স্কুল থেকে বেরিয়ে তাড়াতাড়ি বাড়ির দিকে হাঁটা লাগিয়েছিল তিথি। ফেরার পথে দুদিন বেশ আচমকা surprise পেয়েছে। ওদের বাড়িতে ঢোকার আগেই পেরোতে হয় দুটো সরু গলি। সেই গলির পাঁচিলেই এমন ভাবে রাখা ছিল প্রথম দিন না চাইতেও চোখ চলে যায় ওদিকে। কারণ ওই দিক দিয়ে ঢুকলে একমাত্র ওদের বাড়ির দরজা আসে শেষ দিকে। প্রথম দিনে পেয়েছিল একটা গোলাপ, রাখা ছিল একটা রোমান্টিক গল্পের বইয়ের মধ্যে। এদিক ওদিক তাকিয়ে কাউকে না পেয়ে কিছুটা কৌতুহলী হয়েই তুলে নিয়েছিল ওটা। মনে একটা ধন্ধ থাকলেও একদিন পরের চকোলেটের বক্সে পেয়েছিল একটা ধন্যবাদের চিঠি। অদৃশ্য আগন্তুক যে তিথির জন্যই এগুলো পাঠিয়েছে সেটা জেনে মনের মধ্যে একটা কিশোরীর শিহরণ জেগেছিল ওর মনে। কিন্তু ভরসা করে কাউকেই বলতে পারেনি কিছু। এমনকি ওর প্রাণের বন্ধু শ্রীতমা কেও কিছুই বলেনি। যদি শেষে দেখে এটা অন্য কারোর করা কোনো প্র্যাংক, তাহলে আর লজ্জায় বন্ধু মহলে মুখ দেখাতে পারবে না। কারণ, বন্ধু মহলে পড়ুয়া তিথি বরাবরই স্পষ্টবক্তা আর এই ন্যাকা ন্যাকা প্রেম বিরোধী। তো এই কারণেই আজ একটু হন্তদন্ত হয়ে বাড়ি ফেরা। অচেনা পৃথিবী কি তিথি কে বাস্তবে ফিরিয়ে আনছে? নিজের অজান্তেই মুখে চলে আসছে হাসির রেখা। আজও ঠিক সেম জায়গা থেকে পায় একটা ছোট্ট কিউট টেডি বেয়ার। তাড়াতাড়ি সেটাকে ব্যাগের মধ্যে চালান করেই বাড়িতে ঢোকে ও। মনের আনন্দে গান গাইতে গাইতে স্নানের পর্ব শেষ করে। আজ ওর মন কোনো বাধা মানছে না। চুপচাপ ইন্ট্রোভাট তিথি যেন একটু আবেগপ্রবণ হয়ে গেছে। হঠাৎ তিথি কি একটু বেশি ভেবে ফেলছে নাকি সব সেই হরমোনের খেলা?
বাথরুম থেকে বেরিয়েই শোনে পাশের গলিতে কাদের যেন কথাবার্তা, জোরে নয় আবার আস্তেও নয়। ব্যাগ থেকে টেডি বেয়ার টা বের করে দু হাতে জড়িয়ে বারান্দায় বেরোয় ও।
"বিশ্বাস কর, আমি তিনদিন এখানেই রেখেছিলাম গিফট গুলো। কে যে নিয়ে চলে যাচ্ছে কে জানে। আমাদের এই জায়গা টা তো কেউই জানেনা বল। সেই জন্যই তোকে নিয়ে এলাম এখানে। এখনও পরে আছে দেখ টেডি বেয়ারের বুকে লাগানো লাভ সাইন টা।"
তিথি তুলে দেখে ওর জড়ানো নরম সফট টয় টাকে। মুহূর্তের আনন্দ বদলে যায় বিষাদের স্রোতে। সবার অলক্ষ্যে চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে বেদনার অশ্রু।
রচনা কালঃ ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩






0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন