"আজি হতে শতবর্ষ পরে, কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতা খানি কৌতুহল ভ'রে" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আমি তখন প্রথম চাকরি সূত্রে দক্ষিণে, সে কোম্পানিতে ট্রেনিং এর প্রথম তিন চার মাসে চলত টিকে থাকার প্রচেষ্টা। সারা জীবনে যত না পরীক্ষা দিয়েছি, তার থেকে বেশি পরীক্ষা দিতে হত ওই তিন চার মাসে। পাশ করতে না পারলে পরের দিনই মেন গেটের রাস্তা। তাই ওই সার্ভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্টের মন্ত্র অনুযায়ী চলত ক্লাস-পড়া-পরীক্ষা-রিপিট। আর সেই চাপ মুক্তির কিছু আয়োজনের মধ্যে ছিল অবসরে আমার আবৃত্তি করা। ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত রীতিমত চর্চা করতাম যে। সেরকমই এক বিকেলে বোধহয় নিজের রুমে করছিলাম সুকুমার রায়ের কোনো এক কবিতা আবৃত্তি, আর তা শ্রুতিগোচর হয় আমার এক কলিগের। সে আবার ছিল অসমের। তাই সব শব্দের মানে না বুঝলেও ভাব খানা বেশ বুঝেছিল সে। রীতিমত রুমে নক করে আরো কিছু ছড়া শুনে তার অর্থ বুঝিয়ে দিয়ে তবে পাই সেদিন নিষ্কৃতি। অনেকদিন পরে সুবিধা মত ওকে দিয়েছিলাম আবোল তাবোল। তাই ছন্দের জাদুকর সুকুমার রায়ের ছড়া যে শুধু বাঙালির মধ্যেই সীমাবদ্ধতা ছিল তাই নয়, দেশ কালের গণ্ডি পেরিয়ে সে পৌঁছে গিয়েছে বহুদূর।
সম্প্রতি চলে গেল সেই বইয়ের শতবর্ষ পালন। উনিশে সেপ্টেম্বর ১৯২৩ সালে ইউ রায় এন্ড সন্স থেকে প্রকাশিত হয় এটি। আর প্রকাশের কদিন আগেই ১০ই সেপ্টেম্বর মারা যান সুকুমার রায়, মাত্র ছত্রিশেই। প্রকাশ কালে তিনি জীবিত না থাকলেও এই বই কোনোদিন আউট অফ প্রিন্ট হয়নি।
তাই সে বড় বাবুর গোঁফ চুরিই হোক বা সৎ পাত্রের খোঁজ, সেঞ্চুরি হাঁকিয়েও আজও অমলিন সে। এভাবেই থেকে যাক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
রচনার তারিখ: ২৩ শে সেপ্টেম্বর ২০২৩






0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন