সেবার চোখ বন্ধ করে ঠাকুরকে ডেকেছিল মন প্রাণ দিয়ে। রবার্তো বাজ্জিও পেনাল্টি মিস করেছিল।
এবারেও সেরকমই চেষ্টা করেছিল একটা। কিন্ত ঠাকুরও ঠিক ধরতে পারেনি কার জন্যে প্রার্থনা করা হচ্ছে। তাই চারটের মধ্যে দুটো পেনাল্টি মিস করে ব্রাজিল গেল ছিটকে।
ব্রাজিলের ফ্যানেরা দু ফোঁটা চোখের জল ফেলে আবার ঘুম ঝেড়ে উঠে বসেছিল পরের ম্যাচে আর্জেন্টিনা কে হারাবে বলে। নাহলে পরের দিন পাশের ফ্ল্যাটের রুচির বাবা থেকে মাছের বাজারের অজয় দা, পক্ষান্তরে অর্ধেক বাংলার কাছে মুখ দেখাবার জো থাকবে না যে। আর্জেন্টিনার ফ্যানেরাও যথেষ্ট উদগ্রীব ছিল বছর তিরিশের বেদনার ঝুলি উজাড় করতে। নেহাত যতক্ষণ পর্যন্ত নিজেদের গদি শক্ত পোক্ত হচ্ছে, মন খুলে মাঠে নামতে পারছিল না। যেই না মাত্র সেমিফাইনালে উঠে গেল, রাত সাড়ে তিনটে আই এস টি তেও ফেসবুকের সার্ভারে আসতে থাকলো নানা স্বাদের উপদেশ
দেখো কাকা, দেখো চেয়ে মামা
ওই আমাদের বিধূ,
ব্রাজিলের পতাকা ঝুলিয়েছে শুধু
মোর গায়ে (মেসির) ১০ নাম্বার জামা
আসলে আমরা কোনোদিন বিশ্বকাপে যাই বা নাই যাই, আমাদের পৃথিবী দুই ভাগ হয়ে যায় এই দুই দেশের জন্য গলা ফাটিয়ে। ধীরে ধীরে ইন্দ্রপতন হয়েছে অনেক। অনেক মনোরম দৃশ্য ফ্রেমে বন্দি হয়েছে কালের নিয়মে। তবুও সব দুঃখ ভুলে, সবাই আবার আজ রাতে একত্রিত হবে লাতিন আমেরিকার জয় গান গাইতে। সে যতই নেইমারের বা সুয়ারেজের হাত পাখা হোক না কেন, আজ যে ইউরোপের দর্প চূর্ণ করে মহাকাব্যিক লাতিন শিল্পকলাকে আবার পুনরুদ্ধার করার দিন।
বিশ বছর তো কম সময় নয়, একটা গোটা প্রজন্ম ছোট থেকে যৌবনে পৌঁছে গেল, তবু তার দেখা পেল না। অপেক্ষায় রয়েছেন সবাই, আর মাত্র দুটো পদক্ষেপ। একটু একটু করে এগিয়ে যাওয়া ওকে স্পর্শ করার নেশায়। 'গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ' যে তা না হলে অবহেলিত থেকে যাবে।
রচনাঃ ১৩ই ডিসেম্বর, ২০২২






0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন