স্টপেজে দাঁড়িয়ে আছে নীল। অফিস ফেরত অ্যাপ শার্টল ধরবে বলে। গাড়িটা সার্ভিসে থাকায় নির্ভর করেছে এর ওপর। অনেকদিন পর দাঁড়িয়ে আছে এই স্টপে। এই জায়গার কত গল্প আছে। এরকমই এক দিনে আলাপ হয়েছিল তিতিরের সাথে। অফিস ফেরত দেখা পাবার জন্যে সে কি ব্যাকুল প্রত্যাশা। প্রথম প্রথম তো টাইম টা ম্যাচ করতে গিয়ে অংশুমান দার কাছে প্রায় ধরা পড়ে যায়। অংশুমান দা তখন টিম লিড, তবে বেশ মাই ডিয়ার লোক ছিল। সব শুনে ওকে ঠিক ইভনিং কল থেকে রেহাই দিত। অবশ্য লোকে তার জন্য বেশ হিংসা করত নীল কে। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে নিজের সাথে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত আলাপ জমাতে পেরেছিল। তারপর সময় যে কিভাবে হু হু করে বেরিয়ে যায়।
হঠাৎ পি পি করে মোবাইলে অ্যালার্ট টা আসতেই ঘোর কাটল নীলের। দেখে, শার্টল টা না দাঁড়িয়েই হুস করে বেরিয়ে গেল। গোধূলির আলো গায়ে মেখে এই সুন্দর দিবা স্বপ্নের সমাপ্তি ঘটে এইভাবেই।
অগত্যা, আবার পরের শার্টল টাইমের খোঁজে ফোনে ডুবে যাওয়া। আর এখন অফিস ফিরতি কোনো স্টপেজে অফিস টাইমে দাঁড়ালে একই দৃশ্য দেখা যায়। সবার চোখ আটকে আছে মোবাইলের স্ক্রিনে, জিপিএসের যাত্রাপথে। যে একসময় রাস্তা চেনাতো শুধু, আজকে সে গন্তব্যের অন্যতম হাতিয়ার। জীবনের দাম যতো টা কমে গেছে আর সেই রকমই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সময়ের দাম।
তো সেই মূল্যবান আধ ঘন্টা সময় অতিবাহিত করে ফাইনালি নীল পেল বাড়ি ফেরার দূত। গাড়িতে উঠে ফাঁকা সিট খুঁজতে খুঁজতে শেষের আগের সিট টায় ধপাস করে বডি টা ফেলে নিশ্বাস নিল নীল। টু বাই টু সিটের ধারের সিটটায় বসল ও। এই গরমে প্রায় চল্লিশ মিনিট সেদ্ধ হওয়ার পর গাড়ির এসি টা যেন মুক্তির স্বাদ। চোখ বুজে কয়েক মিনিট তা আস্বাদন করতে লাগল নীল।
-এত বছরেও স্বভাব কিছুই বদলায়নি দেখছি।
এতক্ষণে অনুভব করল পাশের সিটে বসে থাকা বসে থাকা মহিলা কে।
-তুই!!!
-সেই তো দেখছি। স্বভাব একই রয়েছে তোর।
-তাই তো চিনতে পারলি আমায় এতদিন পর, আর ভাব এর জন্যই দূরে সরে গিয়েছিল আমাদের জিপিএস।
-জিপিএস?
-গ্লোবাল পার্সোনাল স্পেস
-তা ছিলি কোথায় এতদিন?
-এই তো, জনতার মাঝে জনতার দরবারে। তুই তো বিদেশে জমিদারি বসিয়েছিলিস, সব ছেড়ে ফিরে এলি কেন?
-যার জমিদারি তে পোদ্দারি করছিলাম, তার সাথেই পোশালো না যে। জানিস, ফিরে এসে তোকে খুঁজেছি অনেক সব সোস্যাল মিডিয়ায়, কিন্তু পাইনি।
-হুম, আমি ওই জগৎ থেকে সরিয়ে নিয়েছিলাম নিজেকে। পাছে তোর খবর পেয়ে ছুটে চলে যাই সাত সমুদ্র তেরো নদীর পাড়ে।
-আর দেখ, আমাদের একযুগ পরে আবার দেখা হল সেই একই যাত্রাপথে।
এমন সময়ে মোবাইল নোটিফিকেশান, এসে গেল নীলের বাড়ির স্টপ। আরো তিনটি পরে ছিল তিতিরের স্টপ। পিছনে না ফিরেই নেমে গেল সে।
তিতিরকে বললো না ওর গোধূলি স্বপ্নের মায়া জালের বিবরণ। একই আঘাতে আর আহত হতে চায় না সে। রাস্তায় নেমে পকেট থেকে সিগারেট টা বের করতে যাবে, পিছন থেকে কে যেন হাত টা টেনে ধরল।
ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে, টানা টানা চোখে জল টলমল। সিগারেট টা টেনে ফেলে দিয়ে বলল,
-নাম্বার টা দে। জিপিএস টা কমাতে হবে তো
রচনার তারিখ: ৭ই এপ্রিল ২০২৪
বাংলা-গল্প bangla-golpo
#Bengalistories #AyanPaul #shortstories #detectivetales #Bengaliliterature





0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন