এখন যা দিনকাল, বাজার বেরোলে মোবাইল বা পার্স নিয়ে না যাওয়াই ভালো। এই সাবধানতার কতগুলো সুবিধা আছে, এক তো সবাই, মানে ৩ বছরের শিশুও জানে এখন, গো করোনা গো। কিন্তু আমি আরো বড়ো সুবিধার কথা বলছি, নো মোর বাজার মুদিখানা যাওয়া বার বার, ইচ্ছা হল হলুদ নেই, আলু নেই এর আবদার নেই। বাড়ির কাছে এসে গেছেন, হঠাৎ দেখলেন, মোবাইল বাজছে। কোনোমতে ২ পিস ব্যাগ সামলে, ফোন টা তুলেছেন "ভিনিগার টা নেই, না আনলে চিলি চিকেন টা করবো কিভাবে?" যদিও জানেন, সকালে ভিনিগারের শিশি দিয়ে গার্গল করে বেরোননি আপনি। এটা ওনার দোষ নয়, হঠাৎ শেষ হয়ে গেছে মনে করেই আবার যেতে হবে বাজারে। যাইহোক, যা বলছিলাম এই সব হাজারো সুবিধা কিন্তু আপনি পাচ্ছেন এবং উপভোগ করছেন, কিন্তু ভুলেও মুখ ফুটে বলবেন না।
তো, সৌমেন, মানে যাকে নিয়ে আজকের ঘটনা, সেও আজ ভোর ভোর উঠেছে, উঠেছে মানে অনেকবার অ্যালার্ম বাজার পরও না ওঠায়, বউ এসে ঠেলে উঠিয়ে দিয়েছে। যদিও এখন ওঠে শুধু ঐ বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে, যেদিন অস্ত্র সজ্জায় সজ্জিত হয়ে মানে ওই গ্লাভস, মাস্ক পরে বেরোতে হয় বাজার ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য কিনতে।
তো আজ ফ্রেশ হয়ে চা খেয়ে গিন্নির বানানো ফর্দ নিয়ে বেরোল সৌমেন, এখন আবার ৮ টায় সব বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মেইন বাজার ও বন্ধ, তো জিনিস কিনতে যাচ্ছে কাছেপিঠের দোকান থেকেই।
অনেকদিন মিষ্টি খাওয়া হয়নি, বাঙালির শেষ পাতে মিষ্টিমুখ বোধ হয় অবলুপ্তির পথে। যদিও এটা লিস্টিতে নেই, তাও হারুর ছোট স্টেশনারি দোকানে একবার ঢুকে, ওই সনপাপরির প্যাকেট দেখে গোটা দুই তুলে নেয় ও। দুধের সাধ ঘোলে মেটানো আর কি। আর একটু এগিয়েই দেখে রহমানের দোকানটা খুলেছে, আর বেশ বড় লাইন ও। পকেটে টাকাও আছে, হয়ে যাবে। চোখ টা চিক চিক করে ওঠে, আহা প্রায় দেড় মাস পরে পাঁঠার মাংস আর গরম ভাত, চোখ বুজে গন্ধও অনুভব করে মনে মনে।
প্রায় আধঘন্টা দাঁড়িয়ে, আগে যতটা ছোট মনে হচ্ছিল লাইন টা, তার থেকেও বেশি মনে হচ্ছে। সামনের একজন আবার ফোন করে কাউকে বলছে দুহাজারের নোটটা দিয়ে যা, লাইনে আছি, পেয়ে যাবো মনে হচ্ছে। একটু করে লাইন এগোচ্ছে আর ঝুলন্ত পাঁঠারা ব্যাগের মধ্যে অদৃশ্য হচ্ছে। ওর আগের জনের যখন টার্ন এলো, দেখলো খুব বেশি আর অবশিষ্ট নেই।
রহমান বললো লোকটাকে, দাদা কতটা। "কতটা আছে? যা আছে দিয়ে দাও।" ২ কিলো ২০০, দিয়ে দেবো? "হাঁ, আবার কবে পাবো কে জানে, একসপ্তাহ আরাম করে খাওয়া যাক।" চোখের সামনে অন্ধকার দেখলো সৌমেন। চক্ষুলজ্জার মাথা খেয়ে লোকটাকে বললো, পিছনের লাইনটা দেখুন, এতজন কে অভুক্ত রেখে একসপ্তাহ গান্ডেপিন্ডে গিলতে লজ্জা করবে না আপনার? "কে বলেছে অভুক্ত থাকতে, সবজি মাছ খেয়েই থাকুন না কদিন। আচ্ছা, রহমান ওই ১০০ গ্রাম মেটে টা বাদ দিয়ে দাও, এনাকে দিয়ে দিও।" একটা কাঁচা শব্দ উচ্চারণ করে রাগে গজরাতে গজরাতে বেরিয়ে এলো সৌমেন। হায় রে পোড়া কপাল, কি ভেবেছিল আর কি হলো। ওর পিছনের লোকেদের মতই মনকে সান্ত্বনা দিয়ে ফর্দ অনুযায়ী জিনিস কিনতে এগোয় আর একটু।
হঠাৎ দেখে, সামনের দিক থেকে দু চার জন দুদ্দার করে ছুটতে ছুটতে আসছে। "পুলিশ পেটাচ্ছে, আর এদিকেই আসছে, পালান।"
কোনোমতে বাজারের ব্যাগ নিয়ে প্রাণ বাঁচিয়ে বাড়ি ঢুকলো সৌমেন। হাঁপাচ্ছে, বউ বাজারের ব্যাগ টা হাতে নিয়ে কটমট করে চেয়ে আছে দিকে। ডায়েট সর্বস্ব গৃহিণীর হাতে সপ্তাহের বাজারের ব্যাগে যদি সনপাপরির প্যাকেট জোটে, বাইরের পুলিশের থেকেও কম কিছু জুটবে বলে মনে হয় না আজ সৌমেনের। "কাঁচুমাচু মুখ করে বললো, কাল আবার যাব আনতে, আজ যে কার মুখ দেখে উঠেছিলাম।" আরেকবার বউ এর কটমট চাউনি দেখে সকালে ওঠার কথাটা মনে পড়ে গেলো ওর। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলো, বাকি দিনগুলো লোভের সাথে সোশ্যাল ডিসটেন্স মেইনটেইন করবে ও।
©Ayan
তো, সৌমেন, মানে যাকে নিয়ে আজকের ঘটনা, সেও আজ ভোর ভোর উঠেছে, উঠেছে মানে অনেকবার অ্যালার্ম বাজার পরও না ওঠায়, বউ এসে ঠেলে উঠিয়ে দিয়েছে। যদিও এখন ওঠে শুধু ঐ বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে, যেদিন অস্ত্র সজ্জায় সজ্জিত হয়ে মানে ওই গ্লাভস, মাস্ক পরে বেরোতে হয় বাজার ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য কিনতে।
তো আজ ফ্রেশ হয়ে চা খেয়ে গিন্নির বানানো ফর্দ নিয়ে বেরোল সৌমেন, এখন আবার ৮ টায় সব বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মেইন বাজার ও বন্ধ, তো জিনিস কিনতে যাচ্ছে কাছেপিঠের দোকান থেকেই।
অনেকদিন মিষ্টি খাওয়া হয়নি, বাঙালির শেষ পাতে মিষ্টিমুখ বোধ হয় অবলুপ্তির পথে। যদিও এটা লিস্টিতে নেই, তাও হারুর ছোট স্টেশনারি দোকানে একবার ঢুকে, ওই সনপাপরির প্যাকেট দেখে গোটা দুই তুলে নেয় ও। দুধের সাধ ঘোলে মেটানো আর কি। আর একটু এগিয়েই দেখে রহমানের দোকানটা খুলেছে, আর বেশ বড় লাইন ও। পকেটে টাকাও আছে, হয়ে যাবে। চোখ টা চিক চিক করে ওঠে, আহা প্রায় দেড় মাস পরে পাঁঠার মাংস আর গরম ভাত, চোখ বুজে গন্ধও অনুভব করে মনে মনে।
প্রায় আধঘন্টা দাঁড়িয়ে, আগে যতটা ছোট মনে হচ্ছিল লাইন টা, তার থেকেও বেশি মনে হচ্ছে। সামনের একজন আবার ফোন করে কাউকে বলছে দুহাজারের নোটটা দিয়ে যা, লাইনে আছি, পেয়ে যাবো মনে হচ্ছে। একটু করে লাইন এগোচ্ছে আর ঝুলন্ত পাঁঠারা ব্যাগের মধ্যে অদৃশ্য হচ্ছে। ওর আগের জনের যখন টার্ন এলো, দেখলো খুব বেশি আর অবশিষ্ট নেই।
রহমান বললো লোকটাকে, দাদা কতটা। "কতটা আছে? যা আছে দিয়ে দাও।" ২ কিলো ২০০, দিয়ে দেবো? "হাঁ, আবার কবে পাবো কে জানে, একসপ্তাহ আরাম করে খাওয়া যাক।" চোখের সামনে অন্ধকার দেখলো সৌমেন। চক্ষুলজ্জার মাথা খেয়ে লোকটাকে বললো, পিছনের লাইনটা দেখুন, এতজন কে অভুক্ত রেখে একসপ্তাহ গান্ডেপিন্ডে গিলতে লজ্জা করবে না আপনার? "কে বলেছে অভুক্ত থাকতে, সবজি মাছ খেয়েই থাকুন না কদিন। আচ্ছা, রহমান ওই ১০০ গ্রাম মেটে টা বাদ দিয়ে দাও, এনাকে দিয়ে দিও।" একটা কাঁচা শব্দ উচ্চারণ করে রাগে গজরাতে গজরাতে বেরিয়ে এলো সৌমেন। হায় রে পোড়া কপাল, কি ভেবেছিল আর কি হলো। ওর পিছনের লোকেদের মতই মনকে সান্ত্বনা দিয়ে ফর্দ অনুযায়ী জিনিস কিনতে এগোয় আর একটু।
হঠাৎ দেখে, সামনের দিক থেকে দু চার জন দুদ্দার করে ছুটতে ছুটতে আসছে। "পুলিশ পেটাচ্ছে, আর এদিকেই আসছে, পালান।"
কোনোমতে বাজারের ব্যাগ নিয়ে প্রাণ বাঁচিয়ে বাড়ি ঢুকলো সৌমেন। হাঁপাচ্ছে, বউ বাজারের ব্যাগ টা হাতে নিয়ে কটমট করে চেয়ে আছে দিকে। ডায়েট সর্বস্ব গৃহিণীর হাতে সপ্তাহের বাজারের ব্যাগে যদি সনপাপরির প্যাকেট জোটে, বাইরের পুলিশের থেকেও কম কিছু জুটবে বলে মনে হয় না আজ সৌমেনের। "কাঁচুমাচু মুখ করে বললো, কাল আবার যাব আনতে, আজ যে কার মুখ দেখে উঠেছিলাম।" আরেকবার বউ এর কটমট চাউনি দেখে সকালে ওঠার কথাটা মনে পড়ে গেলো ওর। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলো, বাকি দিনগুলো লোভের সাথে সোশ্যাল ডিসটেন্স মেইনটেইন করবে ও।
©Ayan





0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন