ছোট গল্পের সন্ধানে || কলমে অয়ন


Best Bangla Books to Buy in 2024

#যদি এমন হত#

যদি এমন হত

“অনেকদিন হল আমাকে নিয়ে তেমন কোন বিতর্ক হয়নি। পাবলিকের নজরে থাকতে অনেকে এই সময়ে আমাকে নিয়ে আদিখ্যেতা করে। কাল আবার একটা বিশেষ দিন“ এক মহাজাগতিক ভিন গ্রহে বসে ভাবছিলেন উনি।

এদিকে অনেকের বড় মূর্তি হলেও ওনার তেমন বড় আকারের কিছু নেই। ওনার বন্ধুদের অনেকেরই যেটা আছে, বন্ধুমহলে মাঝে মাঝেই মস্করা হয় এই নিয়ে।

“কি হে ভায়া, এত কিছু যে করলে তার তো কোন প্রতিদান পেলে না? মনে হয় না শুধু শুধুই জীবনে এত ত্যাগ করেছ? এখনকার ছেলেমেয়েরা তো ঠিক করে তোমার কাহিনীটাই বলতে পারবে না। বরং নেতাদের নাম শুনলেই বিরূপ মনোভাবই প্রকাশিত হয় তাদের।”

সত্যিই তো, নিজেও যে ভাবিনি তা নয়। আফসোসও হয় মাঝে মাঝে, কি ভেবেছিলাম আর কি হয়েছে। একটা কর্মহীন দিন আর উইকএন্ড ট্রিপের জন্য একটা অজুহাত। স্কুলের প্রেজেন্টেশানেই আটকে পড়ে আছে সব কিছু, ইমপ্লিমেন্টেশানের অভাব। যুবকদের মধ্যেও সেই প্রতিবাদী স্বর উধাও। বরং কিছু একটা ভাবে ভারচুয়াল দুনিয়ায় কিভাবে ফেমাস হওয়া যায় সেটায় ব্যস্ত সবাই। সে বাড়ি ঘর ঝাঁট কিভাবে দিচ্ছে, রান্না করছে কিভাবে, নিদেনপক্ষে কিছুই না পারলে কি করে ইন্টারনেটে নিজের বাড়ি খুঁজবে সেটাও করে দেখাচ্ছে। অথচ, সে বসে আছে নিজের বাড়িতেই। এ যেন সেই মাছের তেলে মাছ ভাজার মত ব্যাপার। কত ফলোয়ার, কত লাইক, কত ভিউ সেসব দেখেই নাকি বোঝা যায় তুমি কত ফেমাস। এখনো গায়ে কাঁটা দেয় সেসময়ের বাড়ি থেকে পালানোর কথাটা মনে পড়লে। না ছিল গুগুল ম্যাপ, না ছিল ইন্টারনেট। আজকের দিনে হয়ত নেটফ্লিক্স স্পনসর করে দিত ট্রিপ টা, সঙ্গে করে নিত ওয়ার্ল্ড টেলিকাস্টের স্বত্ব। কিন্তু নিজের তেজস্বী ভাব তো এখনও বর্তমান। তাই মুখে বলি “কিছু পাওয়ার আশায় তো কিছু করিনি। যা করেছি স্বেচ্ছায় করেছি।”

ওরা বলে তা তো করেছ। কিন্তু ওই যে ওনার সাথে তোমাকে নিয়ে কম্পেয়ার করাটা পাবলিক এখনো ভোলেনি। এখনো এই নিয়ে আলোচনা হলে তোমাদের নামটাই আসে, আর আমরা সব পার্শ্ব চরিত্র।

বলি, “চলো না এমন কিছু করি যাতে পুরো যুবসমাজ আবার চাঙ্গা হয়ে ওঠে।”

সবাই কথা টা শুনে নড়ে চড়ে বসে। মোটামুটি সকলেই একমত কিছু একটা করার ব্যাপারে, কিন্তু কিভাবে এই জেগে ঘুমন্ত ১৩৮ কোটির দেশকে নাড়ানো যায়? ভাবতে থাকে সকলেই। সেই আগেকার দিনের মত বিভিন্ন মতামত দিতে থাকে সকলে। শেষ পর্যন্ত সকলে পৌঁছয় একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে। কিন্তু সেই চিরকালের মত বাঁধা দেন বাপু। তবে সবাইকে বিস্মিত করে বলেন, এখনকার মতোই হ্যাস ট্যাগ ইউজ করতে হবে। একটা একাউন্ট তৈরি করে নিতে হবে সব সোশ্যাল মিডিয়ায়।

আজ নতুন সকাল, ভোরের সূর্য উঠে দূর করে দেবে মনের কলুষতা। আজ একটা বিশেষ দিন, ২৩ শে জানুয়ারী, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মদিন। কিন্তু সকাল থেকেই নাকি চারদিকে বেশ কোলাহল। ধীরে ধীরে সব টিভি চ্যানেল দেখানো শুরু করেছে। খবর আসছে সারা দেশ থেকেই। ছোট বড় কোনো শহরই নাকি আর বাকি নেই। বাকি নেই কোনো স্বাধীনতা সংগ্রামীর ছোট বড় একটা মূর্তিও। সে পার্কেই হোক বা পাড়ার মোড়ে, রাজধানীর রাজপথেই হোক বা কোন ছোট্ট গ্রামে। এখনো পর্যন্ত দায় স্বীকার করেনি কোন সংগঠন। সব মূর্তির মুখ পুরো ঢাকা কাপড়ে।

গলায় ঝুলছে একটা লেখা, “গিভ আস দ্য ফ্রিডম ব্যাক হুইচ উই হ্যাভ অ্যাচিভড। সে নো টু কোরাপশান, ব্রিং ডাউন দ্য লিডার হু আর নট ফর দ্য কান্ট্রিস গ্রোথ। ওপেন আওয়ার ফেস ইন দ্যাট এরিয়া অনলি হোয়ার ইট ইজ অ্যাচিভড।”

“ফিরিয়ে দাও সেই স্বাধীনতা যা আমরা অর্জন করেছিলাম। কোরাপশান নিপাত যাক। যে নেতারা দেশের অগ্রগতির পরিপন্থী দূর হটাও তাদের, নতুন ভারত গড়ো। যেখানে এটা করতে পারবে সেখানেই শুধুমাত্র আমাদের মুখাবরণ খুলবে।” – আমি সুভাষ বলছি

সব সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা ফ্রিডম ফাইটার একাউন্ট দিয়ে পোস্ট হয়েছে এই লেখাগুলো। মুহূর্তেই শুরু হয়েছে ট্রেন্ডিং, সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে অনবরত। পাড়ায় পাড়ায় নেমে পড়ছে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা। সারা ভারতের যুবসমাজ আবার জেগে উঠছে নতুন ভারতের আসায়।

উপর থেকে মুচকি হাসছেন ওঁরা।

©Ayan

রচনার তারিখ: ২২শে জানুয়ারী ২০২২
Share:

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মোট পৃষ্ঠাদর্শন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.