মা আর মাসির ফোনালাপ চলছে। আধ ঘন্টা মিনিমাম, কখনো ঘন্টাও কেটে যায়। কি যে এত কথা বলে ওরা, যদিও এই টাইমে মধুজা ফোন নিয়ে যা খুশি করতে পারে। মায়ের বারে বারে ডাক শুনতে হয় না।
কথাবার্তা মোটামুটি হয় বাবুল দাদার বউ কে নিয়ে পি এন পি সি অথবা মধুজার বিয়ের জন্য পাত্র খোঁজা। এমন দুটো টপিক যে মধুজা শুনে মজা নিলেও কোনো উত্তর দেয় না। আর ওরা কিছু জানতে চাইলেও শুনেও না শোনার ভান করে থাকে। মায়ের আবার আজকাল ফোনটা স্পিকারে দিয়ে কথা বলার অভ্যাস হয়েছে। অনেক বললেও শুনবে না। বলে, দুজনে ছাড়া তো ঘরে কেউ নেই যে কান পাতবে। আর তোর তো নিজের ফোন থেকে চোখ সরে না।
এই কিছুক্ষণ আগেই শুনছিল মাসি বলছে, "আরে ছেলে এখন বউয়ের কথায় ওঠে বসে। বউকে কিছু করতে বললেই ছেলে এসে হাজির। নতুন খাবার করতে হলেই বউয়ের সাথে হাত লাগিয়ে নেমে পড়ে। পারলে বউকে তুলোয় মুড়ে রাখে।"
মধুজা ভাবে মাঝে মাঝে বলবে মাসিকে যে আজকের দুনিয়ায় এটাই তো হওয়া স্বাভাবিক। তারপর ভাবে যাক গে ওদের দুই বোনের কথায় ঢুকলে ওর আবার বিয়ের জন্য মাথা খাবে।
কিছুক্ষণ পরেই আবার নিজের ঘর থেকে বেরোতে গিয়ে শোনে মাসি বলছে, "তুমি যখন মধুর জন্য ছেলে দেখবে, একটু কাজকর্ম জানা যেন হয়। আমাদের মেয়েটাকে যেন একটু সাহায্য করতে পারে।"
মধুজা শুনে একটু থমকে গেল। নিজেরাই বোঝে না এরা কোনটা চায়। নিজের মেয়ের জন্য একরকম চাহিদা আর অন্যের মেয়ের জন্য আলাদা। বৌদির মানে বাবুল দাদার বউয়ের সাথে ওর ভালোই কথাবার্তা হয়। নিজেরা মাঝে মধ্যে হাসি মশকরা করে দুই মায়ের কীর্তিকলাপ শুনে। তাও এরকম আব্দার ও বলতে পারবে না বৌদির সামনে।
সময় হয়েছে এবার সমাজের বাবা মায়েদের, সে ছেলের হোক বা মেয়ের, একটু সচেতন হয়ে ওঠার। জীবনের চলার পথ তাহলে হয়ে উঠবে অনেক সুমধুর।






0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন