জামাইষষ্ঠী
আজ লালুর বন্ধু শুভর বিয়ে। অনেকদিন ধরেই বন্ধুরা খুব মজা করবে ভেবে রেখেছে। ওদের সবার সেই আইবুড়ো ভাত থেকে নিমন্ত্রণ। ভালোই মজা করছে সবাই মিলে। আজ বিয়ের বাসর রাতে বেশ আড্ডা দেওয়ার প্ল্যান সকলের। এদিকে মেয়ের বাড়ি থেকে যে বিয়েবাড়ি টা ভাড়া নিয়েছে, সেটা খুব একটা জুতসই নয়। সেই পুরনো আমলের পেল্লাই পেল্লাই দরজা। ঠিকমত জানলার পাল্লা গুলোও আটকায় না বোধহয়। এতক্ষন লোকজন ছিল বলে তেমন ঠাণ্ডা টা বোঝা যাচ্ছিল না। এবার খাওয়া দাওয়ার পর বেশ মালুম পড়ছে। আর আজ শীতটাও পড়েছে বেশ জাঁকিয়ে। লালু চিরকালই বেশ সৌখিন প্রকৃতির। এরকম ভাবে বাসর ঘরে বসে থেকে কনের বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার থেকে বাড়ির নিশ্চিন্ত ঘুম টা ওর বড় প্রিয়। শুধু একা একা এখান থেকে কাটলে ব্যাপারটা বেশ বাজে হবে। তার থেকে আর একজন কাউকে সঙ্গে টেনে নিতে হবে। আর তারপর কাল সকালে কিছু একটা ঢপ দিয়ে দিলেই চলবে।
যেই না ভাবার অমনি কাজ। শৌভিকের আবার একটু গলা না ভেজালে উইকএন্ড জমে না। লালু ভাবল, ওকেই পটানো যাক। আড়ালে ডেকে নিয়ে গিয়ে শৌভিককে বাড়ি নিয়ে যেতে রাজি করালো লালু। স্কুটিটা তো ছিলই, এবার ফাঁক তালে কেটে পড়তে হবে।
রাত প্রায় দেড়টা। খানিক বাদে সুযোগ পেতেই দুজনে বেরিয়ে পরে। স্কুটি টা নিয়ে প্রায় নিঃশব্দে উধাও হলো বিয়ে বাড়ির সামনে থেকে। কিন্তু গলির মুখে যেতেই একদল কুকুর ধাওয়া করল ওদের দিকে। যেন নিঃশব্দে বসে ছিল ওদের আসার প্রতীক্ষায়। দুই বন্ধু প্রায় জান হাতে করে আবার মুখ ঘোরালো বিয়ে বাড়ির দিকে। আর একটা শর্টকাট রাস্তা ছিল বাড়ির দিকে যাওয়ার। ধীরে ধীরে সেদিকে যেতেও জুটে গেল আরেক দল কুকুরের পাল। রাতের শহরে পাহারা দেওয়ার জন্য নাকি ওদের দুজনের কবজি ডুবিয়ে মটন খাওয়ার জন্য সারা গা থেকেই গন্ধ পেয়ে আর ছাড়তে চাইছিল না কুকুরের দল। অগত্যা গাড়ি ঘুরিয়ে আবার সেই বিয়ে বাড়ির সামনে। এমন সময় বোধহয় ওই বিয়ে বাড়ির কেউ বাইরে এসে ওদের ওই অবস্থায় রেখে বেশ অপ্রস্তুত। অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে ওদের বিয়ে বাড়ির ভেতরে নিয়ে গিয়ে শোয়ার ব্যবস্থা করেন ওনারা। শৌভিক আবার বেশ স্পষ্ট বক্তা। মুখের উপর বলেই বসে, এই ঠান্ডায় এত হাওয়া। এর মধ্যে তো এখানে শোয়া বেশ মুস্কিল। শুনে তো একটু বিরম্বনায় পড়েন ওনারা। শেষমেষ ওই পাড়াতেই থাকা এক আত্মীয়র বাড়িতে ওদের রাতের শোয়ার ব্যবস্থাপনা করে দেন তাঁরা।
সেই থেকেই পরিচয় আর কালের নিয়মে শুভ পরিণয়। শেষ কয়েক বছর ধরে ওই বাড়িতেই জামাইষষ্ঠী খেতে যাচ্ছে লালু। যদিও এভাবে শ্বশুর বাড়ির পাড়ায় আর কোনদিন কুকুরের পাল্লায় পড়েনি সে। মন কে সান্ত্বনা দেয় এই বলে, ওই বিয়ে বাড়ির মটনের মত মটনও খায়নি যে আর।
©Ayan
রচনার তারিখ: ১২ই জুন ২০২৪
বাংলা-গল্প bangla-golpo
#Bengalistories #AyanPaul #shortstories #detectivetales #Bengaliliterature






0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন