দিনের শেষে বোঝা দায়, কোন ঋতু চলছে। কয়েকদিনের প্যাচপ্যাচে গরম তো কদিন পর হঠাৎ বৃষ্টি। এখন তো ভোরের দিকে পাখা চালানোর জো নেই।
আজ সকাল থেকে উঠেই গলা টা খুশ খুশ করছে আপ্যায়নের। কাল রাতে ঘুমানোর সময়ে পাখা টা নেভাতে ভুলে গিয়েছিলাম। ভোরে ঠান্ডা, দুপুরে গরম, সন্ধ্যায় বৃষ্টি আবার রাতে নভেম্বরের হিমেল অনুভূতি। আপ্যায়নের ব্যবসা বড়বাজারে। বাবা মা গাল ভরা নাম দিলেও সেরকম পড়াশোনা করে উঠতে পারেনি।কলেজে পড়তে পড়তেই বাবার ছোট্ট গুমটি টাকে সম্বল করে ঢুকে পড়েছিল ব্যবসার জঙ্গলে। ধীরে ধীরে এটা ওটা বিক্রির লাইন ধরে ফাইনালি করে চলেছে ইমিটেশন গহনার বিজনেস।
লোকাল ধরে ফিরতে ফিরতে অনেক রাত হয়ে যায় আপ্যায়নের। আজ ট্রেনটা আবার অনেক লেট করল। সবে মাত্র স্টেশনে নেমে লাইনটা পেরোতে যাবে, পিছনের থার্ড লাইন থেকে তুমুল হট্টগোল। অনেকের সাথে ওদিকে দৌড়ে ফিরে দেখে লাইনে পড়ে গিয়ে লোকটা শেষ মুহূর্তে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেও পুরোপুরি পারেনি। পা টা কাটা পড়েছে। মানুষটা তখনও জীবন্ত, নড়ছে বাকি শরীরটা। অথচ, কেউ ওকে তুলে না ধরে মোবাইলে রেকর্ডিং করছে। তাড়াতাড়ি ঝাঁপিয়ে পড়ে আপ্যায়ন লাইনের ওপরে। ব্যাগ থেকে বার করে জলের বোতল। পড়ে থাকা মানুষটা যেন প্রাণ ফিরে পায়। ধরাধরি করে সবাই চেষ্টা করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার। কিন্তু তুলে ধরার আগেই সে ঢলে পরে মৃত্যুর কোলে।
সেই মুহূর্তে আপ্যায়নের মনে হয় যেন ওই দু ফোঁটা জলের জন্যই প্রাণটা আটকে ছিল ছেলেটার। বোতলের জলের সাথে সাথে ওটাও বেরিয়ে গেল মুহূর্তে। জল-জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ আজকের দিনে আরও যেন মূর্ত হয়ে রইল।






0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন