- কি হে, কি খবর?
- একটু দাঁড়ান, একজনের কাটছি। তারপরই আপনার। ততক্ষণ আজকের পেপার টা পড়ুন।
দুটো পাড়ার পরের মোড়ের সেলুনে এসে দিব্বি আড্ডা মারেন শ্যামল বাবু। ছেলে মেয়ের ব্যস্ত সংসারে কথা বলার লোকের যে বড়ই অভাব। তাই, এই সব দোকান বাজারে কিছুটা সময় কাটিয়ে নিজেকে টাইমের বাঁধনে আটকে রাখেন আর কি। চাকরি জীবনে সময়ের অভাব পূরণ হয়ে গেছে এই অবসর পরবর্তী কালে।
- কেন কাকু, কোথাও যাবেন নাকি?
চোখ টিপে জানতে চায় ছোটু। শ্যামল বাবু শত ভিড় থাকলেও ছোটুর হাতে ছাড়া কাটবেন না। আর ছোটুও বেশ হাসি মশকরা করে এই সব বৃদ্ধ জনতার সঙ্গে। ওদের জীবনে একটু ভালোবাসার ছোঁয়াচ আনার চেষ্টায়। হয়তো অনেক ছোটবেলায় হারানো বাবাকে কোথাও মনে মনে স্মরণ করে সে।
- আরে শাশুড়ি, মানে ছেলের শাশুড়ি আসবে। তাই, আর কি! হেঁ হেঁ!
- ওহ, তাই বলুন। তা, কাকিমা আছেন তো?
- আরে, না রে ভায়া। করোনা কাটিয়ে দিয়েও গত বছর হঠাৎ করেই পগারপার।
- ঠিক আছে, ঠিক আছে। আপনাকে টেনশন করতে হবে না। এমন পালিশ করে দেবো যে কাকিমাও এলে চিনতে পারবে না।
- আরে সেই বয়স কি আছে? এককালে কতজনের যে হৃদয় ভেঙেছে আমার দাক্ষিণ্যে, সে গল্প শোনাব আরেকদিন। এখন নাও হাত চালাও, বেশি দেরি হলে বেয়ানকে রং মাখানোর চান্স টাও চলে যাবে।
নিউজপেপারটা মুড়ে রেখে চেয়ারের দিকে এগিয়ে যান শ্যামল বাবু।
রচনার তারিখ: ৮ই মার্চ ২০২৩






0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন