মাসের পয়লা আজ। বিশু বাবু শনিবারের সকালে বাজারের ব্যাগ নিয়ে বাজার যাচ্ছেন। বাজারের ব্যাগ টা একটু ছিঁড়ে গেছে, গিন্নির তাগাদাতেও কেনা হচ্ছে না। রতনের দোকানটাও খোলেনি এখনো, নাহলে আজই কিনে নিতেন। কিন্ত গিন্নিকে বললেই বলবে, কোথায় কোথায় আড্ডা মেরে আসছো আর এখন আবার গুল মারছো। তা প্রথমেই সব্জি আর ফল কিনে ব্যাগ প্রায় ভর্তি করে ফেললেন উনি। আসলে সপ্তাহের এই একদিনই বাজারের পর্ব টা মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন উনি। এবার এগিয়ে চললেন মাছের বাজারের দিকে। ওকে দেখে আবার চা দিতে বলে মাছের দোকানের মালিক বাপিদা। আসলে সেই বাবার আমল থেকেই মাছ আসে এখান থেকেই। বেছে বেছে মাছ নিয়ে সব শেষে টাকাপয়সা মিটিয়ে বিশু বাবু বললেন, দিন এবার সব ভরে।
ব্যাগ টা দিন, বলল বাপিদা। বিশু বাবু একটু রেগেই বলল, ১৫০০ টাকার মাছ কেনার পরও একটা প্যাকেট দিতে পারছ না? এরকম কিপটে তো ছিলে না বাপু।
আরে খবর টবর কিছুই যে রাখছেন না দাদা। আজ থেকেই তো এখানে প্লাস্টিকের প্যাকেট বন্ধ। তা আমি বরং একটা চটের থলেতে দিই। বাড়িতে ঢোকার আগে বের করে নেবেন। যাবে তো সব সেই পেটেই।
অগত্যা সেই সমাধান সূত্র নিয়েই এবার গেলেন মিস্টির দোকানে। সেখানেও একই কেলো। রসগোল্লা আর সন্দেশ কাগজের ঠোঁয়ায় নিয়ে গেলে বাড়িতে তার কোন রূপ যে পৌঁছবে, তা ভগবানের জানাও অসাধ্য। তাও ওই মিস্টির লোভটা তো সহজে যাবে না। এরকম ভাবেই ম্যানেজ করে কিনে নিলেন খান কতক।
কিন্ত সব থেকে বড় প্রবলেম হল ঠাকুরের মালা কিনতে গিয়ে। এটা তো আর মাছ মিষ্টির সাথে নিতে পারবে না। হঠাৎই একটা আইডিয়া খেলে গেল মাথায়। নেহাত নিজের দুহাত জোড়া, নাহলে নিজেই নিজের পিঠ চাপড়ে দিতেন।
ফেরার পথে অনেকেই বিশু বাবুর দিকে চেয়ে মুচকি হাসলেও পাত্তাই দিলেন না উনি। বাড়িতে এসে বেল বাজাতেই গিন্নি দরজা খোলার পর প্রায় মূর্ছা যাওয়ার উপক্রম।
বিশু বাবুর এক হাতে বাজারের ব্যাগ, অন্য বগলে মাছ ভর্তি চটের থলে, রক্ত পড়ছে চুঁইয়ে। আর গলায় পরিহিত জবা ও গাঁদার মালা। যদিও মিস্টির অবস্থানটা উনিও ঠিক আন্দাজ করতে পারেননি এখনো, তবু হাসি মুখ রেখেছেন বহাল। আফটার অল পরিবেশ বান্ধব সমাজের জন্য এটুকু তো করাই যায় একটা দিন। কাল থেকে নাহয় আইটেম ওয়াইজ থলি নিয়ে যাবেন।





0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন