ছোট গল্পের সন্ধানে || কলমে অয়ন


Best Bangla Books to Buy in 2024

#ওয়েল উইশার#

#ওয়েল উইশার#
অনেক দিন পর ফেসবুকে লগইন করল পলাশ। প্রচুর আপডেট, ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট। ঘাটঁতে ঘাঁটতে একটা পোস্ট এ চোখটা আটকে গেল পলাশের। “still searching my well-wisher”, মুখটা চেনা চেনা লাগছে। হুড়মুড় করে ভিড় করে এল বছর ছয়েক আগের স্মৃতি।
সেমিস্টার ৬ - প্রথম পরীক্ষা Thermodynamics, পলাশ সকালে হোস্টেলে ঢুকে ব্যাগ টা রেখেই পরীক্ষার হলে ছুটল। অন্যসময় পরীক্ষা থাকলে বাড়ি থেকে আগের ট্রেনটাই ধরে পলাশ। আজও ওটার জন্যই এলার্ম দিয়েছিল, কিন্তু অনেক রাতে ঘুমিয়ে আর সকালে ঘুম ভাঙেনি। যাইহোক, মনে মনে প্রশ্নোত্তর গুলো ঝালিয়ে নিতে নিতে মেন বিল্ডিং এ এল আর নোটিস বোর্ড থেকে রুম নং দেখে exam hall এ ঢুকল। ড্রয়িং হল এ সিট পরেছে, বড় বড় ডেস্ক, প্রতি রো তে ১ জন। সামনে ও পিছনে দুটি স্যারেদের বসার চেয়ার টেবিল। সিট পরেছে লাস্ট রো তে। পলাশ টুকলি করেনা যদিও, তাও শেষ দিকে সিট পরলে টুকটাক কথা বলা যায় আর এই পেপারটা তো পলাশের favorite।
গার্ড দিতে এলেন এ কে এম স্যার। বসলেন পিছনের দিকের চেয়ারে। যে এলে স্টুডেন্টরা নিজেরা টুকলির যাবতীয় সামগ্রী স্বেচ্ছায় জমা দিয়ে আসে। বোর্ডের পিছনে সামান্য আঁচড় থাকলেও খাতা cancel করতে যার হাত কাঁপে না। তাই ছাএরা নিজে থেকে বোর্ড পর্যন্ত জমা দিয়ে দেয়। কথায় ছিল, এ কে এম এর হাতে ধরা পড়ার চেয়ে ফাঁকা খাতা জমা দিয়ে সাপ্লি খাওয়া ভাল। ধরা পরলে বাকি সেমিস্টারের জন্য marked হয়ে যাওয়া। খাতা দেওয়ার আগেই যাবতীয় গচ্ছিত micro xerox বিদ্যাভান্ডারে পিছনের টেবিল উপচে উঠল।
এবার এলেন কে সি স্যার যিনি একা গার্ড এ এলে ছাএমহলে খুশির হাওয়া বয়ে যেত। এমনই এক বৈচিত্র্যময় আবহাওয়ায় question papers দেওয়া শুরু হল। পলাশ ঠাকুরের নাম নিয়ে question paper খুলল।
একিঃঃ!!! ভুল আছে ভুল আছে বলে চিৎকার করছে পলাশ। সবাই স্তব্ধ হয়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে পলাশের দিকে। এ কে এম স্যার উঠে আসলেন পলাশের ডেস্কে। ওনাকে দেখে পরীক্ষা শুরুর আগেই যেন শেষ হয়ে গেল পলাশ। রাশভারী স্বরে প্রশ্ন করলেন “Any problem??” পলাশ তোতলাতে তোতলাতে বলল, Machine Design এর question paper স্যার। রাশভারী জবাব এল, আজকের এটাই পেপার। পলাশের মাথাটা ভোঁভোঁ করছে, চোখে সরষে ফুল দেখছে, সবাই হাঁ করে দেখছে ওকে। প্রারম্ভিক জড়তা কাটিয়ে পলাশ ভাবার চেষ্টা করে পরীক্ষার রুটিনটা কোথা থেকে নিয়েছিল। কি করে সে এতটা ভুল করল। সেমিস্টার ৬ এ সাপ্লি মানে ক্যাম্পাসিং এ বসতে না পারা, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। আদ্যপ্রান্ত পেপার টা দেখে কিছুই মনে করতে পারছেনা সে। আজ যে কার মুখ দেখে উঠেছিল কে জানে।
এমনি করতে করতে প্রায় এক ঘন্টা কেটে গেছে। পলাশের খাতা প্রায় ফাঁকা। হঠাৎ এ কে এম স্যারের মোবাইল এ ফোন এসেছে। স্যার কথা বলে ফিরে খুব উদ্বিগ্ন হয়ে কে সি স্যার কে, কি একটা বলে বেরিয়ে গেলেন। যিনি ৩ ঘন্টার পরীক্ষায় এক বারও ব্রেক নেন না, তার ক্ষেএে এটা ভীষন বেমানান। সবাই উসখুস করছে জানতে যে কি হয়েছে। হাঁফ ছাড়ল গোটা হল, বিশেষতঃ পলাশ। ওর পাশের টেবিলের ওপর উঁকি মারছে সমস্ত উওর ভান্ডার। হিতাহিত শূন্য হয়ে সে চেষ্টা করল রসদ সংগ্রহ করতে। জীবনে প্রথমবার চক্ষুলজ্জা বিসর্জন দিয়ে সে টুকে গেল আদ্যপ্রান্ত। বন্ধু ও micro xerox এর কল্যাণে। প্রতি মূহূর্তে ভয় করছে পলাশের, এই বুঝি ধরা পড়ে গেল। পরীক্ষা শেষের ঘন্টা যখন বাজল, হাঁফ ছাড়ল সে। খাতা জমা দেওয়ার পর পলাশ কে সি স্যারকে প্রশ্ন না করে পারলনা কেন এ কে এম চলে গেলেন? তিনি মৃদু হেসে বললেন, “না গেলে তো এযাএায় উতরোতে পারতিস না, ওনার ছেলে স্কুলে মারামারি করতে গিয়ে সিঁড়ি দিয়ে পড়ে সিরিয়াস অবস্থা।” লজ্জায় পলাশের মুখ চুন হয়ে গেল। Rank holder না হলেও নিজের যে আত্মমর্যাদা ছিল সেটাও যেন ধুলোয় মিশে গেল।
একমাস কেটে গেছে এরপর। রেজাল্ট বেরিয়েছে সেমিস্টারের। ভদ্রস্থ ভাবে পাশ করে গেছে পলাশ। স্যারের ছেলেও বাড়ি চলে এসেছে সুস্থ হয়ে।
পুনশ্চঃ স্যারের ছেলেকে গোপনে একটি বড় ডেয়ারি মিল্কের সেলিব্রেশান প্যাক দিয়ে এসেছিল পলাশ। ওপরে লেখা ছিল get well soon, ভিতরে ছিল “এযাএায় বাঁচিয়ে দিলে গুরু, বড় হও, পার্টিটা ডিউ রইল।”

সম্বিত ফিরল মায়ের ডাকে। ঝটপট্ ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালো অম্বরিশ মাইতিকে। ডিউটা ক্লিয়ার করতে হবে তাড়াতাড়ি।
©Ayan
Share:

৩টি মন্তব্য:

মোট পৃষ্ঠাদর্শন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.