Bengali Story|Choto Golpo Bangla|Bangla Short Story Blog|Bengali Story Reading App
আচ্ছা, আবেগ বলে কি আর কিছু থাকবে না। --- মাছের বাজারে ঢোকার মুখে চায়ের দোকানে তুমুল আলোচনা চলছে।
এবারে আর কারোরই তেমন উৎসাহ নেই। খেলার মধ্যে পলিটিক্স ঢুকে সব নষ্ট করে দিল। এত কোলাহল হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। একশো বছরেরও বেশি পুরোনো এই কলকাতার বড় ম্যাচ বা ডার্বি যা এই সেদিন পর্যন্ত জন্ম দিয়েছে অনেক নতুন তারকার। ঠিক আগের দিনেও স্টেডিয়ামে নেই কোনো টিকিট কেনার লাইন। নেই সেই ঐতিহাসিক উন্মাদনাও। একদিকে স্পনসরদের কম টিকিট বন্টনের চোখ রাঙানি উস্কে দিয়েছে ক্লাব সহ আই এফ এ কে। বয়কট করেছে ওই দুশো বা তিনশো টিকিটের দাক্ষিণ্য। সত্যিই তো, বিশাল এই আবেগতাড়িত সমর্থকদের ছাড়া ক্লাব গুলো কি অস্তিত্বহীন নয়? তাহলে তাদের মতামত কে অগ্রাহ্য করা কেন? তেমনই আরেক দলের নাম পরিবর্তন নিয়ে সমর্থকদের আবেগের বহিঃপ্রকাশ, যা বয়কটের চেহারা নিতে চলেছে এবার। নিউজ রিপোর্টে প্রকাশ, মাত্র কুড়ি শতাংশ সেল হয়েছে টিকিটের। যা বোধহয় ডার্বির ইতিহাসেও প্রথমবার।
কিন্তু এমন তো হওয়ার নয়। একদিকে মোহনবাগানের পর পর আট টা ম্যাচ জেতার হাতছানি, অন্যদিকে ডুবতে থাকা ইস্টবেঙ্গল দলের অন্যতম সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্লেটনের ডার্বি জেতার হুঙ্কার। দল বদলের সেই উন্মাদনা তো কবেই শেষ হয়ে গেছে। এবার কি শেষ হওয়ার পালা এই ঐতিহ্যের পরম্পরার? ইলিশ চিংড়ির লড়াইয়ের দিন কি ফিকে হয়ে এলো? আর কি বাঙাল শ্বশুরের সাথে তর্কে মাতবে না ঘটি জামাইয়ের দল? কোনো এক ঘটি বাড়ির বাঙাল বউ কি ডার্বি তে ইস্টবেঙ্গলের জয়ের আনন্দে লুকিয়ে নেচে উঠবে না সকলের আড়ালে?
ফুটবলপ্রেমীরা, এবার চোখ ফেরান প্রিমিয়ার লীগ থেকে নিজেদের ঘরের দিকে। দল মত নির্বিশেষে একজোট হোন কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার নেশায়। নাহলে দেশকে বিশ্বকাপে না দেখতে পাওয়ার হতাশার মত দেশের মাটিতে ফুটবলটাই হয়তো উঠে যাবে। ওই যে মেয়েটা নেচে উঠত সবার অলক্ষে, ওই যে ছেলেটা বস কে ঢপ মেরে প্রতিবার অফিস কাটত ডার্বি দেখার বাহানায়, সেই সব সোনালী দিনকে হত্যার আগেই রুখে দাঁড়াই সবাই। নাহলে পরবর্তী অনেক প্রজন্মের জিজ্ঞাসার কাছে রয়ে যাবে বধির এক সভ্যতা।
রচনা কালঃ ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৩






0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন