অনেকদিন পর পুজোতে দু-তিনদিনের ছুটি পেয়েছে সুমি। অষ্টমীর রাতেই এসেছে মায়ের
কাছে শ্রীরামপুরে। দশমী একাদশী কাটিয়ে দ্বাদশীর ভোরে আবার ফিরে যাবে কলকাতায়। এখন
শ্রীরামপুর অনেক বদলে গেছে। গাছপালা কমে গড়ে উঠছে সেই কংক্রিটের জঙ্গল। তবে ওদের
বাড়িটা গঙ্গার খুব কাছেই। পিছনের বাগানে আজও আছে আম, কাঁঠালের গাছ। তার পিছনেই
গঙ্গার পার। ছোটবেলার অভ্যাস মতই নবমীর দুপুরে খাওয়ার পর বাগানে গাছের ছায়ায় বসে
গল্পের বই পড়তে বসে সুমি। ওর এই একটা নেশা ছিল ছোটবেলা থেকেই। গোয়েন্দা গল্পের
পোকা ছিল মাথায়। কিরীটী থেকে ফেলুদা, ব্যোমকেশ থেকে শবর, কিছুই বাদ যেত না ওর স্টক
থেকে। পড়তে শুরু করলে কখন যে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে যেত বুঝতে পারত না। হয়তো এই
সুপ্ত বাসনা থেকেই ওর কর্মস্থল হয়ে উঠে পুলিশের চাকরি। এখন আবার হোমিসাইড
ডিপার্টমেন্টে নাম ডাক হয়েছে ওর বেশ কিছু জটিল কেস সল্ভ করার জন্য।
“কিরে, বাড়িতে এলি কি গল্পের বই পড়ার জন্য? মায়ের সাথে কি একটুও কথা বলতে
ইচ্ছা করে না?” ভিতর থেকে হাঁক দেন উমা দেবী।
“যাচ্ছি গো” আলগোছে ঘড়িতে দেখে চারটে বেজে গেছে। ভিতরে গিয়ে মায়ের সাথে
কিছুক্ষণ গল্প করে ও। একটু পরে বাবা ঘরে এসে বলে, “কি সারাদিন ঘরে বসে আছিস? একটু
পুজোর দিনে বাইরে বন্ধুদের সাথে আড্ডা মেরে আয় না।”
“ধুর, সারা সপ্তাহ দৌড়ঝাঁপ করে আর ভালো লাগে না। একটু মায়ের কোলে শুয়ে থাকি।”
“কিন্তু তোমার মত করিতকর্মা অফিসার যদি শুয়ে থাকে তাহলে তো চোর ডাকাতদের
পোয়াবারো। হ্যাঁ রে, ইদানীং পেপারে দেখছিলাম খুব মাদক আটক হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়।
স্কুল কলেজের ছেলেরা জড়িয়ে থাকছে। এবিষয়ে কিছু করছিস না কেন?”
“এটা আমার ডিপার্টমেন্টের বাইরে বাবা, যতক্ষণ না কেউ পরলোকে যাচ্ছে আমার
এত্তিয়ারে আসে না।”
মা রেগে উঠে বলে, “এই তোমার শুরু হল, মেয়ের সাথে দুটো সুখ দুঃখের কথা বলছি
সহ্য হচ্ছে না। সারাদিন ওই পেপারে মুখ গুঁজে বসে থাকো আর এখন মেয়েকে জ্বালাতে
এলে।”
এসবের মাঝেই বেজে ওঠে সুমির ফোনটা।
“ইয়েস। …বলছি।… হু।… আচ্ছা।… কটার সময়।… ওকে।… ঠিক আছে। মিনিট পনেরো।“ ফোনটা
রেখে বাবার দিকে তাকাল সুমি।
“একটা কেস এসেছে, বেরোতে হবে এখুনি। তোমার স্কুটি টা নিয়ে যাচ্ছি।”
মা হইহই করে ওঠে, “এই তো বললি ছুটি নিয়েছিস? এরকম করে আবার কেউ যায় নাকি?”
“আরে এই যাব আর এই আসব, ততক্ষণ বাবার সাথে একটু প্রেম করে নাও।”
“সব তোর বাবার জন্য, মেয়ের সাথে গল্প করছিলাম নজর দিল।”
চটপট তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়ল সুমি। ফোন করেছিল মিস্টার সরকার ফ্রম নারকোটিক্স
ডিভিশন, সুমির বস মিস্টার বসুর থেকে নাম্বার নিয়ে। সুমি স্পটের কাছাকাছি আছে জেনে
ওকেই যাওয়ার অনুরোধ করে।
ছিমছাম উত্তরপাড়া এখন মল ও ফ্ল্যাটের কেন্দ্রস্থল। ঠিকানায় পৌঁছে দেখে অলরেডি
এসে গেছে লোকাল থানার অফিসার। ওখানে যা ব্রিফিং পাওয়া গেল, তা থেকে জানা যায় কলেজ
পড়ুয়া দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রের মৃত্যু, সিম্পটম দেখে মনে হচ্ছে ড্রাগ ওভারডোজ।
ফরেনসিক টিম সব ডিটেলস নিতে থাকে। সুমির পরামর্শে কিছু এভিডেন্সও কালেক্ট করে।
বিশেষ কিছু না পাওয়া গেলেও পাওয়া যায় একটা পিস্তল।
ইতিমধ্যে এসে যায় নারকোটিক্স টিম। গাড়ি থেকে নেমে এসে মিস্টার সরকার বলেন,
“গুড টু শি ইউ অ্যাটলাস্ট, মিস সৌমিলি সেন। দত্ত র মুখে
আপনার অনেক প্রশংসা শুনেছি।“
“থ্যাংকস স্যার। ড্রাগ ওভার ডোজ মনে হলেও কিছু জিনিসে খটকা আছে। মার্ডারের
অপশন টা নাকচ করা যাচ্ছে না। বাই দ্য ওয়ে, এই ঘটনার সাথে আপনার টিম কিভাবে ইনভল্ভ
হল। এই ধরণের ঘটনাতেও তো এত তাড়াতাড়ি আপনারা ফিল্ডে আসেন না, আনলেস ইউ হ্যাভ সাম
ইনফর্মেশন অলরেডি।“
“ব্র্যাভো। ইউ আর রাইট।”
ওনার বিস্তারিত কেস হিস্ত্রি শুনে সুমি যা বুঝল, বেশ কিছু মাস আগে থেকেই ওরা
ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন একটা ড্রাগ র্যাকেটের সন্ধান পায়। যারা বিভিন্ন ভাবে যুবক
যুবতীদের মধ্যে এটা ছড়িয়ে দিচ্ছিল। সেই সুত্রেই বেশ কয়েকটা লিড আসে কিন্তু কাউকে ধরা
যায় না। অবশ্য ওই সব সুত্র থেকেই গত পরশু পাওয়া যায় আর একজনের হদিস। যাকে
গ্রেপ্তার করার পর, তার সাপ্লায়ার হিসাবে উঠে আসে এই মৃত ছেলেটির নাম। আজই পাওয়া
যায় ঠিকানা আর তার কিছুক্ষণের মধ্যেই খবর আসে এই ইন্সিডেন্টের। তাই শুধু ড্রাগ
ওভার ডোজ বলেও মনে হয় না এটা।
ছেলেটার নাম ময়ূখ ত্রিপাঠি। বাবা বড়বাজারের বিজনেসম্যান। পড়ত লিলুয়া অঞ্চলের
একটা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে, তাই বেশিরভাগ সময়ে থাকতো এই ফ্ল্যাটেই। আরও জানা যায় মাঝে
মধ্যেই বন্ধু বান্ধব নিয়ে পার্টি করত ফ্ল্যাটেই। কিন্তু কিছুদিন ধরে সেরকম কিছু
হতে দেখেনি কেউ। আর আশপাশের কারোর সাথেই তেমন মিশত না। তবে ঘটনার কদিন আগে সকালে
দুজন মাঝবয়সি লোক এসে ওর খোঁজ করে ফ্ল্যাটে গিয়েছিল। কিন্তু তাদের আজ কেউ দেখেনি
এখানে।
ফ্ল্যাটের সিকিউরিটির কাছ থেকে বর্ণনা শুনে স্কেচ আঁকার ব্যবস্থা করে সুমি।
মিস্টার সরকার বলেন, “জানি আপনি ছুটিতে আছেন, তবুও জিজ্ঞাসা করছি আপনি কি
আমাদের সাথে আসতে পারবেন কিনা?”
“শিওর, একটা কল করে আসছি।” মাকে ফোন করে জানায় সে কলকাতায় যাচ্ছে আর ফিরবে কখন
বলতে পারছে না। লোকাল থানার একজন কনস্টেবলকে দিয়ে স্কুটি টা ফেরত পাঠায় বাড়িতে। ময়ুখের
বাবা মা ও এসে যান এর মধ্যে। ওদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বডি পোস্টমর্টেমে পাঠানো হয়।
ফ্ল্যাট সিল করে ওখান থেকে সবাই একসাথে বেরিয়ে যায় কলকাতার নারকোটিক্স
ডিপার্টমেন্টের উদেশ্যে।
মিস্টার সরকার বলতে থাকেন, “বাকি সব মিসিং লিঙ্ক থেকে এই একজনের নাম ধামই
পাওয়া গিয়েছিল। সেটাও আর নেই। এরা মূলত টার্গেট করত বড়লোকের বখে যাওয়া ছেলে
মেয়েদের আর খুব নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে কলকাতায় আসা পড়ুয়াদের। জুতোর মধ্যে,
আংটির পাথরের মধ্যে এমনকি মেয়েদের অন্তর্বাসের মধ্যেও পাচার করত এগুলো। কেউ কেউ
আবার এসব করতে করতে নিজেরাও পড়ে যেত এই নেশার কবলে।”
“কিন্তু আপনাদের এখানে আসার কথা নিশ্চয় ওদের মাথাদের কাছে পৌঁছে গেছিল। আর হয়ত
কোনোভাবে ওরা বুঝতে পারে ছেলেটা সব বলে দিতে পারে। তাই তার আগেই শেষ করে দিল।
কিন্তু কিভাবে জানল? আপনার টিম ছাড়া আর কেউ জানে এই অপারেশনের ব্যাপারে?” সুমি
গম্ভীর মুখে জানতে চায়।
“নো, মিস সেন। আর আই ট্রাস্ট মাই টিম মোর দ্যান মাইসেলফ। তবে…”
“তবে?”
“না কিছু নয়, এভিডেন্স ছাড়া কিছু বলা আমার স্বভাব নয়।” টেক্সট করে টিম কে ওঁর
ওপর নজরদারি লাগাতে বলে।
নারকোটিক্স ডিপার্টমেন্টের টেবিলে বসে আবার ব্রিফিং হয় পুরোটার। ইতিমধ্যে
সুমির মারফৎ এসে যায় স্কেচের কপি। তৎক্ষণাৎ ক্রাইম ডেটা থেকে সার্চ করে পাওয়া যায়
ওই দুজন সুপারি কিলারের হদিস। জানা যায় এরা জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিল কয়েক সপ্তাহ
আগেই। আর এদের বিশেষত্ব হল, নতুন নতুন উপায়ে বিষ দিয়ে মার্ডার করা। তাই এদের নামে
বহুদিন অনেক কেস থাকলেও এরা অনেকদিনই ধরা পড়েনি। এবারও ছাড়া পেয়েছে প্রমাণের
অভাবেই। একটা দল বেরিয়ে যায় ওদের খোঁজার জন্য।
সুমি জিজ্ঞাসা করে, “আর একজনকে যে কাস্টডি তে নিয়েছিলেন, তার থেকে আর কিছু
জানতে পারেননি এই ছেলেটার নাম ছাড়া?”
“না, সেটাও বেশ অন্যরকম। ছেলেটাকে দেখে গ্রামের গোবেচারা ভিতু বলেই মনে হয়েছে।
ও ইদানীং ময়ুখের থেকে মাল নিয়ে কিছু কলেজ অঞ্চলের ত্রিফলার বাতিস্তম্ভের মধ্যে
রেখে আসত। বিনিময়ে টাকা পেত। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ এই সাপ্লাই হয়নি আর তারপর ওকে
গ্রেপ্তার। প্রচণ্ড ভয় পেয়ে আছে ছেলেটা। আমরা সিসিটিভি দেখে ওর কথা ভেরিফাই করেছি।
মশাগ্রামে ওর বাড়ির ওপরেও নজর রাখা হয়েছে আর ভেরিফাই করা হয়েছে। ওকে আমরা ছেড়েও দিতে
চেয়েছিলাম যাতে ওয়াচে রাখা যায়। কিন্তু পাগলের মত কান্নাকাটি করে বলে যে ময়ুখকে না
ধরে আনলে ওকে না ছাড়তে। ময়ুখ নাকি জানতে পারলে ওকে জানে মেরে দেবে। ময়ুখের কাছে
নাকি থাকে পিস্তল।”
“একবার ছেলেটার সাথে কথা বলতে পারি?”
“অবশ্যই।”
ছেলেটাকে দেখে নিরীহ বলে মনে হলেও কোন কারণে যেন একটু ভয়ে সিঁটিয়ে আছে বলে মনে
হল সুমির।
“তোমার কোন ভয় নেই। তুমি আমাকে নির্ভাবনায় যা জানো বলতে পার। এই কথা অন্য কেউ
জানবে না। তোমার ময়ুখ দা কে তুমি কবে থেকে কিভাবে চিনতে? তোমার বাড়ি তো মনে হয়
বর্ধমানের মশাগ্রামে। ওখানকার হাই স্কুলে আমার জ্যাঠা মাস্টারমশাই ছিলেন।” এসব
শুনে ছেলেটা একটু নড়ে বসে।
“বিশ্বাস করুন, আমি কিছু জানিনা। যা জানতাম সব ওদের বলে দিয়েছি। বছর খানেক আগে
একটা কলেজ ফেস্টে পরিচয় হয়েছিল ময়ুখদার সাথে। ছোটবেলা থেকে অভাবের সাথে লড়াই করে
আচমকা পাওয়া এত টাকার লোভ সামলাতে পারিনি। কিন্তু কিছুদিন ধরেই ময়ুখদা কে বলছিলাম
এই লাইন ছেড়ে দেব।“
ময়ুখদা তখন বলেছিল, “এই লাইনে ঢোকা যায়, বেরনো যায় না। আমি নিজেও কি বেরোতে
চাইনি? নেশার ঘোরে জড়িয়ে পড়েছিলাম। আর এ থেকেই চিন্তায় আমার হার্টের অসুখ হয়ে গেল।
বাবুজি জানতে পারলে আমার মুখ দেখবে না কোনোদিন। আমি যদি কোনোদিন বেরোতে পারি তোকে
সঙ্গে নিয়ে যাব। তোকে এই পাঁকে আনার দায়ভার আছে আমার।“ একটু দম নেই ছেলেটা।
"ঠিক আছে, আর কিছু মনে পরলে আমাকে ডাকতে বোলো।"
ওখান থেকে বেরিয়ে এসে মিস্টার সরকার কে জানায় যে, দুটো আরো সাইড হতে পারে, এক,
ময়ুখ বেরোতে চাইছিল এথেকে, যার জন্য হয়ত থ্রেট পাচ্ছিল। হয়ত ওর পরের মাথার খবর বলে
দেবে ভেবেছিল, যা ওর মৃত্যুর কারণ হল।
আর একটা কারণ হতে পারে, যেটা আমি একটু ভেরিফাই করে জানাচ্ছি আপনাকে। এই বলে
সুমি বেরিয়ে রাস্তায় এসে গেল। নিউটাউনের এদিকে বেশি পুজো না হলেও দূর থেকে ভেসে
আসছে ঢাকের আওয়াজ। কয়েকটা ফোন করে আপডেট নিল পোস্টমর্টেমের রিপোর্টের। তারপর ফোন
লাগালো দত্তদা কে, ফরেন্সিক হেড আর সুমিকে বেশ স্নেহ করেন উনি।
“কি ব্যাপার, নবমীর দিনই বিজয়া টা সেরে নিচ্ছ নাকি?” টিপিকাল দত্ত দা সুলভ
মস্করা।
“না না, কি যে বলেন, আমাদের আবার পুজো। বলছি, একটা পোস্টমর্টেম কেস গেছে
নারকোটিক্স ডিপার্টমেন্টের বিকেলের পর, উত্তরপাড়া থানার রেফেরেন্সে। ওটা নিয়ে একটু
আপনার হেল্প লাগবে।”
“ডিপার্টমেন্ট চেঞ্জ করে নিলে নাকি? আর আমাকে তো এমনি কখনো মনে পড়ে না। বলো,
কি জানতে চাও?”
“আপাত দৃষ্টিতে ড্রাগ ওভার ডোজ মনে হচ্ছে। কিন্তু, ভিকটিমের হার্ট প্রবলেম
ছিল। অন্য কোনো উপায়ে শরীরে কি বিষক্রিয়া ঘটানো সম্ভব, স্লো পয়জনের মাধ্যমে?”
“সম্ভব, কিন্তু শরীর না দেখে বলি কিভাবে? কাল এগারটায় ফোন কর, উত্তর পেয়ে
যাবে।”
ইতিমধ্যে ওপরে এসে জানতে পারে ওই কিলারদের লোকেট করা গেছে। আসা করা যায় ভোরের
আগেই পাখি জালে পড়বে। সুমি এবার মিস্টার সরকারকে বিদায় জানিয়ে বাড়ির দিকে রওনা
দেয়। পুজোর ভিড় কাটিয়ে বাড়ি ফিরতে ফিরতে প্রায় মাঝরাত।
অভ্যাস মত ভোরের জগিং করে ফেরার পরই প্রথম কল আসে মায়ের। সব ঠিক আছে জানানোর
সাথে সাথে দেখে মিস্টার সরকারের ফোন ওয়েটিং। ওনাকে ফোন করতে বলেন যে লোক দুটোকে
ধরা গেছে, ও যেন তাড়াতাড়ি চলে আসে।
ইন্টারোগেশনের শুরুতে কিছুই বের করা যায় না ওদের থেকে। ওরা কলের মাধ্যমে কাজ
পেয়েছিল জানায়, উত্তরপাড়ার ওই অ্যাড্রেসে গিয়ে টাকা আদায়ের জন্য শাঁসাতে গিয়েছিল
জানায়। ওদের কল রেকর্ডিং থেকে পাওয়া যায় একটা নাম্বার যেটা থেকে কল এসেছিল ঘটনার
আগের দিনও। টিম মোবাইল থেকে বের করে অটোমেটেড কল রেকর্ডিং। বিশেষ কিছু না পাওয়া
গেলেও পিছনে শোনা যায় শুধু একটা নামকরা পুজোর অষ্টমীর অঞ্জলির আহ্বান।
কিছুক্ষণের মধ্যেই সুমির কাছে ফোন আসে মিস্টার দত্তর। উনি যা বলেন তার মূল কথা
হল, ময়ুখকে বিষ দেওয়া হয়েছিল কদিন আগেই। ওর পায়ের কাছে পাওয়া গেছে একটা ক্ষুদ্র
সূচ ফোটানোর চিহ্ন। ওটা দিয়েই ইঞ্জেক্ট করা হয়েছে একটা বিশেষ রাসায়নিক, যা দুর্বল
হার্টের পেসেন্টের কাছে স্লো পয়জনের মত। আর এর পরিনতি দেখে মনে হবে যেন ড্রাগ ওভার
ডোজই। সুমি ওই রাসায়নিকের নাম টা নোট করে নেয়।
সুমি এসে পুরো ব্যাপারটা মিস্টার সরকারকে বলতেই আচমকাই চিৎকার করে ওঠেন উনি
“ইয়েস। এবার সব পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে।“ টিমকে অপারেশনের জন্য তৈরি হতে বলেন। কয়েকটা
ফোন করে কিছু জিনিস কনফার্ম করেন উনি। ওই রাসায়নিকের একটাই কোম্পানি আছে এখানে,
যার কর্তা রাজ্যের এক প্রতাপশালী মন্ত্রী। এবার চাপ দিয়ে ওই দুজন লোকের থেকে আদায়
করা যায় গোপন জবানবন্দি। ওরাও ওই পুরো মার্ডার উইপনের ব্যাপারটা বুঝে গেছে ভেবে
কিছুটা হাল ছেড়ে দেয়। সিভিল ড্রেসে পুলিশ সিজ করে ওই কোম্পানির কারখানা। ওখানকার গোডাউন
চেক করে পাওয়া যায় মাদকের এক বিশাল সম্ভার। অনেকদিন থেকে বিভিন্ন সুত্র থেকে খবর
পেলেও নিশ্চিত প্রমাণ ছিল না মিস্টার সরকারের হাতে। সুমির এই যোগসূত্রই সাহায্য
করে মিসিং লিঙ্কগুলো জুড়তে। বিভাগীয় মন্ত্রী হওয়ার জন্যই আগের খবরও লিক হয়ে
যাচ্ছিল ওঁর নেটওয়ার্কে।
অন্যদিকে পুলিশ নিয়ে সবাই পাড়ি দেয় ওই বিখ্যাত পুজোর উদেশ্যে। সেখানে এখন
দশমীর সিঁদুর খেলার আয়োজন। পুলিশ আসতে দেখে সবাই একটু থমকে যায়। মাঝে বসে থাকা
রাশভারি পুজো কর্তা, রাজ্যের মন্ত্রী অজয় রানাডে।
“ইউ আর আন্ডার অ্যারেস্ট।”
বেশ কিছু বছর ধরে গড়ে ওঠা এই বিশাল সাম্রাজের পতন হল, যা যুবসমাজকে ধীরে ধীরে
ঠেলে দিচ্ছিল মারণ নেশার দিকে। দশমীতে দেবীর বিসর্জনের সাথে সাথেই বিদায় হল এই
ধুসর পৃথিবীর কিছু জঞ্জাল। সুমির ফোনে মেসেজ ঢুকল বসের, “বিজয়ার শুভেচ্ছা। থ্যাংকস
ফর মেকিং মি প্রাউড। দুদিন ছুটি নিয়ে জয়েন করো।”
পুলিশের জিপটা দিল্লি রোড ধরে এগিয়ে চলল শ্রীরামপুরের দিকে। দশমীর রাত এখনো
বাকি, ঘরে ফিরে বাবা মায়ের আশীর্বাদ নিতে হবে যে।
©Ayan






0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন