"কি করো সংসারে আমার জন্যে? একটা রবিবার ও ছুটি পাই না, তারপর আবার তোমার মা তোমার বোনের সাথে তুলনা করে বলে, দেখো আমার মেয়েটা সারাদিন চাকরি করে আসে, ফিরে আবার রাতের খাবার গরম করে।" রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে অপর্ণা শোনাতে থাকে সুমিত কে।
"ঠিক আছে, কাল আমি সব করে দেবো, তোমায় কিছু করতে হবে না।" তাৎক্ষণিক ঝগড়া থামানোর মোক্ষম দাওয়াই।
কিন্তু সেদিন হঠাৎ তিনশো ষাট ডিগ্রি ঘুরে বলে, "ঠিক আছে, তাই ক'রো তাহলে।"
সুমিত যেন চোখে সর্ষে ফুলের ক্ষেত দেখতে পেল। ঘুম উড়ে গেল চোখ থেকে। ভাবতে থাকে কিভাবে ড্রিবল করবে এই পরিস্থিতি কে।
অনেক রাত পর্যন্ত ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় চলতে থাকে নানান ছকের পরিকল্পনা। শেষ পর্যন্ত সব ব্যবস্থা করে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ে ও।
সকালে ঘুম চক্ষু খুলেই প্রাতঃকর্ম করতে বাথরুমে ঢুকল সুমিত।
এই সময়ে ফোন এলো রাজা দার থেকে, অফিসের সিনিয়র।
অপর্ণা ফোন টা নিয়ে এসে বলল, কথা বলো, ফোনটা স্পিকারে দিচ্ছি।
পশ্চাদের বেগ আটকে চিৎকার করে বারণ করে সে। কিন্তু তার আগেই স্পিকারে অন হয়ে আসছে রাজা দার স্বর।
"শোন, এখন অপর্ণা আছে তো সামনে, তাহলে শুরু করি তোর শেখানো কথা গুলো। ফোন টা স্পিকারে দে তাড়াতাড়ি।
একটু পজ নিয়ে, "তোকে এখুনি আসতে হবে অফিসে। ক্লায়েন্ট আজই দেখতে চায় প্রেজেন্টেশন। তুই একবার ল্যাপটপ টা খোল তো।"
আবার একটু পজ দিয়ে "ঠিক আছে তো, চলে আয় অলি তে, অনেকদিন পর একটু জমিয়ে বসা যাবে।"
সুমিত বাথরুমে প্রায় অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। আর বাইরে অপর্ণা শুধু ফোন টা কাটার আগে বলল, "ধন্যবাদ রাজা দা।"
রচনার তারিখ: ১১ই ফেব্রুয়ারী ২০২৪






0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন