আগে ছিল একমাত্র ব্রেকিং নিউজ!!
যা চলত ক্যামেরাম্যান অর্জুনের সাথে নিউজ লাইভ।
আর এখন সবই লাইভ। ছেলেমেয়ে
পড়াশোনা করছে লাইভ, লোকজন অফিসের কাজ করছে লাইভ, শাশুড়ি গীতা পাঠ শুনছে লাইভ, বউমা
শাড়ি কিনছে লাইভ, আদালতের কেস চলছে লাইভ, এমনকি বিদেশের গণেশ পুজো দেশ থেকে হচ্ছে
লাইভ। মানে অনলাইন।
কিছুদিন আগে পর্যন্ত যারা
ফেসবুক লাইভের নাম শুনলেও কেমন নাক সিটকোতো, তারাও এখন পুরোদমে ব্যাবসা করছে
ফেসবুক লাইভে। আইটির ২৪x৭ জব যেমন দেশের জিডিপি বাড়াচ্ছে, তেমনি এই লাইভ নামক
বস্তুটিও প্রি আর পোস্ট কোভিডের জীবন আমুল বদলে দিয়েছে। ইন্টারনেটের ব্যবহার
বেড়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ, আজ তা আর বিরিয়ানি নয়, ডাল ভাত হয়ে উঠেছে।
আমাদের সামাজিক জীবনে টাচস্ক্রিন
মোবাইল আর অফুরন্ত ফ্রি এর ইন্টারনেট আসার পর ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বেড়েছিল প্রচুর,
যা একটা সময়ে পারস্পরিক দুরত্ব বাড়িয়েছিল। মাঝে মাঝে গুরুজনরা অভিযোগ করতেও ছাড়ত
না। কিন্তু সাময়িক পরিস্তিতিতে এই “দো গজ কি দূরই” মোবাইলে কল করলে মিনিট খানেক
ধরে শুনতে শুনতে “দোশো মাইল কা” ডিফারেন্সে পরিণত হয়েছে। এরই সুযোগ নিয়ে আবার প্রতিটি
সেকটারই চেষ্টা করেছে এই ভার্চুয়াল দুনিয়ায় জায়গা করে নিতে। যাতে অল্টারনেটিভ
ব্যবস্থা তৈরি হয়ে যায়।
শরীর খারাপ, কিন্তু ডাক্তারের
কাছে না গিয়ে চিকিৎসা হচ্ছে লাইভ। ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট খুলবেন? যেতে হবে না
ব্যাঙ্কে, সব হয়ে যাবে লাইভে। এই পরিসেবাও নিয়ে এসেছে কিছু বেসরকারি ব্যাঙ্ক। কে
বলতে পারে, এইসব গুলোই হয়ে যাবে কিনা পরবর্তী যুগের নিউ নরমাল।
প্রথম প্রথম কিছু সেকটার স্তব্ধ
হয়ে গেলেও কিছুদিন পর তারাই তৈরি করেছে সব দুরন্ত আইডিয়া। সুইগি দিয়ে খাবার আনানোর
বদলে বুক লিস্টের সাথে মিলিয়ে শহরের অপর প্রান্ত থেকে ছেলের স্কুলের বই আনানোর কথা
আগে শুনলে লোকে নির্ঘাত রাঁচির টিকিট ধরাত, কিন্তু এখন সেটাই বাস্তব। এমনকি, এরকম
ঘটনাও হয়েছে, যেখানে আম্ফানের সময় বিদেশে থাকা ছেলে বাবা মায়ের সাথে যোগাযোগ করতে
না পেরে মেডিসিন ডেলিভারি করিয়েছে বাড়ির অ্যাড্রেসে, যাতে ঠিকঠাক ডেলিভারি হলে
বুঝতে পারে বাবা মার কোন ক্ষতি হয়নি এই দুর্যোগে, তারা ঠিক আছে। অথবা, যে
মাস্টারমশাই তার অঞ্চলের ছাত্রদের অনলাইন পড়াশোনার সুযোগ নেই ভেবে কোন এক মসজিদের
আজানের সরঞ্জাম ব্যবহার করে সকাল সন্ধ্যে পড়াবার আয়োজন করেন। এগুলোই বোধহয় মানব
সভ্যতার একবিংশের আবিস্কার। বিবাদ যোগ্য হলেও যেখানে একদিকে শোনা যায় কোন এক
ল্যাবরেটরিতেই তৈরি হয়েছে এই কুড়ির বিষ, অপর দিকে এই চক্রব্যূহই সামনে খুলে দিয়েছে
নতুন দিগন্ত তৈরির সোপান।
সত্যি এ যেন সেই ছোটবেলায় লেখা
বিজ্ঞান, আশীর্বাদ না অভিশাপ।
©Ayan






0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন