#পাএী চাই#
“পঃবঃ সঃচাঃ দুর্গাপুরে কর্মরত অনূর্ধ ২৮ পাএী চাই”, সকালে নিউজপেপার দেখে এটাই আজকের প্রথম পছন্দ হল সমরেশের। এরপর চা খেয়ে দিতিকে আর ওর মা কে ডেকে এটা দেখাবেন তিনি। ৯টা নাগাদ শুরু করবেন ফোন করা। প্রাথমিক কথাবার্তায় পছন্দসই হলে পরের রবিবার আসার আহ্বান, নাহলে পরের পছন্দের পাএপক্ষের নাম্বার ডায়াল। দিতি ও এখন অভ্যস্ত রবিবারের এই প্রারম্ভিক ক্রিয়াকলাপ এ। দুর্গাপুর সন্বন্ধে সমরেশের একটু দুর্বলতা আছে, ১২ বছরের চাকরিজীবন ও ৪ বছরের কলেজলাইফ। দিতির জন্মও দুর্গাপুরে, আর সমরেশের দৃঢ় ধারণা দিতির সুন্দর আচার আচরণের পিছনে ওখানকার পারিপার্শ্বিক পরিবেশের যথেষ্ট প্রভাব আছে। দিতিও যথেষ্ট সুন্দরী, মেধাবী, প্রাইভেট স্কুলে চাকুরীরতা। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি বিয়ের পিঁড়িতে বসতে আপত্তি তার। বাবাকে সে যমের মত ভয় পায়, মা কে বলেও বিশেষ পাত্তা পায়নি। তাই সে কিছু-না কিছুর ছলে আগের দুটি সন্বন্ধকে কাটিয়েছে। বাবা দিতিকে যথেষ্ট ভালবাসে তা সে জানে, তাই বাবার অমতে সে কিছুই করেনা। আর সেই কারনে স্কুল কলেজ লাইফে অনেক প্রোপোজাল পেলেও ভুলেও সে প্রেমের পথ মারায়নি।
৯টায় ফোন করল সমরেশ। সমস্ত কথাবার্তার পর আগামী রবিবার পাএপক্ষ আসবে বলে ঠিক হল। সমরেশ ওদের লাঞ্চ করার নিমন্ত্রণ করল। শোনার পর থেকেই দিতির মাথায় প্ল্যান ঘুরতে থাকল, কিভাবে তৃতীয় পক্ষকে নিরস্ত করা যায়।
রবিবার অন্য সপ্তাহের মত বিছানায় আলসেমি করতে পারেনি দিতি। হাতে হাতে সাহায্য করেছে মাকে। নির্দিষ্ট সময়ে পাএপক্ষ এসেছে। প্রাথমিক কথাবার্তার পর দিতিকে দেখতে চান ওঁরা।
দিতি জলখাবার নিয়ে ঘরে ঢোকে। আড়চোখে দেখে নেয় গিনিপিগ টাকে। মন্দ নয় সে পাএ ভাল, সুদর্শন যাকে বলে, প্রথম দর্শনে তাই মনে হয় দিতির। কথাপ্রসঙ্গে দিতি বলে যে ও চাকরিটা কন্টিনিউ করতে চায়। ওনারা জানান যে বিয়ের পরেও দিতি যদি চাকরি করতে চায় আপওি নেই তাদের। দিতির প্রথম অস্ত্রটা ভোঁতা হতে দেখে সে কিছুটা গুমরে যায়। এই অস্ত্রেই আগের পক্ষ ঘায়েল হয়েছিল। এরপর সকলে লাঞ্চ করা শুরু করে, পবিবেশনের দায়িত্ব নেয় দিতি ও তার মা। খাওয়া পর্ব শেষ হলে সমরেশ বলে, যা না দিতি শৈবালকে ছাদ টা দেখিয়ে নিয়ে আয়।
দিতি বুঝতে পারে, ফার্স্ট স্টেপ পাশ। ও শৈবালকে নিয়ে ওপরে ওঠে। একে অপরের ভালবাসার বিষয়বস্তু আলোচনা করতে করতে কিছুক্ষণ কেটে যায়। হঠাৎই দিতি মোক্ষম অস্ত্রটা ছাড়ে। শৈবালকে জিজ্ঞাসা করে “আপনার কোন অ্যাফেয়ার ছিল?“ শৈবাল একটু থতমত খেয়ে বলে, “হ্যাঁ ছিল, স্কুল লাইফ থেকে, চলেছিল অনেকদিন। কিন্তু মেয়েটি কেরিয়ারের জন্যে ব্যাঙ্গালোর চলে যায়। সেটাটেই ঘোর আপত্তি ছিল আমার। আর এই নিয়েই অশান্তি থেকে সম্পর্কের ইতি।” দিতি বলে তাহলে আমাদের সম্পকেও তো এই ঘটনা ঘটতে পারে। আমিও কেরিয়ারিস্টিক। চাকরির জন্য লোকেশন চেঞ্জ করতে হলেও আমি তাই করব। শৈবাল বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে ও বিভিন্ন যুক্তি দেয়। কিন্তু দিতি তো এই চালেই চেকমেট করতে বদ্ধমূল। ফলে এবিষয়ে আর কিছুক্ষণ আলোচনার পর ওরা নিচে নেমে আসে।
আর কিছু সময় পর ওনারা বিদায় নিলেন। দিতির খারাপ লাগেনি ছেলেটাকে। তাই এভাবে পাশ কাটানোয় কিছুটা গুম মেরে গেছে ও। বাবা দিতিকে বলে তোর মুখ দেখে বুঝতে পেরেছি উওরটা, কারনটা বলতে পারবি? দিতি সত্যি মিথ্যা মিশিয়ে ঘটনাটা বলে বাবাকে। এরপর থেকে দিতি লক্ষ্য করে বাবা পেপারে পাএ-পাএীর বিঞ্জাপন দেখা বন্ধ করে দেয়। মনে মনে বাবার জন্য কষ্ট হলেও হাফঁ ছাড়ে সে।
এরপর কেটে গেছে বছর কয়েক। দিতি এখনো সিঙ্গল। ইতিমধ্যে একটা মোবাইল কোম্পানি চালু করেছে এক বন্ধুত্বের ভয়েস মেলবক্স। এখানে প্রথমে কল করে রেজিষ্টার করতে হবে। তবেই বাকি রেজিষ্টারড্ কলারদের ভয়েস ও সিরিয়াল নং জানা যাবে। যার উদ্দেশ্যে কথা বলা হবে, তার সিরিয়াল নং প্রেস করে নিজের ভয়েস মেসেজ রেকর্ড করতে হবে। যখন সেই সিরিয়াল নং ধারী কল করবে, তখনই সে শুনতে পাবে প্রেরকের বার্তা। ব্যাপারটায় তাৎক্ষনিক যোগাযোগের সুযোগ না থাকলেও বেশ একটা রোমান্টিকতা আছে। অনেকটা অতীতের পএবন্ধুর মত। এক রবিবার দিতির বাবা মা গেছে ওর পিসির বাড়ি। এই সুযোগে দিতি ঠিক করে ল্যান্ডফোন থেকে ট্রাই করবে নতুন বন্ধুত্বের। নিজের মেসেজ রেকর্ড করে ও। তারপর যথারীতি কিছুদিন ভুলে যায়। হঠাৎ একদিন আবার ঘোরায় নাম্বারটা। বেশ কয়েকটা মেসেজ এসেছে ওর। কয়েকজনকে ও আবার ভয়েস মেসেজ রিপ্লাই করে। এমনি করে কিছুদিন চলতে থাকে। ও এখন নেশাগ্রস্ত হয়ে গেছে এই বন্ধুত্বের কন্ঠস্বর আদানপ্রদানে। যদিও মাস খানেক যাবদ শুধু একজনের সাথেই ওর এই দূরভাষে স্বরালাপ চলছে। বাবা-মা ঘুমোনোর পর শুরু হয় ওর এই কার্যকলাপ। এখনো ওরা কেউই নিজের পরিচয় প্রকাশ করেনি। ওদের বন্ধুত্বের এটাই ছিল প্রাথমিক শর্ত। দিতি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে এই ভয়েস ফ্রেন্ডের ওপর। একদিন ও মেসেজে জানায়, এবার দেখা করা যাক। উওরের অপেক্ষায় থাকে কয়েকদিন। তারপর উওর আসে নন্দন চত্তরে দেখা হবে নীল পাঞ্জাবীতে। রবিবার ৫টায়। দিতিও জবাব পাঠায় দেখা হবে কালো রেশমের কাপড়ে, যদিও আঁচল থাকবেনা মাথায়। কল্পনায় গড়ে তোলা অবয়বটাকে অনুভব করতে চায়। আবার ওর অনুসন্ধানী মন ভাবতে থাকে, সত্যিই ও কি পাবে ওর মনের রাজকুমারকে। যদি তাকে দেখতে সুন্দর না হয় তাতেও চলবে, মনটা হতে হবে স্বচ্ছ। যদিও এতদিনের কথাবার্তায় সে বিশ্বাস তার জন্মেছে। গুনগুন করে ওঠে, “তারে আমি চোখে দেখিনি, তার অনেক গল্প শুনেছি/ গল্প শুনে তারে আমি অল্প অল্প ভালবেসেছি“
আজ রবিবার, সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে পড়েছে দিতি। সবকিছু তাড়াতাড়ি মিটিয়ে ও গন্তব্যস্থলে পৌঁছেছে একটু আগেই। ঢোকার মুখে বাঁ দিকে বসেছে সে। বেশ কয়েক নীল পাজ্ঞাবী চলে গেছে সামনে দিয়ে। একটু অন্যমনস্ক হয়ে যায় সে। সত্যিই সে আসবে তো। অযথা আবেগতাড়িত হয়ে সে বোকামি করছে না তো।
হঠাৎ মুখ তুলে দেখে একটা অবয়ব এগিয়ে আসছে ওর দিকে। নীল পাজ্ঞাবীই তো, মুখটাও খুব চেনা লাগছে। ভাল করে দেখার আগেই সে বলল, কেমন আছো?এবার আবার রিজেক্ট করবে না তো? অদৃষ্টের পরিহাস বোধহয় একেই বলে। শৈবাল সামনে দাঁড়ায়ে।
হালকা কথাবার্তায় আড়ষ্ঠতা ভাঙে দিতির। নিঃশর্ত ক্ষমা চায় শৈবালের থেকে ওদের শেষবারের কথোপকথনের জন্য।
আচমকা ভিড়ে ভরা নন্দন চত্তরে শৈবালের হাত ধরে প্রোপোজ করে ও। “আমাকে বিয়ে করবে?” শৈবাল ওকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলে, “চাকরি ছাড়লে চলবেনা কিন্তু।” হাসতে থাকে দুজনে, এবার বাড়িতে বলতে হবে, বাবারই পছন্দের দুর্গাপুরের পাএকে বাবা কখনই রিজেক্ট করতে পারবেনা। হাত ধরাধরি করে এগিয়ে চলে ওরা নতুন জীবনের সন্ধানে।
“পঃবঃ সঃচাঃ দুর্গাপুরে কর্মরত অনূর্ধ ২৮ পাএী চাই”, সকালে নিউজপেপার দেখে এটাই আজকের প্রথম পছন্দ হল সমরেশের। এরপর চা খেয়ে দিতিকে আর ওর মা কে ডেকে এটা দেখাবেন তিনি। ৯টা নাগাদ শুরু করবেন ফোন করা। প্রাথমিক কথাবার্তায় পছন্দসই হলে পরের রবিবার আসার আহ্বান, নাহলে পরের পছন্দের পাএপক্ষের নাম্বার ডায়াল। দিতি ও এখন অভ্যস্ত রবিবারের এই প্রারম্ভিক ক্রিয়াকলাপ এ। দুর্গাপুর সন্বন্ধে সমরেশের একটু দুর্বলতা আছে, ১২ বছরের চাকরিজীবন ও ৪ বছরের কলেজলাইফ। দিতির জন্মও দুর্গাপুরে, আর সমরেশের দৃঢ় ধারণা দিতির সুন্দর আচার আচরণের পিছনে ওখানকার পারিপার্শ্বিক পরিবেশের যথেষ্ট প্রভাব আছে। দিতিও যথেষ্ট সুন্দরী, মেধাবী, প্রাইভেট স্কুলে চাকুরীরতা। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি বিয়ের পিঁড়িতে বসতে আপত্তি তার। বাবাকে সে যমের মত ভয় পায়, মা কে বলেও বিশেষ পাত্তা পায়নি। তাই সে কিছু-না কিছুর ছলে আগের দুটি সন্বন্ধকে কাটিয়েছে। বাবা দিতিকে যথেষ্ট ভালবাসে তা সে জানে, তাই বাবার অমতে সে কিছুই করেনা। আর সেই কারনে স্কুল কলেজ লাইফে অনেক প্রোপোজাল পেলেও ভুলেও সে প্রেমের পথ মারায়নি।
৯টায় ফোন করল সমরেশ। সমস্ত কথাবার্তার পর আগামী রবিবার পাএপক্ষ আসবে বলে ঠিক হল। সমরেশ ওদের লাঞ্চ করার নিমন্ত্রণ করল। শোনার পর থেকেই দিতির মাথায় প্ল্যান ঘুরতে থাকল, কিভাবে তৃতীয় পক্ষকে নিরস্ত করা যায়।
রবিবার অন্য সপ্তাহের মত বিছানায় আলসেমি করতে পারেনি দিতি। হাতে হাতে সাহায্য করেছে মাকে। নির্দিষ্ট সময়ে পাএপক্ষ এসেছে। প্রাথমিক কথাবার্তার পর দিতিকে দেখতে চান ওঁরা।
দিতি জলখাবার নিয়ে ঘরে ঢোকে। আড়চোখে দেখে নেয় গিনিপিগ টাকে। মন্দ নয় সে পাএ ভাল, সুদর্শন যাকে বলে, প্রথম দর্শনে তাই মনে হয় দিতির। কথাপ্রসঙ্গে দিতি বলে যে ও চাকরিটা কন্টিনিউ করতে চায়। ওনারা জানান যে বিয়ের পরেও দিতি যদি চাকরি করতে চায় আপওি নেই তাদের। দিতির প্রথম অস্ত্রটা ভোঁতা হতে দেখে সে কিছুটা গুমরে যায়। এই অস্ত্রেই আগের পক্ষ ঘায়েল হয়েছিল। এরপর সকলে লাঞ্চ করা শুরু করে, পবিবেশনের দায়িত্ব নেয় দিতি ও তার মা। খাওয়া পর্ব শেষ হলে সমরেশ বলে, যা না দিতি শৈবালকে ছাদ টা দেখিয়ে নিয়ে আয়।
দিতি বুঝতে পারে, ফার্স্ট স্টেপ পাশ। ও শৈবালকে নিয়ে ওপরে ওঠে। একে অপরের ভালবাসার বিষয়বস্তু আলোচনা করতে করতে কিছুক্ষণ কেটে যায়। হঠাৎই দিতি মোক্ষম অস্ত্রটা ছাড়ে। শৈবালকে জিজ্ঞাসা করে “আপনার কোন অ্যাফেয়ার ছিল?“ শৈবাল একটু থতমত খেয়ে বলে, “হ্যাঁ ছিল, স্কুল লাইফ থেকে, চলেছিল অনেকদিন। কিন্তু মেয়েটি কেরিয়ারের জন্যে ব্যাঙ্গালোর চলে যায়। সেটাটেই ঘোর আপত্তি ছিল আমার। আর এই নিয়েই অশান্তি থেকে সম্পর্কের ইতি।” দিতি বলে তাহলে আমাদের সম্পকেও তো এই ঘটনা ঘটতে পারে। আমিও কেরিয়ারিস্টিক। চাকরির জন্য লোকেশন চেঞ্জ করতে হলেও আমি তাই করব। শৈবাল বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে ও বিভিন্ন যুক্তি দেয়। কিন্তু দিতি তো এই চালেই চেকমেট করতে বদ্ধমূল। ফলে এবিষয়ে আর কিছুক্ষণ আলোচনার পর ওরা নিচে নেমে আসে।
আর কিছু সময় পর ওনারা বিদায় নিলেন। দিতির খারাপ লাগেনি ছেলেটাকে। তাই এভাবে পাশ কাটানোয় কিছুটা গুম মেরে গেছে ও। বাবা দিতিকে বলে তোর মুখ দেখে বুঝতে পেরেছি উওরটা, কারনটা বলতে পারবি? দিতি সত্যি মিথ্যা মিশিয়ে ঘটনাটা বলে বাবাকে। এরপর থেকে দিতি লক্ষ্য করে বাবা পেপারে পাএ-পাএীর বিঞ্জাপন দেখা বন্ধ করে দেয়। মনে মনে বাবার জন্য কষ্ট হলেও হাফঁ ছাড়ে সে।
এরপর কেটে গেছে বছর কয়েক। দিতি এখনো সিঙ্গল। ইতিমধ্যে একটা মোবাইল কোম্পানি চালু করেছে এক বন্ধুত্বের ভয়েস মেলবক্স। এখানে প্রথমে কল করে রেজিষ্টার করতে হবে। তবেই বাকি রেজিষ্টারড্ কলারদের ভয়েস ও সিরিয়াল নং জানা যাবে। যার উদ্দেশ্যে কথা বলা হবে, তার সিরিয়াল নং প্রেস করে নিজের ভয়েস মেসেজ রেকর্ড করতে হবে। যখন সেই সিরিয়াল নং ধারী কল করবে, তখনই সে শুনতে পাবে প্রেরকের বার্তা। ব্যাপারটায় তাৎক্ষনিক যোগাযোগের সুযোগ না থাকলেও বেশ একটা রোমান্টিকতা আছে। অনেকটা অতীতের পএবন্ধুর মত। এক রবিবার দিতির বাবা মা গেছে ওর পিসির বাড়ি। এই সুযোগে দিতি ঠিক করে ল্যান্ডফোন থেকে ট্রাই করবে নতুন বন্ধুত্বের। নিজের মেসেজ রেকর্ড করে ও। তারপর যথারীতি কিছুদিন ভুলে যায়। হঠাৎ একদিন আবার ঘোরায় নাম্বারটা। বেশ কয়েকটা মেসেজ এসেছে ওর। কয়েকজনকে ও আবার ভয়েস মেসেজ রিপ্লাই করে। এমনি করে কিছুদিন চলতে থাকে। ও এখন নেশাগ্রস্ত হয়ে গেছে এই বন্ধুত্বের কন্ঠস্বর আদানপ্রদানে। যদিও মাস খানেক যাবদ শুধু একজনের সাথেই ওর এই দূরভাষে স্বরালাপ চলছে। বাবা-মা ঘুমোনোর পর শুরু হয় ওর এই কার্যকলাপ। এখনো ওরা কেউই নিজের পরিচয় প্রকাশ করেনি। ওদের বন্ধুত্বের এটাই ছিল প্রাথমিক শর্ত। দিতি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে এই ভয়েস ফ্রেন্ডের ওপর। একদিন ও মেসেজে জানায়, এবার দেখা করা যাক। উওরের অপেক্ষায় থাকে কয়েকদিন। তারপর উওর আসে নন্দন চত্তরে দেখা হবে নীল পাঞ্জাবীতে। রবিবার ৫টায়। দিতিও জবাব পাঠায় দেখা হবে কালো রেশমের কাপড়ে, যদিও আঁচল থাকবেনা মাথায়। কল্পনায় গড়ে তোলা অবয়বটাকে অনুভব করতে চায়। আবার ওর অনুসন্ধানী মন ভাবতে থাকে, সত্যিই ও কি পাবে ওর মনের রাজকুমারকে। যদি তাকে দেখতে সুন্দর না হয় তাতেও চলবে, মনটা হতে হবে স্বচ্ছ। যদিও এতদিনের কথাবার্তায় সে বিশ্বাস তার জন্মেছে। গুনগুন করে ওঠে, “তারে আমি চোখে দেখিনি, তার অনেক গল্প শুনেছি/ গল্প শুনে তারে আমি অল্প অল্প ভালবেসেছি“
আজ রবিবার, সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে পড়েছে দিতি। সবকিছু তাড়াতাড়ি মিটিয়ে ও গন্তব্যস্থলে পৌঁছেছে একটু আগেই। ঢোকার মুখে বাঁ দিকে বসেছে সে। বেশ কয়েক নীল পাজ্ঞাবী চলে গেছে সামনে দিয়ে। একটু অন্যমনস্ক হয়ে যায় সে। সত্যিই সে আসবে তো। অযথা আবেগতাড়িত হয়ে সে বোকামি করছে না তো।
হঠাৎ মুখ তুলে দেখে একটা অবয়ব এগিয়ে আসছে ওর দিকে। নীল পাজ্ঞাবীই তো, মুখটাও খুব চেনা লাগছে। ভাল করে দেখার আগেই সে বলল, কেমন আছো?এবার আবার রিজেক্ট করবে না তো? অদৃষ্টের পরিহাস বোধহয় একেই বলে। শৈবাল সামনে দাঁড়ায়ে।
হালকা কথাবার্তায় আড়ষ্ঠতা ভাঙে দিতির। নিঃশর্ত ক্ষমা চায় শৈবালের থেকে ওদের শেষবারের কথোপকথনের জন্য।
আচমকা ভিড়ে ভরা নন্দন চত্তরে শৈবালের হাত ধরে প্রোপোজ করে ও। “আমাকে বিয়ে করবে?” শৈবাল ওকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলে, “চাকরি ছাড়লে চলবেনা কিন্তু।” হাসতে থাকে দুজনে, এবার বাড়িতে বলতে হবে, বাবারই পছন্দের দুর্গাপুরের পাএকে বাবা কখনই রিজেক্ট করতে পারবেনা। হাত ধরাধরি করে এগিয়ে চলে ওরা নতুন জীবনের সন্ধানে।
©Ayan






0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন