কিরে ওঠ তাড়াতাড়ি? দোকানে যাবি তো?
মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙত ভোর ভোর। সেদিন সকালে বাবার সাথে বাজারে গিয়ে মালা মিষ্টি কলাগাছ আম শাখা কদম ফুল কিনে বাড়ি ফেরা। আর দাদু চলে যেত ব্রহ্মময়ী তলায় হাল খাতার পুজো করিয়ে আনতে।
সকালে আনা মিষ্টি নোনতা সহযোগে তৈরি করা হত প্যাকেট, সাথে আম পান্নার শরবত। কোল্ড ড্রিঙ্কের চল শুরু হলে সেটাও যোগ হতো লিস্টে। ঠাকুরের পায়ে প্রণাম সেরে ঠাকুমা হাতে দিত সিদ্ধির মোড়ক। সেইসব নিয়ে আমি আর বাবা যেতাম বাবার দোকানে। তখন দোকান টা বাড়ি থেকে একটু দূরে ছিল।
আমার এক কাকু আসত দূর থেকে। এসে দোকানে আমাদের সাথে হাত লাগাতো। ধীরে ধীরে বাবার কাজের জগতের লোকজন আসা শুরু করতো। সেটা ছিল প্রি-কম্পিউটার যুগ। সেদিনটা সব বিল হত লাল কালি তে।
দোকানের পর্ব মিটতে মিটতেই প্রায় দুপুর তিনটে। তারপর বাড়ি ফিরে পরিবারের সকলের সাথে দুপুরের খাওয়া দাওয়া। অনেকেই থাকতো তখন এই উপলক্ষে। আর তারপর বিকেলের দিকে থাকত সব দোকানে গিয়ে মিষ্টির বাক্স আর ক্যালেন্ডার নেওয়ার হিড়িক। এরই মধ্যে ঠিক চারটের দিকে, আমার এক পিসির বাড়ি থেকে ওদের দোকানের বাক্স আর ক্যালেন্ডার নিয়ে হাজির হতেন পিসির এক নন্দাই। ওই সময়ে বেল বাজলেই সবাই জানত ওনার আগমন।
কালের নিয়মে কিছু জিনিস হয়েছে পরিবর্তিত। ভাবলাম সেই পুরোনো সময়কে যদি একটু ধরা যায় লেখনীর মাধ্যমে। যদিও স্মৃতিতে কি আর পুরোটা ধরা পড়ে? তাতে জং ধরে, মরচে পড়ে। তবুও সেই বাকি টুকুর নির্যাস থেকেই এগিয়ে চলা প্রজন্মের পর প্রজন্ম। স্রোতে বয়ে নিয়ে চলেছি সেই পরম্পরাই।






0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন