দুপুর বেলায় খেতে খেতেই ইউটিউবের রান্না গুলো চেক করতে থাকে তিন্নি। বিকেলের দিকে নতুন নতুন জলখাবার বানিয়ে রাতুলকে পরিবেশন করে। আর একটা উদেশ্য এফবি তে ভালো করে ছবি ট্যাগ করা। রাতুল আর তিন্নির বছর তিনেকের সংসারে এই প্রথম এতদিন রান্না করছে তিন্নি। কোনোকালেই না ছিল শখ, না করতে হয়েছে এতটুকুও। তাই ওই বিষয়ে পারদর্শিতার অভাব ওর। রাতুল ও উইকএন্ডে মাঝে মাঝে ভালই বানায় রিনাদি না এলে। তাছাড়া সুইগি জোমাটোর দৌলতে ভালো খাওয়া এখন হাতের মুঠোয়। ইনফ্যাক্ট এই লকডাউনের সময় রিনাদিকে পার্মানেন্টলি ছুটিতে পাঠানোর কথা রাতুলকে বলতে বলেছিল, "সিওর? তুমি চালাতে পারবে? আমার কিন্তু ফুল ফ্লেজড ওয়ার্ক ফ্রম হোম।" আসলে তিন্নির রান্নায় ভরসা করতে পারেনা এখনো। আসলে ওকে দোষ দিয়েও লাভ নেই, পূর্ব অভিজ্ঞতা যে বড়ই খারাপ।
এখন ইউটিউবের জামানায় সব কিছুই শেখা সম্ভব, তিন্নিও ওর স্কুল গ্রুপের লোকজনকে তাক লাগিয়ে রান্নার ফটো শেয়ার করছে। অবশ্য যেদিন খারাপ হয় দেখতে, সেদিনের টা দেয়না। সেদিন শুধু রাতুলকে কোনোমতে খাবারটা হজম করে নিতে হয়। কারণ এতদিন পরে হয়ে ওঠা শেফের তকমাটা নষ্ট করতে চায়না ও। রাতুলও মুখে মাঝে মধ্যে টিপ্পনী করলেও মনে মনে প্রশ্রয়ই দেয়। ও নাহয় সারাদিন অফিসের কাজে মেতে থাকে, তিন্নির তো কিছু নিয়ে কাটাতে হবে। ছোট্ট কেউ থাকলে নয় তাকে নিয়েই টাইমপাস করতে পারতো। আর তিন্নি তো একা নয়, এই সেদিন দেখলো রাতুল, ওর বসের বউ যিনি কিনা একটা বড়ো কোম্পানির সেলস্ এর হেড, তিনিও পোস্ট করেছেন এইসব ফটো।
এদিকে হুজুগে জনগণের ডালগোনা কফি তিন্নি দু তিনবারের চেষ্টাতেও করতে পারেনি ভালো। তাই ওই ছবি পোস্টাতেও পারেনি বন্ধুমহলে। শরীর খারাপের বাহানায় কাটিয়ে দিয়েছে বন্ধুদের কৌতুহলকে। এখন আবার শুরু হয়েছে সবার ফুচকা বানানো। যেন মনে হচ্ছে লকডাউন উঠলেই সবাই পাড়ার মোড়ে ফুচকা রোলের স্টল দেবে। সেটারই খোঁজ চলছে আজ নেট দুনিয়ায়। রাতুল জিজ্ঞাসা করলো আজ স্ন্যাক্সের মেনু কি? তিন্নি উত্তর দিল, যদি ভাল হয়, তাহলে ফুচকা, নাহলে ওই যা তৈরি হবে, তাই জুটবে।
খাওয়ার পর্ব মিটতেই রাতুল চলে গেলো ভিতরের ঘরে ওয়েব সিরিজ দেখতে, আর তিন্নি শুরু করে দিল উপকরণ সাজাতে। বিকেলের দিকে রাতুলকে ডেকে তুলে বললো টেবিলে আসতে। ফুচকার সাইজ ও আকার দেখে রাতুল আর হাসি থামাতে পারলনা। জিজ্ঞাসা করলো, আজ কি ছবি উঠবে? মুখ গোমড়া করে তিন্নি বললো "না"।
৮ টার দিকে রাতুল মোবাইলটা চেক করতে গিয়ে দেখলো তিন্নি ফুচকার ছবির আপডেট দিয়েছে ওকে ট্যাগ করে, কিন্তু ছবিটা ওর খাওয়া সেই কিম্ভুত জিনিসের ছবিটা নয়। কিন্তু খুব চেনা চেনা লাগছে ছবিটা। তিন্নিকে একটু জ্বালাবে বলে জিজ্ঞাসা করলো আবার বানিয়েছিলে নাকি, আমাকে টেস্ট করালে না? তিন্নি মুখ নামিয়ে বললো, না। আজ আর পারলাম না। নেট থেকে খুঁজে একটা ছবি ঝেপে দিলাম নিজের নাম দিয়ে।
রাতুল রাতের দিকে দেখলো বসের মেসেজ, কপি পেস্ট করতে করতে কোনটা করছো সেটাও ভুলে যাচ্ছ নাকি? কিছু বুঝতে না পেরে বসকে কল করতে যাবে, হঠাৎ নজরে পড়ল বসের হোয়াটসঅ্যাপের স্ট্যাটাসে, দেখলো একইরকম ছবি, আই মিন ফুচকার, প্লেটের ডেকরেশনটাও দেখার মত। আগে এটাই দেখেছিল বোধহয় ওর এফবি প্রোফাইলে, তাই চেনা লাগছিল। নিচে ক্যাপশন "প্রিপেয়ার্ড বাই ওয়াইফ"। বুঝলো তিন্নির টা ক্রপ করা ওটা থেকেই, শুধু এই ধরনের দামী প্লেট ওদের বাড়ির তিন পুরুষের কেউ দেখেনি। কালকে ওর জব টাও ফুচকার মত ফুটুস হতে পারে এই চক্করে। টুক করে তিন্নির প্রোফাইলে ঢুকে ডিলিট করলো পোস্টটা।বসকে পোস্ট করলো, কন্টেন্টস ডিলিটেড, কপিরাইটস্ রিমেন্স উইথ ইউ।
©Ayan






0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন