আজ ছুটির দিন। পুজো কাছে এসে গেছে। অনেকদিন ধরেই যাব যাব করে আর পুজোর মার্কেটিং করতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল না গিন্নিকে। তাই বৃষ্টি মুখর আজকের দিনটাকেই টার্গেট করলেন অমুক বাবু। কারণ বৃষ্টিতে দোকান গুলোতে ভিড় থাকার সম্ভাবনা কম। আর গিন্নিও যেতে চাইবে না সঙ্গে। এখনও যদি কারোর মনে প্রশ্ন থাকে, দ্বিতীয় কারণটা কিভাবে সাহায্য করবে অমুক বাবু কে! তাহলে বলাই বাহুল্য যে প্রশ্নকর্তা এখনও নারী সঙ্গে (স্ত্রী হোক বা বান্ধবী) বঞ্চিত।
ব্যাপারটা হল যুগলে গেলে একটা জিনিস ছত্রিশ রকম ভ্যারাইরি দেখে চয়েস করলেও আবার কেনার ঠিক আগের মুহূর্তে প্রথম জিনিসটা দেখানোর বায়না করবে দোকানদারের কাছে। আর ওনারাও হাস্য মুখে দেখাবেন সদ্য ভাঁজ করে তুলে রাখা শাড়ি বা পছন্দের আইটেমটা। এক এক সময়ে মনে হয় এরা যেন সেই স্বর্গের দেবতাদের মত ধৈর্য্যর পরীক্ষা দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত, কলি যুগের অপ্সরাদের সামনে। আর এই সব ঘটনার ঘন ঘটায় কি করে যে ঘন্টা পেরিয়ে যায় বোঝা যায় না। তাই তো এরকম ডজ দিয়ে বৃষ্টি কে মাথায় নিয়ে বেরিয়ে পড়া।
তো অমুক বাবু একটা ঝাঁ চকচকে মলে এসে সবে প্রথম দোকানে ঢুকতে যাবেন, সিকিউরিটি টা ছুটে আসে ঘাড়ের কাছে। ওনার তো প্রায় এই যায় কি সেই যায় অবস্থা। আদ্যপান্ত সাদামাটা অমুক বাবু বুঝতে পারার আগেই সে ধমক দিয়ে বলে, বন্ধ করুন। কিছু বুঝতে না পেরে উনি তখনই ওই দোকান থেকে বেরিয়ে যান। মনে মনে আজকের দিনের মত "বুড়া মাত্ শুনো" র উপদেশ মাথায় নিয়ে এগিয়ে যান পরের দোকানে।
বেশ কয়েকটি জিনিস পছন্দ হয়েছে এমন সময়ে দেখেন, উল্টোদিকে শপিং করতে থাকা মহিলা ওনাকে ইশারায় কি সব বলছেন। মাঝে মাঝে চোখ মারছেন আর...না না, অমুক বাবু সেইরকম লোক নন যে বউকে আনেননি বলে যা ইচ্ছে তাই করবেন। যদিও এখনও নিজের গ্ল্যামার আছে ভেবে মনে মনে একটু উৎফুল্ল। কিন্তু ওই মহিলার ভাব গতিক সুবিধার লাগছে না। ওনার দিকেই তো করছেন সেই একই ইশারা। না, আর বিলম্ব না করে "বুড়া মাত্ দেখো" র উপদেশ মাথায় রেখে অমুক বাবু বেরিয়ে পড়লেন ওই দোকান থেকেও। কার যে মুখ দেখে বেরিয়েছিলেন আজ, মূল উদ্দেশ্য যে বিফলে যেতে বসেছে।
দূর, এইসব জায়গায় কিছু পাবে না ভেবে অমুক বাবু বেরিয়ে পড়লেন পাড়ার বাজারের দিকে। টোটো তে উঠতে যাওয়ার আগে বেশ খিদে লেগেছে। বাইরের চাট পাপড়ির দোকানে এসে কিনে নিলেন এক প্লেট। খেতে খেতে বাজারে পৌঁছাতেই শুরু হয়েছে আবার তুমুল বৃষ্টি। আর সেই সুযোগ নিয়ে নামার সময়ে টোটোর ছেলেটা দশ টাকার বদলে চেয়ে বসে কুড়ি টাকা। মাথাটা আর ঠিক রাখতে পারেন না অমুক বাবু। দিনে দুপুরে ডাকাতি করছ যে তুমি। এভাবে রোজগার করলে সেটা কোন ফাঁক দিয়ে যে গলে যাবে বুঝতেও পারবে না।
ছেলেটা বলে ওঠে, "কাকা, এভাবে দরজা ওপেন রাখলে ডাকাতি তো হবেই।"
মুখ থেকে দুটো বাজে কথা বেরিয়ে যাচ্ছিল অমুক বাবুর। তারপর "বুড়া মাত্ বোলো" র উপদেশ মত নিজেকে সংযত করেন উনি।
জিনিসপত্র কিনে বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফিরে সোফায় হেলান দিয়ে গিন্নিকে বলছিলেন আজকের ঘটনা। আর গান্ধীজির দেখানো পথে চলে অমুক বাবু যে কেমন আজ ওনার জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য দিয়েছেন, সেটাই বেশ গর্বের সঙ্গে বর্ণনা করছিলেন গিন্নিকে। কিন্তু লোকের এই ব্যবহারের কারণ বোঝেননি উনি।
গিন্নি কটমট করে তাকিয়েই বলল, "এমন ভাবে প্যান্টের চেন খুলে বিশ্ব দূষণ করে এলে কেউই যে তোমার শ্রদ্ধার্ঘ্য গ্রহণ করবে না বাবা।"
চটপট দরজা বন্ধ করেন অমুক বাবু।
রচনার তারিখ: ২ রা অক্টোবর ২০২৩






0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন