একদিন ভোরে উঠে জ্যাসমিন দেখে ছেলে তার মায়ের জন্য স্পেশাল ব্রেকফাস্ট তৈরি করছে। বেড রুমের বিছানা থেকেই দেখা যায় রান্না ঘরটা। তাই, দেখতে পেলেও বিছানা ছেড়ে উঠল না সে। ছোট্ট ছেলে টা অনেক বড় হয়ে গেছে। হঠাৎ আওয়াজ শুনে আড় চোখে দেখল, ডিম পড়ে গেছে মাটিতে। হাত থেকে পড়েই ফাটিয়েছে বোধহয়। নিজে হাতেই পরিষ্কার করে নিচ্ছে। কষ্ট হলেও নিজেকে আটকে রাখে। এই একদিনের আনন্দ মাটি করতে চায় না ছেলের। দূর থেকে দেখতে থাকে নিজের সন্তান কেমন ভাবে খুশি করতে চায় মা কে। হোক না সে এই একটা দিনের জন্যই, এটুকুই বা পায় কজন।
এই ভূত টা মাথায় চেপেছিল ছেলের সেই কলেজের ফাস্ট ইয়ার থেকে। সেই থেকে আজ পাঁচ বছর চাকরি হতে চলল, একটা বছরও দিন টা ভুলে যায়নি। কখনো কখনো এই একটা দিনের জন্য ছুটি নিয়ে চলে এসেছে। এই একটা দিন মায়ের রান্নার ছুটি। আগে থেকে নিত্য নতুন রান্না শিখে মা কে সারপ্রাইজ দিয়েছে। এই তো বেল টা বাজছে। ধড়মড় করে উঠতে গিয়ে বুঝতে পারে স্বপ্নের দুনিয়ায় এতক্ষণ ছিল জ্যাসমিন।
সেবার ও বেল টা বেজেছিল তারস্বরে। দরজা খুলেই ওর বন্ধুর মুখে শুনেছিল ঘটনাটা। বাড়ি আসার পথেই অ্যাক্সিডেন্টে নিথর হয়ে গিয়েছিল ছেলে এই মাতৃ দিবসের দিনেই।
সেই থেকে মাতৃ দিবস আসে যায়। জ্যাসমিন সেই বসে থাকে ছেলের হাতের রান্নার প্রতীক্ষায়। কখনো স্বপ্নে, কখনো বাস্তবে।






0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন