লাফালাফি করে শার্টলটা পেল সন্তু। আজ সেমিস্টারের শেষ পরীক্ষা। সবদিন যে শার্টলে যায় তা নয়, কিন্তু বাবার থেকে শার্টলের ভাড়াটাই নেয় সে। সেই কাটমানি থেকেই টুকটাক বন্ধুদের সাথে ঘোরার হাতখরচটা উঠে যায়। কলেজে ঢোকার মুখে টুং করে মোবাইলে মেসেজ ঢোকে। স্মার্ট ফোনের নোটিফিকেশনে চোখ বুলিয়ে দেখে “Recharge of Rs. 1999 is successful for your Jio number.”
ওফঃ, আগের লাখ টাকা জেতার লটারির এসএমএস গুলোর মতন এখন আবার রিচার্জেরও আসছে। মোবাইল সুইচ অফ করে পরীক্ষার হলে ঢোকে ও।
পরীক্ষা শেষের পর হল থেকে বেরিয়ে আজ ওদের বন্ধুদের প্ল্যান কোথাও বসে আড্ডা মারা। মোবাইল সুইচ অন করে সন্তু। হুড়মুড় করে ঢুকতে থাকে অজস্র আপডেট। হঠাৎ ও লক্ষ্য করল একটা আননোন নাম্বার থেকে প্রায় ১০-১২টা মিসড্ কল, মায়ের কিছু হল না তো, বেরোনোর সময় বলছিল যে শরীরটা ভাল নেই। এসব কু-চিন্তা করতে করতেই সন্তু ওই নাম্বারটায় কল করে। “কি মশাই আপনি, আক্কেল নেই আপনার, এতগুলি মিসড্ কল পেয়েও রিং করেননা, নাকি ফোকটে টাকা পেয়ে ঝেড়ে দেবার ধান্দা?”
কলেজের হার্টথ্রব সন্তু একটু ভেবাচেকা হয়ে যায়। জড়তা কাটিয়ে তারপর বলে “ও হ্যালো, কি সব বলছেন আপনি, রাঁচি থেকে পালানো কেস নয়তো”,
“আরে ২০০০ টাকার রিচার্জের মেসেজটা পাননি নাকি? ওটাতে বাই মিসটেক রিচার্জ হয়ে গেছে, এখন তাড়াতাড়ি পেটিএম বা কোন ওয়ালেটে ফেরত দিন ব্যস। নাহলে কিন্তু”
সন্তুঃ “নাহলে?” এতক্ষণে বুঝতে পেরেছে কেসটা কি। কলেজের মেয়েদের মধ্যমণি সন্তুকে থ্রেট দেওয়া, তোমাকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাবো আমি।
“নাহলে আবার কি? আমার ভুল হওয়ার জন্য ক্ষমা চাইছি, কিন্তু টাকাটা পাঠান নাহলে মাস চালাতে পারবনা।”
সন্তুঃ “দিতে পারি কিন্তু কেন দেব, মিট করুন, দেখি সত্যিই আপনার নাম্বার না চোরাই মাল” মনে মনে ভাবল, পথে এস বাছা।
“না না, ওসব হবে না”
সন্তুঃ “তাহলে ভুলে যান। ১০ টাকার রিচার্জ করে দিচ্ছি, মাস কাটলে হাতখরচ পেলে আবার করে দেব”। ফোনটা কেটে দেয় ও। তারপর ভাবে সত্যিই হয়ত মেয়েটা হস্টেলে থাকে, এটা তো ওর সাথেও হতে পারত। তারপর আবার ভাবে নিজে ভুল করে লোকজনকে ধমক দিচ্ছে, এদের একটু শিক্ষা হওয়া দরকার।
সাতপাঁচ ভেবে আবার ফোন লাগায় ওই নাম্বারে। বলে, “দেখুন, একসাথে তো দিতে পারবনা, আমার মান্থলি রিচার্জের সময় হাতখরচ থেকে প্রতিমাসে আপনাকে রিচার্জ করে দেব, আপাতত ১০০ করে দিচ্ছি। চলবে?” উত্তর আসে “দৌড়োবে, থ্যাংকস্”। সন্তু কিছু বলার আগেই ফোনটা কেটে দেয় মেয়েটা। সন্তু ভাবে নামটা জানারও সুযোগ দিল না যে। বন্ধুদের সাথে আড্ডা মেরে বাড়ি ফিরে মেয়েটার নামোদ্ধারে লেগে পড়ে। যদিও হোয়াটস্অ্যাপ ফেসবুক ট্রু-কলার ইত্যাদি খুঁজেও নাম্বারটার কোন হদিশ পায় না ও।
এরপর মাঝেমধ্যে অন্য নাম্বার থেকে কল করে বিভিন্ন কায়দায় নাম জানার চেষ্টা করেছে ও। প্রতিবারই অদ্ভূতভাবে মেয়েটি বুঝে গিয়ে রিপ্লাই করেছে “এখনো মাস কাটেনি আর রিচার্জেরও টাইম হয়নি, হলে জানাব”। বলেই ফোনটা কেটে দিয়েছে। নাছোড়বান্দা সন্তুও সরাসরি নাম জিঞ্জাসা করে উওর পেয়েছে, সময় হলে জানাব। গুডমর্নিং গুডনাইট মেসেজ পাঠাতে পাঠাতে একসময়ে হাল ছেড়ে দিয়েছে সন্তু। কিন্তু মনে মনে অনেক কল্পনার জাল বুনেছে।
হঠাৎ ওর মোবাইলে একদিন মেসেজ আসে।
“আজ রিচার্জ করে দেবেন, একমাস শেষ”।
সন্তু ভাবে আশ্চর্য মেয়ে বটে, দরকার ছাড়া রিপ্লাই করে না। ও মনে মনে ঠিক করে দেখা ও করবেই। এরকম করেই কেটে গেছে বেশ কয়েক মাস। এখন মাঝেমধ্যে মেসেজের রিপ্লাই আসে। টুকটাক কথা হয় মেসেজের মাধ্যমে। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবল। বর্ষাও এসে গেছে বঙ্গে। সন্তু গোঁড়া ব্রাজিল সাপোর্টার হলেও জানতে পারে মেয়েটি মেসি ভক্ত তথা আর্জেন্টিনার সাপোর্টার। খেলা প্রসঙ্গে তাও মেসেজের রিপ্লাই পায় ও। পরপর রাউন্ডের বাধা টপকে ব্রাজিল আর্জেন্টিনার আজ মহারণ, ফাইনাল। রাতভর অনেক মেসেজ চালাচালি হয়েছে ওদের।
সকালে এসএমএসের ঘন্টিতে ঘুম ভাঙে সন্তুর।
“আজ শেষ রিচার্জের দিন, ঋণমুক্তির দিন। আমার দল জিতলে দেখা হবে রাসবিহারীর রেস্তোরাঁয়, অ্যাড্রেস পাঠালাম।”
খুশিতে ভরে যায় সন্তুর মনটা। তাড়াতাড়ি উঠে
পড়ে বিছানা ছেড়ে। সন্ধ্যা ৭টা থেকে খেলা শুরু হলেও সন্তু তাড়াতাড়ি চলে আসে রেস্তোরাঁয়। সারা কলকাতা ভরে গেছে বিশ্বকাপ জ্বরে। রেস্তোরাঁয় ঢোকার মুখে রাস্তায় জায়ান্ট স্ক্রিন লাগিয়েছে কোন সংস্থা। ভিতরেও লেগেছে স্ক্রিন, সন্তু ঢুকে এমন টেবল বেছে নেয় যেখান থেকে রেস্তোরাঁর এন্ট্রি আর জায়ান্ট স্ক্রিন দুটোই দেখা যায়।
খেলা শুরু হয়ে গেল কিন্তু এখনো তো সে এল না। মেসেজ করল সন্তু কিন্তু কোনো রিপ্লাই পেল না। ভাবল, মেয়েটা ইয়ার্কি মারল ওর সাথে। দুত্তোর! সব ভুলে খেলা দেখায় মন দিল ও। অর্ডার দিল কিছু স্ন্যাক্সের। ফাইনালী অনেক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর জিতল ব্রাজিল।
আনন্দে প্লাবিত হওয়ার মাঝেই ওয়েটার এসে বিল দিয়ে যায়। সন্তু পেমেন্ট করে অ্যাওয়ার্ড সেরিমনি দেখতে থাকে। ইতিমধ্যে কখন এসে চেঞ্জ দিয়ে গেছে। তুলতে গিয়ে দেখে ১০০ টাকা বেশী। সাথে একটা চিরকুট।
“শুভেচ্ছা জেতার জন্য, প্রতিশ্রুতি মতন আমার দল না জেতায় মোলাকাত হল না, দেখা হবে অন্য কোথাও অন্য কোনোখানে। ঋণমুক্তির চুক্তি অনুযায়ী নিজেকে জানান দিলাম। — বৃষ্টি”
সন্তু ডাক দিল ওয়েটারকে, জানতে চাইল প্রেরকের ঠিকানা। ওয়েটার জানাল, ওই তো আপনার পিছনের টেবিলে ছিল ওই ম্যাডাম। ঘুরে কাউকেই দেখতে পেল না সে। প্রিয় দলের জয় আর নাম পরিচয়ের স্মৃতি নিয়েই বাড়ির পথ ধরল সে। “বৃষ্টির বন্ধুত্ব গ্রহণ করলাম” ছোট্ট উওরে জানিয়ে দিল আগামীর আহ্বান। ©Ayan
ওফঃ, আগের লাখ টাকা জেতার লটারির এসএমএস গুলোর মতন এখন আবার রিচার্জেরও আসছে। মোবাইল সুইচ অফ করে পরীক্ষার হলে ঢোকে ও।
পরীক্ষা শেষের পর হল থেকে বেরিয়ে আজ ওদের বন্ধুদের প্ল্যান কোথাও বসে আড্ডা মারা। মোবাইল সুইচ অন করে সন্তু। হুড়মুড় করে ঢুকতে থাকে অজস্র আপডেট। হঠাৎ ও লক্ষ্য করল একটা আননোন নাম্বার থেকে প্রায় ১০-১২টা মিসড্ কল, মায়ের কিছু হল না তো, বেরোনোর সময় বলছিল যে শরীরটা ভাল নেই। এসব কু-চিন্তা করতে করতেই সন্তু ওই নাম্বারটায় কল করে। “কি মশাই আপনি, আক্কেল নেই আপনার, এতগুলি মিসড্ কল পেয়েও রিং করেননা, নাকি ফোকটে টাকা পেয়ে ঝেড়ে দেবার ধান্দা?”
কলেজের হার্টথ্রব সন্তু একটু ভেবাচেকা হয়ে যায়। জড়তা কাটিয়ে তারপর বলে “ও হ্যালো, কি সব বলছেন আপনি, রাঁচি থেকে পালানো কেস নয়তো”,
“আরে ২০০০ টাকার রিচার্জের মেসেজটা পাননি নাকি? ওটাতে বাই মিসটেক রিচার্জ হয়ে গেছে, এখন তাড়াতাড়ি পেটিএম বা কোন ওয়ালেটে ফেরত দিন ব্যস। নাহলে কিন্তু”
সন্তুঃ “নাহলে?” এতক্ষণে বুঝতে পেরেছে কেসটা কি। কলেজের মেয়েদের মধ্যমণি সন্তুকে থ্রেট দেওয়া, তোমাকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাবো আমি।
“নাহলে আবার কি? আমার ভুল হওয়ার জন্য ক্ষমা চাইছি, কিন্তু টাকাটা পাঠান নাহলে মাস চালাতে পারবনা।”
সন্তুঃ “দিতে পারি কিন্তু কেন দেব, মিট করুন, দেখি সত্যিই আপনার নাম্বার না চোরাই মাল” মনে মনে ভাবল, পথে এস বাছা।
“না না, ওসব হবে না”
সন্তুঃ “তাহলে ভুলে যান। ১০ টাকার রিচার্জ করে দিচ্ছি, মাস কাটলে হাতখরচ পেলে আবার করে দেব”। ফোনটা কেটে দেয় ও। তারপর ভাবে সত্যিই হয়ত মেয়েটা হস্টেলে থাকে, এটা তো ওর সাথেও হতে পারত। তারপর আবার ভাবে নিজে ভুল করে লোকজনকে ধমক দিচ্ছে, এদের একটু শিক্ষা হওয়া দরকার।
সাতপাঁচ ভেবে আবার ফোন লাগায় ওই নাম্বারে। বলে, “দেখুন, একসাথে তো দিতে পারবনা, আমার মান্থলি রিচার্জের সময় হাতখরচ থেকে প্রতিমাসে আপনাকে রিচার্জ করে দেব, আপাতত ১০০ করে দিচ্ছি। চলবে?” উত্তর আসে “দৌড়োবে, থ্যাংকস্”। সন্তু কিছু বলার আগেই ফোনটা কেটে দেয় মেয়েটা। সন্তু ভাবে নামটা জানারও সুযোগ দিল না যে। বন্ধুদের সাথে আড্ডা মেরে বাড়ি ফিরে মেয়েটার নামোদ্ধারে লেগে পড়ে। যদিও হোয়াটস্অ্যাপ ফেসবুক ট্রু-কলার ইত্যাদি খুঁজেও নাম্বারটার কোন হদিশ পায় না ও।
এরপর মাঝেমধ্যে অন্য নাম্বার থেকে কল করে বিভিন্ন কায়দায় নাম জানার চেষ্টা করেছে ও। প্রতিবারই অদ্ভূতভাবে মেয়েটি বুঝে গিয়ে রিপ্লাই করেছে “এখনো মাস কাটেনি আর রিচার্জেরও টাইম হয়নি, হলে জানাব”। বলেই ফোনটা কেটে দিয়েছে। নাছোড়বান্দা সন্তুও সরাসরি নাম জিঞ্জাসা করে উওর পেয়েছে, সময় হলে জানাব। গুডমর্নিং গুডনাইট মেসেজ পাঠাতে পাঠাতে একসময়ে হাল ছেড়ে দিয়েছে সন্তু। কিন্তু মনে মনে অনেক কল্পনার জাল বুনেছে।
হঠাৎ ওর মোবাইলে একদিন মেসেজ আসে।
“আজ রিচার্জ করে দেবেন, একমাস শেষ”।
সন্তু ভাবে আশ্চর্য মেয়ে বটে, দরকার ছাড়া রিপ্লাই করে না। ও মনে মনে ঠিক করে দেখা ও করবেই। এরকম করেই কেটে গেছে বেশ কয়েক মাস। এখন মাঝেমধ্যে মেসেজের রিপ্লাই আসে। টুকটাক কথা হয় মেসেজের মাধ্যমে। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবল। বর্ষাও এসে গেছে বঙ্গে। সন্তু গোঁড়া ব্রাজিল সাপোর্টার হলেও জানতে পারে মেয়েটি মেসি ভক্ত তথা আর্জেন্টিনার সাপোর্টার। খেলা প্রসঙ্গে তাও মেসেজের রিপ্লাই পায় ও। পরপর রাউন্ডের বাধা টপকে ব্রাজিল আর্জেন্টিনার আজ মহারণ, ফাইনাল। রাতভর অনেক মেসেজ চালাচালি হয়েছে ওদের।
সকালে এসএমএসের ঘন্টিতে ঘুম ভাঙে সন্তুর।
“আজ শেষ রিচার্জের দিন, ঋণমুক্তির দিন। আমার দল জিতলে দেখা হবে রাসবিহারীর রেস্তোরাঁয়, অ্যাড্রেস পাঠালাম।”
খুশিতে ভরে যায় সন্তুর মনটা। তাড়াতাড়ি উঠে
পড়ে বিছানা ছেড়ে। সন্ধ্যা ৭টা থেকে খেলা শুরু হলেও সন্তু তাড়াতাড়ি চলে আসে রেস্তোরাঁয়। সারা কলকাতা ভরে গেছে বিশ্বকাপ জ্বরে। রেস্তোরাঁয় ঢোকার মুখে রাস্তায় জায়ান্ট স্ক্রিন লাগিয়েছে কোন সংস্থা। ভিতরেও লেগেছে স্ক্রিন, সন্তু ঢুকে এমন টেবল বেছে নেয় যেখান থেকে রেস্তোরাঁর এন্ট্রি আর জায়ান্ট স্ক্রিন দুটোই দেখা যায়।
খেলা শুরু হয়ে গেল কিন্তু এখনো তো সে এল না। মেসেজ করল সন্তু কিন্তু কোনো রিপ্লাই পেল না। ভাবল, মেয়েটা ইয়ার্কি মারল ওর সাথে। দুত্তোর! সব ভুলে খেলা দেখায় মন দিল ও। অর্ডার দিল কিছু স্ন্যাক্সের। ফাইনালী অনেক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর জিতল ব্রাজিল।
আনন্দে প্লাবিত হওয়ার মাঝেই ওয়েটার এসে বিল দিয়ে যায়। সন্তু পেমেন্ট করে অ্যাওয়ার্ড সেরিমনি দেখতে থাকে। ইতিমধ্যে কখন এসে চেঞ্জ দিয়ে গেছে। তুলতে গিয়ে দেখে ১০০ টাকা বেশী। সাথে একটা চিরকুট।
“শুভেচ্ছা জেতার জন্য, প্রতিশ্রুতি মতন আমার দল না জেতায় মোলাকাত হল না, দেখা হবে অন্য কোথাও অন্য কোনোখানে। ঋণমুক্তির চুক্তি অনুযায়ী নিজেকে জানান দিলাম। — বৃষ্টি”
সন্তু ডাক দিল ওয়েটারকে, জানতে চাইল প্রেরকের ঠিকানা। ওয়েটার জানাল, ওই তো আপনার পিছনের টেবিলে ছিল ওই ম্যাডাম। ঘুরে কাউকেই দেখতে পেল না সে। প্রিয় দলের জয় আর নাম পরিচয়ের স্মৃতি নিয়েই বাড়ির পথ ধরল সে। “বৃষ্টির বন্ধুত্ব গ্রহণ করলাম” ছোট্ট উওরে জানিয়ে দিল আগামীর আহ্বান। ©Ayan






Darun laglo
উত্তরমুছুন