মনের কলুষতা। আজ একটা বিশেষ দিন, ২৩ শে জানুয়ারী, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মদিন। কিন্তু সকাল থেকেই নাকি চারদিকে বেশ কোলাহল। ধীরে ধীরে সব টিভি চ্যানেল দেখানো শুরু করেছে। খবর আসছে সারা দেশ থেকেই। ছোট বড় কোনো শহরই নাকি আর বাকি নেই। বাকি নেই কোনো স্বাধীনতা সংগ্রামীর ছোট বড় একটা মূর্তিও। সে পার্কেই হোক বা পাড়ার মোড়ে, রাজধানীর রাজপথেই হোক বা কোন ছোট্ট গ্রামে। এখনো পর্যন্ত দায় স্বীকার করেনি কোন সংগঠন। সব মূর্তির মুখ পুরো ঢাকা কাপড়ে।

গলায় ঝুলছে একটা লেখা, “গিভ আস দ্য ফ্রিডম ব্যাক হুইচ উই হ্যাভ অ্যাচিভড। সে নো টু কোরাপশান, ব্রিং ডাউন দ্য লিডার হু আর নট ফর দ্য কান্ট্রিস গ্রোথ। ওপেন আওয়ার ফেস ইন দ্যাট এরিয়া অনলি হোয়ার ইট ইজ অ্যাচিভড।”

“ফিরিয়ে দাও সেই স্বাধীনতা যা আমরা অর্জন করেছিলাম। কোরাপশান নিপাত যাক। যে নেতারা দেশের অগ্রগতির পরিপন্থী দূর হটাও তাদের, নতুন ভারত গড়ো। যেখানে এটা করতে পারবে সেখানেই শুধুমাত্র আমাদের মুখাবরণ খুলবে।” – আমি সুভাষ বলছি

সব সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা ফ্রিডম ফাইটার একাউন্ট দিয়ে পোস্ট হয়েছে এই লেখাগুলো। মুহূর্তেই শুরু হয়েছে ট্রেন্ডিং, সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে অনবরত। পাড়ায় পাড়ায় নেমে পড়ছে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা। সারা ভারতের যুবসমাজ আবার জেগে উঠছে নতুন ভারতের আসায়।

উপর থেকে মুচকি হাসছেন ওঁরা।

©Ayan

রচনার তারিখ: ২২শে জানুয়ারী ২০২২
Share:

মোট পৃষ্ঠাদর্শন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.