সকাল সকাল উইকএন্ডে উঠতে হলে শুভর বেশ রাগই হয়। আর তারপর যদি হয় এইসব ভুলভাল কাজ, তাহলে আর দেখে কে।
গতকাল কাজ শেষ করে সবে ল্যাপটপ বন্ধ করতে যাবে, তখনই ঢুকল মেইল টা।
"ইওর সি এস আর অ্যাক্টিভিটি ইজ পেন্ডিং ফর দিস ইয়ার। পার্টিসিপেট টুমরো টু এলিজিবল ফর ভ্যারিয়েবল পে।"
মোদ্দা কথা, কালকের সি এস আর টাস্কে মানে কর্পোরেট সোস্যাল রেস্পন্সিবিলিটি অ্যাক্টিভিটি তে অংশগ্রহণ না করলে ভ্যারিয়েবল পে এর টাকাটা দেবে না। এটা তো একপ্রকার জোর জবরদস্তি করা। কিন্তু কি আর করা যাবে, চাকর যখন হয়েছ, সে মুদির দোকানে হোক বা কর্পোরেট, সব জায়গায় একই অবস্থা।
প্রথমে ভেবেছিল, কাটিয়ে দেবে। কিন্তু সিনিয়রদের থেকে শুনল এটার বেশ গুরুত্ব আছে কোম্পানি তে। আসলে এভাবেই নিজেদের সোস্যাল উপস্থিতি প্রচার করা আর কি। তবে অনিচ্ছুক লোকজন কে দিয়ে কি সত্যি কিছু সৎ ভাবে করা সম্ভব? ভাবে, সেভাবেই তো চলছে এতকাল। ওর ভাবনায় কার কি এসে যায়।
তবে ফুট নোটে ছোট্ট ছোট্ট করে লেখা ছিল যে লাঞ্চের ব্যবস্থা থাকবে, সেই পলিসি অ্যাড গুলোর কনডিশান অ্যাপ্লায়েডের মত।
পরেরদিন বাইক নিয়ে পৌঁছে যায় নির্দিষ্ট গন্তব্যে। একটা ছোট একতলা বাড়িতে থাকে পনেরো কুড়ি টা শিশু ও কিশোর। ওদের থাকা খাওয়া পড়াশোনার ব্যবস্থা করে একটি সংস্থা, যার মূল কান্ডারি এই সুদর্শন মিস্টার বাগচী। বড় কর্পোরেটে এরূপ সোস্যাল ওয়ার্কার খুব একটা দেখা যায় না। পিছনে ধূ ধূ মাঠ, আর তার পিছনে একটা বিস্তীর্ণ জলাশয়। শহরের এত কাছে এরকম মনোরম পরিবেশ দেখেনি ও কোনোদিন। এত অল্পে সন্তুষ্ট হওয়ার পাঠ যেন শিখিয়ে দিল ওরা। ঘুম ধরা জনগণের সত্যি আসা উচিত এসবের মাঝে। নিড আর গ্রিডের মধ্যেকার সীমান্ত চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় ওদের জীবনযাপন।
সকাল থেকে ওদের সাথে কাটিয়ে কিভাবে যে সময় বয়ে গেল, বুঝতে পারল না শুভ। ওর সব সময়ের সঙ্গী ডিএসএলআরে বন্দি হয়ে রইল সারাদিনের উৎযাপন। মনে মনে শপথ নিল প্রতি মাসে ফিরে আসার। আর এরকম উদ্যোগের জন্য সত্যি সাধুবাদ জানানো উচিত ওর কোম্পানিকে। এইসব খবর যে সত্যি প্রচার যোগ্য। যদিও মিডিয়ার এসবে উৎসাহ নেই।
বাড়ি ফিরে সোস্যাল মিডিয়ায় আজকের পোস্ট দিতে গিয়ে মনে পড়ল আজকের দিনটার কথা। বাগচী দা দাঁড়িয়ে রয়েছে ওদের সকলের মাঝে, পিছনে ঝাপসা জলাশয়। বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবসে এর থেকে ভালো ফ্রেম বোধহয় হতে পারে না।






0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন